চুম্বকের নাম সন্দেশখালি, নন স্ট্রাইকার দুর্নীতি : প্রথম সভায় যা বোঝালেন মোদি

Narendra Modi on Sandeshkhali : মোদি বলছেন মুখ্যমন্ত্রীর লজ্জা হওয়া উচিত, প্রশ্ন তুলছেন, 'কিছু ভোটের' জন্য সন্দেশখালির মা-বোনেদের সঙ্গে এমন করতে পারল সরকার?

inscript
৩ মিনিট
চুম্বকের নাম সন্দেশখালি, নন স্ট্রাইকার দুর্নীতি : প্রথম সভায় যা বোঝালেন মোদি

শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ার ঠিক একদিন পরেই রাজ্যে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি। সন্দেশখালি নিয়ে প্রায় দু'মাস ধরে চলা উত্তেজনায় বিরোধী হিসেবে সবচেয়ে আগ্রাসী ছিল বিজেপির ভূমিকাই। সন্দেশখালিতে তৃণমূলই আসলে শেখ শাহজাহানকে আশ্রয় জুগিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ করেছিল বিজেপি। বাংলায় এসে সন্দেশখালি দিয়েই তাই নিজের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত ভূমিকা করে গেলেন মোদি। বুঝিয়ে গেলেন এবারের লোকসভা নির্বাচনে সন্দেশখালিই হতে চলেছে বড় এক অস্ত্র। শুক্রবার আরামবাগে ছিল মোদির সভা। সেখানে সন্দেশখালি ইস্যু নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ আক্রমণকে জোরদার করতে টেনে আনেন রাজা রামমোহনকেও!

প্রধানমন্ত্রী শেখ শাহাজাহানের নাম না করেই যা বলেছেন, তাতে ইঙ্গিত স্পষ্ট যে তৃণমূলের এই স্থানীয় নেতাকে যে পুলিশ দু' মাস ধরে গ্রেফতার করতে পারেনি, তাতে মদত ছিল তৃণমূলেরই। তৃণমূলেরই কেউ না কেউ শাহজাহানকে সাহায্য করেছেন, আশ্রয় দিয়েছেন৷ আরামবাগের জনসভায় বক্তব্য শুরুই করেছেন মোদি সন্দেশখালি দিয়ে৷ প্রধানমন্ত্রী বলছেন, “এখানে কাছেই, খানাকুলে মহান সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম হয়েছিল। রামমোহনই নারীশক্তিকে নতুন সামর্থ জোগান। খানাকুলকে আমার প্রণাম। রাজা রামমোহন রায়ের প্রেরণা ভারতের নারী শক্তির উন্নয়নের ভিত্তি।" তারপরেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মোদি বলতে থাকেন, "মা মাটি মানুষের ঢোল যারা পেটায়, তারা তৃণমূল সন্দেশখালির বোনেদের সঙ্গে যা করেছে তা দেখে গোটা দেশে আক্রোশ তৈরি হয়েছে৷ রাজা রামমোহন রায়ের আত্মা যেখানেই থাকুক না কেন, সন্দেশখালির এই ঘটনা দেখে তা কাঁদছে৷"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চার বছরে ৪০টিরও বেশি মামলা! অবাক করবে শেখ শাহজাহানের 'অপরাধে'র ফিরিস্তি

Sheikh Shajahan Arrested: চার বছরে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে ৪২টি মামলা। এর মধ্যে ৪১টিরও বেশি ক্ষেত্রে চার্জশিট দাখিল হয়ে গিয়েছে। তবে পুলিশ নিরুত্তাপ।

সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তৃণমূলের নেতারা সন্দেশখালিতে মা-বোনেদের সঙ্গে অসভ্যতার সব সীমা পার করে দিয়েছে৷ নির্যাতিত মহিলারা যখন মমতা দিদির কাছে সাহায্য চাইলেন তখন মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সরকার অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছিল৷ বিজেপির চাপে পড়ে মূল অভিযুক্তকে গতকাল গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ৷ তৃণমূলের রাজত্বে তৃণমূলের এই অপরাধী নেতা দু' মাস ধরে পালিয়ে বেড়ালেন৷ কেউ তো তাকে সাহায্য করেছেন৷ এই তৃণমূলকে আপনারা ক্ষমা করবেন? প্রত্যেক চোটের জবাব ভোট দিয়ে দিতে হবে৷"

মোদি বলছেন মুখ্যমন্ত্রীর লজ্জা হওয়া উচিত, প্রশ্ন তুলছেন, 'কিছু ভোটের' জন্য সন্দেশখালির মা-বোনেদের সঙ্গে এমন করতে পারল সরকার? 'কিছু ভোট' দিয়ে আখেরে তিনি কী বোঝাতে চাইছেন তাও অত্যন্ত স্পষ্টই। সন্দেশখালি ইস্যুতে কেন কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোটের বাকি শরিকরা চুপ, সেই প্রশ্নও তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ মোদি বলছেন, বিজেপি বিরোধী জোটের এই নেতারা সন্দেশখালি কাণ্ড দেখেও গান্ধিজির তিন বাঁদরের মতো চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে বসে রয়েছেন৷ বাম এবং কংগ্রেস মিলে কি এখানকার সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর থেকে জবাব চাওয়ার সাহস দেখিয়েছেন? প্রশ্ন করেছেন মোদি। মোদি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অর্থাৎ মল্লিকার্জুন খাড়গের দিকে আঙুল তোলেন অভিযোগের। বলেন, "সন্দেশখালি ইস্যুতে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি বলেছেন, বাংলায় তো এসব চলতেই থাকে? এটা বাংলার, বাংলার পরম্পরা, সংস্কৃতি, মহাপুরুষদের অপমান নয়?’

সন্দেশখালির মা-বোন যে নির্বাচনী তুরুপের তাস তা নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে সাফ। তৃণমূলের জমানার দুর্নীতি নিয়েও কথা বলেছেন মোদি। বলেছেন ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার বলিউডের সিনেমাকেও হার মানায়। তবে, দুর্নীতি ইস্যু এখন সামান্য পশ্চাতে। প্রাক নির্বাচনী প্রথম সফরেই সন্দেশখালিকে সবার আগে রেখেছেন মোদি। শাহজাহান গ্রেফতার হওয়াতে সন্দেশখালি শান্ত হবে কিনা তার চেয়েও বড় প্রশ্ন এখন 'সন্দেশখালির মা-বোন'-দের কোন দল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতে চলেছে নিজেদের দিকে ভোট টানতে? মহিলা ভোট গুরুত্বপূর্ণ, মহিলাদের সত্যিকারের মর্যাদাও কি গুরুত্বপূর্ণ ততটাই, রাজনীতির এই খাওয়াখাওয়িতে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।