'পুরুষ রোজ রাত কো...' বিধানসভায় যৌনশিক্ষা নিয়ে বলতে গিয়ে কেন বিপাকে নীতীশ?

Nitish Kumar on Sex Education : স্বামী যে প্রতি রাতে যৌনসঙ্গম করবেই, স্ত্রীর অনিচ্ছা বা ইচ্ছাতেও তাই বা কী করে বলতে পারেন একজন মুখ্যমন্ত্রী!

inscript
৪ মিনিট
'পুরুষ রোজ রাত কো...' বিধানসভায় যৌনশিক্ষা নিয়ে বলতে গিয়ে কেন বিপাকে নীতীশ?

"পুরুষ যে হ্যায়, ওহ রোজ রাত কো সাদিয়া জো হ্যায়, উসকে সাথ করতা হ্যায় না? তো উসিমে অউর পয়দা হো যাতা হ্যায়।" জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঠিক এভাবেই কথা বলেছেন নীতীশ কুমার, তাও আবার বিধানসভায়। নারীদের শিক্ষার, বিশেষত যৌনশিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে নাকি কথা বলছিলেন নীতীশ। কিন্তু বক্তব্য যা পেশ করলেন তার যা অর্থ দাঁড়াল তা মোটেও সুখকর নয়। নিজের বলা কথার জন্য নিজেকেই ক্ষমাও চাইতে হলো তাঁকে। নীতীশের দাবি তিনি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মহিলাদের গুরুত্ব নিয়েই কথা বলতে গেছিলেন। কিন্তু যেভাবে তিনি বিষয়টি পেশ করলেন তা ঈষৎ একপেশে এবং অবমাননাকর। "লড়কি পড় লেতি হ্যায়, কে হামকো মালুম থা ওহ করেগা, ঠিক হ্যায়। লেকিন অন্তিমমে ভিতর মাত ঘুসাও। উসকো বাহার কর দো," নীতীশ বলছেন জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য এই বিষয়টি মেয়েদের জানা দরকার। তবেই সন্তানের প্রসব দেওয়া নিয়ন্ত্রণে আসবে। শুধু কি মেয়েদের জানলেই চলবে? নাকি মেয়েদেরই শুধু জানা উচিত! আদৌ কি এভাবে গর্ভধারণ ঠেকানো সম্ভব?

নিজের এই বক্তব্যের পর ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয় বিবিধ মহলে। তার জেরে ক্ষমা চেয়ে নেন নীতীশ। "আমি যদি কাউকে আঘাত দিয়ে থাকি তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ছিল না। আমি সবসময়ই বলেছি যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষা প্রয়োজন। আমি নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী উন্নয়নের পক্ষেও কথা বলি," বলছেন নীতীশ কুমার। নীতীশ ঘনিষ্ঠরা বলছেন, মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নীতীশ কী বলতে চেয়েছেন তা নীতীশই জানেন, তবে যেভাবে বলেছেন তা খানিক একপাক্ষিক। যৌনশিক্ষা মহিলাদের থাকলে তবেই পুরুষদের ঠেকানো যাবে এমন ধারণা খুবই নড়বড়ে। নীতীশ বলেছেন, “হামকো মালুম থা ওহ করেগা, ঠিক হ্যায়।" স্বামী যে প্রতি রাতে যৌনসঙ্গম করবেই, স্ত্রীর অনিচ্ছা বা ইচ্ছাতেও তাই বা কী করে বলতে পারেন একজন মুখ্যমন্ত্রী! যৌনতার চরম মুহূর্তে লিঙ্গ সরিয়ে নেওয়া সন্তান জন্ম আটকানোর এক পন্থা হতে পারে, কিন্তু তার আগের যে যৌনতার ধারা তা কি মহিলারা চাইছেন নিয়মিত?

| Bihar CM Nitish Kumar uses derogatory language to explain the role of education and the role of women in population control

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অপছন্দের পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম! অবাঞ্ছিত যৌনতা এড়াতে ব্যাঙ কী করে জানেন?

Frog Mating Facts : পুরুষ ব্যাঙ সাধারণত অ্যামপ্লেক্সাস নামে পরিচিত একটি 'পজিশন'-এ স্ত্রী ব্যাঙের পিঠে উঠে পড়ে।

— ANI (@ANI)

পুরুষদের নিয়ন্ত্রণের কথাও কেন বলছেন না নীতীশ? যৌনশিক্ষা আবশ্যক বলে মনে করেন বহু শুভবুদ্ধি সম্পন্নরাই। ছেলে এবং মেয়ে দুই লিঙ্গেরই এবং এর ব্যাতীত অন্য সমস্ত লিঙ্গের মানুষেরই যৌনশিক্ষা প্রয়োজন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ তো বটেই, নিজের যৌন অধিকার নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। পুরুষ 'করবেই' এই ধারণা অত্যন্ত পিতৃতান্ত্রিক। স্ত্রী এই 'করবেই' বিষয়টিকে যেহেতু মেনে নিতে 'বাধ্য' তাই নিজের নিরাপত্তার জন্য সে শেষ মুহূর্তে লিঙ্গ সরিয়ে নিতে বলবে- এ কোনও সমাধান নয়। নীতীশ বলতে চেয়েছেন, শিক্ষিত মহিলারা যৌন মিলনের সময় স্বামীকে আটকাতে পারেন বলেই জন্মের সংখ্যা কমছে। আগে প্রজনন হার ছিল ৪.৩, কিন্তু এখন তা ২.৯-এ পৌঁছেছে। এই হারকে ২ শতাংশ করতে চান নীতীশ।

যেভাবে নীতীশ এই বক্তব্য পেশ করেছেন তার বিরোধিতায় বিজেপি নীতীশকে 'অশ্লীল এবং পুরুষতান্ত্রিক' বলে মাঠে নেমে পড়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। বিহারের বিধানসভায় এই ধরনের ভাষা বললে বিহারের মহিলাদের কী দুর্দশা হবে তা নিয়ে চিন্তিত বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব নীতীশকে সামলাতে তাঁর বক্তব্যের কিঞ্চিৎ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তেজস্বী বলছেন, যৌনশিক্ষা নিয়েই কথা বলতে চেয়েছেন নীতীশ। মানুষ এই বিষয়টা শুনলেই কেমন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু এইসব স্কুলেই পড়ানো হয়, বিজ্ঞানে জীববিজ্ঞানে। পড়ুয়ারা তা শেখে। নীতীশ এই শিক্ষার ব্যবহারিক প্রয়োগের কথা বলেছেন, কীভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা বলেছেন। এর ভুল ব্যাখ্যা করা উচিত নয়, যৌনশিক্ষা হিসাবেই বিষয়টিকে ভাবা দরকার বলে মনে করছেন তেজস্বী। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কমিশন অফ উইমেনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা বলছেন, নীতীশ যেভাবে কথা বলেছেন তা সি গ্রেড মুভির সংলাপের মতো। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হচ্ছে, নীতীশের পিছনে বসে থাকা পুরুষরা হাসছিলেন, অঙ্গভঙ্গিগুলি কুৎসিত রসিকতার মতো। বিহার বিধানসভার স্পিকারের উচিত তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা।

On behalf of every woman in this country, as the Chairperson of the National Commission for Women, I demand an immediate and unequivocal apology from the Chief Minister of Bihar, Nitish Kumar. His crass remarks in the Vidhan Sabha are an affront to the dignity and respect that…

— Rekha Sharma (@sharmarekha)

নীতীশ কুমার যা বলেছেন তা নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসকরা? যৌনতার চরম মুহূর্তে, বীর্যপাতের আগে যোনি থেকে লিঙ্গ বের করে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলে 'পুল আউট পদ্ধতি'। যোনিতে শুক্রাণু প্রবেশ করতে না দিয়ে, ডিম্বাণু অবধি শুক্রাণু পৌঁছাতে না দিয়ে গর্ভধারণ রোধ করাই এর লক্ষ্য। তবে তা মোটেও নির্ভরযোগ্য গর্ভনিরোধ পদ্ধতি নয়। পুল-আউট পদ্ধতি হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি অনেকেই গর্ভধারণ রোধ করতে ব্যবহার করে, কিন্তু তা মোটেও সবসময় কাজ করে না৷ পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর, এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেও ৫ জনের মধ্যে ১ জন মহিলা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিজ্ঞান বলছে, কোনও পুরুষের লিঙ্গ যখন প্রথম উত্থিত হতে শুরু করে তখন থেকেই শুক্রাণু নির্গত হতে পারে। তাই অন্তিম মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিলেই গর্ভাবস্থা রোধ করা যাবে তা ঠিক না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।