মোদি-মন্ত্রিসভার সিলমোহর, ‘এক দেশ এক ভোট’ চালু করতে কেন এত মরিয়া বিজেপি সরকার?

One Nation One Election: বুধবার সেই 'ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন' পদ্ধতি কার্যকরের পথেই আরও এক ধাপ অগ্রসর হল কেন্দ্র সরকার।

inscript
৪ মিনিট
মোদি-মন্ত্রিসভার সিলমোহর, ‘এক দেশ এক ভোট’ চালু করতে কেন এত মরিয়া বিজেপি সরকার?

'এক দেশ এক নির্বাচন'। দীর্ঘদিন ধরেই দেশে সেই নিয়ম চালু করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি। একদিন আগেই এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানিয়েছিলেন, শীঘ্রই 'এক দেশ, এক ভোট' প্রক্রিয়া লাগু হতে চলেছে দেশে। তার পরেই সেই প্রক্রিয়া চালু করা নিয়ে সবুজ সঙ্কেত দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা। সব ঠিক থাকলে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনেই নাকি সংসদে পেশ হতে চলেছে এই সংক্রান্ত বিল।

কার্যত বলা যেতে পারে বুধবার সেই 'ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন' পদ্ধতি কার্যকরের পথেই আরও এক ধাপ অগ্রসর হল কেন্দ্র সরকার। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর পৌরহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকেই 'এক দেশ, এক নির্বাচন'-র রিপোর্টে অনুমোদন পড়ে গিয়েছে। যে বিষয়টি নিজেদের তৃতীয় দফায় কার্যকর করতে মরিয়া মোদি সরকার। বুসূত্রের খবর, 'এক দেশ, এক নির্বাচন'-র আওতায় পুরো দেশে একইসঙ্গে লোকসভা নির্বাচন এবং প্রতিটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর সেই নির্বাচনের ১০০ দিনের মধ্যে পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের ভোট করার সুপারিশ করা হয়েছে রিপোর্টে। যতদূর জানা যাচ্ছে, বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাশ হয়ে গিয়েছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ। এর পরের ধাপ স্বাভাবিক ভাবেই সংসদে এই সংক্রান্ত বিল পেশ।

২০২৩ সালেই 'এক দেশ এক ভোট' কার্যকরের দিশা-নির্দেশ খুঁজতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে কমিটি গড়েছিল মোদি সরকার। লোকসভা ভোটের আগেও বারবার এই নীতি কার্যকর করা নিয়ে শোরগোল তুলেছিল বিজেপি। যার প্রবল বিরোধিতা আসে বিরোধীদলগুলির তরফে। লোকসভা ভোটের আগে গত ১৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে গিয়ে একসঙ্গে লোকসভা এবং সব ক’টি বিধানসভার নির্বাচন করানোর সুপারিশ করে আট খণ্ডে বিভক্ত ১৮ হাজার পাতার রিপোর্টটি জমা দিয়েছিল কোবিন্দ কমিটি। সেখানে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কমিটির অন্য সদস্যেরাও। এর পরই এই পদ্ধতি লাগু করার প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় সরকার। গত মাসে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নিয়ে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি যুক্তি দেন, ঘন ঘন নির্বাচনে দেশের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা পড়ে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, গোটা দেশ এই প্রক্রিয়াকে সমর্থনও জানাচ্ছে। সব রাজনৈতিক দলগুলিকে এই বিষয়ে সমর্থন করার আহ্বানও জানান তিনি। মোদির সেই বার্তার পর জল্পনা তৈরি হয়েছিল এনডিএ সরকারের চলতি মেয়াদেই কার্যকর হবে 'এক দেশ এক নির্বাচন' রীতি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রশ্ন তুলছে সুরাট-ইন্দোর, এক দেশ এক ভোট এলে ভোটাধিকার থাকবে আদৌ?

Lok Sabha Election 2024: কিছুদিন আগে খবর আসে, গুজরাতের সুরাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী মুকেশ দালালকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই একই ছবি দেখা গেল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরেও।

২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই 'এক দেশ, এক নির্বাচন'-র বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসছেন মোদি। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ সংক্রান্ত মামলাতেও সুপ্রিম কোর্টে মোদি সরকার ধাপে ধাপে উপত্যকার পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভার ভোটের আয়োজনের কথা জানায়। সরকারের ‘সেঞ্চুরি ডে’তে সে জল্পনায় সিলমোহর দেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এবার সেই প্রক্রিয়ায় সবুজ সংকেত দিল মোদির মন্ত্রিসভা। এ বিষয়ে সরকার পক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে ভোট প্রক্রিয়ার জন্য যে বিপুল অঙ্কের খরচ হয়ে থাকে, তা অনেকটাই কমে যাবে। বিশেষ সূত্রের খবর, 'এনডিএ সরকারের বর্তমান কার্যকালেই এক দেশ, এক নির্বাচন চালু করা হবে।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপি আর সংঘ 'এক দেশ এক নির্বাচন'-এর নামে আসলে কী করতে চাইছে?

One Nation, One Election : এক দেশ এক নির্বাচনে গেলে, মাঝপথে সরকার যদি পড়ে যায় স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসনের কথাই উঠবে।

তবে এই 'এক দেশ এক ভোট' প্রক্রিয়া নিয়ে থাকছে বেশ কিছু প্রশ্নও। তা ছাড়া, ‘এক ভোট’ ব্যবস্থা চালুর পরে কেন্দ্রে বা কোনও রাজ্যে পাঁচ বছরের আগেই নির্বাচিত সরকার পড়ে গেলে কী হবে,তার এখনও দিকনির্দেশ মেলেনি। যদিও লোকসভা ভোটের সঙ্গেই সব রাজ্যের বিধানসভা ভোট সেরে ফেলার পক্ষে মোদি সরকারের যুক্তি হল, এতে নির্বাচনের খরচ কমবে। একটি ভোটার তালিকাতেই দু’টি নির্বাচন হওয়ায় সরকারি কর্মীদের তালিকা তৈরির কাজের চাপ কমবে। ভোটের আদর্শ আচরণ বিধির জন্য বার বার সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে থাকবে না। নীতি আয়োগ, আইন কমিশন, নির্বাচন কমিশনও এই ভাবনাকে নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে বলে কেন্দ্রের যুক্তি।

যদিও এই বিজেপির আনা এই 'এক দেশ এক ভোট' পদ্ধতির গোড়া থেকেই সমালোচনা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ সব কটি দল। তাদের মতে, এই নীতি নিয়ে মোদি সরকার ঘুরপথে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ধাঁচের ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক ভাবনার পরিপন্থী বলেও বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ। বিশেষত বিজেপি-বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলির আশঙ্কা, ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কার্যকর হলে লোকসভার ‘ঢেউয়ে’ বিধানসভাগুলি ‘ভেসে যাবে’। ফলে মোদির এই সংক্রান্ত বিল সংসদে পেশ করা হলেও তা পাশ করাতে যে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে সরকারকে, তা একরকম প্রত্যাশিত।

এদিকে অন্যবারের তুলনায় এবার বিরোধী দল বেশ মজবুত। প্রায় এক দশক পরে সরকারের বিরোধিতায় রয়েছে একজন বিরোধী নেতা। তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম সংসদ অধিবেশনেই একাধিক বিষয় নিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বিজেপিকে। বারবার প্রবল এবং তীব্র বিরোধিতায় বিদ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ দল বিজেপি। এই 'এক দেশ এক নির্বাচন' পদ্ধতি পাশ হওয়া আটকাতে যে জানপ্রাণ লড়িয়ে দেবে বিরোধী দলগুলি, তা-ও প্রত্যাশিত। কিন্তু এর আগেও দেখা গিয়েছে বিরোধী দলের সাংসদদের গণসাসপেনশনে পাঠিয়ে সহজেই বিভিন্ন বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে বিজেপি সরকার। এবারেও কি বিজেপির হাতিয়ার হতে চলেছে তেমনই কোনও কৌশল? রয়েছে সেই প্রশ্নও

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।