যৌনসুখে বাধা নয় কন্ডোম, চরম মুহূর্ত দীর্ঘ করতে কী টোটকা লুকোনো নিরোধে?

একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে, কন্ডোম পরে যৌনসুখ মেলে না। বিশেষ করে পুরুষদের। অথচ কিছু কন্ডোম তৈরিই হয়েছে যৌনসুখ দেওয়ার জন্য।

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
যৌনসুখে বাধা নয় কন্ডোম, চরম মুহূর্ত দীর্ঘ করতে কী টোটকা লুকোনো নিরোধে?

'এক্সটেন্ডেড প্লেজা়র', 'ডিলে', 'মিউচুয়াল প্লেজা়র', 'রিবড', 'ডটেড' কতরকম বিশেষণ তাদের জন্য। ১১ জুলাই ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ডে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বহুলভাবে ব্যবহৃত তারা। তবু সামাজিক শাসন ও চোখরাঙানি তাদের নিয়ে কথা বলতে গেলেই। কন্ডোম বা নিরোধক, এবং তার সঙ্গে জড়িত যৌনসুখ নিয়ে সমাজের মুখে কুলুপ আঁটা।

একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে, কন্ডোম পরে যৌনসুখ মেলে না। বিশেষ করে পুরুষদের। অথচ কিছু কন্ডোম তৈরিই হয়েছে যৌনসুখ দেওয়ার জন্য। 'রিবড' বা 'ডটেড' কন্ডোমের কথা বলা হচ্ছে না, তা সাধারণ চোখে দেখেই বোঝা যায়। কিন্তু 'ডিলে' কন্ডোম বা 'এক্সটেন্ডেড প্লেজা়র' কন্ডোমের ব্যবহারে কেন অর্গাজ়ম দেরিতে হয়, তা নিয়ে কথা বলতে খুব বেশি শোনা যায় না।

বিশেষ কিছু কন্ডোমে কেন অর্গাজ়ম দেরি করে হয়? কারণ এই ধরনের কন্ডোমে থাকে বেঞ্জোকেন বা লিডোকেন নামের রাসায়নিক। এই দু'টি রাসায়নিক আদতে সাময়িক অনুভূতিনাশক বা এনেস্থেটিক।যৌনমিলনের সময় অনেকেই সাময়িকভাবে যৌন অনুভূতি অনেকেই টের পান না এই ধরনের কন্ডোম ব্যবহারে।

বেঞ্জোকেন বা লিডোকেন দু'টি আলাদা রাসায়নিক হলেও এদের কাজের পদ্ধতি একেবারেই এক। শরীরের যে অংশের সংস্পর্শে এরা আসে, সেই অংশেই ত্বকের অনুভূতি লোপ পায়। যার মূল কারণ হলো, সেই অংশের নার্ভকোশগুলির কাজকে ব্যহত করে দেয় এরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হারানো যৌন উদ্দীপনা থেকে দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে পারে সাপের বিষে তৈরি ওয়াইন!

ভিয়েতনামের সংস্কৃতিতে যেহেতু সাপ, ‘তাপ’ কিম্বা ‘ পুরুষত্বের প্রতীক’ হিসাবে কল্পিত হয়ে থাকে - তাই পুরুষালি যে কোনো সমস্যার সমাধান হিসাবে স্নেক হোয়াইন একটি স্বনামধন্য কামোদ্দীপক হিসাবে বিশেষ জনপ্রিয়।

বেঞ্জো়কেন আবিষ্কার করেন জার্মান রসায়নবিদ এডুয়ার্ড রিটসার্ট। তখন ১৮৯০ সাল। আর বেঞ্জোকেন আবিষ্কারের পর থেকেই তা সাময়িক চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু হয়। এমনকী, প্রাণীবিদ্যায় জীবিত প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হাতে-নাতে পর্যবেক্ষণ করতেও ব্যবহার করা হতো বেঞ্জোকেন।লিডোকেন আবিষ্কার হয় চারের দশকে। এটি জা়ইলিডিন থেকে প্রাপ্ত একটি অ্যামাইন।

গবেষকদের মতে, তিন জনের মধ্যে একজন পুরুষ জীবনের কোনও না কোনও সময় প্রিম্যাচিওর ইজ্যাকুলেশন বা শীঘ্রপতনের শিকার হন। বহু বছর আগে থেকেই প্রিম্যাচিওর ইজ্যাক্যুলেশন, অর্থাৎ শীঘ্রপতন আটকাতে ব্যবহার করা হতো লিডোকেন।আবিষ্কারের পর থেকেই প্রিম্যাচিওর ইজ্যাকুলেশন আটকানোর অব্যর্থ টোটকা হিসেবে ব্যবহার হওয়া শুরু হয় লিডোকেন। তবে তখন লিডোকেন স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করা হতো। বেঞ্জো়কেনেরও ব্যবহার শুরু হয় কিছুদিন পর। সাম্প্রতিককালে কন্ডোম প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি সরাসরি কন্ডোমেই ব্যবহার করে বেঞ্জো়কেন বা লিডোকেনের মতো রাসায়নিক।

এবার আসা যাক এই রাসায়নিকগুলি শীঘ্রপতন আটকাতে অথবা অর্গাজ়ম যাতে দেরিতে হয়, তার জন্য কীভাবে কাজ করে। প্রথম কথা হলো, পুরুষটি যদি যৌন সঙ্গমের সময় কোনওরকম যৌন অনুভূতি উপলব্ধি না করে, তার অর্গাজ়ম হবে না বা অনেক সময় লাগবে অর্গাজ়ম হতে। সেই অনুভূতি পাওয়াই যদি আটকে দেওয়া যায় সাময়িকভাবে, তাহলেই তো দীর্ঘায়িত হবে অর্গাজমের সময়। ঠিক সেই কাজই করে বেঞ্জো়কেন বা লিডোকেনের মতো রাসায়নিক। আর অনুভূতি বন্ধ করার জন্য বেঞ্জো়কেন বা লিডোকেন অসাড় করে দেয় নার্ভকোশগুলিকে। লিঙ্গের ঠিক মাথায় সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা অনুভূত হয়। এক্ষেত্রে সেই অঞ্চলের নার্ভকোশগুলোই অসাড় করা হয়। কন্ডোমগুলি বানানোও হয় সেইভাবেই, যাতে কন্ডোমের যে অংশটি লিঙ্গের মাথা স্পর্শ করবে, সেখানেই বেঞ্জো়কেন বা লিডোকেন থাকবে।

কিন্তু কীভাবে অসাড় করে নার্ভগুলিকে এরা?

আমরা যে কোনও কিছু অনুভব করি যখন, নার্ভের মধ্য দিয়ে সিগনাল বা সংকেত প্রবাহ হয়। আর এই সংকেত প্রবাহিত হয়, যখন নার্ভের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের আয়ন প্রবাহিত হয়। আবার সেই সংকেত ধেয়ে যায় পরবর্তী নিউরোনে।সোডিয়াম, পটাশিয়াম যাতে একটি নার্ভকোশ থেকে সংলগ্ন পরের নার্ভে পৌঁছতে পারে, তাই দুই নার্ভের কোশের প্রান্তে থাকে সোডিয়াম-পটাশিয়াম চ্যানেল। সহজ করে বলা যাক, এই সোডিয়াম-পটাশিয়াম চ্যানেল আদতে দরজা। যার সাহায্যে একটি নার্ভ থেকে সোডিয়াম,পটাশিয়াম আয়ন বেরিয়ে যায়। আবার পরবর্তী নার্ভের দরজা দিয়ে সোডিয়াম,পটাশিয়াম প্রবেশ করতে পারে।

প্রথমে আয়নিত অবস্থায় না থাকলেও, বেঞ্জো়কেন বা লিডোকেন উভয়েই কোশের পর্দা ভেদ করে কোশে প্রবেশ করার পরে আয়নিত হয়ে যায়। এবং আয়নিত অবস্থাতেই সোডিয়াম-পটাশিয়াম চ্যানেলে আবদ্ধ হয়।বেঞ্জো়কেন বা লিডোকেনের মতো রাসায়নিক, সোডিয়াম-পটাশিয়াম চ্যানেলগুলিতে সাময়িকভাবে আবদ্ধ হয়ে, সোডিয়াম ও পটাশিয়াম আয়নের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় নার্ভের মধ্য দিয়ে অনুভূতির সংকেত প্রবাহ। আর অনুভূতি না পেলে যে অর্গাজ়ম হবে না, তা তো আগেই বলা হলো।

তবে এই রাসায়নিকগুলির কাজ অনেক ক্ষেত্রেই কোশের পিএইচ-এর ওপর নির্ভর করে, তবে বেঞ্জো়কেনের কাজের ওপর পিএইচের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। কিছুক্ষণ পরে যখন বেঞ্জো়কেন বা লিডোকেনের প্রভাব আর থাকে না, তখন লিঙ্গের অনুভূতি আবার ফিরে আসে। আর তারপর আসে সেই চরম মুহূর্ত, যখন যৌনসুখ শিখরে পৌঁছয়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।