"ভারত থেকে ভুলভাল ছবি পাঠানো হচ্ছে অস্কারে", হঠাৎ কেন এরকম মন্তব্য এআর রহমানের?
India sent Wrong Movies for Oscar AR Rahman : নমিনেশন পাঠাতে গেলে তো একটু ভেবেচিন্তে, বুঝে পাঠাতে হবে! রহমানের দাবি, সেই ভাবনাচিন্তা করা হয় না।

মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনা। আমেরিকার মাটিতে তখন চাঁদের হাট। হলিউড তো বটেই, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে সিনে জগতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শিল্পীরা হাজির হয়েছেন। উপলক্ষ্য? ২০২৩-এর অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস, গোটা বিশ্ব যাকে জানে অস্কার পুরস্কার হিসেবে। এবছর সেখানেই দুটো বিভাগে সেরার মুকুট পেল ভারত। সেরা অরিজিনাল সং হিসেবে এস এস রাজামৌলির ‘RRR’ সিনেমার গান ‘নাটু নাটু’, এবং সেরা শর্টফিল্ম ডকুমেন্টারি হিসেবে ‘দ্য এলিফ্যান্টস হুইস্পারার্স’। বেশ কয়েক বছর পর ফের একবার অস্কার ঘরে আসায় খুশিতে মাতোয়ারা গোটা ভারত।
তবে এর মধ্যেই বিতর্ক দানা বাঁধল একটি ছোট্ট মন্তব্যকে ঘিরে। যার সূত্রধর ছিলেন ভারতের অন্যতম বিখ্যাত সুরকার এআর রহমান (AR Rahman)। আরেক কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী এল সুব্রামনিয়মের অনুষ্ঠানে কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে অস্কারের প্রসঙ্গ। তখনই বিতর্কিত মন্তব্য করেন এআর রহমান। তাঁর দাবি, ভারত থেকে অস্কারের জন্য সঠিক ছবি পাঠানো হয় না। অস্কার গোটা বিশ্বের চলচ্চিত্র পুরস্কারের নিরিখে অন্যতম বড় জায়গায়। সেখানে একটি দেশ থেকে নমিনেশন পাঠাতে গেলে তো একটু ভেবেচিন্তে, বুঝে পাঠাতে হবে! রহমানের দাবি, সেই ভাবনাচিন্তা করা হয় না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
The Elephant Whisperers Oscar Bong Connection : জুড়ে গিয়েছে অস্কারের মঞ্চ, এবং কলকাতাও! এবারের অস্কারের সঙ্গে প্রবলভাবে জড়িয়ে আছেন এক বঙ্গতনয়া।
উল্লেখ্য, এর আগেও বেশ কয়েকবার অস্কার জিতেছে ভারত। ভানু আথাইয়া, সত্যজিৎ রায় থেকে আজকের RRR – এই তালিকাটি খুব একটা লম্ব না হলেও, ফেলে দেওয়ার নয়। স্বয়ং এআর রহমানও ২০০৯ সালে ‘স্লামডগ মিলিওনেয়ার’-এর জন্য অস্কার জিতেছিলেন। তারপর ভারত থেকে অনেক সিনেমা নমিনেটেড হলেও অস্কার আসেনি ঘরে। কিন্তু ভারতের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঠিক কী ভুল হচ্ছে বলে মনে করছেন এআর রহমান?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
The Elephant Whisperer Oscars: মুদুমালাই-থেপ্পাকাডু হাতি ক্যাম্পে এই রঘু আর আম্মুকে স্বচক্ষে দেখতে এখন ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ।
জনপ্রিয় সুরকারের বক্তব্য, অস্কারের ব্যাপারটা ভারত নিজেদের মতো করেই ভাবছে। সেখানে একটা বিশ্ব মানচিত্রকে মাথায় রাখতে হয়। সেখানকার মানুষ কী শোনেন, কীরকম ছবি দেখেন, তাঁদের মধ্যে কোন জিনিসটি ছুঁয়ে যাচ্ছে, অনেক কিছুই মাথায় রাখতে হয়। অস্কারের মঞ্চে যেতে গেলে সেখানকার মান নিয়ে ভাবতে হবে। একটা বড় প্রেক্ষাপট সেটা; সেইমতো ভাবতে হবে। এখনও বিশ্বের নানা জায়গায় সঙ্গীত, মিউজিক ইত্যাদি নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়। সামগ্রিক শিল্পের ক্ষেত্রেই সেটা সত্য। ভারতে সেই পরিসর আরও বাড়াতে হবে বলে মনে করেন ‘স্লামডগ মিলিওনেয়ার’-এর সুরকার। যদি সেভাবে ভাবা যায়, তবেই আরও বেশি অস্কার আসবে। নয়তো ৮-১০ বছর এভাবে অপেক্ষাই করতে হবে।
তাহলে কি এই দুটি অস্কার জয় নিয়ে খুশি নন রহমান? আদতে তা নয়। এই সাক্ষাৎকার অনেক আগেই নেট মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে প্রকাশ হওয়া এই সাক্ষাৎকারের পর পেরিয়ে গিয়েছে অনেকগুলো দিন। তারপর এসেছে অস্কার, গোল্ডেন গ্লোব। স্বয়ং এআর রহমানও এই অস্কার জয়ে অত্যন্ত খুশি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই কথা ব্যক্তও করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল সামগ্রিক নির্বাচন ঘিরে। ভারত জুড়ে অজস্র ভালো ছবি, সঙ্গীত তৈরি হয় প্রতি বছর। সেগুলোকে বেছে সামনে আনতে হবে, পৌঁছে দিতে হবে বিশ্বের দরবারে। শ্রেষ্ঠত্বের জায়গায় পৌঁছতে হলে সেরকম কাজও করতে হবে। তাহলেই অস্কার নিয়ে চাতক পাখির মতো হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হবে না। এমনটাই তাঁর মতামত।















