মঙ্গলের বুকে ‘অজানা’ উড়ন্ত বস্তুটি আসলে কী! সাড়া দিল ভিনগ্রহের বাসিন্দারা?

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
মঙ্গলের বুকে ‘অজানা’ উড়ন্ত বস্তুটি আসলে কী! সাড়া দিল ভিনগ্রহের বাসিন্দারা?

ঠিক যেন উড়ন্ত চাকতির (Flying Object) মত দেখতে এক বস্তু মঙ্গলের বুকে খুঁজে পেল মঙ্গলের আকাশে প্রদক্ষিণ করা ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার (Ingenuity Helicopter)। এই ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে ২৭ এপ্রিল অর্থাৎ গত বুধবার। নাসার পার্সিভেরেন্স রোভারের (Perseverance Rover) প্যারাশ্যুট সিস্টেমের ইঞ্জিনিয়ার (Parachute System Engineer) আয়ান ক্লার্কের (Ian Clark) মতে, ঠিক যেন বহিঃর্জগত (Otherworldly) থেকে আসা, এক খণ্ড চাকতি।

মঙ্গলের বুকের ঘটনাবহুম মুহুর্তকে নজরে রাখা এবং তা ক্যামেরাবন্দি করাই ইনজেনুইটি হেলিকপ্টারের কাজ। গত সপ্তাহে ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার তার ছাব্বিশতম প্রদক্ষিণ শেষ করার আগে, দশটি ছবি ক্যামেরাবন্দি করে। তখন সে ১,১৮১ ফুট উচ্চতায়। তখনই চোখে পড়ে সেই দৃশ্য।

ক্যামেরাবন্দি হওয়া চাকতিটির ব্যাস (Diameter) প্রায় পনেরো ফুট। মঙ্গলের মাটিতে আছড়ে পড়ার সময়ে ঘন্টায় আটাত্তর মাইল বেগ ছিল চাকতিটির। যার ফলে আংশিক ভাবে ভেঙেও গেছে এটি। আয়ান ক্লার্কের মতে, এ যেন কল্পবিজ্ঞানের গল্পের কোনো চিত্র ফুটে উঠেছে লাল গ্রহের উষর মাটিতে।

নাসার (NASA) তরফ থেকে জানানো হল, আসল সত্য। সমস্ত আশা বিচূর্ণ করে নাসা জানাল, সেই উড়ন্ত বস্তুর মত দেখতে চাকতি আদতে ভিনগ্রহী বা এলিয়েনরা ফেলে যায়নি। এটি পার্সিভেরেন্স রোভারেরই একটি অংশ, যা পার্সিভেরেন্স রোভার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লাল গ্রহের বুকে পড়ে রয়েছে। এই যন্ত্রাংশকে প্রযুক্তিগত ভাষায় ব্ল্যাকশেল (Blackshell) বলে। এবং এটি বিছিন্ন হয়েছে পার্সিভেরেন্স রোভারের মঙ্গলের মাটিতে পা রাখার সময়ে। পার্সিভেরেন্স রোভার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম পা রাখে লাল গ্রহের মাটিতে।

বিগত এক বছর যাবৎ মঙ্গলের মাটিতে পার্সিভেরেন্স রোভার ঘুরে বেড়াচ্ছে। মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি, সেখান থেকে পূর্বে বয়ে চলা নদীর অববাহিকা, সেই নদী থেকে তৈরি ব-দ্বীপ, সবই খুঁটিয়ে দেখছে সে। ছবি তুলে পাঠাচ্ছে নাসা এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (California Institute of Technology) ল্যাবে। তা পর্যবেক্ষণ করছে গবেষকরা।

বিগত এক বছর ধরে ব্ল্যাকশেলটি বিছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে থাকলেও, এর ছবি প্রকাশিত হয় সম্প্রতি।

মঙ্গলের মাটি থেকে প্রায় দেড় মাইল উঁচুতে থাকাকালীনই পার্সিভেরেন্স রোভার থেকে একটি প্যারাশ্যুট এবং এই ব্ল্যাকশেলটি বিছিন্ন হয়ে গেছিল। স্কাইক্রেন (Skycrane) নামক একটি রকেট চালিত সিস্টেম পার্সিভেরেন্সের বাকি অংশকে নিয়ে মঙ্গলের মাটিতে পা রাখে। অন্যদিকে, বিছিন্ন হওয়া ব্ল্যাকশেল এবং প্যারাশ্যুট, পার্সিভেরেন্সের প্রাথমিক ল্যান্ডিংয়ের স্থান জেজে়রো খাত (Jazero Crater) থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে মঙ্গলের মাটিতে পড়ে।

কিছুদিন আগেও নাসা নিজেদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে একটি ছবি পোস্ট করে, যা দেখে মনে হয় যেন মঙ্গলের বুকে ভিনগ্রহী কোনো বাসিন্দা পায়ের ছাপ ফেলে রেখে গেছে। তারও কিছুদিন আগে ভীনগ্রহের বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করতে পুরুষ ও নারীদেহের নগ্ন ছবি মহাকাশে পাঠিয়েছিল নাসা। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই বুঝি সেই চোখ ধাঁধানো ছবি দেখে ভিনগ্রহীরা সাড়া দিলেন। পরে নাসার তরফেই জানানো হয়, সেটি আদতে একটি মঙ্গলের বুকে একটি খাত, যার মধ্যে আবার আঁচড়ের মত দেখতে কিছু অংশ আছে। খুব উচ্চমানের ক্যামেরায় (High-resolution Camera) ধরা পরে এত পুঙ্খানুপুঙ্খ এই চিত্র।

নাসার সাম্প্রতিক প্রকাশ করা এই চাকতির ছবির আসল বিবরণ শুনে নেটিজে়নদের অনেকেই দাবি করছেন, পৃথিবীকে কলুষিত করার পর, মহাকাশকে স্পেস জাঙ্ক (Space Junk) দিয়ে ভরিয়ে আংশিক দূষিত করে, এবার মানুষ নেমে পড়েছে অন্যান্য গ্রহগুলিকে দূষিত করবে বলে। তবে অনেকেই আবার বলছেন, মঙ্গল অভিযানের পথে এরকম ঘটনা তো ঘটতেই পারে।

আয়ান ক্লার্ক নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, চাকতির মত দেখতে ব্ল্যাকশেলের এই ছবিটি নিয়ে নানা মনগড়া কথা হয়তো বলা যায়। কিন্তু এটি বিছিন্ন কী ভাবে হল পার্সিভেরেন্স রোভার বা পার্সির মূল দেহ থেকে, তা বোঝার জন্য প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞানের প্রয়োজন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?