মৃত মাছের মহামারী! যে কারণে এই দেশে জারি জরুরি অবস্থা

Dead Fish Crisis: দেখে মনে হচ্ছে মৃত মাছের শরীর দিয়ে এক রুপোলি কম্বল যেন। পচা গন্ধে টিকতে পারছেন না বাসিন্দারা। সমস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশের জলবায়ু মন্ত্রক।

Sohini Das
৩ মিনিট
মৃত মাছের মহামারী! যে কারণে এই দেশে জারি জরুরি অবস্থা

দেশ জুড়ে জারি জরুরি অবস্থা। না, দেশের মানুষ হঠাৎ করে গণঅভ্যুত্থান জারি করেছে এমন নয়। নয় কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতাও। তবে দেশ জুড়ে এই সামগ্রিক অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে একগুচ্ছ মাছের মৃত্যু। একদিন ভোরে উঠে দেখা গেল গ্রিসের ভোলোস বন্দর সংলগ্ন নদীতে ভেসে উঠেছে অসংখ্য় মৃত মাছ। না, একটা-দু'টো নয়। প্রায় ১০০ টন মাছের মৃত্য়ুর নেপথ্যে রয়েছে আদতে কোন কারণ?

দেখে মনে হচ্ছে মৃত মাছের শরীর দিয়ে এক রুপোলি কম্বল যেন। পচা গন্ধে টিকতে পারছেন না বাসিন্দারা। সমস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশের জলবায়ু মন্ত্রক। প্যাগাসেটিক উপসাগরীয় বন্দর পরিষ্কার করার কাজটি তাড়াতাড়ি সেরে ফেলতেই এই জরুরি অবস্থা জারি বলে জানানো হয়েছে। এই ভাবে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মাছেদের হঠাৎ মৃত্যুর কারণই বা কী? মনে করা হচ্ছে এর নেপথ্যে রয়েছে সেই চিরন্তন জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা। আজ থেকে নয়, বহু দিন ধরেই পরিবেশবিদদের ভাবাচ্ছে এই ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়টি। যার জন্য দায়ী বিশ্ব উষ্ণায়ন, পরিবেশ দূষণের মতো হাজারও সমস্যা। আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমশ বিলয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী।

২০২৩ সালে বিধ্বংসী ঝড় ড্যানিয়েল হানা দিয়েছিল গ্রিসে। সেই ঝড়ের দাপটে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল প্রাচীন এই দেশ। সেই ঝড় ও বন্যার সঙ্গে এই মাছেদের মৃত্যু অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা। আপাতত গ্রিসে গ্রীষ্মকাল চলছে। সেই মনোরম পরিবেশে বাধ সেধেছে এই মৃত মাছেদের ভেসে ওঠা। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসছে মরা মাছেদের ভেসে ওঠার দৃশ্য। আপাতত এক মাস যাবৎ দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা চলবে বলেই জানিয়েছেন জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের নাগরিক সুরক্ষা মহাসচিব ভ্যাসিলিস পাপেজর্জিউ। যত দ্রুত ওই বন্দর এলাকা থেকে মৃত মাছ পরিষ্কার করা যায়, তার চেষ্টা করছে গ্রিক সরকার।

Environmental Crisis in

📌

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Climate Change: বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, যে ভয়াবহ বিপদের মুখে আমরা

Climate change: এই যে জলবায়ুর সামগ্রিক পরিবর্তন, তার ফলে নাকি ক্রমশ বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর আকার। এমনকী দিনের দৈর্ঘ্য নাকি ক্রমশ বাড়ছে।

|

🇬🇷

The picturesque port of Volos has turned into a scene of environmental distress as it's inundated with tons of dead fish, a stark aftermath of last year's catastrophic floods. This ecological disaster not only paints a grim…

— DISASTER TRACKER (@DisasterTrackHQ)

কার্যত গত বছর থেসালি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর থেকে এই দ্বিতীয় পরিবেশগত বিপর্যয় যেন গ্রীসে। ১৯৬২ সালে ম্যালেরিয়া দমন করার উদ্দেশ্যে খালি করে ফেলা হয়েছিল একটি হ্রদ। সাম্প্রতিক এই বন্যায় যা শুধু ভরেই যায়নি, তিনগুণ ফুলে ফেঁপে ওঠে সেই হ্রদের জ্ল। গত বছরে ড্যানিয়েল ও ইলিয়াস ঝড়ের পরে থেসালির প্রায় ২০ হাজার হেক্টর সমভূমি প্লাবিত হয়েছিল। সে সময় নদী থেকে অসংখ্য মাছ সমুদ্রে চলে যায়। এদিকে হ্রদের জল বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টি জলের মাছ চলে যাচ্ছে ভোলোস বন্দর সংলগ্ন সমুদ্রে। কিন্তু নদীর মিঠে জলের মাছেদের পক্ষে সমুদ্রে টিকে থাকা কঠিন। তার ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। অজস্র মৃত মাছ প্রায় প্রতিদিন ভেসে উঠছে সেখানে।

More than 100 tons of dead fish had been collected in and around the port of Volos, in central Greece, following a mass die-off linked to extreme climate fluctuations.

Yeah... I'm sure that's what it was

— Katie Liane (@TheKaterPotater)

সেই মৃত মাছগুলিকে সরাতে গ্রিস প্রশাসন এক ধরনের বিশেষ জাল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রাখা হচ্ছে জিরিয়া নদীর মুখে। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক মরা মাছ সংগ্রহ করতে প্রবল চাপের মুখে পড়ছে সেই জালও। গত বছর থেকে বন্যার কারণে গ্রিসের এই সব এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনাও কমেছে। তার মধ্যে এই মৃত মাছের দুর্গন্ধ। কার্যত এক ভয়ঙ্কর পুতিগন্ধময় নরকে পৌঁছে দিয়েছে বাসিন্দাদের। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকেরা আর কেউ আসবে বলেও মনে হয় না। যার ফলে বিপাকে পড়েছে ওই সব এলাকার রেস্তোঁরা ও বারগুলি। তাদের অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিনে তাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।

এই পরিবেশগত সঙ্কট পরিস্থিতির ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে একদল সরকারি আইনজীবী। তবে এই মৃত মাছেদের চাদর এলাকা থেকে দ্রুত সরানো না গেলে, তা যে ক্রমশ ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঠেলে দেবে সঙ্কট থেকে সঙ্কটতর পরিস্থিতিতে, তা ভালোই বুঝতে পারছে প্রশাসন। কার্যত এই পরিস্থিতিতে ভয়াবহ উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্য়েও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।