বাস থেকে নামিয়ে তালিবানি কায়দায় খুন! পাকিস্তানে কেন বারবার জঙ্গি-নিশানায় পঞ্জাবের মানুষজন?

Balochistan Bus Attack: সোমবারের এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন দেশের প্রেসিডেন্ট আসিফ আল জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন শরিফ।

Sohini Das
৩ মিনিট
বাস থেকে নামিয়ে তালিবানি কায়দায় খুন! পাকিস্তানে কেন বারবার জঙ্গি-নিশানায় পঞ্জাবের মানুষজন?

অর্থনৈতিক দুরবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা তো লেগেই রয়েছে পাকিস্তানে। তারই মধ্যে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ। এবার রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো হামলা চলল পাকিস্তানে। তালিবানি কায়দায় বাস থেকে নামিয়ে খুন করা হল ২৩ জন বাসযাত্রীকে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত ১০টি গাড়ি।

বালুচস্তানের মুসাখেলে সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে। সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, রারাশামের কাছে আগে থেকেই হাইওয়ে আটকে দাঁড়িয়েছিল বেশ কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদী। ওই পথ দিয়ে আসা সমস্ত বাস ও ট্রাককে এক এক করে থামাতে থাকে তারা। নামতে বাধ্য় করা হয় যাত্রীদের। খতিয়ে দেখা হয় প্রতিটি যাত্রীর পরিচয়পত্র। এর পর বেছে বেছে ২৩ জন যাত্রীকে গুলি করে মারে তারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৪৫ দিনে ১১ বিলিয়ন ডলার ধার! যে ভাবে ডুবছে পাকিস্তান

Pakistan Economy: এই প্রথম যে তফসিলি ব্যাঙ্ক থেকে পাকিস্তান সরকার ধার নিল, তা কিন্তু নয়। ২০২৩ অর্থবর্ষে ৩.৭১৬ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি মুদ্রা তফসিলি ব্যাঙ্ক থেকে ধার নিয়েছিল সরকার। ২০২৪ সালে সেই ধারের অঙ্ক বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

পুলিশ সূত্রের খবর, যে ২৩ জন যাত্রীকে গুলি করে খুন করা হয়, তাঁরা সকলেই পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। তাঁদের খুন করার পর আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে কমপক্ষে দশটি গাড়িতে। সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজিব কাকর বলেছেন, ‘‘নিহতদের বড় অংশই পঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। মৃতদেহগুলি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’’

ঘটনায় উদ্বেগের ছায়া সমগ্র পাকিস্তান জুড়েই। কেন এই হামলা, কী উদ্দেশ্য তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায়ও স্বীকার করেননি। পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভি এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। কার্যত এই হামলাকে বর্বরচিত আখ্যা দিয়ে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দেন তিনি। এখনও পর্যন্ত হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে হামলা চালাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসন সূত্রে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষদের হাইওয়ে থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শাহওয়াজ প্রধানমন্ত্রী, জারদারি প্রেসিডেন্ট! পাকিস্তানের হাল ফেরাবে জোট সরকার?

Shehbaz Sharif to be PM of Pakistan: শেষপর্যন্ত পাকিস্তানে সরকার গড়তে চলেছে জোট সরকারই। মঙ্গলবার রাতে বেনজির-পুত্রের সাংবাদিক বৈঠকেই তা সাফ হয়ে গিয়েছিল।

তবে বেছে বেছে কেন পরিচয়পত্র যাচাই করে পঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দাদেরই নিশানা করল সন্ত্রাসবাদীরা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিনের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিন বালুচিস্তানের বাসিন্দা রয়েছেন বলেও খবর। কেন পঞ্জাবের বাসিন্দাদের আলাদা করে বাছাই করে খুন করা হল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আচমকা সাধারণ নাগরিকদের উপর এ হেন সন্ত্রাস হামলায় উদ্বেগ দেশের বিভিন্ন মহলে। বালুচস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই হামলার পিছনে রয়েছে জঙ্গি-হাতই। পঞ্জাব প্রদেশে জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ করারও আশ্বাস দেন তিনি।

এমন হামলা অবশ্য বালুচস্তানে প্রথম নয়। গত কয়েক বছরে একাধিক এমন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসমূলক হামলা হয়েছে সেখানে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বালুচস্তানের কেচ জেলার তুরবাতে বন্দুকবাজদের হাতে খুন হন পঞ্জাব থেকে আসা ৬ শ্রমিক। সেই ঘটনায় নিহতেরা দক্ষিণ পঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলেই জানিয়েছিল পুলিশ। জাতিগত পটভূমির জন্যই তাঁদের নিশানা করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। ২০১৯ সালে গোয়াদর জেলার ওরমারার কাছে বাস একই রকম ভাবে বাস থামায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মী-সহ মোট ১৪ জনকে গুলি করে হত্যা করেছিল তারা। ২০১৫ সাল নাগাদ ২০ জন নির্মাণ শ্রমিককে খুন করা হয় তুর্বতের কাছে এক শ্রমিকশিবিরে। নিহতরা সকলেই সিন্ধু ও পঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা বলে জানা যায়।

সোমবারের এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন দেশের প্রেসিডেন্ট আসিফ আল জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারদের আর্থিক ভাবে সহযোগিতা ও আহতদের চিকিৎসায় সাহায্যের কথাও জানিয়েছেন তিনি। খুব বেশিদিন হয়নি, পাকিস্তানের তখ্তে এসেছে নয়া সরকার। সেই নয়া সরকারের আমলে ক্রমশ নীচের দিকে নামছে পাকিস্তানের আর্থিক ও সামাজিক অগ্রগতির গ্রাফ। দেনায় জেরবার দেশ। তার মধ্যে নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে সন্ত্রাসের আবহ। যা স্বাভাবিক ভাবেই মুখ পোড়াচ্ছে নয়া সরকারের। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান থেকে সমূলে সন্ত্রাসকে উৎপাটনের প্রতিশ্রুতিতে অনড় অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে প্রেসিডেন্ট জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শরিফ, দু'জনকেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।