মেয়েকে ছাড়া শুধুই অন্ধকার! পুজো যেভাবে কাটাবেন নির্যাতিতার পরিবার

RG Kar: ৯ অগস্টের ঘটনার পর বিরাট বদলে গেছে সোদপুরের ওই পরিবারের জীবন। আগে দুর্গাপুজোর জন্য প্যান্ডেল বাধা হত বাড়িতে, আলো জ্বলত। এবার তার বদলে বাড়ির সামনে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ।

subhajit putatunda
৩ মিনিট
মেয়েকে ছাড়া শুধুই অন্ধকার! পুজো যেভাবে কাটাবেন নির্যাতিতার পরিবার

প্রতিবার প্রতিমা আনা থেকে শুরু করে বাড়ির পুজোয় সকলকে আমন্ত্রণ, পুজোর জোগাড়, সব কিছু কার্যত একা হাতে সামলাতেন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসক। এমডি-তে সুযোগ পেয়েই ২০২২ সালে বাড়ির গ্যারাজেই পুজো শুরু করেছিলেন। গোটা বাড়ি সেজে উঠত আলোয়। আসতেন বন্ধুবান্ধব থেকে আত্মীয়স্বজন অনেকেই। এবার সেই বাড়ি অন্ধকার। মেয়ে নেই। বলতে বলতে চোখের জল বাধ মানে না নির্যাতিতার মায়ের। জানান, তাঁর দুর্গার বিসর্জন হয়ে গিয়েছে আগেই। তবে লড়াই বাকি এখনও, সে কথাও জানাতে ভোলেন না তিনি।

আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার বিচার চেয়ে আন্দোলন এখনও চলছে। ধর্মতলায় অনশনে বসেছেন ফের জুনিয়র ডাক্তারেরা। ৯ অগস্টের ঘটনার পর বিরাট বদলে গেছে সোদপুরের ওই পরিবারের জীবন। আগে দুর্গাপুজোর জন্য প্যান্ডেল বাধা হত বাড়িতে, আলো জ্বলত। এবার তার বদলে বাড়ির সামনে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ। যেখানে ষষ্ঠী থেকে চার দিন ধর্নায় বসবেন আরজি করের চিকিৎসকের বাবা-মা। পাশে থাকবেন আত্মীয়স্বজনেরাও। নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছেন, চাইলে যে কেউ আসতে পারেন এই ধর্নাস্থলে। তবে মঞ্চে থাকবেন শুধুই আত্মীয়েরাই।

নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, তিন বছর আগে মেয়ের আবদারে বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। বাড়ির গ্যারাজে রাখা হয়েছিল প্রতিমা। সে সময় বাড়িটা আলোয় ঝলমল করত। সকাল থেকে মেলা বসে যেত। এ বছর পরিবারের সকলের সঙ্গে একটু অন্য ভাবেই পুজো কাটাতে চাইছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁর বাবার কথায়, ‘‘বাড়িতে চার দিন পুজো হত। খুব আনন্দ হত। এ বার খুব কষ্টে রয়েছি। তাই ঘরের সামনে ধর্নামঞ্চ করেছি। ষষ্ঠী থেকে চার দিন সেখানেই বসব। পরিবারের লোকজন থাকবেন। যাঁরা আসতে চাইবেন, আসবেন।’’ নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, রাজনীতিকেরাও চাইলে আসতে পারেন সেখানে। তবে মঞ্চে তাঁদের স্থান হবে না। নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘রাজনীতির রং আমরা চাই না।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জুনিয়র ডাক্তারদের অনশনের ৩৬ ঘণ্টা পার! উৎসবমুখী মানুষের কিছু আসে-যায়?

Junior Doctor Hunger Strike: জুনিয়র ডাক্তাররা জানান, সিবিআইয়ের উপর সম্পূর্ণ আস্থাও নেই তাঁদের। অথচ আগে তাঁরাই আথা জানিয়েছিলেন তদন্ত প্রক্রিয়ায়।

গত ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগের চার তলার সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ঘটনায় বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছিল শহর কলকাতা তো বটেই, গোটা রাজ্য জুড়ে। পুজোর আবহেও প্রতিবাদ কর্মসূচী চলছে। আরজি করের নির্যাতিতার বিচার এবং সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা-সহ একাধিক দাবিতে ধর্মতলায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন ছয় জুনিয়র ডাক্তার। প্রায় চল্লিশ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গিয়েছে তাঁদের অনশনের। নির্যাতিতার মা জানান, তাঁর মেয়ের বিচারের দাবিতে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা সকলেই এখন তাঁর সন্তান। ওঁদের কথা ভেবে তিনি এখন কষ্ট পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘‘মেয়েকে হারিয়েছি। জুনিয়র ডাক্তারেরা যে আন্দোলন করছেন, তা দেখে ঘরে বসে আমার কান্না পাচ্ছে। ওরা না খেয়ে আছে। আমি তো এখন ওদেরও মা। ওরা আমার সন্তান।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেহ উদ্ধারের পর সেমিনার রুমে কাদের ভিড়? যে সব প্রশ্ন তুলে দিল আরজি কর কাণ্ডের ভাইরাল ভিডিও

RG Kar Hospital Incident: ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে ভিড়ে ঠাসা একটি ঘরের ছবি। অন্তত জনা তিরিশেক মানুষ জটলা করে রয়েছেন সেখানে। কেউ সেখানে দাঁড়িয়ে, কেউ বা হাঁটাচলা করছেন।

এর পরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জুনিয়র ডাক্তারদের সমস্যা সমাধানের অনুরোধ করেন। রাজ্য সরকারের মানবিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর কথায়, ‘‘সরকারকে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়ে সরকার কোনও কথা বলেনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। উল্টে অসহযোগিতা করছে।’’ এমনকী আন্দোলনরতদের জন্য ন্যূনতম বায়ো-টয়লেটের পর্যন্ত ব্যবস্থা করা হয়নি। এই সব প্রশ্ন তুলেই নির্যাতিতার পরিবারের জিজ্ঞাসা, এত কিছু সত্ত্বেও কেন মানবিক হচ্ছে না সরকার।

পুজোর আবহেই সামনে এসেছে এ রাজ্যেরই আরও দু'টি ধর্ষণের ঘটনা। যা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। জয়নগরে বছর নয়েকের একটি শিশুকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। পটাশপুরে ধর্ষণের পর খুন করা হয় এক বধূকে। সেই জয়নগর ও পটাশপুরের কথা উল্লেখ করে নির্যাতিতার বাবা-মা প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সরকার মানবিক ভাবে চিন্তাভাবনা না করলে জয়নগর, পটাশপুরের মতো ঘটনা থামবে কী করে? থামার লক্ষণ দেখছি না।’’ এই সঙ্গে নিজের রাজ্যে এই ধরনের দুই ঘটনা তাঁদেরকে যথেষ্ট কষ্ট দিয়েছে বলেও জানান নির্যাতিতার বাবা। একই সঙ্গে নির্যাতিতার মায়ের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, ‘‘মা হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, হাসপাতালের ভিতরে কী করে আমার মেয়ের সঙ্গে ওই কাণ্ড হয়েছিল? তথ্যপ্রমাণ লোপাটও কি দুর্ঘটনা?’’ তাঁদের প্রশ্ন, হাসপাতালের ভিতরে এ রকম হলে কোথায় রয়েছে সুরক্ষা?

জুনিয়র ডাক্তারদের আমরণ অনশন থেকে শুরু করে আরজি কর নির্যাতিতার পরিবারের একাধিক দাবি, কোনও কিছুতেই টনক নড়েনি সরকারের। সে নিয়ে বিশেষ উচ্চবাচ্য করতেও দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রীকে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সেই অনমনীয় অসহযোগিতার বিরুদ্ধেই ফের প্রশ্ন তুলে দিলেন আরজি কর নির্যাতিতার পরিবার।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।