জুয়ার স্বর্গ এখানেই! ভোট এলেই জমে ওঠে ফালোদির 'সট্টা' বাজার

Phalodi satta market: ভোট এলেই বাজারে ভিড় জমতে থাকে ক্রমে। ভোট যত গড়ায়, তত বড় বড় টাকার বাজি ওঠে ফালোদি বাজারে। জমে ওঠে জুয়ার মার্কেট।

Sohini Das
৩ মিনিট
জুয়ার স্বর্গ এখানেই! ভোট এলেই জমে ওঠে ফালোদির 'সট্টা' বাজার

ভোট এলেই পাড়ার রক, চায়ের দোকানে জমে ওঠে আলোচনা, চায়ের কাপে ওঠে তুফান। 'ক' দলের জয় বাধা। 'খ' দলের সুযোগ বেশি এই ভোটে। হার কপালে নাচছে 'গ' দলের। এক কথায় বলে ওপিনিয়ন পোল। চার-পাঁচ মাথা এক হলেই জমে ওঠে বিতর্ক। চায়ের আড্ডায়, পাড়ার রকে যে কখনও সখনও এসব নিয়ে বাজি ধরাধরি হয় না, তেমন নয়। তবে সেসব যাকে বলে নির্ভেজাল বাজি। তার টাকার হিসেবও গুলিয়ে যায়, গুলোয় জয়ের হিসেবও। কিন্তু এই বাজি ধরার বাজার মোটেও তেমন জলবৎতরল নয় যেখানে, সেটা রাজস্থানের যোধপুরের কাছে ফালোদি গ্রাম। ভোট এলেই বাজারে ভিড় জমতে থাকে ক্রমে। ভোট যত গড়ায়, তত বড় বড় টাকার বাজি ওঠে ফালোদি বাজারে। জমে ওঠে জুয়ার মার্কেট।

স্থানীয় ভাবে গ্রামের এ বাজার পরিচিত 'সট্টা' বাজার নামেই। আজ থেকে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই ফালোদি সট্টা বাজারের বেশ সুনাম। বেটিং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাতে কী? যেখানে বজ্রআঁটুনি, সেখানেই তো ফস্কা গেরো। তাই চোখের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই সট্টা খেলার উল্লাস। মফসসলের ছোট্ট বাজার, বাজারের মধ্যে কয়েকটি ছোট ছোট কিয়স্ক। ভোটের বাজারে সেখানে জমে ওঠে ভিড়। গণতন্ত্রের এই লড়াইয়ে সট্টা বাজারের নির্ভুলতা অবাক করবে বাঘা বাঘা ভোটকুশলীকেও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রকাশ্যে জুয়া খেলেন মহিলারাও, বাংলার বিচিত্র এই মেলার সঙ্গে জুড়ে আছেন বেহুলা-লখিন্দর!

Malda Juari Mela: প্রতিবছর মুলো ষষ্ঠী উপলক্ষ্যে মালদহের মোকাতিপুরে বেহুলা নদীর তীরে এই মেলার আয়োজন করা হয়

শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে ভোটকে কেন্দ্র করে এই ট্র্যাডিশন চলে আসছে ফালোদিতে। তবে শুধু ভোট বলে নয়। বাজি ধরার এই প্রবণতা ঢুকে গিয়েছে আসলে ফালোদির রক্তে। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুটো ষাঁড় লড়াই করলেও তা নিয়ে বাজি ধরে বসে ফালোদি। শোনা যায়, উনিশ শতকের শেষের দিকে ফালোদিতে এই সট্টা মার্কেট সংগঠিত রূপ ধারণ করে। আজকাল অবশ্য এই ফালোদির সট্টা বাজারের প্রধান বাজি ধরার সময় এবং বিষয় এই ভোট। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে কিন্তু বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়েই শুরু হয়েছিল এই বেটিংয়ের ইতিহাস। রাজস্থান মরুভূমি এলাকা। বৃষ্টির জন্য চাতক-চাওয়া চাইতে চাইতে কবে যে সেই বৃষ্টি নিয়েই বাজি ধরা শুরু করেছিল ফালোদি। সেই ঐতিহ্য এখনও চলছে। এখনও বৃষ্টি নিয়ে বাজি ধরা চলে ফালোদিতে। তবে শুধু বৃষ্টি হবে কি হবে না, তা নিয়ে নয়! কবে হবে? হলে কতটা হবে? টানা কতদিন হবে? পুকুর উপচে পড়বে কিনা বা টিনের ছাদে বৃষ্টির শব্দ শোনা যাবে কিনা, সেগুলোও হয়ে ওঠে বাজি ধরার বিষয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জুয়াড়ির স্বর্গ-নরক

আইপিএলকে কেন্দ্র করে ফুলেফেঁপে উঠেছিল ফালোদির সট্টা বাজার। তাছাড়া গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রের উৎসব তো লেগেই রয়েছে। লোকসভা ভোট, বিধানসভা ভোট, পঞ্চায়েত ভোট কিংবা পৌরসভার ভোটকে কেন্দ্র করেই ভিড় জমতে থাকে ফালোদির বাজারে। কোন দল কত ভোটে জিতবে। কে হতে চলেছে রাজ্যের বা দেশের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী, এ সব নিয়ে মাথাব্যথার কমতি নেই সেখানে। সট্টা বাজারে দুটি শব্দের চল, তার একটি 'খানা', অন্যটি 'লাগানা'। যেখানে জেতার সুযোগ কম, সেটা 'খানা', যেখানে সম্ভাবনা বেশি, সেখানে 'লগানা'র সুযোগও ভালো। স্থানীয়দের ক্ষেত্রে অবশ্য আগেভাগে টাকা জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ বুকিরা প্রত্যেকেই তাদের ভালো মতোই চেনেন। বাইরে থেকে যারা বেটিং করতে যান, তাদের ক্ষেত্রে নগদ জমা করতে হয়। ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় প্রায় সমস্ত লেনদেনই এখন হয় ডিজিটালি। বিশেষত বাইরের লোকেদের সঙ্গে তো বটেই। ফালোদির এই বাজার আন্ডারগ্রাউন্ড হলে কী হবে, সট্টা বাজারের লোকজন ছড়িয়ে রয়েছে বিহার, উত্তরপ্রদেশে থেকে শুরু করে সর্বোত্র, এমনকী কলকাতাতেও। তাঁরা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে। কোথায় কোন সমীকরণে ঘুরছে ভোটের হাওয়া, কোথায় কোন রাজনীতি কাজ করছে, সব নখদর্পণে তাঁদের।

প্রতিদিন সকাল দশটা নাগাদ খুলে যায় ফলোদির সট্টা বাজার। স্থির হয়ে যায় নির্ধারিত রেট। তারপর সারাদিন ধরে চলে নানাবিধ বেটিং। বিকেল পাঁচটার পরে ঝাঁপ পড়ে সেই বাজারে। ততক্ষণে অবশ্য কোটি টাকার লেনদেন হয়ে গিয়েছে সট্টা খেলাকে ঘিরে। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ফোন করে পর্যন্ত বাজি ধরে। জিতলে তাদের অ্যাকাউন্টে জমে টাকা। হারলে জলের মতো হারায় লক্ষ্মী। কোনও সুনিশ্চিত বাজার সমীক্ষা নয়, বিশ্লেষণ নয়। তার পরেও মিডিয়া ও স্থানীয় মানুষের কথাবার্তা শুনে তার থেকে একটা ধারণা তৈরি করেই চলে নির্ভুল বেটিং। যার কাছে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে তাবড় ভোটসমীক্ষা সংস্থা থেকে শুরু করে ভোট কুশলীরাও। সমাজে বেটিং নিষিদ্ধ এবং আইনবিরুদ্ধ। তবে সেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই এই অন্য নেশায় মেতে রয়েছে রাজস্থানের এই ছোট্ট গ্রাম। চলতি লোকসভা ভোটের ফলাফল সামনে আসতে আসতে আগামী ৪ জুন। ফালোদি কিন্তু এখন থেকেই জেনে গিয়েছে সেদিনের ফলাফল। সেই ফলাফলকে মাথায় রেখে কোটি টাকা উঠছে, পড়ছে। এক আশ্চর্য জুয়াখেলা বছরের পর বছর ধরে চলছে রাজস্থানের একরত্তি গ্রামে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।