উত্তরপ্রদেশে বিজেপির হার 'পরিকল্পিত'! গোপন নথি হাতে নিয়ে যুদ্ধ শুরু যোগীর

Yogi Adityanath: রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত সাত বছর ধরে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির শাসন রয়েছে। তা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের থেকে যে ধরনের সাহায্য় আশা করা যায়, তা বহুক্ষেত্রেই বাসিন্দারা পাচ্ছেন না। যে কারণে ক্ষোভ জমছে মানুষের মনে।

Sohini Das
৩ মিনিট
উত্তরপ্রদেশে বিজেপির হার 'পরিকল্পিত'! গোপন নথি হাতে নিয়ে যুদ্ধ শুরু যোগীর

বিজেপির খাস গড় বলতে যা বোঝায়, উত্তরপ্দেশ ঠিক তাই। গোবলয়ের রাজ্য বলে কথা,যেখানে যত্ন করে বিজেপি গড়ে তুলেছে রামমন্দির। বিজেপির খাস লোকের হাতে যে রাজ্যের ভার, সেখানেই লোকসভা ভোটে মারাত্মক ভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির। এমনকী অযোধ্যার রামমন্দির যেখানে, সেই ফৈজাবাদ কেন্দ্রেও গো-হারান হেরেছে বিজেপি। কেন এই হার? কেন উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রত্যাশিত ফলাফল এল না বিজেপির? সেই রিপোর্ট হাতে আসার পরেই ময়দানে যোগী।

তার পর্যালোচনায় নেমে একাধিক কারণকে ভোটের খারাপ ফলাফলের জন্য দাবি করেছে উত্তরপ্রদেশ বিজেপি। দলীয় কর্মীদের অসন্তোষ থেকে শুরু করে যথাযথ প্রার্থীকে টিকিট না দেওয়ার অভিযোগ। এমনকী আঙুল উঠেছে জেলা প্রশাসনের যথেষ্ট সহায়তার অভাবের মতো বিষয়ের দিকেও। সম্প্রতি ভোট পরবর্তী ফলাফল ও তার কারণ পর্যালোচনার জন্য উত্তরপ্রদেশে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে বিজেপি। বিজেপির এই ভয়ঙ্কর খারাপ ফলাফলের কারণ খতিয়ে দেখাই ছিল সেই টাস্ক ফোর্সের কাজ।

সেই টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট সম্প্রতি জমা পড়ে যোগী সরকারের কাছে। আর সেই রিপোর্ট হাতে আসার পরেই একাধিক জেলার জেলাশাসককে বদলি করে দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নয় নয় করেও এক ডজনের কাছাকাছি জেলাশাসককে বদলি করেছেন যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন। আর মজার ব্যাপার, যে সব জেলাগুলিতে জেলাশাসক বদল হয়েছে, সেই জেলাগুলিতেই লোকসভা ভোটে গো-হারান হেরেছে বিজেপি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উত্তরপ্রদেশই উলটে গেল! কে গিলে ফেলল রাম মন্দিরের সাফল্য?

Ayodhya Ram Mandir Lok Sabha Results: অযোধ্যা যে লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে, সেই ফৈজাবাদেরও ভোট টানতে ব্যর্থ হচ্ছে রাম মন্দির।

কী রয়েছে আদতে সেই টাস্ক ফোর্সের রিপোর্টে? তাদের বিশ্লেষণ বলছে, লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মোট ৩২টি আসন কম পেয়েছে বিজেপি। ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশে যেখানে ৬২টি আসন পেয়েছিল বিজেপি, সেখানে এবার তাদের আসন সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৩-এ। একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, উত্তরপ্রদেশে যদি ঠিকঠাক ফলাফল করত বিজেপি, অর্থাৎ যদি উত্তরপ্রদেশের আসন ঠিকমতো ধরে রাখতে পারত বিজেপি, তাহলে কেন্দ্রে বিজেপির এই শরিক নির্ভরতা থাকত না কোনও মতেই। এবারে কার্যত কিং মেকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন বিহারের নীতীশ কুমার এবং অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নায়ডু। যে কারণে সরকার গড়ার পরিবর্তে একাধিক মন্ত্রক ও দফতরের দাবি জানাতে পেরেছিলেন এনডিএ শরিকেরা।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত সাত বছর ধরে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির শাসন রয়েছে। তা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের থেকে যে ধরনের সাহায্য় আশা করা যায়, তা বহুক্ষেত্রেই বাসিন্দারা পাচ্ছেন না। যে কারণে ক্ষোভ জমছে মানুষের মনে। যার প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে। জানা গিয়েছে, ওই রিপোর্টের পরে কৌশম্বি, চিত্রকোট, শ্রাবস্তি, সীতাপুর, বস্তি, সাহরনপুর, বান্দা, মোরাদাবাদ, সীতাপুর, শম্ভল, কাইসারগঞ্জ, অউরাইয়ার জেলার জেলাশাসককে সরিয়ে দেওয়া হয় তড়িঘড়ি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খোদ উত্তরপ্রদেশেই ইন্ডিয়ার কাছে হেরে ভূত বিজেপি! কেন এই শোচনীয় হার?

Ghosi bypoll Results 2023: উত্তরপ্রদেশেই এই সেদিনের ইন্ডিয়া জোটের কাছে হেরে গেল বিজেপি!

তবে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির মুখ থুবড়ে পড়ার কারণ এখানেই শেষ নয় মোটেই। যোগী আদিত্যনাথের প্রবল জনপ্রিয়তা, উত্তরপ্রদেশের হিন্দুত্ববাদী হাওয়া সত্ত্বেও সেখানে গেরুয়া শিবিরের এই হারের নেপথ্যে রয়েছে দলের প্রচার কৌশলও। তেমনটাই মনে করছে টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট। ভোটের আগে বিজেপি দাবি করেছিল, এই লোকসভা নির্বাচনে চারশো আসন পেলে বিজেপি সংবিধান পরিবর্তন করে দেবে। বিরোধীরা নিশানা করেছিল বিজেপির সেই দাবিকেই। বিরোধীদের সেই প্রচার আসলে জনমানসে বিজেপির বিরুদ্ধে অন্যমত গড়ে তুলেছিল। সংবিধান পরিবর্তন হলে সংরক্ষণ থাকবে না, আর এই প্রচারের জেরে দলিত সমাজের বড় অংশের ভোটই গিয়েছে সমাজবাদী পার্টির দিকে। যার মাশুল গুনতে হয়েছে বিজেপিকে।

টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট এ-ও বলছে, রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের রিপোর্টগুলিকে তেমন ভাবে পাত্তা দেয়নি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সে জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের পছন্দ করা প্রার্থীর উপর আস্থা দেখায়নি স্থানীয় নেতৃত্ব। স্থানীয় কর্মীদের সেই অনাস্থা প্রভাব ফেলেছে ভোটবাক্সেও। একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির এই বাজে ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ার নেপথ্যে রয়েছে রাজপুত-ক্ষত্রিয় সমাজের ক্ষোভও। তেমনটাই মনে করছে ওই রিপোর্ট। রাজকোটের বিজেপি সাংসদ পুরুষোত্তম রূপালা ভোটের আগে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে গিয়েছেন রাজপুতদের নিয়ে। তার প্রভাব দেখা গিয়েছে ভোটের রেজাল্টে। পূর্বাঞ্চলে যেখানে ২০১৯ সালে সাতাশটি কেন্দ্রের মধ্যে কুড়িটিই পকেটস্থ করেছিল বিজেপি, এবার সেই সংখ্যাটাই নেমে আসে ১১-তে। টাস্ক ফোর্সের এই রিপোর্টের পরে দলের এক কর্তা জানিয়েছেন, বিজেপির এই পতন নাকি অনেকটাই স্ক্রিপ্টেড অর্থাৎ পরিকল্পিত। অর্থাৎ বিজেপি নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তেই যে জয়ের শিকে ছেড়েনি যোগীরাজ্যে বিজেপির কপালে, তা এককথায় মেনেছেন সকলেই।

অযোধ্যায় রামমন্দিরকে কেন্দ্র করেও ক্ষোভ জমেছিল অযোধ্যা ও উত্তরপ্রদেশবাসীর মনে। সাড়ম্বরে অযোধ্যার নির্মাণ ও উদ্বোধন হলেও সেখানে গুরুত্ব পাননি অযোধ্যার সাধারণ মানুষ। বরং রামমন্দির গড়ার জন্য একের পর এক বিপাকই বেড়েছে শুধু। মন্দির গড়তে গিয়ে অযোধ্যার রাস্তার অবস্থা হয়েছে দুর্বিসহ। অসংখ্য স্থানীয় দোকানদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে বাড়িঘর। তাদের অনেকেই পুনর্বাসন পাননি বলেই দাবি। এই সমস্ত কিছুই যেন আর বেশি করে উত্তরপ্রদেশের মানুষকে ঠেলে সরিয়ে দিয়েছে বিজেপির থেকে। যার ফায়দা ঘরে তুলেছে সেখানে সমাজবাদী পার্টি। আর খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।