মাত্র ১ ঘণ্টায় শহর থেকে শহরে! বন্দে ভারতের পর খেল দেখাবে 'নমো ভারত'

PM Modi flags off RRTS: উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে কম বিতর্কের মুখে পড়তে হয়নি বন্দে ভারতকে। তার দোসর নমো ভারতের পথও যে খুব সুগম হবে- এমনটা মনে হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই নাম পরিবর্তন নিয়ে তোপ দাগতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।

Sohini Das
৩ মিনিট
মাত্র ১ ঘণ্টায় শহর থেকে শহরে! বন্দে ভারতের পর খেল দেখাবে 'নমো ভারত'

ঝড়ের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটবে ট্রেন। বন্দে ভারতের পর ভারতে আসছে 'নমো ভারত'। তা এই নমো ভারতের প্রাথমিক ভাবে নামকরণ করা হয়েছিল ব়্যাপিডএক্স। তবে উদ্বোধনের ঠিক একদিন আগে সেই পরিষেবার নাম বদলে রাখা হল নমো ভারত। মোদি জমানায় বারবার নাম বদলেছে রেলস্টেশন থেকে শুরু করে জায়গা, এমনকী স্টেডিয়ামেরও। সম্প্রতি চাঁদের যে জায়গায় পা রেখেছিল চন্দ্রযান ৩, সেই জায়গাটার নাম শিবশক্তি রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে ভারতের প্রথম সেমি হাইস্পিড আঞ্চলিক রেল পরিষেবার নাম যে নমো ভারত হবে, তাতে আর আশ্চর্য কী!

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের শাহিবাবাদ স্টেশনে দিল্লি গাজিয়াবাদ মেরঠ রিজিওনাল ব়্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RRTS)-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গেই প্রথম বারের জন্য যাত্রা শুরু করে ভারতের প্রথম ব়্যাপিডএক্স ট্রেনটিও। হাই ডিপো স্টেশনে পৌঁছনোর কথা সেই ট্রেনের। প্রধানমন্ত্রী পতাকা নাড়ার পর শাহিবাবাদ স্টেশন ছাড়ে ট্রেন। ওই উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই ব়্যাপিড ট্রেনের নাম পাল্টে নমো ভারত রাখেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, ভবিষ্য়তের আভাস মাত্র এই ট্রেন। আগামী দিনে আরও আধুনিক সব ট্রেন নিয়ে আসতে চলেছে ভারতীয় পরিবহণ ব্যবস্থা।

জানা গিয়েছে, রূপান্তরমূলক আঞ্চলিক উন্নয়ন উদ্যোগ প্রকল্পের আওতাতেই এই ট্রেন চালু করা হচ্ছে। যা প্রতি ১৫ মিনিটে আন্তর্শহর যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সফর সম্পূর্ণ করতে পারবে এই ট্রেনগুলি। একদিন আগেই এই ট্রেনের কথা ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। ২১ অক্টোবর থেকেই পাকাপাকি ভাবে চলাচল করবে এই ট্রেনগুলি। আপাতত শাহিবাবাদ থেকে দুহাই ডিপো পর্যন্তই চলাচল করবে ওই ট্রেনপরিষেবাটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বন্দে ভারত কি আসলে ঢপের ঢক্কানিনাদ? বাংলা যা ভাবছে

Vande Bharat Express Truth : বন্দে ভারতে যাত্রী সুরক্ষা আসলে কি ঢক্কানিনাদ? বন্দে ভারত এক্সপ্রেস কি রাজনৈতিক হাতিয়ার?

আপাতত শাহিবাবাদ থেকে দুহাই ডিপো পর্যন্ত ট্রেনটি চললেও আশা করা হচ্ছে গোটা করিডরটাই চালু করে ফেলা যাবে ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে। প্রায় ৮২.১৫ কিলোমিটারের রুট ঠিক করা হয়েছে। যা দিল্লি, গাজিয়াবাদ হয়ে মেরঠ পর্যন্ত যাওয়ার কথা। যতদূর জানা যাচ্ছে, ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে চলবে ট্রেনটি। যাতে থাকছে মহিলা কামরা ছাডাও একটি প্রিমিয়াম কোচ। পাশাপাশি ব়্যাপিডএক্সে থাকবেন রেলকর্মীরাও। দিল্লি থেকে মিরাট যাওয়ার পথে দ্বিতীয় কোচটি সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য। যেখানে থাকছে মোট ৭২টি আসন। পাশাপাশি অন্যান্য কোচেও ১০টি আসন থাকবে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। যারা আরও একটু আরামে যাত্রা করতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য থাকছে প্রিমিয়াম কোচ। যা আরও বেশি জায়গাসম্পন্ন, আরামদায়ক। থাকছে রিক্লাইনিং সিট, বালিশ ও প্রতিটি আসনের জন্য চার্জিং পয়েন্ট।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বন্দে ভারতের স্লিপার কোচ কেমন দেখতে? ভারতে এমন চোখ ধাঁধানো ট্রেনও সম্ভব!

Vande Bharat Sleeper Coach : এই স্লিপার কোচে আসন আরামদায়ক তো বটেই, দেখতেও 'ক্লাসিক'।

এই ট্রেনের টিকিট কাটতে যাতে যাত্রীদের অসুবিধা না হয়, তার জন্য নানা রকম টিকিটের ব্যবস্থাও রেখেছে কিউআর কোড বেসড টিকিট, ডিজিটাল কিউআর টিকিট র‌্যাপিডএক্স ট্র্যাভেল কার্ড ন্যাশনাল কমন মোবিলিটি কার্ড (এনসিএমসি) বা ওপেন লুপ কন্টাক্টলেস কার্ড-সহ একাধিক সুবিধা।

উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে কম বিতর্কের মুখে পড়তে হয়নি বন্দে ভারতকে। তার দোসর নমো ভারতের পথও যে খুব সুগম হবে- এমনটা মনে হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই নাম পরিবর্তন নিয়ে তোপ দাগতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। ব়্যাপিডএক্সের নাম বদলে 'নমো ভারত' রাখা নিয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, নমো স্টেডিয়াম থেকে নমো ট্রেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মমগ্নতার কোনও শেষ নেই। ইতিমধ্যে আমেদাবাদের একটি স্টেডিয়ামকে প্রধানমন্ত্রীর নাম দেওয়া হয়েছে, যেটি আদতে ছিল বল্লভভাই প্যাটেলের নামে।

এই দিল্লি-গাজিয়াবাদ-মেরঠ করিডোর তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। জানা গিয়েছে, এক ঘণ্টারও কম সময়ে দিল্লি ও মেরঠের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবে এই ট্রেন। গাজিয়াবাদ, মুরাদনগর, মোদিনগর হয়েই গন্তব্যে পৌঁছবে ট্রেন। তবে এই মোদি ভারতও কি বন্দে ভারতের মতোই বিতর্কে জড়াবে নাকি মানুষকে খুশি করতে পারবে এই পরিষেবা সেটাই দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।