মান্দাসের হাত ধরে উপন্যাসে ফিরছেন রসায়নের রাজা প্রফুল্লচন্দ্র

Prafulla Rasayani, Mandas Publication: এই বইয়ের বিষয় শুধুই বিজ্ঞান নয়, বাংলার এক প্রায় বিস্মৃত বিজ্ঞানী, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। সময় যাঁকে প্রায় ভুলেই গিয়েছে।

Sohini Das
৪ মিনিট
মান্দাসের হাত ধরে উপন্যাসে ফিরছেন রসায়নের রাজা প্রফুল্লচন্দ্র

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শিকড় আলগা হয়। কলেজবেলার বন্ধুরা হারিয়ে যায়। জীবন অভ্যস্ত হয়ে পড়ে অন্যরকম দায়দায়িত্বে। পেশা, সংসারের ঘূর্ণিপাকে হারিয়ে যায় সেইসব কিশোরবেলার বন্ধুরা। একদিন যাঁদের একত্রে বেঁধেছিল একটি বিশেষ বিষয়ের প্রতি ভালোবাসা, সেই বিষয়টিকে গভীর থেকে জানার ইচ্ছে। তারপর কোনও এক ডিসেম্বরের সন্ধ্যায় বড়দিনের ঠিক আগে আগে সেই বিষয়ের টানেই আবার জড়ো হয় মাথাগুলো। আলাপী সংলাপে ভরে ওঠে ঘর, আর সেসব স্নেহচোখে দেখে একটি বই। যার নাম 'প্রফুল্ল রসায়নী'। যার জন্ম হয়েছে সদ্য, যে বইয়ের প্রকাশ ঘিরেই এত আয়োজন।

'মান্দাস' থেকে সদ্য প্রকাশ পেয়েছে উপন্যাস 'প্রফুল্ল রসায়নী'। না, শুধু উপন্যাস বললে তাকে কম বলা হবে। কারণ আস্ত একটি সময়ের দলিল এই বই। লেখক ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের জৈব রসায়নের কৃতি ছাত্রী। যে বিজ্ঞানের ডানায় ভর করে একদিন ওড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ইন্দিরা, সেই বিজ্ঞানকেই কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা তাঁর এই বই। নাম শুনে বুঝতে অসুবিধা হয় না, এই বইয়ের বিষয় শুধুই বিজ্ঞান নয়, বাংলার এক প্রায় বিস্মৃত বিজ্ঞানী, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। সময় যাঁকে প্রায় ভুলেই গিয়েছে। শুধু ছোটবেলায় সাধারণ জ্ঞানের বইতে থেকে গিয়েছে নামটুকু। সেই প্রফুল্লচন্দ্রকে নিয়ে আস্ত একটি জীবনোপন্যাস লিখলেন ইন্দিরা। 'প্রফুল্ল রসায়নী' তাঁর ১২তম উপন্যাস। তাছাড়াও প্রবন্ধ, ছোটগল্পের মতো সাহিত্যের নানা শাখায় পারদর্শী ইন্দিরা।

প্রকাশক প্রাথমিক ভাবে চেয়েছিলেন, রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের কোনও একটি প্রেক্ষাগৃহে প্রকাশিত হোক এই বই। তবে শেষপর্যন্ত লেখক ঠিক করেন, তাঁর বৈঠকখানাতেই হবে বইপ্রকাশ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তাঁরা, যাঁদের সঙ্গে একদিন ভালোবাসতে শিখেছিলেন রসায়নের মতো কঠিন বিষয়কে। সেই মতোই সোমবার পণ্ডিতিয়া রোডে লেখিকার বাড়িতে হয়ে গেল বইপ্রকাশের অনুষ্ঠান। যেখানে হাজির ছিলেন লেখক সপরিবার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। ছিলেন মান্দাস প্রকাশনার কর্ণধার সুকল্প চট্টোপাধ্যায়, প্রখ্যাত লেখক অনির্বাণ বসু। আর ছিলেন ইন্দিরার কলেজবেলার বন্ধুরা। তাঁদের কেউ আজ কলেজের অধ্যক্ষ, তো কেউ সরকারি আমলা। কেউ বা অধ্যাপক, কেউ পড়ান স্কুলে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেকেই। তবে দীর্ঘদিন পরে এমন পুনর্মিলন উৎসব বোধহয় বিহ্বল করল প্রত্যেককেই। কেউ আবেগতাড়িত হলেন, কেউ বা দিলেন স্মৃতির সমুদ্রে ডুব। কথায়, গল্পে ধরা পড়ল একটুকরো কলেজবেলা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রক্ত-মাংস-কফ-শ্লেষ্মায় গড়া ফাঁপা সময়ের গল্প: যাহা বলিব সত্য বলিব

যাহা বলিব, সত্য বলিব: কারণ আখেরে তিনি 'সত্যি'টাই বলতে বসেছেন। পাঠক-প্রমোদের গুরুভার তাঁর নেই।  তাই তাঁকে যুধিষ্ঠিরের মতো  'ইতি গজ' বলতে হয় না। দৃপ্তকণ্ঠে মুখবন্ধের শেষে তিনি লিখে রাখেন 'ইতি কুঞ্জর'। 

রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে সপ্তাহে একদিন করে প্রেসিডেন্সি কলেজে ক্লাস করতে আসা থেকে শুরু করে আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান, কথায় কথায় এসে পড়ল সবই। স্পনসর জোগাড় করতে ছুটেছিলেন কেসি দাসের বংশধরদের কাছে। প্রফুল্ল রায়ের জন্মশতবার্ষিকী জেনে সানন্দে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। খুঁড়িতে করে এসেছিল কেশর রসমালাই। এই সবই স্মৃতির স্রোত ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখা। কিন্তু এই সমস্ত কথাবার্তার কেন্দ্রে ছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে নিয়ে আজকের এই আয়োজন। দেড়শো বছর পেরিয়ে আসা সেই রসায়নপাগল বিজ্ঞানী, যিনি না থাকলে হয়তো অনেক কিছুই হত না এই দেশের, এই শহরের। প্রফুল্ল কি শুধুই বিজ্ঞানী ছিলেন, ছিলেন রসায়নপাগল একজন মানুষ? বোধহয় না। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে একজন উদ্যোগপতির ভূমিকায় নেমে এসেছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র রায়। তৈরি করেছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যাল। যে রাজ্যে আজও ঠিকমতো শিল্প আসে না। প্রতিনিয়ত বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী মস্তিষ্কগুলো দেশ ছেড়ে প্রবাসী হতে বাধ্য হয়, সে দেশে কি আরও একটু আলোচনার দরকার ছিল না প্রফুল্লচন্দ্র রায়কে নিয়ে? রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, সুভাষ বসু থেকে রামমোহন রায় বাকিরা যতটা আলোচিত, তার সিকিভাগ আলো কি গিয়ে পড়ল এই বিজ্ঞানীর উপর। যিনি নেপথ্যে থেকেও প্রতিনিয়ত সক্রিয় যোগদান করে গিয়েছেন ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলনে। সদা নতুনকে খুঁজে পাওয়ার যে নিরন্তর সাধনা, সেখানে নিয়োজিত করেছিলেন গোটা জীবন। নোবেলের মতো স্বীকৃতি তো দূরের, কেন আমবাঙালি ভুলল সেই মানুষটিকে? কেন পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে কম আলোচিত প্রফুল্লচন্দ্র রায়? তার উত্তরই খুঁজেছেন এই বই জুড়ে লেখক ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৫১বর্তী - বাঙালির হারানো ৫১ পদ : স্বাদের শিকড় সন্ধানে এক সফর

Bangalir Harano 51 Pod Book Review : ইন্দিরার এই বই কোনও রেসিপির বই নয়, এমনকী হারিয়ে যাওয়া রান্নাকে ফেরানোর বইও না। লেখিকা রান্নার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা যাপনকে লিখেছেন।

সোমবার অনুষ্ঠানের শুরুটা হয়েছিল ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্সের অধ্যাপক ড. পার্থসারথি দস্তিদারের গান দিয়ে। অনুষ্ঠানের সূত্র বেঁধেছিলেন অল ইন্ডিয়া রেডিওর কথক ও বাচিকশিল্পী শ্রীতমা মুখোপাধ্যায়। বেথুন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষা ও লেখিকা ড. কৃষ্ণা রায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ মৎস্য দফতরের স্পেশাল কমিশনার অতনু রায়, মিলি আল আমিন কলেজের অধ্যক্ষা ড. সুনন্দা হালদার এবং মান্দাসের কর্ণধার সুকল্প চট্টোপাধ্যায়ের হাতে প্রকাশ পেল নতুন বই 'প্রফুল্ল রসায়নী'। অবশ্য সত্যি কথা বলতে, সেই মুহূর্তে সকলেই কর্মক্ষেত্রের স্ব স্ব পরিচয় ছেড়ে ফিরে গিয়েছিলেন বছর চল্লিশ আগে। একটাই পরিচয় তখন ওদেঁর, ওঁরা সকলেই ইন্দিরার সহপাঠী। ঘরোয়া আড্ডায় উঠে এল তাঁদের ছটফটে সেই কলেজবেলার কথা। উঠে এল প্রফুল্ল রায়ের অবদানের কথা। শারীরিক অসুস্থতা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা সমস্ত কিছুকে দূরে ঠেলে বড় হয়ে উঠেছিল তাঁর বিজ্ঞানের সাধনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে কথোপকথন থেকে শুরু করে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অজস্র চিঠি, তাঁর জীবনের প্রতিটা লড়াইয়ের এক জীবন্ত দলিল হয়ে উঠেছে এই বই।

ইন্দিরা ও তাঁর বই 'প্রফুল্ল রসায়নী'-কে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মান্দাসের কর্ণধার সুকল্প জানালেন, এই বইটি রূপায়ণের ভাবনার নেপথ্যে ছিল একটি ফেসবুক পোস্ট। সেখান থেকেই তিনি জানতে পারেন পাণ্ডুলিপিটির কথা। তখন থেকেই সেই পাণ্ডুলিপিকে পেপারব্যাকের মলাটে সাজিয়ে দেওয়ার ভাবনা শুরু হয়েছিল সুকল্পের মাথায়। সেখান থেকে শুরু করে 'প্রফুল্ল রসায়নী'-র হয়ে ওঠা একটা যাত্রা। আর সেই যাত্রাপথকে খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন মান্দাস কর্ণধার। এর আগেও 'একান্নবর্তী' নামে লেখকের একটি বই প্রকাশ পেয়েছে 'মান্দাস' থেকে। পাঠকমহলে আদৃতও হয়েছে সেই বই। যেভাবে সত্যকে উপন্যাসের মোড়কে তুলে ধরেছেন এই বইতে ইন্দিরা, বিজ্ঞানের যে রাজনীতির কথা ফুটে উঠেছে বইটির ছত্রে ছত্রে, তা পাঠককে টানবে বলেই আশাবাদী সুকল্প।

এর আগে বিজ্ঞানী প্রফুল্লকে নিয়ে কোনও উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে অন্তত লেখা হয়নি। সেই হিসেবে ইন্দিরাই প্রথম। বিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে বিজ্ঞানাচার্যের প্রতি এই বই, তাঁর এই অর্ঘ্য কি নতুন এক পথ খুলে দিতে চলেছে বাংলা সাহিত্যের আঙিনায়? মান্দাস প্রকাশিত এই বই কি আজকের ছেলেমেয়েদের কাছে হয়ে উঠবে অনুপ্রেরণা? নগরজীবন কি বুঝতে শিখবে বিজ্ঞানপাগল এই উদ্যোগপতির মর্ম? তাঁর উত্তর খুঁজবে সময়। শীতের এই সন্ধ্যা জুড়ে এই সশ্রদ্ধ স্মৃতিচারণটুকুই বোধহয় সেই আশাবাদের জন্ম দিয়ে গেল অনেকটা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।

কর্নওয়ালিস স্ট্রিট থেকে বিধান সরণি, ধর্মতলা থেকে লেনিন সরণি: যেভাবে ক্ষমতাসীনরা বদলেছে কলকাতার রাস্তার নাম

Renaming politics of kolkata's street: লটারি কমিটির কর্নওয়ালিস স্ট্রিট নির্মাণ থেকে বামফ্রন্টের লেনিন সরণি, হো চি মিন সরণি—কলকাতার রাস্তার নামকরণ প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ছিল। ২০২৬ সালে, বিজেপি সরকারের উৎসাহে দশ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে লেনিন, কার্ল মার্কস ও হো চি মিন সরণির নাম বদলের সুপারিশ করতে। কিন্তু নাম বদলালেই কি মানুষের স্মৃতি বদলায়?

মাছে-ভাতে বাঙালি, দুর্গাপুজোর ভোগেও আমিষের চল, কী বলছে শোভাবাজার রাজবাড়ির ২৭০ বছরের ইতিহাস?

Durga Puja non vegetarian food: পুজোর দিনগুলিতে সকালে রাজবাড়ির সদস্যরা উপোস করে অঞ্জলি দেন এবং পুজোর কাজে অংশ নেন। দিনের সেই সময়ে তাঁরা নিরামিষ খাবারই গ্রহণ করেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর আমিষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। অর্থাৎ পুজোর প্রত্যেক দিনই পরিবারের সদস্যরা মাছ-মাংস খান।

বাংলা কবিতায় যুক্তি ও আবেগের সেতু গড়েছিলেন বিনয় মজুমদার

Binoy Majumdar: বিনয় মজুমদারের কাব্যভাষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল প্রচলিত ‘কবিত্ব’-এর থেকে সচেতন দূরত্ব। তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা অনেক সময় কবিতার পরিবর্তে কোনো বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত নোট, গাণিতিক অনুমান অথবা যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের মতো মনে হয়।

স্বাধীনতার আগেই নেতাজি যেভাবে এঁকেছিলেন আধুনিক ভারতের অর্থনীতির নকশা

Subhas Chandra Bose economic vision: “কদম কদম বঢ়ায়ে যা, খুশি কে গীত গায়ে যা…” যখনই এই গান বেজে ওঠে, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাপতি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি। খাকি উর্দি, চোখে গোল চশমা আর হাতে উদ্যত তরবারি। কিন্তু এই সৈনিক রূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন এক অসামান্য অর্থনৈতিক দূরদর্শী—যিনি কেবল ব্রিটিশদের তাড়ানোর স্বপ্ন দেখেননি, দেশ স্বাধীন হলে তার কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ কীভাবে দু’মুঠো ভাত পাবে, সেই হিসেবও কষেছিলেন নিখুঁত অঙ্কে।