কোথাও ভ্যাটিকান সিটি, কোথাও বাংলার ঐতিহ্য, যেভাবে সেজে উঠছে কলকাতার দুর্গাপুজো

রথের চাকা গড়াল। সেই সঙ্গে বঙ্গে শুরু হয়ে গেল উমার আবাহন। রথের দিন ধুমধাম করে বড় বড় উদ্যোক্তারা সেরে নিলেন খুঁটিপুজো। কোথাও কোথাও বিচ্ছুরিত হলো রাজনৈতিক গ্ল্যামারের ছটা।

tiasa gupta
৪ মিনিট
কোথাও ভ্যাটিকান সিটি, কোথাও বাংলার ঐতিহ্য, যেভাবে সেজে উঠছে কলকাতার দুর্গাপুজো

কথায় বলে, আষাঢ়ে রথ যেদিন, আশ্বিনে পুজো সেদিন। অর্থাৎ, আর মাত্র ৩ মাস। রথের চাকা গড়াল। সেই সঙ্গে বঙ্গে শুরু হয়ে গেল উমার আবাহন। রথের দিন ধুমধাম করে বড় বড় উদ্যোক্তারা সেরে নিলেন খুঁটিপুজো। কোথাও কোথাও বিচ্ছুরিত হলো রাজনৈতিক গ্ল্যামারের ছটা।

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব

গত বছর শ্রীভূমির লেজার লাইট শো আর বুর্জ খলিফা তাক লাগিয়েছিল শহরবাসীকে। ষষ্ঠী থেকেই ভিড় সামলাতে নাভিশ্বাস ওঠে কর্মকর্তাদের। তবে বুর্জ খলিফা নিয়ে শ্রীভূমি স্পোর্টিং জেরবার হয়েছিল। বিতর্ক তাদের নাজেহাল করে তুলেছিল। প্রথমে লেজার লাইটিং বন্ধ পরে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফাও। তবে গতবারের বিতর্ক শ্রীভূমি স্পোর্টিংকে দমিয়ে দিতে পারেনি। এবার তাদের চমক ভ্যাটিকান সিটি। সুজিত বসু কীভাবে তাক লাগান, তার অপেক্ষায় কলকাতাবাসী।

এটা শ্রীভূমির সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। প্রতি বছরের মতো এবছরও রথের দিন ঘটা করে খুঁটিপুজো করল শ্রীভূমি। রথ মানেই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু। এদিন থেকেই শুরু হয়ে যায় বনেদিবাড়ির কাঠামো পুজো। বিভিন্ন পুজোকমিটিগুলো রথের দিনই খুঁটিপুজো করে। এদিন নিয়মনীতি মেনেই সাড়ম্বরে খুঁটিপুজো পালন করল শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাব-কর্তা ও মন্ত্রী সুজিত বসু।

গত ২ বছর নমো নমো করে সারতে হয়েছিল খুঁটিপুজো। তবে এবার জাঁকজমক করে তা পালন করা হয়। ক্লাবের অন্যান্যদের সঙ্গে খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে সামিল হন সুজিত বসু। পুজো দেন, আরতি করেন। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ আর ঢাকের বাদ্যি জানান দেয়, মা আসছে।

কলকাতার বড় পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। প্রত্যেকবারেই তাদের পুজোয় কোনও না কোনও চমক থাকে। গতবার যেমন বুর্জ খলিফার আদলে মণ্ডপ করা হয়েছিল। এবার সুবর্ণজয়ন্তী। তাই চমকও ভিন্ন ধরনের। অভিনবত্ব যে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। কী বললেন শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের সভাপতি সুজিত বসু?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাঙালির দুর্গাপুজো শুরু হলো কীভাবে, কত খরচ হয়েছিল সেকালের পুজোয়?

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালিদের কাছে সারা বছরের প্রতীক্ষার পরে কয়েক দিনের আনন্দ। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে, দেবীর বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন কারণে শুরু হওয়া সেই দুর্গোৎসব বছরের পর বছর অতিক্রম করেই আজ আমাদের চেনা রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে।

"প্রত্যেক বছরই আমরা কিছু অভিনব করি। এবছর সুবর্ণজয়ন্তী। গত বছর আমরা বুর্জ খলিফা বানিয়েছিলাম। মানুষ ভালবেসেছিলেন। এবার ভ্যাটিকান সিটি করব। ৫০ লক্ষ ভক্ত ভ্যাটিকান সিটিতে যান। এবার তাঁরা এখানে আসবেন।‘’

গত বছর বুর্জ খলিফা বানিয়ে হিমশিম খেয়েছিল শ্রীভূমি। তাদের বুর্জ খলিফা দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন। প্রথমে বিমানচালকদের আপত্তির জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় লেজার লাইটিং। তারপর বন্ধ করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফার আলো। এরপর দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গে কথা বলে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফা। ভিড় এড়াতে এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়। তবে এবারও যে শহর কলকাতা শ্রীভূমিমুখী হবে, তা ভালোই জানেন আয়োজকরা।

নাকতলা উদয়ন সংঘ

মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পুজো হিসেবে পরিচিত নাকতলা উদয়ন সংঘ। প্রতিবারই তাদের পুজোয় চমক থাকে, এবারও তার ব‍্যতিক্রম হবে না বলে জানালেন কর্মকর্তারা। নাকতলা উদয়ন সংঘর দুর্গাপুজো এবার ৩৮ বছরে পা দিল। রীতি মেনে রথের দিন পালিত হলো খুঁটিপুজো। বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি নিয়ে এবারের পুজোর থিম। পরিষ্কার করে কী হতে চলেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পুজোর থিম, তা নিয়ে কলকাতাবাসীর আগ্রহের অন্ত নেই। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, কিছুদিনের মধ্যে তা খোলসা করা হবে। এখন চমকের অপেক্ষা।

খুশবন্ত সিংয়ের 'ট্রেন টু পাকিস্তান’ বহু আলোচিত এবং আলোড়িত এক উপন্যাস। দেশভাগের যন্ত্রণা এর প্রতিটি লাইনে ব্যক্ত হয়েছে। আর সেই বইয়ের আলোকেই গতবারে নাকতলা উদয়ন সংঘ থিম করেছিল`চালচিত্র’। নাকতলা দেশভাগের ভয়াবহতাকে তুলে ধরেছিল তাদের মণ্ডপ ও প্রতিমার মধ্য দিয়ে। তাদের উদ্যোক্তারা এবার জানালেন, বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে। সেকথা মাথায় রেখে সমাজকে চমক নয়, বার্তা দেবে নাকতলা। কলকাতার অন্যতম বড় পুজো এই নাকতলা উদয়ন সংঘ, এবার তাদের মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে শিল্পী প্রদীপ দাস।

গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাবের পুজো

গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাবের পুজো এবার ৬০ বছরে পা দিল। ক্লাবের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রথের দিন সাড়ম্বরে খুঁটিপুজো হল। পুজোর ঢাকে কাঠি। এদিন সব আচার মেনেই মায়ের আবাহন হলো। গামছা দিয়ে তৈরি করা হয় প্রতীকী রথ। উদ্যোক্তারা জানালেন, এবারের পুজোর থিম- দ্বেষ নয়, মনে দেশ। গত ৮ বছর ধরে এই পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন পাড়ার মহিলারা। এবারও তার ব‍্যতিক্রম হচ্ছে না। মহিলা নেত্রীকে সামনে রেখে যে দুর্গোৎসবের আয়োজন, তাতে মা-র আবাহন যে মহিলারা করবেন, তা বলাই বাহুল্য। মহিলারা প্রধান ভূমিকায় থাকলেও অনির্বাণ দাস সাজিয়ে তুলবেন এই ক্লাবের পুজো।

সুরুচি ও বাদামতলার আষাঢ় সংঘ

দক্ষিণ কলকাতার জনপ্রিয় বারোয়ারি পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ। অরূপ বিশ্বাসের পুজো বলে এই পুজোর নামডাক। তবে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই এই পুজোকমিটি খুঁটিপুজো সেরে নেয়। প্রতিবারের মতো এবারও তাদের পুজোর থিমে থাকছে চমক। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন খুঁটিপুজো সারেন এই পুজোর আয়োজকরা। এই পুজো অরূপ বিশ্বাসের পুজো বলে খ্যাত। পুজো কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি খুঁটিপুজোতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

সুরুচির পাশাপাশি অক্ষয় তৃতীয়ার দিন খুঁটিপুজো হয় বাদামতলা আষাঢ় সংঘে। খুঁটিপুজোয় উপস্থিত ছিলেন রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমার, দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়।

মূলত রথের দিন খুঁটিপুজোর যে এত ধুম, এর কারণ কী?

শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, 'রথস্থ বাম নং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে’। অর্থাৎ, রথের ওপর অধিষ্ঠিত জগন্নাথকে দর্শন করলে পুনর্জন্ম হয় না। তাই রথের রশি টানাকেও পুণ্য কাজ বলে মনে করেন ধর্মপ্রাণা হিন্দুরা। রথ নিয়ে রয়েছে নানা রহস্য ও পৌরাণিক কাহিনি। রথের দিন বিশেষ শুভ দিন বলে গ্রাহ্য হয়, তাই এই দিনে বাঙালির শারদোৎসবের সূচনা হয়। খুঁটিপুজো করেই শুরু দুর্গাপুজোর। এভাবেই রথের সঙ্গে জুড়ে গেছে উমার আবাহন।

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।