প্রতারক পল্টুরামের বিহারে আজ রাহুল, খেলা হবে?

Bharat Jodo Nyay Yatra: এই পালাবদলের বিহারে ঢুকেছে রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা। ২০২০ বিধানসভা ভোটের পরে এই প্রথম বিহারে যাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি।

Sohini Das
৩ মিনিট
প্রতারক পল্টুরামের বিহারে আজ রাহুল, খেলা হবে?

বাংলা ঘুরে বিহারে পা রেখে ফেলেছে 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'। সেই বিহার, যেখানে একদিন আগেই ঘটে গিয়েছে বিরাট বড় রাজনৈতিক পালাবদল। ফের দল পাল্টেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। দিন কয়েক আগেই এনডিএ জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেছিল জেডিইউ। তার পরে ফের পাল্টি খেলেন নীতীশ। দু'দিন আগেই ফের বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তিনি। যার ফলে বিহারের রাজনৈতিক আবহ অনেকটাই বদলে গিয়েছে রাতারাতি। তার মধ্যেই বিহারে ঢুকে পড়ল কংগ্রেসের 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'।

শিয়রে লোকসভা ভোট। তার আগে সব দলই নিজের মতো করে প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত। ভারত জোড়ো যাত্রা এই নিয়ে দু'বছরে পড়ল। গত ১৪ জানুয়ারি মণিপুর দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল কংগ্রেস। সেখান থেকে কনভয় পৌঁছেছিল অসমে। অসম থেকে গত ২৫ তারিখই বাংলায় এসেছিল যাত্রা। তবে ওইদিন জরুরি কাজ পড়ে যাওয়ায় দিল্লি উড়ে যেতে হয়েছিল রাহুলকে। তবে গত ২৮ তারিখ তথা রবিবার ফের বাংলায় ফেরে যাত্রা। রবিবার জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে ম্যাজিকের পর সোমবারই কিসানগঞ্জ দিয়ে বিহারে ঢুকে পড়ে রাহুলের যাত্রা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতা নেই, নীতীশ নেই! বিজেপির বিরোধিতা করতে ইন্ডিয়া জোটে রইল কারা?

INDIA Block and BJP : জেডি(ইউ) বিজেপিতে যাওয়ার ফলে, উচ্চবর্ণের পাশাপাশি ওবিসি এবং ইবিসি (অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণি) সম্প্রদায়ও এনডিএ-কে ভোট দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার যখন দিল্লি ফিরে গিয়েছিলেন রাহুল, তখনও কি তিনি জানতেন, বিহারে এত বড় একটা চমক অপেক্ষা করছে তার জন্য। নীতীশ অবশ্য বরাবরই এমন করে পক্ষ বদল করেছেন। কখনও তিনি এ ডালে, তো কখনও ও-ডালে। এই তিনি বিজেপিতে আছেন, পরের মুহূর্তেই তিনি মহাগাঁটবন্ধনে কংগ্রেসের শরিক। বিজেপি বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটেও তার অংশগ্রহণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে হঠাৎ করে তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় সব কিছুই কেমন ঘেঁটে গিয়েছে। যদিও বিহারে মুখ্যমন্ত্রী পদেই থেকে গিয়েছেন নীতীশ। রবিবারই পদত্যাগ করে নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন তিনি। কিন্তু বিহারে জেডিইউ সরকারের এখন নতুন শরিক বিজেপি ও জিতন রাম মাঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা। এই পালাবদলের বিহারে ঢুকেছে রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা। ২০২৪ সালে যার স্লোগানই হল 'নফরত কি বাজার মে মহব্বত কি দুকান'।

সোমবার উত্তর দিনাজপুর জেলার সোনাপুর থেকে সকাল এগারোটা নাগাদ বিহারের কিসানগঞ্জ পৌঁছন রাহুল। মূলত সংখ্যালঘু ভোটই বেশি এই অলাকায়। ২০০৯ সাল থেকেই কিসানগঞ্জ কেন্দ্রটি কংগ্রেসের দখলে। কিসানগঞ্জ থেকে মঙ্গলবার পূর্ণিয়া যাওয়ার কথা রাহুলের, সেখান থেকে কাটিহারে যাবে কংগ্রেসের যাত্রা। এই দুটি জেলাতেই কিন্তু জেডিইউ-র যথেষ্ট প্রতাপ। স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রা শুরুর আগে কংগ্রেসের কাছে এই দুটি এলাকাই ছিল হোমল্যান্ড। তবে রাতারাতি বদলে গিয়েছে সেই সমীকরণ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপির সঙ্গে কতদিন থাকবেন নীতীশ? ভবিষ্যদ্বাণী প্রশান্ত কিশোরের...

Prashant Kishor on Nitish Kumar : পিকে নির্দিষ্ট করে বলছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এই জোট ভেঙে যাবে।

২০২০ বিধানসভা ভোটের পরে এই প্রথম বিহারে যাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। ২০২০ সালে এনডিএ জোটের সঙ্গে মিলে সরকার গড়েছিলেন নীতীশ। ২০২২ সালের অগস্ট মাসে সেই জোট ছেড়ে বেড়িয়ে আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলান নীতীশ। তবে কোনও কিছুই যেন বেশিদিন সয় না তাঁর। অগত্যা পুনরায় দলবদল। পুনরায় হাত মেলানো বিজেপির সঙ্গে। এই পালাবদল কংগ্রেসের পক্ষে তো বটেই, 'ইন্ডিয়া' জোটের পক্ষেও বেশ অস্বস্তিকর। যদিও কংগ্রেস নেতারা বিশেষ আমল দিচ্ছেন না নীতীশের এই পাল্টি খাওয়ার ব্যাপারটি। জয়রাম রমেশের মতো বহু প্রবীণ নেতাই জানিয়েছেন, এমনটাই করে থাকেন নীতীশ। দেশের রাজনৈতিক মহল তেমনটাই দেখে অভ্যস্ত। এর কোনও প্রভাব ইন্ডিয়া জোটের উপর পড়বে না বলেই জানিয়েছেন তারা।

রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় বিহারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আরজেডি ও সিপিআই(এমএল)-এল-কেও। পূর্ণিয়ার জনসভায় আসার কথা রয়েছে ওই দু'টি দলের প্রতিনিধি দলের। সেই জনসভায় যা যা বলবেন বলে ভেবে এসেছিলেন রাহুল, নীতীশের ভোলবদলের পর স্বাভাবিক ভাবেই তা বদলে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, তাঁর বক্তৃতায় নীতীশের এই পাল্টিবাজির কথা বারবার করে আসতে চলেছে। ইন্ডিয়া জোটের তরফে প্রধানমন্ত্রীর মুখ ও কংগ্কেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে নীতীশ কুমারকে 'আয়া রাম গ্যায় রাম' বলে তোপ দেগেছেন। ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার ব়্যালিতে সেই সমস্ত বিষয়ই আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জেডিইউ অর্থাৎ নীতীশের দল অবশ্য কংগ্রেসকে বেশ কিছুদিন ধরেই কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের ইন্ডিয়া জোটের একতাকে বহুদিন ধরেই নষ্ট করার চেষ্টা করে চলেছে কংগ্রেস। এদিকে, ইন্ডিয়া জোট তৈরির নেপথ্যে কিন্তু অন্যতম মুখ ছিলেন নীতীশ নিজেই। অথচ সেই নীতীশই আজ দল বদলে বিজেপিতে। আপাতত জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার জন্য কংগ্রেসকেই দুষেছে বিহারের জেডিঅই। প্রবীণ জেডিইউ নেতা কেসি ত্যাগীর মতে, জোট শেষ হচ্ছে কংগ্রেসের অহংকারেই। কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বৈরথের জেরে ইন্ডিয়া জোটে ইতিমধ্যেই বেশ কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার উপর বিহারে নীতীশের পালাবদল। পঞ্জাব, হরিয়ানাতেও একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপ। সব মিলিয়ে ভোটের ঠিক আগে আগে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠে গিয়েছে একাধিক প্রশ্ন। এবার ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্য়ত নিয়ে এইসব সওয়ালের প্রভাব রাহুলের 'ভারত জোড়ো যাত্রা'-য় কতটা পড়বে, সেটাই দেখায়। নীতীশের পালাবদলের প্রভাব কি দেখতে পাবে বিহারে রাহুলের 'যাত্রা', সেটাও দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।