কালীর পায়ে ছুঁইয়ে মহড়া শুরু হতো গিরিশ ঘোষের নাটকের, কোথায় রয়েছে ‘উত্তর কলকাতার গিন্নী’?

Kolkata's siddheshwari kali temple : কেউ বলত ব্ল্যাক প্যাগোডা, কেউ আবার নাম দিয়েছিল ‘মিত্রের প্যাগোডা’, খোদ উত্তর কলকাতার সনাতনী বাসিন্দা সিদ্ধেশ্বরী কালী, জানেন কোথায়?

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
কালীর পায়ে ছুঁইয়ে মহড়া শুরু হতো গিরিশ ঘোষের নাটকের, কোথায় রয়েছে ‘উত্তর কলকাতার গিন্নী’?

ঘন জঙ্গলের চেহারা সময়ের সঙ্গে একটু একটু করে বদলেছে। সেই সঙ্গে বদলেছে ইতিহাসও। আনকোরা নতুন একটা শহর হয়ে উঠেছে কলকাতা। এই কলকাতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকা আরেকটা যে কলকাতার সন্ধান কবি করেছেন তাতে রয়েছে অজস্র পড়া না পড়া গল্প। এই কলকাতা নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কালীর প্রসঙ্গ। তাই কালীকে কলকাত্তায়ালী বললে যে বিশেষ ভুল হয় না। শুধু তিলোত্তমা নয়, সারা বাংলা জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমন বেশ কিছু কালীর রহস্য যা আজও অবাক করে। সেই ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়। দেবীর রুদ্র মূর্তির ব্যাখ্যা মেলে বিভিন্ন প্রকারে। কলকাতার কালী বলতেই প্রথমে মাথায় আসে, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর অথবা ঠনঠনিয়ার প্রসঙ্গ। কিন্তু ভক্তি এবং ভক্তের জোর ছড়িয়ে পড়ে আরও আরও। প্রচলিত কালী রূপের ধারণা বারবার ভেঙেচুরে যায় সেখানে। কোথাও আবার চেনা রূপেই বছরের পর পর বছর ধরে পূজিতা হন দেবী।

খোদ উত্তর কলকাতার সনাতনী বাসিন্দা সিদ্ধেশ্বরী কালী। বাগবাজার থেকে যে রাস্তাটা কুমোরটুলির দিকে চলে যাচ্ছে, সেখানেই দীর্ঘদিনের বাস। দক্ষিনেশ্বরের কালী মন্দিরের মতো প্রচার না পেলেও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নিয়মিত এই মন্দিরে আসতেন। শোনা যায়, শুধু তিনি একা নন, পাশাপাশি তবে ভক্তদেরও ভরসার জায়গা ছিল এই মন্দির। অতীতে এই অঞ্চল ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। যেখানে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার ঠিক পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছিল হুগলি নদী যদিও বর্তমানে নদীর ভাঙ্গন এবং নতুন গতিপথে আরও অনেকটা পশ্চিমে সরে গিয়েছে হুগলি নদী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রতিষ্ঠা করেন সাধক বামাক্ষ্যাপা, পাথর কিংবা মাটি নয়, বাংলার কোথায় রয়েছে এই কাঠের কালী?

Bengal Kali : এই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা পায় সাধক বামাক্ষ্যাপার হাত ধরে। শুধু মূর্তি নয় এই মন্দিরের ঘট প্রতিষ্ঠাও করেন তিনিই

কথিত আছে, বহুকাল আগে হিমালয়ের গিরি কন্দরে তপস্যা করছিলেন কালীবর নামে এক সন্ন্যাসী। তিনি স্বপ্নাদেশ পান কলকাতার সংলগ্ন দক্ষিণবঙ্গে কোথাও সতীর অঙ্গ পড়েছে, এবং সেই অঙ্গ তুলে প্রতিস্থাপন করতে হবে। কালীবর নদীর পার বরাবর হাঁটতে হাঁটতে এখানে এসে একটি বেদি, কিছু ফুল ও হাড়গোড় পড়ে আছে দেখতে পান। কালীবর ভাবেন এই সেই স্থান। যেমন ভাবা তেমন কাজ, যথা সময়ে এখানেই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন করলেন সন্ন্যাসী। পরে এক কাপালিকের হাতে নিত্যপূজার ভার দিয়ে তিনি চলে গেলেন তাঁর পূর্ব নির্ধারিত পথে।

আসলে এই জায়গাটা ছিল ডাকাতদের পুরনো আস্তানা। তারাই ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে ফুল মালা চড়িয়ে যেত। এখানেই প্রথমে হোগলা পাতার একটি কুটির তৈরি করে তপস্যা শুরু করেন কালীবর পরবর্তীতে তার তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মন্দিরের মূর্তি রূপে দেখা দেন দেবী। ঠিক তাই এই মায়ের নাম হয় সিদ্ধেশ্বরী। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলেও সন্ন্যাসী কালীবর প্রতিষ্ঠিত দেবী কালিকার সামনে দেওয়া হত নরবলি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দুটো-চারটে নয়, হাজারটা হাত রয়েছে দেবীর! কেন দক্ষিণ ভারতেও এত জনপ্রিয় বাংলার এই কালী?

Hajar Haath Kali : দেবীর অস্ত্র ও মুকুট, এমনকী মাথার ছাতা সবই রুপোর তৈরি, অবাক করবে হাওড়ার হাজার হাত কালীর রহস্য

পরবর্তীকালে এই পাতার মন্দিরের প্রকৃত সুরক্ষার জন্য কুমোরটুলির বিখ্যাত মিত্র পরিবারের হাত ধরে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয় সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির। মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এই পরিবারেরই গোবিন্দ মিত্র নামে একজন। বর্তমান মন্দিরটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি ঘর এবং একটি বড় দালান। গর্ভগৃহের সামনেই অলিন্দ। আর তার সামনে চওড়া গাড়ি বারান্দা। স্মৃতিফলক দেখে জানা যায়, মন্দিরটির শেষ সংস্কার হয়েছে তিন বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৯ সালে।

ইতিহাস এখানেই পাতা উল্টোতে দেয় না আমাদের। শোনা যায়, একসময় এই মন্দিরের দুয়ারে এসেই আকুল আকুতি জানিয়ে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, ‘ওরে এই মা সকলের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। তোদের যা যা কামনা তাই তিনি পূর্ণ করতে পারেন’। তাঁর সঙ্গে আসতেন শিষ্যরাও। আরও শোনা যায়, একবার কেশবচন্দ্র সেন নাকি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন ঠাকুর তার সুস্থতার জন্য দ্বারস্থ হন এই সিদ্ধেশ্বরী কালীর। মন্দিরে এসে দেবীর কাছে ডাব-চিনি মানত করেন তিনি। তারপর সেরে ওঠেন কেশব সেন। এতে বিশ্বাস আরও জোরালো হয়। শিব যায় গিরিশচন্দ্র ঘোষ তাঁর নাটক রচনার পর আগে এই মন্দিরে এসে দেবীর পায়ে ছুঁইয়ে তারপর নাটকের মহড়া শুরু করতেন। তিনিই দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে ভক্তিভরে ‘উত্তর কলকাতার গিন্নি’ বলেও ডাকতেন।

মন্দিরে দেবীর হাতে রয়েছে একটি খাঁড়া, তা ছাড়া আরও দুটি খাঁড়া আছে এখানে। তার মধ্যে একটি খাঁড়া দিয়ে আগে বলি হত। সেই খাঁড়া তোলা আছে। আর একটি প্রাচীন খাঁড়া আছে। বিশ্বাসের দৌড় যে সত্যিই অনেকখানি, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই বোধ হয় এখনও এই খাঁড়া ধোয়া জল নিয়ে গিয়ে ঘরে রাখেন ভক্তরা। নিত্যপুজো ছাড়াও প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয় এই মন্দিরে। কালী পুজো, রটন্তি কালী পুজো এবং ফলহারিণী কালী পুজোয় থাকে বিশেষ আয়োজন। এছাড়াও বৈশাখ মাসের বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন হয় দেবীর ফুলদোল। ওই দিন দেবীকে ফুলের সাজে সাজানো হয়।

শোনা যায়, একসময় এই দেবী মন্দিরের নাম ছিল নবরত্ন মন্দির। অক্টারলোনি মনুমেন্টের চেয়েও নাকি অনেক উঁচু ছিল এর চূড়া। সেটি ভেঙে পড়ে ১৮৪০ সালের ভূমিকম্পে। সেকালে সাহেবরা মন্দিরটিকে বলত ব্ল্যাক প্যাগোডা, কেউ বা নাম দিয়েছিল ‘মিত্রের প্যাগোডা’। সেই ইতিহাস আজও বিয়ে বেড়াচ্ছে এই অঞ্চল। কিছুটা ক্ষয়, আর অনেকটা অক্ষয় নিয়ে কলকাতার রোজনামচার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে দেবী সিদ্ধেশ্বরী।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নন্দীগ্রামে প্রতীকহীন তৃণমূল, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন: কেমন হচ্ছে উপনির্বাচন?

Nandigram Rejinagar by - election 2026: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ১৮,৮৯৫টি ভোটার আপিল হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯০টিতে। অযোগ্য ভোটার হিসাবে ঘোষিতদের, ৯৪-৯৫ শতাংশ মুসলিম। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজের প্রতীক নেই, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেজিনগরে, ভোট চলাকালীন, হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল জানা যাবে, ৯ অক্টোবর।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।