নির্ঘুম, অক্লান্ত! পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ কেন চাইছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা?

RG Kar Doctor Protest: হয় দেখা করতে হবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বা তিনি তা না চাইলে পদত্যাগ করতে হবে বিনীত গোয়েলকে।

inscript
২ মিনিট
নির্ঘুম, অক্লান্ত! পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ কেন চাইছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা?

সারা রাত ঠায় বসে আছেন চিকিৎসকরা। তাঁদেরই এক সহকর্মীকে ধর্ষণ করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছেন সারা রাজ্যের বড় অংশের মানুষ! চিকিৎসকরা প্রথম দিন থেকেই আরজি করে ধর্না মঞ্চে অবস্থা বিক্ষোভ করেছেন। এবার তাঁদের অবস্থান লালবাজারের সামনে, বিচারের দাবিতে। গান, স্লোগান চলছে পুরোদমে। আর চলছে পুলিশের প্রহরা। বিশাল বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হয়েছে চিকিৎসকদের। সারা রাত জেগে আছেন চিকিৎসকরা, বিশ্রাম নেই, ঘুম নেই। কেবল বিচার চাইছেন, চাইছেন প্রশাসন দোষীদের আড়াল না করে নির্যাতিতার বিচারের বন্দোবস্ত করুক। রাত পেরিয়ে সকালেও ফিয়ার্স লেনে অবস্থানে অনড় জুনিয়র ডাক্তাররা।

সোমবার দুপুর থেকে পুলিশ কমিশনার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা। হয় দেখা করতে হবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বা তিনি তা না চাইলে পদত্যাগ করতে হবে তাঁকে। সেটাও না হলে ব্যারিকেড সরিয়ে চিকিৎসকদের লালবাজারের দিকে যেতে দেওয়ার দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারী চিকিৎসকরা। কেন লালবাজার অবধি যেতেই দেওয়া হচ্ছে না ডাক্তারদের? কীসের ভয় পাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন, প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসকরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্ষমা প্রার্থনা! কেন আরজি করের চিকিৎসকদের কটাক্ষ করেছিলেন? কী সাফাই কাঞ্চন মল্লিকের?

Kanchan Mullick: জুনিয়র চিকিৎসকরা কোনও সরকারি বেতন বা বোনাস কিছুই পান না। শাসকদলের বিধায়ক কাঞ্চন এই সামান্য তথ্যটুকুও না জেনে এত বড় অভিযোগ তুললেন কোন ভিত্তিতে?

তবে যতই আটকানো হোক, নিজেদের দাবি থেকে একচুলও নড়ছেন না তারা। কোনও বিশ্রাম ছাড়াই রাত জাগছেন তারা। ক্লান্তিকে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন অবলীলায়। এই অভ্যাস অবশ্য তাঁদের নতুন নয়। ধর্ষিতা চিকিৎসকও টানা ৩৬ ঘণ্টা কাজ করেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সেই ছিল শেষ ঘুম তাঁর। তাই টানা রাত জাগার অভ্যাস নিয়ে ভাবছেনই না চিকিৎসকরা। প্রবল রোদ মাথায় নিয়েও অক্লান্ত লড়ে চলেছেন তারা। হাতে ফুল নিয়ে এসেছেন ও একটি প্রতীকী মেরুদণ্ড নিয়ে এসেছিলেন এই ডাক্তাররা। অবস্থানের স্থানে রাখা হয়েছে সেই মেরুদণ্ড।

আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার শেষ রাতের দিকে পুলিশের একজন প্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। পুলিশ জানায়, ২০ জনের প্রতিনিধি দল লালবাজারে দেখা করতে যেতে পারেন কিন্তু পুলিশ কমিশনার আন্দোলনকারীদের কাছে আসবেন না। চিকিৎসকরা দাবি তুলেছিলেন, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট ও ফিয়র্স লেনের সংযোগস্থল দিয়ে যেতে দেওয়া হোক তাঁদের। অথচ পুলিশ সেই দাবিটুকুও মানতে চায়নি। কেন এত ভয় নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন তুলছেন তারা। ওই রাস্তা দিয়ে যেতে দিলে স্মারকলিপি দিয়ে আসার কথাও বলেছিলেন আন্দোলনকারীরা। তবে কোনও দাবিতেই সাড়া না দেওয়াতে, পুলিশ কমিশনার পদত্যাগ করতে বলার কথাই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"আপনার মেয়েকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে এসেছি", ধর্ষিতার বাবা-মাকে ৩ বার ফোনে কী কী বলা হয়?

RG Kar Phone Calls: দ্বিতীয় ফোনে এক মহিলা বলেন, "আমি সহকারী সুপার। আপনার মেয়েকে আমরা ইমার্জেন্সিতে নিয়ে এসেছি। আপনি এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।"

আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলেছেন, “ডাক্তার সমাজকে প্রশাসনের এত ভয় কেন? ৯ অগস্ট যখন এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে গেল, যখন ১৪ তারিখের ঘটনা ঘটল, তখন প্রশাসন কোথায় ছিল? তখন কোথায় ছিল এত ব্যারিকেড? আজ ডাক্তারদের আটকানোর জন্য এত ব্যারিকেড। পুলিশ আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। কিন্তু তারা জানে না, আমাদের ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করার অভিজ্ঞতা আছে।” সূত্রের খবর, সোমবার রাতে কমিশনার বিনীত গোয়েল লালবাজারে ছিলেন না। তিনি লালবাজারে যান অবশ্যই কিন্তু আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা না করেই চলে যান।

মঙ্গলবার দুপুরে অবস্থানরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার সন্তোষ পাণ্ডে। রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসকরা নিজেদের দাবিতে অনড়। পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল নিজে এসে অবস্থানরত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করবেন এই দাবিই তুলেছেন তারা আবারও। নাহলে চিকিৎসকদের মিছিলকে লালবাজারের দিকে আরও এগোতে দিতে হবে। সেটাও না হলে পদত্যাগ করতে হবে পুলিশ কমিশনারকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।