‘কর্তব্যে গাফিলতি মুখ্যমন্ত্রীর’! ক্ষোভ উগরে দিলেন তিলোত্তমার মা

RG Kar Case: সুপ্রিম কোর্টের এদিনের শুনানির লাইভ স্ট্রিমিং শুনে কিছুটা হলেও আজ আশ্বস্ত হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। তবে লড়াই এখনও বাকি জানালেন তিলোত্তমার বাবা-মা।

subhajit putatunda
৩ মিনিট
‘কর্তব্যে গাফিলতি মুখ্যমন্ত্রীর’! ক্ষোভ উগরে দিলেন তিলোত্তমার মা

দ্বিতীয় শুনানিতে প্রত্যাশাজনক কিছুই মেলেনি। মঙ্গলবার আরজি কর মামলার তৃতীয় শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। স্বাভাবিক ভাবেই এদিনের শুনানির দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। তাকিয়ে ছিলেন তিলোত্তমার পরিবারও। গত ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বক্ষ বিভাগের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় এক মহিলা চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। সেই মামলা নিয়ে তোলপার হয় গোটা রাজ্য। বিক্ষোভর স্বর জেগে উঠেছিল সমাজের সব শ্রেণি থেকেই। এদিন সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্ট। তদন্তরিপোর্ট পেশ করে সিবিআইও।

এদিন শুনানির আগেই প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের হাতে পৌঁছয় নির্যাতিতা তথা তিলোত্তমার বাবার একটি চিঠি। যে চিঠিটি সিবিআইকে লিখেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। সেই চিঠিতেই এমন কিছু বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেই মঙ্গলবার শুনানিতে জানান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তিলোত্তমার বাবা-র সেই চিঠি গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশও দেয় প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এই চিঠিতে গুরুত্বপূর্ণ লিড রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর সিবিআই-কে চিঠি দিয়েছিলেন তিলোত্তমার বাবা। সেই চিঠিতে যে সম্ভবনা এবং যে ইনপুট দিয়েছেন, সেই গুলো সিবিআই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। যাতে উইকিপিডিয়া থেকে নির্যাতিতার নাম মুছে দেওয়া হয়, সেই আদেশও দিয়েছে এদিন সুপ্রিম কোর্ট।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্ভয়ার মাকে বলেন, 'ধর্ষকদের ক্ষমা করে দিন'! জুনিয়র ডাক্তারদের হয়ে লড়া ইন্দিরা জয়সিং কে?

Indira Jaising: ইন্দিরা কিন্তু দোষীদের মৃত্যু চান না। নির্ভয়া কাণ্ডেও ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষমা করে দিতে বলেছিলেন নির্ভয়ার মাকে।

সুপ্রিম কোর্টের এদিনের শুনানির লাইভ স্ট্রিমিং শুনে কিছুটা হলেও আজ আশ্বস্ত হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। তবে লড়াই এখনও বাকি জানালেন তিলোত্তমার বাবা-মা। তাঁরা জানান, সুপ্রিম কোর্টের ওপর তাঁদের ১০০ শতাংশ ভরসা আছে। এই বিচারব্যবস্থাকে সঠিকভাবে গাইড করে নিয়ে যাবে। সমাধান করার চেষ্টা করবে। তাঁদের কথায়, "আমরা প্রথম দিন থেকে বলে এসেছি, সুপ্রিম কোর্ট শুনানিতে সেটাই তুলে ধরেছে কারণ তথ্য প্রমাণ লোপাট করলে একটা সংস্থাকে খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। এখানে তথ্য প্রমান লোপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং একজনকে গ্রেফতার করেছে।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কর্মবিরতি থেকে কাজে ফিরছেন কবে? যা জানালেন আন্দোলনরত ডাক্তারেরা

Junior Doctor's Protest: মঙ্গলবারের সুপ্রিম শুনানি সন্তোষজনক ছিল বলেই দাবি করেছেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকেরা।

এদিন বিকেলে কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েলকে অপসারণ করেছে রাজ্য সরকার। আন্দোলনরত চিকিৎসকদের অন্যতম দাবি ছিল যা। এ বিষয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, 'আমি একটাই কথা বলব, যারা যারা এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত রয়েছেন, যারা প্রমাণ লোপাটের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন, সবাইকে যেন তদন্তের আওতায় আনা হয় এবং সকলে যেন শাস্তি পায়। একই সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে তাঁরা জানিয়েছেন, জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁদের। নির্যাতিতার মায়ের কথায়, "তাঁদেরকে আমরা নিজেদের ছেলেমেয়েদের মত মনে করছি। বিচারের জন্য তারা যেভাবে কষ্ট করে রাস্তায় বসে রয়েছে এটা দেখলে আমাদেরই কষ্ট লাগে।" তবে তার পরেও তাঁরা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি আসল জয় এখনও অধরা। তিলোত্তমার বাবা মা জানান 'আসল জয় আমাদের সেদিনই হবে, যেদিন আসল খুনিদের ধরা হবে এবং বিচার হবে।'

ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছে আরজি কর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ সিবিআইয়ের হাতে। তবে সন্দীপের বিরুদ্ধে প্রশাসন বা মুখ্য়মন্ত্রী যথাসময়ে পদক্ষেপ করেনি বলেই এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁর মায়ের দাবি, "২০২১ সালে যখন এই ডাঃ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তখন যদি মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপগুলো নিতেন তখন আমার কোল ফাঁকা হত না। আমার মেয়েটা এভাবে হারিয়ে যেত না।"

ইতিমধ্যেই আরজিকর কাণ্ডের তদন্তে বেশ খানিকটা এগিয়েছে সিবিআই। তবে এখনও আসল ঘটনা থেকে দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তদন্তকারীরা। কবে সেই অন্ধকার ভেদ করে আলোর রেখা ফুটে উঠবে, তার অপেক্ষায় তিলোত্তমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি গোটা দেশ।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।