মহিলাদের রাতের শিফটে কাজ নয়! কেন রাজ্যকে বিজ্ঞপ্তি মুছতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের?

Supreme Court RG Kar Hearing: রাজ্য বলেছিল, কোনও পরিস্থিতিতেই মহিলা চিকিৎসকদের ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না।

inscript
৩ মিনিট
মহিলাদের রাতের শিফটে কাজ নয়! কেন রাজ্যকে বিজ্ঞপ্তি মুছতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের?

মহিলারা চেয়েছিলেন নিরাপত্তা, চেয়েছিলেন কর্মস্থলে সুস্থ পরিবেশ। সরকার মহিলাদের রাতে কাজ করতেই প্রায় বারণ করে দিয়েছিল। আরজি কর হাসপাতালে ডাক্তারের ধর্ষণ ও হত্যার পরে মহিলাদের কর্মস্থল সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কড়া কথা শুনিয়েছে রাজ্যকে। তড়িঘড়ি সেই বিজ্ঞপ্তি মুছে ফেলতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। আরজি করের ঘটনার কিছুদিন পরেই যখন জানা যায়, প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ বলেছেন 'অত রাতে একা মহিলা কী করছিলেন’, সেই প্রতিবাদে রাত দখলের ডাক দেন মেয়েরা। আর সরকার মেয়েদের সম্মিলিত ক্ষোভকে দমাতে মহিলাদের রাতের শিফটে কাজ করাই বন্ধের ব্যবস্থা করতে থাকে। কী লিখেছিল সরকার ওই বিজ্ঞপ্তিতে? কেনই বা সুপ্রিম নির্দেশে তা মুছে ফেলতে হচ্ছে?

সরকার বলেছিল, রাতে কর্মস্থলে মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অন্তত ১৭টি পদক্ষেপ করবে রাজ্য প্রশাসন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল মহিলারা কখন কাজ করবেন, আর কখন করবেন না এই সংক্রান্ত নির্দেশও। রাজ্য বলেছিল, কোনও পরিস্থিতিতেই মহিলা চিকিৎসকদের ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে না, বেসরকারি ক্ষেত্রেও 'যতদূর সম্ভব মহিলাদের রাতের শিফট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে' বলে জানিয়েছিল সরকার। সরকার মেয়েদের কাজ করার সময়সীমা বেঁধে কোন মধ্যযুগকে ডেকে আনছে এই নিয়ে ক্ষোভ জনমানসে আরও তীব্র হয়। এবার সেই বিজ্ঞপ্তি আদালতের কাছেও সমালোচিত, নিন্দিত হলো।

এমন অদ্ভুত বিজ্ঞপ্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। কী ভেবে সরকার এমন অদ্ভুত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি। মঙ্গলবার আরজি কর কাণ্ডের শুনানি চলাকালীন ডিওয়াই চন্দ্রচূড় প্রশ্ন করেন রাজ্যকে, “নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। মহিলারা রাতে কাজ করতে পারবেন না, এ কথা বলতে পারেন না। বিমান পরিষেবা, সেনায় অনেক মহিলা রাতে কাজ করেন। ফলে এই বিজ্ঞপ্তি কেন?” রাজ্যকে ওই বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিজ্ঞপ্তির ওই বিতর্কিত অংশ মুছে ফেলতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, "মহিলারা এই ধরনের কোনও ছাড় চান না। তাঁরা চান সমান সুযোগ। মহিলা ডাক্তারেরা সব পরিস্থিতিতে কাজ করতে চান। তাঁদের সব পরিস্থিতিতে কাজ করা উচিত। রাজ্যকে এটি সুনিশ্চিত করতে হবে।” রাজ্যের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথাও ছিল সরকারের তরফে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা ছিল,

১. রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালে মহিলাদের জন্য পৃথক বিশ্রামকক্ষ, শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

২. 'রাত্তিরের সাথী' নামে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। এই বাহিনীর প্রধান কাজ হবে রাতে মহিলাদের নিরাপত্তা দেওয়া।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন! ডাক্তারদের কাজে ফেরা নিয়ে যা জানাল শীর্ষ আদালত

RG Kar Supreme Court Hearing: যেখানে ধর্ষণ ও খুনে একজন সিভিক ভলান্টিয়ারই গ্রেফতার হয়েছে, সেখানে আবারও নিরাপত্তার দায়িত্বে অস্থায়ী কর্মী রাখা কি সরকারের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলারই নামান্তর নয়?

৩. কর্মস্থলে মহিলাদের জন্য 'সেফ জোন' তৈরি, পর্যাপ্ত সিসিটিভির ব্যবস্থা হবে।

৪. রাতের শিফটে মহিলাদের সুরক্ষা দিতে 'রাত্তিরের সাথী' নামের মোবাইল অ্যাপে নিকটবর্তী থানার সঙ্গে মহিলাদের দ্রুত যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা হবে।

৫. বিপদের আশঙ্কা করলে ১০০ অথবা ১১২ নম্বরে পুলিশকে ফোন।

৬. মত্তদের চিহ্নিত করতে হাসপাতালে রাতে নিঃশ্বাস পরীক্ষার বন্দোবস্ত।

৭. যৌন হেনস্থা থেকে রক্ষা পেতে 'বিশাখা কমিটি'-কে সক্রিয় করা।

৮. সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতালে মহিলাদের সুরক্ষা বিষয়ে সকলকে সংবেদনশীল করার বিষয় জোর দেওয়া।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্ভয়ার মাকে বলেন, 'ধর্ষকদের ক্ষমা করে দিন'! জুনিয়র ডাক্তারদের হয়ে লড়া ইন্দিরা জয়সিং কে?

Indira Jaising: ইন্দিরা কিন্তু দোষীদের মৃত্যু চান না। নির্ভয়া কাণ্ডেও ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষমা করে দিতে বলেছিলেন নির্ভয়ার মাকে।

৯. রাতে মেয়েদের দলগতভাবে কাজ করার নির্দেশ।

১০. 'রাত্তিরের সাথী' আচরণবিধি নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও সচেতন করা।

১১. সরকারি এবং বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে রাতেও পুলিশের টহল দেওয়া।

১২. মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালগুলিতে প্রতি তলায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।

১৩. হাসপাতালের সকলের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা

১৪. সুরক্ষার জন্য মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে পুলিশ নিরাপত্তা আধিকারিক নিযুক্ত করা হবে।

১৫. মহিলা চিকিৎসকদের ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না।

১৬. সম্ভব হলে মহিলাদের রাতের শিফট বাতিল করার চেষ্টা করতে হবে।

১৭. মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে মহিলা নিরাপত্তারক্ষীও রাখতে হবে।

রাজ্য বাকি পদক্ষেপগুলি কতটা করেছে? প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এদিন রাজ্যের আইনজীবীকে বলেছেন, মহিলা ডাক্তারেরা বিশ্রাম নিতে গেলে সেখানে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা রাখার কথা ভাবতে হবে। তবে সর্বাগ্রে মহিলারা কখন কাজ করবেন আর কখন করবেন না এমন বিচিত্র নির্দেশ তুলে নিতে হবে রাজ্যকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।