ফের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ ঢাকা! কেন রিকশা নিয়ে শাহবাগ দখল রিকশাচালকদের?

Bangladesh: চাকরি স্থায়ী করার দাবি নিয়ে পথে নেমেছিল আনসার বাহিনী। তার জের ফিকে না হতে হতেই ঢাকায় আন্দোলনে নামলেন রিকশাচালকেরা।

inscript
৩ মিনিট
ফের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ ঢাকা! কেন রিকশা নিয়ে শাহবাগ দখল রিকশাচালকদের?

বাংলাদেশে সরকার বদল হয়েছে সদ্য। এখন সেখানে ক্ষমতায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তার পরেও কমছে না বিক্ষোভের আঁচ। দু'দিন আগেই আনসার বাহিনীর বিক্ষোভে রণক্ষেত্রের আকার নিয়েছিল ঢাকা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রিকশাচালকদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হল ঢাকার শাহবাগ। সোমবার একগুচ্ছ দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করলেন বাংলাদেশের রিকশাচালকেরা।

সোমবার সকাল দশটা নাগাদ শাহবাগ মোড়ে অবস্থান জমা হতে শুরু করেন শহরের একের পর এক প্যাডেলচালিত রিকশাচালকেরা। ওই জমায়েতের উদ্যোক্তা ছিলেন বৃহত্তর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন রিকশা মালিক ঐক্যজোট। একগুচ্ছ দাবি নিয়ে রাস্তার দখল নেন তারা। কার্যত রিকশাচালকদের বিক্ষোভে বন্ধ হয় রাজপথের যানচলাচল।

বাংলাদেশ জুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন যেন লেগেই রয়েছে। একমাসও হয়নি, সংস্কারবিরোধী আন্দোলন বিরাট আকার নিয়েছিল বাংলাদেশে। ছাত্রবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানের আকার নিতে সময় লাগেনি। এমনকী যা টলিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গদিও। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। তার পরে সর্বসম্মত ভাবে বাংলাদেশ শাসনের ভার যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিখ্যাত নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। তবে তার পরেও দেশে শান্তি ফেরেনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আনসার-পড়ুয়া সংঘর্ষে ফের অশান্ত বাংলাদেশ! আনসার বাহিনী কারা? কী-ই বা দাবি তাদের?

Bangladesh Unrest: চাকরি স্থায়ী করার দাবি নিয়েই এবার রাজপথে নেমেছে সাধারণ ও অঙ্গীভূত আনসারের সদস্যরা। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৩ দিন পর গত ২১ আগস্ট তারা বিক্ষোভ শুরু করে।

রবিবারই ঢাকায় পড়ুয়াদের সঙ্গে আনসারবাহিনীর সংঘর্ষ বাঁধে। কমপক্ষে ৪০ জনের আহত হওয়ার খবর মেলে সেই সংঘর্ষে। চাকরি স্থায়ী করার দাবি নিয়ে পথে নেমেছিল আনসার বাহিনী। তার জের ফিকে না হতে হতেই ঢাকায় আন্দোলনে নামলেন রিকশাচালকেরা। প্রাথমিক ভাবে এ আন্দোলন ছিল প্যাডেলচালিত রিকশাচালকদের। মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের দাবিতেই মূলত পথে নেমেছিলেন তাঁরা। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তাঁরা। তবে দুপুর বারোটার দিকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে শাহবাগ মোড় ছাড়েন আন্দোলনকারীরা। প্যাডেলচালিত রিকশাচালকদের দাবি, আগে প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলত না। ফলে প্যাডেল রিকশাচালকরা পর্যাপ্ত ভাড়া পেত। এখন সব জায়গায় অটোরিকশা চলে, কেউ কিছু বলে না। ফলে তারা কোনো ভাড়া পান না। আগের নিয়মে অটোরিকশা বন্ধ করলে তারা ভাড়া পাবেন। সরকার চাইলেই আগের নিয়ম চালু করতে পারে। আর তার জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন তাঁরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা, নেপথ্যে যে কারণ

Bangladesh Flood: অগস্টের শুরুতেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৭টি অংশে ভাঙন দেখা গিয়েছিল। প্রথমে এখান থেকেই লোকালয়ে জল ঢুকতে শুরু করে।

এরপর দুপুর ১টার দিকে ফের শাহবাগের দখল নিতে শুরু করেন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকেরা। তাঁরাও সড়ক-মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দেন। শাহবাগ থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন জানান, সকাল থেকে রিকশাচালকদের দুটি গ্রুপ আন্দোলন করে। তবে বিকেল সাড়ে তিনটের পর ফাঁকা হয়ে যায় শাহবাগ চত্বর। সকলেই রাস্তা থেকে সরে যান।

তবে আন্দোলনরত রিকশাচালকদের আরও একগুচ্ছ দাবি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মতো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে রিকশা মালিকানা নতুন লাইসেন্স প্রদান ও পুরাতন লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের দাবি। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ও বৈধ লাইসেন্সধারী রিকশা পেশাজীবীদের স্বার্থে ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে চালক লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। অসুস্থ চালকদের ফ্রি ফ্রাইডে মেডিকেল চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স প্রাপ্ত রিকশা পেশাজীবীদের ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছেন রিকশাচালকেরা।

না, এখানেই শেষ নয়। এককালে বাঙালি মুলুকের প্রাচীন বাহন ছিল রিকশা। রিকশাচালকদের দাবি, নৌকা, পালকি, ঘোড়াগাড়ির মতো রিকশাকেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ন্যায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় জাদুঘরে স্থান দিতে হবে। এর পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যে সব বীর নিহত হয়েছেন এবং যাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদেরকে বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতিবাজদের অর্থ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিবারকে পুনর্বাসন ও আহতদের সু-চিকিৎসা প্রদান করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এর পাশাপাশি বিগত সরকারের সময়কালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সরকার দলীয় চাঁদাবাজরা আধিপত্য বিস্তার করে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকায় অন্যায় ও বেআইনিভাবে বিশেষ পোশাকে রিকশা পরিচালনা করে এসেছে, সেই সব রিকশাগুলোকে বন্ধ করে, পায়ে চালিত বৈধ রিকশাগুলিকে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিক রিকশাচালকদের এই অবরোধে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় শাহবাগ এলাকায়। অসুবিধায় পড়েন নিত্যযাত্রীরাও। যে ভাবে বাংলাদেশে নিত্য় মাথাচাড়া দিচ্ছে বিক্ষোভ ও আন্দোলনের ঢেউ, এবং তা উঠে আসছে নানা স্তর থেকে, তা সামাল দিয়ে ঠিক মতো দেশ পরিচালনা করতে পারবে নয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নাকি ছোট ছোট বিক্ষোভের ঢেউগুলির বিরাট হয়ে ওঠা এখন সময়ের অপেক্ষা কেবল? কবে বাংলাদেশে ভোট, এ ব্যাপারেও তেমন কোনও দিশা দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। এখন বাংলাদেশের জন্য আর কী কী অপেক্ষা করছে, সেটাই দেখার।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?