শত সংঘাতের পরেও সুন্দরবন জানে, বাঘ না বাঁচলে বাঁচবে না সাধের জঙ্গল

একটি 'আমব্রেলা স্পিসিস' ( যে প্রাণীটি জঙ্গলকে ছাতার মতো আগলে রাখে, সুরক্ষা দেয়, স্থায়িত্ব দেয়) কেবলমাত্র জঙ্গল নয়, জনজীবন ও তাদের লৌকিক কথকতাকেও কীভাবে প্রভাবিত করে চলেছে যুগে যুগে কালে কালে।

Tishya Dasgupta
৪ মিনিট
শত সংঘাতের পরেও সুন্দরবন জানে, বাঘ না বাঁচলে বাঁচবে না সাধের জঙ্গল

প্রথমে বন্দনা করি, ধৰ্ম নিরঞ্জন।

তার পরে বন্দনা করি, সরস্বতীর চরণ।।

তার পরে বন্দনা করি, বনবিবির চরণ।

পূবেতে বন্দনা করি, উদয় দিনমনি।।

পশ্চিমে বন্দনা করি, উদয় অস্তমনি।

উত্তরে বন্দনা করি , হিমালয় পর্বত।।

দক্ষিণে বন্দনা করি, দক্ষিণ রায়ের চরণ।

এই পর্যন্ত বন্দনা আমরা অল্পে সাঙ্গ করি গো

মুসলমান বলুন গো আল্লা, হিন্দু বলুন হরি।।

শিতালী সন্ধ্যাবেলায় সোনারপুর পেরিয়ে ক্যানিং লোকাল যখন ঘুটিয়ারী স্টেশন কিংবা তালদীর কোল ঘেঁষে দৌড় মারে, দূর থেকে আবছা কুয়াশার মতো হয়তো ভেসে আসে এই বন্দনাগানের কিছু কলি। চারদিকে চারটে খুঁটি- কালো ত্রিপলের আচ্ছাদন, দু'পাশে বাঁধা দু'খানি হ্যাজাক লাইট। খেজুরপাতার চাটাইয়ে বসা বাজনদারের দল, তাঁদের একজনের হাতে লম্বা কালো একটা যন্ত্র- ফুলেট। পালায় তখন প্রাণভয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে বালক দুখে। পিছনে রঙচঙে মুখোশপরা দক্ষিণরায়- যখন দুখে প্রায় দক্ষিণরায়ের হাতের নাগালে, তখনই রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ শাহ জঙ্গালীর, সে কী ভয়ানক যুদ্ধ তারপর!

সাগরদ্বীপ থেকে পাথরপ্রতিমা, গোসাবা থেকে কাকদ্বীপ- এই দৃশ্য অত্যন্ত পরিচিত। 'বনবিবির পালা'- সুন্দরবন অঞ্চলের লৌকিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অঙ্গ। কেবলমাত্র বনবিবির পালা-ই নয়, রায়মঙ্গল কাব্য, মনসামঙ্গল কাব্য, দক্ষিণরায়ের পালা, হরেক কিসিমের পীর ও গাজীপালা- ইত্যাদি বিবিধ লোকায়ত পালাগানের মাধ্যমে বাদাবনের চরিত্র, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সর্বোপরি বাঘ ও তার পারিপার্শ্বিক বাস্তুতন্ত্রের কালানুক্রমিক বিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

যাই হোক, ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া বন্ধ করে আসল বিষয়ে আসি। সুপ্রিয় পাঠক, ইতোমধ্যে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে- বাঘ নিয়ে লিখতে বসা লেখায় এত পালাগান, ইতিহাস, লোকগীতির কচকচানির প্রাসঙ্গিকতা কী? প্রাসঙ্গিকতা আছে, প্রবলভাবেই আছে। বাদাবনের ইতিহাস, জল-জঙ্গলের কাহিনি যদি ইতিহাসের হলুদ হয়ে আসা পাতাগুলো উল্টে খুঁজতে বসি, তাহলে দেখব বাঘ এবং জঙ্গল, তার হাতে হাত ধরে কালে কালে আবর্তিত হয়ে আসছে সুন্দরবনের মানুষের সমাজ, জীবন ও জীবিকা- আর এই যাত্রাপথের জ্বলন্ত দলিল লৌকিক উপকথা ও পালাগানগুলি। সুন্দরবনের লৌকিক উপকথা নিয়ে লিখতে বসলে দিস্তার পর দিস্তা কাগজ ফুরোবে, কলমের কালি ভেসে যাবে মাতলা নদীর স্রোতে। আমরা মূলত বনবিবি ও দক্ষিণরায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব আমাদের আলোচনা, এবং সঙ্গে সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করব বাদাবনের বাঘ ও পরিবেশ সংরক্ষণ ও তার বিবর্তনের চক্র।

দক্ষিণরায়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কিন্তু আজকের নয়। এই বিশ্ব ব্যাঘ্র দিবসের আবহে, নোনাজলের ঝাপটায় অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া ইতিহাসের পাতা ঘাঁটতে ঘাঁটতে কয়েকলাইন কবিতা খুঁজে পেলাম, কবিতা না বলে স্বপ্নাদেশ বলা ভালো- সেই স্বপ্নাদেশ পেলেন কে? মক্কার অধিবাসী বেরাহিম/ইব্রাহিম, যার স্ত্রী ফুলবিবি সন্তানহীন ছিলেন।

দোছরা করিলে সাদি জানিবেক খাটি

তাহার উদরে পয়দা হবে বেটা বেটি।।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষখেকো বাঘ বলে কিছু হয় না...

যেমন আদেশ তেমন কাজ, ইব্রাহিমের ঘরে এলেন দ্বিতীয় স্ত্রী। 'শাদি' তো হলো, কিন্তু ফুলবিবি মেনে নেবেন এত সহজে? তাঁর ষড়যন্ত্রে গভীর জঙ্গলে ইব্রাহিমের দ্বিতীয় স্ত্রী প্রসব করলেন যমজ কন্যা-পুত্র; বনবিবি ও শাহ জঙ্গালী। অতি দুঃখে দিন কাটে তাঁদের, কিন্তু সবসময় সহায় বনের প্রাণীরা।

বনের হরিণ সব খোদার মেহের

হামেশা পালন করে বনবিবির তরে

বেহেশতের নূর এসে কোলে কাঁখে নিয়া

তুষিয়া মায়ের মত ফেরে বেড়াইয়া।।

অতএব বোঝাই যাচ্ছে, 'খোদার আরশ' অর্থাৎ, আসনে অধিষ্ঠানের ক্ষমতা বনবিবি সঙ্গে নিয়েই জন্মান। সেই খোদার খোদকারিতেই বনবিবি ও শাহ জঙ্গালী এসে উপনীত হলেন সুদূর মক্কা থেকে এক অজানা-অচেনা দেশে, যার নাম 'আঠেরো ভাটির দেশ'- নিত্যদিন জোয়ার-ভাটা খেলা করে যেখানে, আমাদের আজকের সুন্দরবন।

সঙ্গে সঙ্গে সময় এবং সমাজের বিবর্তনটাও লক্ষ করুন পাঠক। সুন্দরবনে জনবসতির হদিশ মেলে প্রায় মৌর্য যুগের কিছু পর থেকে। বনবিবির সঙ্গে সঙ্গেই সুদূর মক্কা থেকে মুসলমান ধর্মাবলম্বী মানুষ এসে পৌঁছলেন এই জল-জঙ্গলের দেশে। এসে দেখলেন চারপাশে শুধুই জল আর ডাঙায় ভয়াল বাঘবাহাদুর, প্রবল পরাক্রমশালী বাঘের সঙ্গে শুরু হলো লড়াই, শেষ পর্যন্ত একটা আপসে আসা গেল বটে- তাড়া খেয়ে বাঘ সেঁধোলো গভীর জঙ্গলে, আর উপকূলের ধার ধরে মানুষ গড়ল তার বসতি।

বাঘ-মানুষের এই অসম লড়াইয়ের দলিল আজও জীবন্ত হয়ে আছে মোহাম্মদ খাতের প্রণীত 'বনবিবির জহুরানামা'-য়। শার্দুলপ্রবর দক্ষিণরায়ের প্রতাপে অতিষ্ঠ মানুষ শরণাপন্ন হলেন বনবিবির এবং প্রবল লড়াইয়ের পর দক্ষিণরায়ের মা নারায়ণীর মধ্যস্থতায় একটা 'মিউচুয়াল সেটলমেন্ট'-এ এলেন তাঁরা, বাঘ চলে গেল গভীর জঙ্গলে।

দক্ষিণের রাজা দক্ষিণরায়, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ধপধপিতে যার বিশাল মন্দির। কারও মতে সেই সময় হিন্দু রাজা মুকুট রায়ের আত্মীয় দক্ষিণরায় ছিলেন বাদাবনের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। আবার কেউ বলেন, দক্ষিণরায় মার্জারকুলশিরোমণি শার্দুলঠাকুর স্বয়ং। কবে প্রবলপরাক্রমশালী রাজা এবং বাঘবাবাজি একাকার হয়ে গেলেন, সেই তর্ক গবেষকরা করবেন নাহয়, 'ক্রোনোলজি' অনুযায়ী মোদ্দা কথা হলো, প্রবলপরাক্রমশালী শত্রুকে ঠেকানোর জন্য 'ছাপোষা' বাঙালিদের পূর্বপুরুষদের তখন একটি শক্তির প্রয়োজন ছিল, যার ফলে বনবিবির আসরে আগমন। দক্ষিণরায় সুন্দরবনের নিচের দিকে, অর্থাৎ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সুপুরুষ দেবতা হিসেবে পূজিত হন আবার বাদাবন অঞ্চলে তিনি কেবলই বাঘ।

অতএব দেখা যাচ্ছে, একটি 'আমব্রেলা স্পিসিস' ( যে প্রাণীটি জঙ্গলকে ছাতার মতো আগলে রাখে, সুরক্ষা দেয়, স্থায়িত্ব দেয়) কেবলমাত্র জঙ্গল নয়, জনজীবন ও তাদের লৌকিক কথকতাকেও কীভাবে প্রভাবিত করে চলেছে যুগে যুগে কালে কালে। ধর্ম-মানুষের কালাপানি পার হওয়ার বৈতরণী, কিন্তু যখন নিরাপত্তা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে গড় করে প্রকৃতিদেবীর পায়ে। তাই খুব সম্ভবত সুন্দরবনই একমাত্র জায়গা এই পৃথিবীর, যেখানে মুসলমান ধর্মাবলম্বী মানুষ মুর্তিপূজায় বিশ্বাস করে। হিন্দু-মুসলিম সকলের ঘরের মেয়ে বনদেবী বা বনবিবি। আর লোনা মাটির গন্ধমাখা, ঝড়ের দ্বীপের মানুষ এটাও জানে যে, বাঘ না বাঁচলে বাঁচবে না তাদের জঙ্গল, গাছপালা- শেষ হয়ে যাবে আদরের বাদাবন। তাই আজও, বিস্তীর্ণ নাইলনের জাল ভেদ করে বাঘ গ্রামে চলে এলেও, মধু-কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘরের মানুষটা বাঘের পেটে চলে গেলেও তাঁদের সাধের দক্ষিণরায়কে বুক দিয়ে আগলে রাখেন সুন্দরবনের মানুষ।

রোজ রোজ নিত্যদিন ক্যানিং লোকাল এই আলোঝলমলে শহরে ফেরে উপকূলের রোজনামচা লিখতে লিখতে, ঝুপ করে নেমে আসা অকালসন্ধ্যায় বা বৈশাখ মাসের কাঠফাটা দুপুরে ট্রেনের আওয়াজ ছাপিয়ে আজও শোনা যায় সেই বজ্রনির্ঘোষ,

নিন্দের খুমারো ধোনা হাতে কয়।

আপনি কে বটে মোরে দেহ পরিচয়।।

শুনিয়া দক্ষিণরায় কহে এ প্রকার।

মোম মধু বাদাবনে সৃজন আমার।।

দণ্ড বক্ষ মুনি ছিল ভাটির প্রধান।

দক্ষিণা রায় নাম আমি তাহার সন্তান।।

বেঁচে থাকুক বাঘ, তাকে আগলে সুখে থাকুক সুন্দরী গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া নোনা মাটির মানুষজন।

লিখেছেন
Tishya Dasgupta
Tishya Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।