নর-নারীর মিলন নিয়ে চিত্তপ্রসাদের স্বাধীন ভাবনা মেনে নেয়নি বামপন্থীরা

Chittaprosad: কেনই বা চিত্তপ্রসাদ অস্বীকার করবেন ব্যক্তিমানুষের প্রেমানুভূতি!

Biswajit Ray
৪ মিনিট
নর-নারীর মিলন নিয়ে চিত্তপ্রসাদের স্বাধীন ভাবনা মেনে নেয়নি বামপন্থীরা

নাম তাঁর চিত্তপ্রসাদ। শেষ অবধি ফিরেছিলেন চিত্তের কাছেই– নিজের মনের নিকটে। বামপন্থী রাজনৈতিক দলের নীতি আর তত্ত্বের সঙ্গে যদি চিত্তের অমিল হয় তাহলে মনের সেই অমিল নিয়ে দলচর হয়ে থাকতে তাঁর বয়েই গেছে। থাকেননি তিনি, থাকেননি তাঁরা– চিত্তপ্রসাদ, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দু'জনের কেউই থাকতে পারেননি শেষ অবধি। চিত্তপ্রসাদের তুলি আর সুভাষের কলম তাঁদের ব্যক্তিমনের অনুগত। সেই মন মানুষকে ভালবাসে, মানুষের কাছে যায়।

সুভাষ মুখোপাধ্যায়

চিত্তপ্রসাদ দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের দুর্দশার ছবি আঁকেন, কৃষক বিদ্রোহের ছবি আঁকেন, আঁকেন কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ছবিও– এইসব ছবিতে বড় হয়ে ওঠে মানুষ, শুধু মানুষ। শ্রমিকদের ছবিতে চিত্তপ্রসাদ কখনও শ্রমভারে পীড়িত মানুষটিকে হেরে যেতে দেখান না– তাঁর ছবিতে মুখ্য হয়ে ওঠে মজুরের সামর্থ। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ। চিত্তপ্রসাদের কাঠখোদাই কুলির ছবিটি দর্শকদের সামনে এল। গরুর গাড়িতে মাল বয়ে নিয়ে যাচ্ছে চালক। আর তার সামনে এক মালবাহী কুলি। পিঠে তার মস্ত বোঝা। সেই বোঝার ভার চোখে পড়ে, তবে চোখ টানে কুলিটির সুঠাম পদযুগল। অপূর্ব তার সৌষ্ঠব ও সামর্থ। বোঝাই যায়, ইচ্ছে করেই মালবাহী পশুর সামনে মালবাহী মানুষটিকে বড় করে তুলেছেন শিল্পী। তার ওই পা-দু'টি, শক্তিশালী পা-দু'টি যেন আশ্চর্য সুন্দর ও স্থাপত্যময়। একদিকে সম্পদের অসম বণ্টন, অবসরহীন কায়িক শ্রমে বাধ্য করার নির্মম ব্যবস্থা– তারই মধ্যে শ্রমনিষ্ঠ মানুষটি শরীরের সৌকর্য আর সৌন্দর্য নিয়ে ধরা দিচ্ছেন শিল্পীর চোখে।

চিত্তপ্রসাদের চোখে নরনারী

চিত্তপ্রসাদ মনে করেন, ‘শুধু মন দিয়ে দেখলেই তা দেখতে পাওয়া সম্ভব...।’ ( ‘চিত্রকরের বিচারে চিত্রসমালোচক’) এই শরীরকে দিনের পর দিন ছবিতে ধরেছেন তিনি– ‘ছবি তো কথা নয়, শব্দ নয়, ছবি দর্শনীয় কাব্য।’– লিখেছিলেন তিনি ‘চিত্রকরের বিচারে চিত্রসমালোচক’ নামের ছোট্ট কিন্তু ধারালো লেখাটিতে।

সেই দর্শনীয় কাব্যে কি কেবল শ্রমের রূপকথা থাকবে, প্রেমের অপরূপ কথা থাকবে না?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভালবাসা মরে গেলেও থাকে স্মৃতিতে! ভাস্কর চক্রবর্তীর কবিতা চেনায় অন্য প্রেম

Bhalobasar Karok Prokoron: বিশুদ্ধ ভালবাসা তবু, ভাস্কর জানেন, তা থেকে যায় ভালবাসা মরে গেলে স্মৃতিতেই।

সমরেশ বসুর গল্প ‘স্বীকারোক্তি’ যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা জানেন, পার্টি কি কঠোর নির্মমতায় স্বাধীন প্রেমানুভূতিকে গলা টিপে মারে। শুধু তাই নয়, প্রেমিকাকে দিয়ে স্বীকার করিয়ে নেয় প্রেম, ব্যক্তিপ্রেম স্বার্থান্ধ। এই গলা-টেপা যুক্তি চিত্তপ্রসাদ মানেননি, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ও না। তাঁরা দু'জনেই টাটকা মানুষটিকে ধরতে চান। সেই মানুষ সমূহের অংশ মাত্র নয়, সেই মানুষ একান্ত, স্বতন্ত্র। চিত্তপ্রসাদের ছবিতে যেখানে কৃষক ও মজুরের শ্রম-অকুণ্ঠ দেহের উদ্‌যাপন, সেখানে সেই মানুষটিকে কেবল সমূহের অংশ বলে মনে হয় না, শ্রেণিচরিত্রে সে অনেকের একজন নয়– ব্যক্তিবৈশিষ্ট্যে সে একক।

'দুঁহু ও দোহা'-র প্রচ্ছদ

কাজেই কেনই বা চিত্তপ্রসাদ অস্বীকার করবেন ব্যক্তিমানুষের প্রেমানুভূতি! বন্ধু দেবীপ্রসাদকে ১৯৫১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি লিখছেন চিঠিতে,

এখনো আমি খাজুরাহোর নেশায় মশ্‌ত্‌ হয়ে আছি।... চারদিক নির্জন রাত্তির, অন্ধকার পাষাণ মন্দিরে উঠে গিয়ে পশ্চিম মুখো জানলায়– কয়েক শ’ ফিট উপরে– বসে’ বসে’ পঞ্চমীর চাঁদ অস্ত দেখলাম, অপূর্ব সে অভিজ্ঞতা। খাজুরাহোর সে ঐশ্বর্য বর্ণনা করার মতো ক্ষমতা আমার নেই। একটা কথা বারবার মনে হয়েছে ওখানে গিয়ে– (তা আমায় ফিউডাল বলেই হোক কি অন্য যেকোনো গালমন্দই দিন)– মানুষের দেহমনের নিবিড় আনন্দ-বেদনা মন্থিত করে মানুষ জীবন থেকে মণিমানিক তুলে এনে সূর্যের আলোয় অনন্ত আকাশের নীচে তুলে ধরে তা চিরকালই মণিমানিকের চেয়ে মূল্যবান ঐশ্বর্য হ’য়ে থাকে মানুষের রাজ্যে– তার জন্যে যাকে যতো দামই দিতে হোক না কেন। চোখ-মন সব ধাঁধিয়ে গেছে যেন আমার– মানুষ কী সুন্দর– আমাদের পিতৃপুরুষেরা বিশেষ করে’ তাঁদের প্রেয়সীরা কী সুন্দর– কী সুন্দর– মশাই– আমরা কি বেঁচে আছি?

জিজ্ঞাসা তো কেবল দেবীপ্রসাদকে নয়, জিজ্ঞাসা বিশেষ মনোভঙ্গিকে। বামপন্থী দলচারী পার্টিকর্মী, পূর্ববর্তী চরমপন্থী বিপ্লবী, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী- যাঁরা এই প্রেমময় মিলনের সৌন্দর্যকে মানতে দ্বিধাগ্রস্ত, প্রশ্ন তাঁদের প্রতি। রবীন্দ্রনাথ ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাসে চরমপন্থী বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে প্রেমকে স্থাপন করেছিলেন, প্রেম যে বিপ্লবের শত্রু হতে পারে না, সেকথা নিয়ে অনেকদিন আগেই তো তিনি লিখে ফেলেছিলেন নাটক ‘রক্তকরবী’। সেই নাটক বিপ্লবের আবার রঞ্জন-নন্দিনীর প্রেমেরও। গান্ধী তাঁর অহিংসব্রতে নর-নারীর যৌনতাকে যৌন প্রহার বলে ভাবতেন, মিলনের মধ্যে যে স্বেচ্ছায় দু'টি শরীর গলে-মিশে এক হয়ে যেতে পারে, তা যেন অনেকটাই অধরা থেকে যাচ্ছে তাঁর ভাবনায়। মন্দির-স্থাপত্যের অপূর্ব শৃঙ্গারমূর্তিগুলিকে ঢেকে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। ঢাকতে অবশ্য পারেননি। রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ- দু'জনেই ভারতবর্ষের বেজে ওঠা পাথরের শৃঙ্গার মূর্তির রূপ আস্বাদন করেছিলেন।

চিত্রঋণ: চিত্তপ্রসাদ, প্রকাশ দাস সম্পাদিত, গাঙচিল, ২০১১

চিত্তপ্রসাদ অবশ্য এখানেই থেমে গেলেন না। যা দেখলেন, তাকে রূপ দিলেন। দেশ স্বাধীন হলো। ছয়ের দশকের গোড়াতে চারপাশ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হলো তাঁর কবিতার বই ‘দুঁহু প্রেম ও দোঁহা।’ ‘শিল্পায়ন’ থেকে প্রকাশিত এই কবিতার বইতে ব্যবহার করা হয়েছিল তাঁরই বাছাই করা কিছু ছবি। ব্যক্তিজীবনে প্রেমানুভূতির অধিকারী হয়েছেন তিনি। সেই প্রেমকে পার্টি, আত্মীয়বন্ধুরা ভালো চোখে দেখেননি। চিত্তপ্রসাদ ‘মানুষের দেহমনের নিবিড় আনন্দ-বেদনা মন্থিত’ করে ছবি আঁকলেন। যে শরীর দিয়ে তিনি শ্রমের উদ্‌যাপন করতেন, সেই শরীর দিয়েই এবার প্রেমের উদ্‌যাপন। লিনোকাট। ছবির মধ্যে স্থাপত্যের মেজাজ। দুটো শরীর– পুরুষ ও রমণী, আশ্লেষে-আনন্দে মিশে যাচ্ছে। প্রেক্ষাপটে আর কিছু নেই। সব অপ্রয়োজনীয়– মুহূর্তটি সত্য। দু'জনের কাছে দু'জন সত্য। অবনীন্দ্রনাথ তাঁর ‘গমনাগমন’ রচনায় কোনারকের দিকে যাওয়া আর কোনারক থেকে ফিরে আসার অনুভূতির বিবরণ লিখেছিলেন। যখন গেলেন, তখন মনে হলো তাঁর,

উর্বর পাথর ফুটিয়া উঠিয়াছে নিরন্তর পুষ্পিত কুঞ্জলতার মতো শ্যাম-সুন্দর আলিঙ্গনের সহস্র বন্ধে চারি দিক বেড়িয়া!

এই শ্যামসুন্দর আলিঙ্গন ‘সকল গোপনতার সীমা হইতে বিচ্ছিন্ন, নির্ভীক, সতেজ, আলোকের দিকে উন্মুখ।’ চিত্তপ্রসাদের ভালবাসার লিনোকাটগুলি তেমনই। পার্টি এই নির্ভীকতাকে ভয় পায়, এই সতেজ আলোকে সামলাতে পারে না। অবনীন্দ্রনাথ যখন কোনারক থেকে ফিরছেন তখন মনে হচ্ছিল তাঁর, ‘উদয়ের পার হইতে আবার সেই পারে; আর একবার সংসারের দিকে, সুরুচি-কুরুচি, শ্লীল-অশ্লীলের দিকে’ ফিরছেন। চিত্তপ্রসাদের পার্টির অধিকাংশ মানুষের মন উদয়ের দিকে না গিয়ে অস্তের দিকে ফিরে তাকায়। ফলে চিত্তপ্রসাদ, মানুষের শিল্পী চিত্তপ্রসাদ তাঁর প্রেমের নির্ভীকতায় দলচরদের কাছে ব্রাত্য।

১৯৭৮। চলে গেলেন। তাঁর প্রয়াণের খবরের জন্য সংবাদপত্র মালিকরা বেশি জায়গা বরাদ্দ করেননি। তাঁর পুড়ে যাওয়ার নীরব শ্মশান সাক্ষী মাত্র ক'জন। সমর সেন, গোলাম কুদ্দুস, খালেদ চৌধুরী, অবনীরঞ্জন রায়।

চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর প্রশ্নটি মরে গেল না।

‘মশাই– আমরা কি বেঁচে আছি?’

লিখেছেন
Biswajit Ray
Biswajit Ray
6 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।