প্রতিহিংসায় প্রেম নেই, অহং আছে

আমাদের খবরের কাগজ ভরে যায় অ্যাসিড বাল্‌বের গল্পে, প্রতিহিংসার কাহিনিতে। এই প্রতিহিংসা প্রেম নয়, অহং-এর আঘাত।

Biswajit Ray
৪ মিনিট
প্রতিহিংসায় প্রেম নেই, অহং আছে

বৈষ্ণবরা বলেন স্নেহ দু'-রকম– ঘৃতস্নেহ আর মধুস্নেহ। ঘৃতস্নেহ থেকে মধুস্নেহ শ্রেষ্ঠ। কারণ ঘিয়ে হাত দিলে ‘দানা, দানা’ লাগে। মধুতে সেই দানার বালাই নেই। যে প্রেমে যত দানা, সে প্রেমে তত বিপত্তি। দানা মানে তো অহং। আমার আমির অধিকার। রবীন্দ্রনাথের লেখায় পাই, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্বন্ধ পদ আছে, কিন্তু পজেসিভ কেস নেই। তবু আমরা তো প্রেম বলতে অধিকারকেই বুঝি, দানার আঘাতে সম্পর্কের ফুল ছিন্ন হয়।

বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’-এ গোবিন্দলাল রোহিণীকে খুন করল। কেন করল? বঙ্কিমের পাঠক বলবেন, অধিকারবোধ এই হত্যার কারণ। গোবিন্দলাল রোহিণীর রূপে মুগ্ধ। সেই রূপমুগ্ধতা থেকে নিজের আবিষ্ট মনকে সে তুলতে পারে না, সেই রূপলুব্ধতাকে রোহিণীর প্রতি গুণমুগ্ধতায় উত্তীর্ণ করতে পারে না। জমিদার গোবিন্দলালের বাগানে অর্ধনগ্নিকা শ্বেতপাথরের মূর্তি ছিল। গোবিন্দলালের স্ত্রী কৃষ্ণাঙ্গী বালিকা-ভ্রমর, ভ্রমরে তার বাসনা তৃপ্ত হয়নি। সাহেব-মেমদের এদেশে আশার ফলে বাঙালি পুরুষদের রূপবাসনার চরিত্র বদলে যায়– শ্যামাঙ্গিনীর বদলে শ্বেতাঙ্গিনীদের প্রতি তাদের আকর্ষণ তীব্র হয়ে ওঠে। গোবিন্দলাল শ্বেতবর্ণা রোহিণীতে আসক্ত। তার বাগানের অর্ধনগ্নিকা মূর্তি আর বাস্তবের রোহিণী তার বাসনা-বিলাসে মিলে-মিশে একাকার। গোবিন্দলাল গ্রাম ছাড়ল। রোহিণীও। তাদের যাত্রার সময় আলাদা, উপায়ও আলাদা– কিন্তু গন্তব্য এক। গোবিন্দলাল রোহিণীকে নিয়ে গিয়ে তুলল প্রসাদপুরে একটি দ্বিতল অট্টালিকায়। সেই অট্টালিকার ওপরতলায় ওস্তাদ গান করে, রোহিণী নাচে– গোবিন্দলাল দেখে। দেওয়ালে সুরুচিবিগর্হিত ছবি ঝোলে। এই দমবন্ধ কামনাবিলাসে রোহিণী গোবিন্দলালের পণ্য। সেই রোহিণীকে অবিশ্বাসিনী মনে করে, গোবিন্দলাল খুন করে তাকে। বঙ্কিমের উপন্যাসের কথক লেখেন, ‘বালক-নখর-বিচ্ছিন্ন পদ্মিনীবৎ রোহিণীর মৃতদেহ ভূমে লুটাইতেছে।’

এই খুন গোবিন্দলালের প্রতিহিংসা-পরায়ণতার ফল। রোহিণী বিধবা। সেই বিধবার জন্য অর্থব্যয় করে গোবিন্দলাল তার বাসনা তৃপ্ত করতে চায়। সেই বাসনাবিলাস পূরণের উপায় মাত্র রোহিণী। তার কি স্বাধীন ইচ্ছে বলে কিছু থাকতে পারে? তার কি আর কারও প্রতি আসক্তি প্রকাশের অধিকার আছে? নেই। সে গোবিন্দলালের পুষ্প। সেই পদ্ম নিয়ে গোবিন্দলাল খেলবে– চাইলে নখ দিয়ে ছিন্ন করবে। গোবিন্দলালের এই অনৈতিক অহং ও অধিকারবোধ রোহিণীর খুনের কারণ।

স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ জাগলেই কি স্বামী তাঁকে খুন করবে?

ওথেলো ডেসডিমোনাকে হত্যা করেছিল। নবকুমার কিন্তু কপালকুণ্ডলাকে খুন করার কথা ভাবেনি। নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে ভালবেসেছিল। সেই ভালোবাসার সূত্র কপালকুণ্ডলার রূপ। সেই রূপমুগ্ধতা নবকুমারকে আবদ্ধ করেনি। বঙ্কিম লিখেছিলেন, নবকুমারের,

যেখানে চাপল্য ছিল, সেখানে গাম্ভীর্য জন্মিল; যেখানে অপ্রসাদ ছিল, সেখানে প্রসন্নতা জন্মিল; নবকুমারের মুখ সর্ব্বদাই প্রফুল্ল। হৃদয় স্নেহের আধার হওয়াতে অপর সকলের প্রতি স্নেহের আধিক্য জন্মিল; বিরক্তিজনকের প্রতি বিরাগের লাঘব হইল; মনুষ্যমাত্র প্রেমের পাত্র হইল...।

নবকুমারের চিত্তবৃত্তি প্রেমে সম্প্রসারিত হয়েছিল– গোবিন্দলালের মতো তার মন রূপলুব্ধতায় সংকীর্ণ হয়নি।

কপালকুণ্ডলার প্রতিপালক কাপালিক ও নবকুমারের থেকে ঘটনাচক্রে বিচ্ছিন্না তার প্রথমা পত্নী মতিবিবি, যে মুঘল দরবারে রূপাভিসারী ও ক্ষমতালিপ্সু– তারা দু'জনে মিলে ষড়যন্ত্র করে কপালকুণ্ডলা সম্বন্ধে নবকুমারের মনে কৌশলে সন্দেহ জাগিয়ে তোলে। সেই সন্দেহ জাগলেও নবকুমার প্রতিহিংসা গ্রহণ করতে চায়নি। কাপালিক মদ খাইয়ে নবকুমারকে উন্মত্ত করে, কপালকুণ্ডলাকে হত্যা করার জন্য নবকুমারকে প্রেরণ করে। তখন নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে বলেছিল, ‘কাঁদিতে পারিতেছি না, এই ক্রোধে কাঁপিতেছি।’

নবকুমার তো গোবিন্দলাল নয়। প্রেমিক সে– কপালকুণ্ডলাকে সে ভালবাসে। তাই কান্না পায় তার– প্রবল কান্না। ভালবাসে যাকে, সেই ভালবাসার জন অন্যে উপগত একথা ভেবে সে কাঁদে। সে কান্না মনখারাপের, বেদনার– তার মন প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলে ওঠে না।

‘কপালকুণ্ডলা’ তো অন্যে উপগত হয়নি। কাপালিক মিথ্যে কথা বলেছিল। রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের বিমলা কিন্তু তার স্বামী নিখিলেশকে ছেড়ে সন্দীপে মজেছিল। তা জানতে, বুঝতে পারে নিখিলেশ। তা জেনেও কিন্তু বিমলাকে ধরে-বেঁধে রাখেনি সে। বিমলার ওপর প্রতিহিংসা গ্রহণ করতে চায়নি। নিখিলেশের আত্মকথন যেন প্রবল পুরুষের আত্মকথন নয়। বিমলায় আসক্ত সন্দীপ তার বন্ধু নিখিলেশ সম্বন্ধে ভাবে,

অদ্ভুত মানুষ ঐ নিখিলেশ। ও বেশ বুঝেছে ওর ঘরের মধ্যে একটা বিপদ ঘনিয়ে এসেছে, কিন্তু তবু আমাকে ঘাড় ধরে বিদেয় করে দেয় না কেন? আমি জানি, ও অপেক্ষা করে আছে বিমল কী করে। বিমল যদি ওকে বলে ‘তোমার সঙ্গে আমার জোড় মেলে নি’ তবেই ও মাথা হেঁট করে মৃদুস্বরে বলবে, তা হলে দেখছি ভুল হয়ে গেছে।

আর নিখিলেশ? কী ভেবেছে সে?

আমি কাঁদছি আমার আপন কান্না, সমাজের কান্না নয়। বিমল যদি বলে সে আমার স্ত্রী নয়, তাহলে আমার সামাজিক স্ত্রী যেখানে থাকে থাক্‌, আমি বিদায় হলুম।...

স্বয়ম্বরসভায় আজ আমার গলায় যদি মালা না পড়ে, যদি মালা সন্দীপই পায়, তবে এই উপেক্ষায় দেবতা তাঁরই বিচার করলেন যিনি মালা দিলেন, আমার নয়। আজ আমার এ কথা অহংকার করে বলা নয়। আজ নিজের মূল্যকে নিজের মধ্যে যদি একান্ত সত্য করে না জানি ও না স্বীকার করি, আজকেকার এই আঘাতকে যদি আমার এই মানবজন্মের চরম অপমান বলেই মেনে নিতে হয়, তা হলে আমি আবর্জনার মতো সংসারের আঁস্তাকুড়ে গিয়ে পড়ব ; আমার দ্বারা আর কোনো কাজই হবে না।

অতএব আজ সমস্ত অসহ্য দুঃখের ভিতর দিয়েও আমার মনের মধ্যে একটা মুক্তির আনন্দ জাগুক।

কী বেদনাময় এই আত্মকথন! বেদনা মানে তো দুঃখমাত্র নয়, বেদনা মানে উপলব্ধি। স্বয়ংবর সভায় যদি মালা গলায় না পড়ে, তাহলে কি বল প্রয়োগ করতে হবে? তাহলে কি ভাবতে হবে, আমি তুচ্ছ? তারপর নিজেকে তুচ্ছ ভাবার বিপরীতে, যে মালা দিল না, কিংবা দিয়েও প্রত্যাহার করল, তার ওপর সুযোগমতো নিতে হবে প্রতিহিংসা? মহাভারতে স্বয়ংবর সভায় দ্রৌপদী কর্ণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল বলে কর্ণ, পাশাখেলায় যুধিষ্ঠির হেরে যাওয়ার পর, পণ-রাখা দ্রৌপদীকে প্রকাশ্যে 'বেশ্যা' বলেছিল। নিখিলেশ জানে এই প্রতিহিংসা পথ নয়, নিখিলেশ জানে নিজেকে যদি সে বিমলার প্রত্যাখ্যানের সূত্রে হীন বলে ভাবে, নিজের অহং-এ আটকে থাকে, তাহলে সে নিজেকেই মানুষ হিসেবে অপমান করবে।

ভালবাসায় প্রত্যাখ্যান আসে, আসতে পারে।

আমাদের খবরের কাগজ ভরে যায় অ্যাসিড বাল্‌বের গল্পে, প্রতিহিংসার কাহিনিতে।

এই প্রতিহিংসা প্রেম নয়, অহং-এর আঘাত। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হেরে যাচ্ছে ভেবে প্রত্যাখ্যাত মানুষ ছুরি শানাচ্ছে।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় কবিতায় লিখেছিলেন,

কে আর তোয়াক্কা করে খবরের,

তেলের দরের?

এখানে সোনার চেয়ে দামি কিছু

নীরোগ মানুষ!...

বলো, ভালো আছো আর তোমার অসুখ

সেরে গেছে

বলো, ভালোবাসো তাই তোমার অসুখ

সেরে গেছে।।

ভালবাসাবাসি, প্রকৃতপক্ষে কী? অহং-এর দানাহীন মধুস্নেহ, তাকেই ভালবাসা বলে।

লিখেছেন
Biswajit Ray
Biswajit Ray
6 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।