শিবের নামে নাম! কয়লা মাফিয়া থেকে কোকেন ব‍্যবসা, অপ্রতিরোধ্য ব্যোমকেশ

Byomkesh: শরদিন্দু মাথায় রাখতেন, নিছক গোয়েন্দাকাহিনি নয়, ব্যোমকেশকে হতে হবে সমাজের প্রতিনিধি, গল্পে  থাকবে জীবনের ছবি, সময়ের ছাপ।

Surojit Sen
৬ মিনিট
শিবের নামে নাম! কয়লা মাফিয়া থেকে কোকেন ব‍্যবসা, অপ্রতিরোধ্য ব্যোমকেশ

তাঁর প্রয়াণের (২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭০) ৫২ বছর পরেও দেখা যাচ্ছে, তাঁর সৃষ্ট অ্যানালগ যুগের গোয়েন্দা, না, সত্যান্বেষীটি এই ডিজিটাল যুগেও, এখনও, যথেষ্ট জনপ্রিয়। হ্যাঁ, সিনেমার কথাই বলছি। মনে রাখতে হবে, শরদিন্দু একসময় বম্বেতে ফিল্মের চিত্রনাট্য লিখতেন। লেখক ও তাঁর গোয়েন্দাকে আরেকবার বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক।

১৯৩২ সালে শরদিন্দু প্রথম ব্যোমকেশের কাহিনি লেখেন, নাম ‘সত্যান্বেষী’। শেষ অসমাপ্ত ব্যোমকেশ কাহিনিটির নাম ‘বিশুপাল বধ’, সাল ১৯৭০, দেখা যাচ্ছে, ৩৮ বছর ধরে ব্যোমকেশ চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যে ক্রিয়াশীল। কিন্তু বাঙালি মননে ব্যোমকেশ আজও জীবিত। ১৯২৬ সালে শরদিন্দু ওকালতি শুরু করেন এবং ১৯২৯-এ ওকালতি ছেড়ে সাহিত্যকেই জীবিকা হিসাবে বেছে নেন। তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী আত্মপ্রকাশ করে ১৯৩২ সালে। ওই বছরই তিনি ৩টি ব্যোমকেশের গল্প লেখেন। ক্রমানুসারে দেখতে গেলে ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প ‘পথের কাঁটা’। তারপর ‘সীমন্ত হীরা’। শরদিন্দুর নিজের কথায়,

এই দু’টি গল্প লেখার পর ব্যোমকেশকে নিয়ে একটি সিরিজ লেখার কথা মনে হয়। তখন ‘সত্যান্বেষী’ গল্পে (১৯৩২) ব্যোমকেশ চরিত্রটিকে এসট্যাবলিশ করি।

চার বছরে ব্যোমকেশকে নিয়ে ১০টি গল্প লেখার পর শরদিন্দু আর ব্যোমকেশের কথা ভাবেননি। শেষ গল্পটি ছিল ‘ব্যোমকেশ ও বরদা’ (১৯৩৬)। বরদা শরদিন্দুর সৃষ্ট এক অদ্ভুত চরিত্র, যে প্রেতচর্চা করে ও পরলোকতত্ত্বে বিশ্বাস করে। বরদাকে নিয়ে উনি বেশ কয়েকটা গল্প লিখেছিলেন। যুক্তিবাদী ব্যোমকেশের সঙ্গে প্রেতপ্রেমী বরদার দেখা হয় বিহারের এক শহরে আর একটি ভৌতিক রহস্যের সত্য-অন্বেষণে জড়িয়ে পড়ে ব্যোমকেশ, শেষ পর্যন্ত যুক্তিরই জয় হয়। তবে বরদা একটি অসাধারণ চরিত্র। শরদিন্দুর নিজের উৎসাহ ছিল প্রেতচর্চায় ও পরলোকতত্ত্বে, গল্পে তারই প্রতিফলন।

শেষ গল্পটি লেখার পর ১৫ বছর কেটে গেছে। শরদিন্দু ব্যোমকেশ নিয়ে আর ভাবেন না। এই সময় একবার তিনি বোম্বাই থেকে কলকাতা আসেন। বন্ধু পরিমল গোস্বামীর বাড়ির ছেলেমেয়েরা অভিযোগ করে, কেন তিনি ব্যোমকেশকে নিয়ে লিখছেন না। শরদিন্দুর মনে হয়, আচ্ছা! তা হলে আজকালকার ছেলেমেয়েরা ব্যোমকেশ পড়তে চায়। এই উপলব্ধি থেকে ১৫ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর ‘চিত্রচোর’ (১৯৫১) লেখেন। সেই থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ব্যোমকেশ তাঁর সঙ্গী, যার পরিণাম ব্যোমকেশের মোট ৩২টি কাহিনি।

প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, পাঁচকড়ি দে, দীনেন্দ্রকুমার রায়, হেমেন্দ্রকুমার রায়ের হাত ধরে গোয়েন্দাসাহিত্যর সঙ্গে পরিচয় আমাদের। বিলেতে যখন আর্থার কোনান ডয়েলের সৃষ্ট গোয়েন্দা শার্লক হোমসের রাজ চলছে আর বাংলায় তার প্রভাবে গোয়েন্দারা এসে গেছে, সেই সময় সাহিত্যপ্রেমী বাঙালি ধুতি-পাঞ্জাবি পরা এক বাঙালি গোয়েন্দাকে পেয়ে স্বস্তি পেল, যার মধ্যে সাহেবিয়ানা বা ঔপনিবেশিকতার প্রভাব নেই।

ব্যোমকেশ, শার্লক হোমসের মতো নেশা করে না, বেহালা বাজায় না, বিজ্ঞানদক্ষ এবং অকৃতদার নয়। যদিও ব্যোমকেশ অর্থাৎ শিব, আমাদের সৃষ্টি ও প্রলয়ের দেবতা, সবরকম নেশাই করে, লেখক সম্ভবত তাঁর সত্যান্বেষীর নামেই সেই ইশারা রেখেছেন, কাজে না রেখে, হ্যাঁ, সে অবশ্য সিগারেট খায়। ব্যোমকেশ গত শতকের তিনের দশকের শিক্ষিত বাঙালি যুবক। যে নিজেকে বলে ‘সত্যান্বেষী’। বন্ধু ও সহকারী অজিত এই শব্দের অর্থ জানতে চাইলে ব্যোমকেশ বলে,

ওটা আমার পরিচয়। ডিটেকটিভ কথা শুনতে ভালো নয়। গোয়েন্দা শব্দটা আরও খারাপ। তাই নিজের খেতাব দিয়েছি সত্যান্বেষী।

‘আদিম রিপু’ গল্পে ব্যোমকেশের অতীত সম্বন্ধে কিছু তথ্য জানা যায়। ব্যোমকেশের বাবা স্কুলে অঙ্কের শিক্ষক ও বাড়িতে সাংখ্য দর্শনের চর্চা করতেন এবং তার মা বৈষ্ণব বংশের মেয়ে ছিলেন। ব্যোমকেশের যখন সতেরো বছর বয়স, তখন তার বাবা ও পরে মা যক্ষ্মা রোগে মারা যান। ব্যোমকেশ জলপানির সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেন। শরদিন্দু প্রবাসী বাঙালি, তাই কলকাতাকে নির্মোহভাবে দেখার শিক্ষা তাঁর ছিল। একটি আধুনিক পুঁজিবাদী শহর কীভাবে নতুন নতুন অপরাধের জন্ম দেয়, আর অপরাধমাত্রই যে পাপ নয়, এসব কথা বলার জন্য শরদিন্দু ব্যোমকেশের বয়ানই বেছে নেন। ব্যোমকেশও কলকাতার বাসিন্দা নয়। ব্যোমকেশ যুক্তির ধারটুকু পেয়েছে তার অঙ্ক শিক্ষক বাবার থেকে আর ক্ষমার গুণটুকু পেয়েছে মায়ের বৈষ্ণব প্রভাব থেকে। আরও বলার কথা এই যে, মানুষ হিসেবে ব্যোমকেশ ততটা মরালিস্ট নয়, যতটা এথিক্যাল। তবে লেখক ব্যোমকেশকে দিয়েছিলেন মানবিকতার মন। তাই ‘রক্তের দাগ’ গল্পে আইন নয়, মানবিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল ব্যোমকেশ। শরদিন্দু কোর্টে প্র্যাকটিস করতেন, তাই বিচারব্যবস্থার প্রহসন বুঝতেন। একটি গল্পে এক দুশ্চরিত্র বৃদ্ধকে তার পোষ্যপুত্র খুন করে। সেই পোষ্যপুত্র ব্যোমকেশের হাতে ধরা পড়ার পর বলল, যে দণ্ড ব্যোমকেশ দেবে, তা নিতেই সে প্রস্তুত। ব্যোমকেশের লোকটিকে মুক্তি দিতে আপত্তি নেই, কিন্তু শর্ত হলো, লোকটিকে তার নিজের পিতৃপরিচয় জানতে হবে। এই বলে ব্যোমকেশ লোকটিকে জানাল যিনি পুষ্যি নিয়েছিলেন, তিনিই লোকটির আসল পিতা। এই সত্যটা জেনে লোকটি,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন বারবার ব্যোমকেশই জিতে যায়? ফেলুদা-কিরীটির থেকে কোথায় এগিয়ে সে!

Feluda Vs Byomkesh: একেবারে ধুতি-পাঞ্জাবি পরা হ্যারিসন রোড-কেয়াতলার মতো সাবেক কলকাতার বাঙালি বাসিন্দা ব্যোমকেশ কেন বারবার শেষ হাসিটা হাসে?

মড়ার মত মুখ করিয়া উঠিয়া বসিল, ভগ্নস্বরে বলিল, 'ব্যোমকেশবাবু, এর চেয়ে আমার ফাঁসি দিলেন না কেন? রক্তের এ কলঙ্কের চেয়ে সে যে ঢের ভাল ছিল’। ব্যোমকেশ তাহার কাঁধে হাত রাখিয়া দৃঢ় স্বরে বলিল, সাহস, আনুন...। রক্তের কলঙ্ক কার নেই? ভুলে যাবেন না যে, মানুষ জাতটার দেহে পশুর রক্ত রয়েছে। মানুষ দীর্ঘ তপস্যার ফলে রক্তের বাঁদরামি কতকটা কাটিয়ে উঠেছে, সভ্য হয়েছে, ভদ্র হয়েছে, মানুষ হয়েছে। চেষ্টা করলে রক্তের প্রভাব জয় করা অসাধ্য নয়। অতীত ভুলে যান, অতীতের বন্ধন ছিঁড়ে গেছে। আজ নতুন ভারতবর্ষের নতুন মানুষ আপনি, অন্তরে বাহিরে আপনি স্বাধীন।

এখানে চেনা যায় এথিক্যাল ব্যোমকেশকে।

ফলিত জ্যোতিষে শরদিন্দুর আগ্রহ ছিল, কোষ্ঠিবিচার ছিল তাঁর নেশা। বাঁকুড়ার বাসিন্দা যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির মতো সে আমলের খ্যাতনামা জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রাচ্যবিদ পণ্ডিতের সঙ্গে তাঁর চিঠিপত্রের আদান-প্রদান ছিল, সেইসব চিঠির অন্যতম বিষয় ছিল ফলিত জ্যোতিষ। দিনলিপিতে লিখছেন,

আমি fatalist– কপাল মানি, নির্বন্ধ অস্বীকার করি না, পুরুষকারকে অশ্রদ্ধা করি না, কিন্তু পুরুষকার যে নিয়তির দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে একথা না মেনে থাকতে পারি না। আমার এ বিশ্বাসের মূলে তর্ক যুক্তি নেই – এটা একটা instinct.”

তাই ব্যোমকেশকেও এ-ব্যাপারে ওয়াকিবহাল দেখা যায়, ব্যোমকেশের একটি গল্পের নাম ‘রক্তমুখী নীলা’, জ্যোতিষীদের কাছে গ্রহরত্ন হিসেবে মহার্ঘ। আরেকটি গল্পে ('বেণীসংহার') ব্যোমকেশ এক সন্দেহভাজন চরিত্র গঙ্গাধরকে বলেছে,

বেণীমাধববাবুকে খুন করার স্বার্থ আপনারও আছে, অজয়বাবুরও আছে। কিন্তু আপনি জামাতা, দশম গ্রহ।

১৮৯৯ সালে জন্মানো শরদিন্দু উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের সেই বিদ্বৎসমাজের উত্তরসূরি, যাঁরা ইতিহাসচর্চাকে জরুরি কর্তব্য বলে মনে করতেন। শরদিন্দু যখন লিখতে শুরু করেছেন, ততদিনে বাংলায় হিন্দু জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চা পুরোদমে চলছে। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, যদুনাথ সরকার, রমেশচন্দ্র মজুমদার, নীহাররঞ্জন রায়ের লেখা হয়ে উঠছে শরদিন্দুর আকর, রমেশচন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। রমেশচন্দ্র তাঁকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, ‘‘লোকে ইতিহাস পড়ে না, কিন্তু আপনার বই পড়িবে।" এখানে বলা প্রয়োজন, যে, শরদিন্দু হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক বলেই বঙ্গশাসনে সুরাবর্দির ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর সন্দেহ ছিল।

সাহিত্যপ্রেমী বাঙালি মধ্যবিত্ত দেখল একটি অসম্ভব বুদ্ধিমান বাঙালি গোয়েন্দা এসেছে সাহিত্যে, যার স্মৃতিতে সংস্কৃত সাহিত্য থেকে শুরু করে বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায় পর্যন্ত উজ্জ্বল। যে মহাভারত থেকে শুরু করে বাঙালির ইতিহাস বা প্রাচীন বাংলা কাব্য থেকে উদ্ধৃতি দেয়। এহেন রত্নটিকে বাঙালি আপন করে নিতে একটুও দেরি করেনি। তাই সে হয়ে ওঠে একজন বুদ্ধিজীবী সত্যান্বেষী, একই সঙ্গে পায় তুমুল জনপ্রিয়তা। কেমন দেখতে ব্যোমকেশকে? ধারালো নাক, লম্বা চেহারা, নাতিস্থূল অবয়ব, অসামান্য পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, মারাত্মক বিশ্লেষণী ক্ষমতা, শুধু বুদ্ধি দিয়েই যত জটিল রহস্যের জট ছাড়ান। ‘সত্যান্বেষী’ গল্পে ব্যোমকেশের চেহারার বিবরণ দিতে গিয়ে অজিত বলছে,

...তাহার বয়স বোধকরি তেইশ-চব্বিশ হইবে, দেখিলে শিক্ষিত ভদ্রলোক বলিয়া মনে হয়। গায়ের রঙ ফরসা, বেশ সুশ্রী সুগঠিত চেহারা-মুখে চোখে বুদ্ধির একটা ছাপ আছে।

এমনকী, সত্যান্বেষীর স্ত্রীর নামও সত্যবতী। ব্যোমকেশের বেশ নামডাক হলেও রোজগার তেমন ছিল না। এজন্য গাড়ি তার হয়নি। যদিও শেষ জীবনে তার একটি গাড়ি হয়েছিল, বন্ধু প্রতুল গুপ্তর অনুরোধে শরদিন্দু ব্যোমকেশকে একটি অ্যাম্বাসাডর গাড়ি দেন, কিন্তু কোষ্ঠী অনুযায়ী ব্যোমকেশের গাড়ি হওয়ার কথা নয়, সেকথা লেখক নিজেই জানিয়েছেন।

ব্যোমকেশের গল্পে তার যুগের একটা প্রকাশ দেখা যায়, বিশ্বযুদ্ধ, কালোবাজারি, বিহারের কয়লার মাফিয়া, কলকাতার দাঙ্গা বা চিনাদের আফিম ও কোকেন ব্যবসা। তাঁর প্রথমদিকের গল্পগুলোর স্থান উত্তর ও মধ্য কলকাতা, শেষের দিকে দক্ষিণ কলকাতা। কলকাতার বাইরের জায়গাগুলো মূলত পশ্চিমে, মানে বাংলার পশ্চিমে, যেখানে বাঙালি একসময় হাওয়াবদল করতে যেত, অর্থাৎ বিহারে।

শরদিন্দুর ছিল ব্যায়াম-করা, প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার দোহারা চেহারা, ব্যোমকেশের চেহারার কাছাকাছি। বহু বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে শরদিন্দু বলেছিলেন, যে, ব্যোমকেশ তাঁর সেলফ প্রোজেকশন। কিন্তু তিনি তো বামুন! লেখকের কেন জানি না মনে হয়েছিল, কায়েতরা বামুনদের চেয়ে বেশি বুদ্ধি ধরে! ব্যোমকেশের চেহারার সঙ্গে আশ্চর্য রকমের মিল ছিল শরদিন্দুর নিজের চেহারাতেও। লম্বা দোহারা চেহারা, চওড়া কপাল, টিকালো নাক। শরদিন্দু বলেছিলেন যে, তিনি অনেক ছোটবেলা থেকে গোয়েন্দাকাহিনি পড়তেন। এডগার অ্যালেন পো, আগাথা ক্রিস্টি থেকে শুরু করে আর্থার কনান ডয়েল সব গুলে খেয়েছেন। এইসব আত্মসাৎ করে নিজেই হয়ে উঠেছেন এক গোয়েন্দা, না, সত্যান্বেষী।

ব্যোমকেশের কোনও গল্পই দীর্ঘ নয়- অমনিবাসে সবচেয়ে দীর্ঘ গল্প ‘চিড়িয়াখানা’-ও মাত্র ৮৭ পাতার। এই স্বল্প পরিসরে প্লটের জটিলতা সৃষ্টি করা এবং শেষে চমকপ্রদ সমাপ্তি উপহার দেওয়া সাধারণ লেখকের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ওঁর গল্পের স্বাদ শুধু প্লটের জটিলতা থেকে আসে আসেনি, এসেছে ওঁর গল্প বলার ক্ষমতা, চরিত্রচিত্রণে নিপুণতা এবং সব ছাপিয়ে ওঁর ভাষার জাদু থেকে।

ব্যোমকেশকে নিয়ে খুঁতখুঁতে ছিলেন শরদিন্দু। মাথায় রাখতেন, নিছক গোয়েন্দাকাহিনি নয়, ব্যোমকেশকে হতে হবে সমাজের প্রতিনিধি, গল্পে থাকবে জীবনের ছবি, সময়ের ছাপ। তাঁর বক্তব্য ছিল,

ব্যোমকেশের গল্পে যদি সাহিত্যরস না থাকিয়া শুধু থ্রিল ও শস্তা সেনশেশন থাকে, তবে সাহিত্য বিচারকগণ তাহাকে দ্বীপান্তরিত করুন, আপত্তি নাই। কিন্তু যদি তাহা না থাকে, তবে শুধু ডিটেকটিভ বলিয়া তাহাকে শাস্তি দিবার অধিকার কাহারো নাই।

লিখেছেন
Surojit Sen
Surojit Sen
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।