অ্যালকোহল, জ্যোতিষ, তন্ত্র: মার্কসবাদী নবারুণ ঘুরেছেন নানা মার্গে

বাংলা গল্প-উপন্যাসে যে খোকা গদ্যভাষার কলকাকলি চলে, নবারুণের অঙ্গুঠাছাপ দেওয়া ভাষাটি তার ওপর আরডিএক্স-এর মতো ফেটে পড়ে।

Surojit Sen
৫ মিনিট
অ্যালকোহল, জ্যোতিষ, তন্ত্র: মার্কসবাদী নবারুণ ঘুরেছেন নানা মার্গে

এমন নয়, যে, নবারুণ ভট্টাচার্য কে, আমি জানতাম না। ১৯৮২ সাল থেকে কলেজ স্ট্রিট কফিহাউজে যাতায়াত। যেহেতু কলেজ থেকেই আমার বিভিন্ন ধরনের নেশা ও নকশালদের প্রতি তীব্র আকর্ষণ, তো সেই সময় প্রাক্তন ও নব্য নকশালদের হাতে হাতে একটা কবিতার বই ঘুরতে দেখি, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’, কবির নাম নবারুণ ভট্টাচার্য। যেহেতু নকশালরা পড়ছে, তাই আমিও বইটা কিনে পড়ে ফেললাম। জানলাম, উনি ‘নবান্ন’ নাটকখ্যাত বিজন ভট্টাচার্য ও ‘অরণ্যের অধিকার’ উপন্যাস-খ্যাত মহাশ্বেতা দেবীর একমাত্র সন্তান। পরে জেনেছি, সুপারহিট হিন্দি সিনেমা প্রদীপকুমার-বৈজয়ন্তীমালা অভিনীত 'নাগিন' সিনেমার গল্পটিও বিজন ভট্টাচার্যর লেখা।

তার কিছুদিন পরে কফিহাউজের দরজার পাশে দেখেছি একটা নাটকের বিজ্ঞাপনের স্ট্যান্ডি। নাটকের দলের নাম ‘নবান্ন’। পরিচালক, নবারুণ ভট্টাচার্য। না, তখন ‘নবান্ন’ নামটি এখনকার মতো প্রশাসনিক ভারী হয়ে ওঠেনি। নাটকটা যতদূর মনে পড়ছে, বিজন ভট্টাচার্যর লেখা ‘হাঁসখালির হাঁস’। সেই নাটকটা হবে ‘ত্রিপুরা হিতসাধিনী সভা’ নামে একটা হলে, যেখানে ছোটখাটো রাজনৈতিক দলের মিটিং হয়। আমি ঢুকে পড়লাম নাটক দেখতে। বলা বাহুল্য, নবারুণকেও দেখলাম।

এর কয়েক মাস পর এক বিকেলে খালাসিটোলায় বন্ধুর সঙ্গে বসে আছি, দেখি দুটো টেবিল পরেই নবারুণ ভট্টাচার্য, সঙ্গে আরও দুই জন। আমার তখনও পর্যন্ত ধারণা ছিল, বামপন্থীরা এবং নকশালরা প্রকাশ্যে মদ খান না, এ-ব্যাপারে তাঁরা শরিয়তিদের মতোই পর্দা প্রথার অনুসারী। আমি বন্ধুকে বললাম, “মনে হচ্ছে উনি নবারুণ ভট্টাচার্য, আমি ওর নাটক দেখেছি, কবিতার বইটাও বেশ ভালো লেগেছে।" বন্ধু বলল, “যা গিয়ে কথা বল।” কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন এল, যে, উনি কি সত্যিই নবারুণ ভট্টাচার্য? না কি ওঁরই মতো দেখতে আর কেউ। সেদিন আর কথা হলো না।

এর বছরখানেক পর এক সন্ধেয় ভবানীপুরের তৃপ্তি বারে ঢুকেছি এক বন্ধুর সঙ্গে, বারের ভেতরটা এমনিতেই একটু অন্ধকার-মতো, ওখানে আছে এক বিরাট আয়না। সেই আয়নার সামনের টেবিলে দেখি নবারুণদা বসে আছেন, একা। এবারও আমার মনে একই প্রশ্ন, উনি কি নবারুণ ভট্টাচার্য? না, এবারও ওঁর সঙ্গে কথা হলো না।

সেটা ১৯৯০ সাল, গরমকাল। প্রচণ্ড রোদ। দুপুরবেলা কলকাতায় 'সোভিয়েত দেশ' পত্রিকার অফিসের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, দেখি নবারুণ ভট্টাচার্যর হাতে একটা হ্যান্ডমাইক, কাঁধের স্ট্র্যাপে ব্যাটারি ঝোলানো। ততদিনে আমি নিশ্চিত যে, উনিই নবারুণ ভট্টাচার্ধ। ওর সঙ্গে দু'জন আছেন। উনি বক্তব্য রাখছেন 'সোভিয়েত দেশ' পত্রিকার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। উনি 'সোভিয়েত দেশ' পত্রিকায় চাকরি করতেন। কর্তৃপক্ষ ওঁদের ২/৩ জনকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করেছেন। তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙছে, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ইত্যাদি ৬টা রিপাবলিক ভেঙে বেরিয়ে গেছে। আমরা বুঝতে পারছি, সমাজতন্ত্রের এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আর থাকবে না। নবারুণদা বক্তব্য রাখছেন, কিন্তু কোনও শ্রোতা নেই। উলটোদিকের ফুটপাতে দাড়িয়ে আমি ওঁর বক্তব্য শুনছি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলার প্রথম দলিত বিদ্রোহ ও এক ভুলে যাওয়া সংগ্রামী লেখক

কৈবর্ত বিদ্রোহ বাংলার ইতিহাসে প্রথম দলিত বিদ্রোহ এবং এটি বাংলা সাহিত্যে প্রথম দলিত বিদ্রোহ নিয়ে উপন্যাস। আর লেখক সত্যেন সেনকেও একবার ফিরে দেখার প্রয়োজন আছে, যখন আশপাশে তাকিয়ে দেখার মতো মানুষ কমে আসছে।

তাঁর অঙ্গুঠাছাপে ভাষার মধ্যে ফাটত আরডিএক্স

ফুটপাতে একটা ছোট স্পেসের মধ্যে উনি একবার ডান দিক থেকে বাঁদিকে যাচ্ছেন আর বাঁদিক থেকে ডানদিকে যাচ্ছেন। রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে, মানুষ যাচ্ছে, আর তার মাঝে নবারুণদার ওই হাঁটা আর বক্তব্য রাখাকে আমার মনে হচ্ছে একটা পারফরম্যান্স। সেবারও আমি নবারুণদার সঙ্গে আলাপ করে উঠতে পারিনি।

২০১২-র জুন মাস সেটা। ২৯ বছর পর নবারুণ ভট্টাচার্যর সঙ্গে আলাপ হলো। যখন কিউ আর আমি ওঁকে নিয়ে একটা ডকুমেন্টারির কথা ভাবলাম। আজ ভাবলে অবাক লাগে আমার প্রিয় কবি ও গদ্যকারকে ২৯ বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় দেখার পর অবশেষে তার সঙ্গে আলাপ হলো।

নবারুণ নিজেকে কম্যুনিস্ট বলে মনে করতেন, আমি প্রশ্ন করেছিলাম, “কমিউনিস্টরা আপনাকে অ্যাকসেপ্ট করে?” আমার এই প্রশ্নের উত্তরে বললেন “করে না তো।" বললাম, “আমি তো আপনাকে একজন অ্যানার্কিস্ট লেখক বলেই মনে করি।” উনি বললেন, “আমি অবশ্য তা মনে করি না।” কথা এগিয়েছিল প্রুধোঁ, বাকুনিন, ট্রটস্কি নিয়ে, তবে তর্ক আর এগোয়নি।

কিউ-র 'নবারুণ' ছবির একটি দৃশ্য

তর্ক যাই-ই হোক না কেন, মানতেই হবে, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যে কতিপয় লেখক তাদের লেখায় ভাষা-সন্ত্রাস ছড়িয়েছেন, ভাষা-সন্ত্রাসে বাংলা সাহিত্যের সাজানো ড্রয়িংরুমটি তছনছ করেছেন, নবারুণ ভট্টাচার্য তাঁদের অন্যতম। সাধারণত, বাংলা গল্প-উপন্যাসে যে খোকা গদ্যভাষার কলকাকলি চলে, নবারুণের অঙ্গুঠাছাপ দেওয়া ভাষাটি তার ওপর আরডিএক্স-এর মতো ফেটে পড়ে। এই চেষ্টা যে গদ্যলেখকরা আগে করেছেন, এই মুহূর্তে মনে পড়ছে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, উদয়ন ঘোষ, বাসুদেব দাশগুপ্ত, মলয় রায়চৌধুরী, সুবিমল মিশ্র বা কৃষ্ণগোপাল মল্লিকের কথা, আরও অনেকে আছেন, কিন্তু তাঁরা নবারুণের মতো জনপ্রিয়তা পাননি।

এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "আমি আর অ্যানথ্রোপসেন্ট্রিক নই।" শুধু মানুষই সব, আর বাকি যা আছে, সেগুলো কিছু নয়, মানে প্রাণী বা ঈশ্বর- এই একবগ্গা মার্কসবাদী তত্ত্ব থেকে সরে এসেছিলেন নবারুণ। তাই তাঁর ‘লুব্ধক' উপন্যাসে শহর শাসন করে কুকুররা। ‘কাঙাল মালসাট’ উপন্যাসে উড়ে আসে দণ্ডবায়স বা দাঁড়কাক। ছোটগল্পের শিরোনাম হয়ে ওঠে ‘অন্ধবেড়াল’। ‘বেবি কে’ উপন্যাসে পাঁচিলের ওপর বসে থাকে বিরাট কালো রাজহাঁস। বন্ধু পীযুষ ভট্টাচার্যর উপন্যাসের প্রয়োজনে উট সম্পর্কে যাবতীয় গবেষণা নিজ দায়িত্বে করেন। তাঁর লেখায় এমন মানুষ আসে, যে উড়তে পারে বা এমন মেয়েমানুষ, যে পেট্রোল খেয়ে বেঁচে থাকে।

জীবনের নানা অলিগলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, গোপন পগারপাঁচিল টপকে এগোতে গিয়ে নবারুণ ফাঁদে পড়েছিলেন অ্যালকোহলিজমের, নিজেই ফাঁদ কেটে বেরিয়েছেন, আঙুলে মুনস্টোন, গ্রহরত্ন ধারণ করেছেন, আবার খুলেও ফেলেছেন। ২০১৪-র জুলাইয়ের প্রথমে বিশ্বকাপ ফুটবলের মরশুমে ওর গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখলাম হাতের কবজিতে বাঁধা বিপত্তারিণীর লাল সুতো। তন্ত্র সম্পর্কে খুব আগ্রহ। পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'তন্ত্র পরিচয়' বইটি অনেকদিন পর ছাপা হওয়ায় কিনেছি জানাতে, আমার কাছে পড়তে চাইলেন। ওই বছরই ফেব্রুয়ারিতে ওঁর ফ্ল্যাটের মেঝেতে মার্বেল বসানো হচ্ছে দেখে মুচকি হেসে বললাম, “কী হচ্ছে এসব?” নবারুণ হো হো করে হেসে বললেন, “আই থিংক লেফট আ্যান্ড লিভ রাইট।”

কমিউনিস্ট নবারুণকে চট করে মেপে ফেলা যাবে না বঙ্গীয় মার্কসবাদের মলিন ও শতচ্ছিন্ন দর্জি-ফিতে দিয়ে, উনি এই মাপকাঠির বাইরে বাঁচেন। ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথার মাঝে অবধারিত খিস্তি, ওঁর মতে ওটাও মানুষের তৈরি ভাষা, ভাব প্রকাশের মাধ্যম। মান্য বাংলা ভাষা নিয়ে রাগ ছিল তাঁর। নবারুণ বলেন, ভাষাকে রক্তহীন, অযৌন, প্লাস্টিকগন্ধী ও ঢ্যামনা করে দেওয়ার একটা চেষ্টা আছেই। আমাদের কাজ হল এই সব সচেষ্টদের বাংলা মতে ক্যালানো। আগে তেরপল চাপা, তার পর খেটো বাঁশ।

ঋত্বিক ঘটকের ওপর নবারুণের তীব্র অভিমান। কারণ উনি ‘যুক্তি তকো গপ্পো’-র শুটিং চলাকালীন নবারুণকে বলেছিলেন, “দ্যাখো বাবা, আমি তো আর বেশিদিন বাঁচব না, আর মাত্র তিনটি ছবি করে যাব।” ঋত্বিকের পক্ষে এই কথা রাখা সম্ভব হয়নি, কিন্ত নবারুণ মনে করেন যে, ঋত্বিক ইচ্ছে করে কথা রাখেননি।

বেশ কয়েক বছর আগের এক বিকেলে ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার বা লোকমুখে জগুবাবুর বাজারের দোতলায় ৭৯ বছরের পুরনো পানশালা 'তৃপ্তি বার'-এর ভেতর বিরাট আয়নার সামনের টেবিলে আমরা বসেছিলাম। একথা-সেকথার পর হঠাৎ আয়নাটা দেখিয়ে নবারুণ বলেছিলেন, “এই যে আয়নাটা দেখছিস, এই আয়নাটা কাকে কাকে দেখেছে জানিস? শোন তা হলে, ঋত্বিক ঘটক, বিজন ভট্টাচার্য, হরিসাধন দাশগুপ্ত, সুভাষ মুখোপাধ্যায় এঁরা সব এই আয়নাটার ভেতর ঢুকে গেছেন, একদিন আমিও ঢুকে যাব।"

আমি মনে করি, নবারুণ ছিলেন ভাবনায়, ব্যবহারে, জীবনযাপনে একজন অ্যানার্কিস্ট লেখক, কিন্তু উনি নিজেকে একজন কমিউনিস্ট মনে করতেন। আমাদের এই তর্ক অমীমাংসিত থেকে গেল।

লিখেছেন
Surojit Sen
Surojit Sen
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।