সেক্স জার্নাল, জ্যোতিষ থেকে গোয়েন্দা গল্প! বর্ণময় জীবন ছিল স্বপনকুমারের

Swapankumar: স্বপনকুমারের দীপক চ্যাটার্জি-রতনলালের রহস্য গল্প সিরিজের জনপ্রিয় বর্ণনা মিথ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাঙালি পাঠকের মনে।

Surojit Sen
৫ মিনিট
সেক্স জার্নাল, জ্যোতিষ থেকে গোয়েন্দা গল্প! বর্ণময় জীবন ছিল স্বপনকুমারের

আমরা যারা সত্তর দশকের অ্যানালগ যুগে বড় হয়েছি, তাদের স্কুলজীবনের শেষের দিকে মানে ক্লাস এইট-নাইনে লুকিয়ে শ্রীস্বপনকুমারের বই না পড়ে উপায় ছিল না।

এক হাতে উদ্যত পিস্তল, অন্য হাতে জ্বলন্ত টর্চ, দীপক পাঁচতলা হইতে জলের পাইপ বাহিয়া বিদ্যুৎ-গতিতে নীচে নামিয়া গেল।

সত্যি হোক বা না হোক, স্বপনকুমারের দীপক চ্যাটার্জি-রতনলালের রহস্য গল্প সিরিজের এই জনপ্রিয় বর্ণনা মিথ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাঙালি পাঠকের মনে। তবে ‘কুহকিনীর চক্রান্ত’ গল্পের শুরুতেই একটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরার ভিতর দীপক মৃদু হেসে ওই কামরায় বসে থাকা এক মিলিটারি মেজর ও তার সহকারীকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, “আপনারা যে যেখানে বসে আছেন, সেখানেই থাকবেন। আমার দিকে সরে আসার চেষ্টা করলেই আমার এই দশনলা পিস্তলে দশটা টোটা ভরা আছে, সুতরাং, বুঝতেই পারছেন এটা কীরকম সাংঘাতিক অস্ত্র।" পড়ার সময় মনেই হয়নি দশনলা পিস্তল আদৌ হয় কি না আর সেটা পোশাকের ভেতর লুকিয়েই বা কী করে রাখা যাবে? যেমন মনে হয়নি বিএ পাস দীপক কী করে ক্রিমিনোলজিতে এমএ পাস করে ('অদৃশ্য স‌ঙ্কেত')। 'বিশ্বচক্র' সিরিজের দীপকের গোয়েন্দা গল্পগুলোর নামও এমন হতো যে না পড়ে উপায় থাকতো না, যেমন, ‘বিকেল ছটার শোতে’, ‘বিজয়নী তন্দ্রা’, ‘চায়না লজ’ কি ‘বিষাক্ত হাসি’। ‘বিকেল ছটার শোতে’– এই গল্পে স্বপনকুমার ১৯৪৩ সালের কলকাতাকে লন্ডনের মতো ইস্ট এন্ড ও ওয়েস্ট এন্ড- দু'টি ভাগে ভাগ করেছেন। ইস্ট এন্ড-এর ছেলেরা স্বদেশি করে আর ওয়েস্ট এন্ড-এর ছেলেরা ইংরেজ-ঘেঁষা‌।

ক্রাউন সাইজের ৩ ফর্মা (৪৮ পৃষ্ঠা) বা ৪ ফর্মার (৬৪ পৃষ্ঠা) পাতলা একটি বই। চট করে প্যান্টের প্যাকেটে ঢুকে যাবে। দু'রং বা তিন রং–এর গ্লসি কাগজে ছাপা প্রচ্ছদে, বেশিরভাগ নারায়ণ দেবনাথের আঁকা। ভেতরে সস্তার হলুদ নিউজ প্রিন্ট কাগজে ছাপা, প্রচ্ছদ পেরোলেই টাইটেল পেজে ঘোষণা: ‘কলেজ স্টুডেন্টদের জন্য’ বলা বাহুল্য, তাঁর পাঠকেরা ছিল স্কুল স্টুডেন্টরা। দাম ৪০ পয়সা থেকে ৬০ পয়সা। প্রত্যেক মাসে একটি করে বই বেরোত।

শ্রীস্বপনকুমারের গোয়েন্দা গল্প সাধারণভাবে বাংলা সাহিত্যের জগতে অকুলীন ও পাল্প ফিকশন হিসেবে খ্যাত। যদিও তিন, চার দশক ধরে শ্রীস্বপনকুমারের বইয়ের বাজারে বিরাট চাহিদা ছিল। বটতলার বই হিসেবে খ্যাত হলেও জনপ্রিয়তা এবং বিক্রিতে দীপক চ্যাটার্জী সবার ওপরে ছিল। তার সহকারীর নাম রতনলাল। তার শত্রুরা ছিল ড্রাগন, কালনাগিনী, কালো নেকড়ে, মিসট্রিম্যান, কেউ আবার বাজপাখি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হিন্দু তান্ত্রিকের শিষ্য হয়েছিলেন খ্রিস্টান বিচারক, ইউরোপে ঝড় তুলেছিল তন্ত্রসাধনা

Tantra of Bengal: শিবচন্দ্র উডরফের মধ্যে তন্ত্রসাধনার উপযুক্ত লক্ষণগুলি দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি উডরফকে  তন্ত্রমতে দীক্ষা দেন। 

শ্রীস্বপনকুমারের বই পড়া যেন এক রোলার কোস্টার রাইড। শুরু করলে শেষ না করে থামা যাবে না। চরিত্রগুলো সব দৌড়চ্ছে। দ্রুত ঘটে যাচ্ছে একের পর এক ঘটনা। ধাঁ করে গুলি চালিয়ে দিল, তার পরই অপরাধীর পিছু ধাওয়া করল গোয়েন্দা, চলন্ত গাড়িতে বদলে নিল ছদ্মবেশ। প্রতিটি গল্পেই বেজে ওঠে টেলিফোনের ক্রিং ক্রিং আওয়াজ, বহুবার। একপাতা পর পরই হয় কেউ খুন হচ্ছে, নয়তো অপহৃত হচ্ছে, গোয়েন্দা ধরা পড়ছে ভিলেনের হাতে আবার পরের পাতায় ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে! গোয়েন্দা ভিলেনের হাতে ধরা পড়তে পড়তে পড়ছে না এমন এক উত্তেজনার মূহুর্তে গল্প শেষ। স্টাইলটা অনেকটা জেমস বন্ডের মতো।

এই শ্রীস্বপনকুমার কিন্তু একজন নন, সেটা আমরা পরে দেখব, কীভাবে এবং কেন তিনি বহু হলেন। আসল নাম সমরেন্দ্রনাথ পাণ্ডে। এই পাণ্ডে পরিবারটি ছিল কনৌজের ব্রাহ্মণ। আদি বসতবাড়ি বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী জেলা। সমরেন্দ্রনাথের জন্ম ২৬ অক্টোবর, ১৯২৭, মৃত্যু ১৫ নভেম্বর ২০০১। বাপ, ঠাকুরদারা ছিলেন উকিল, তবে ততটা স্বাছল্য ছিল না। আইনজীবী পরিবারে জন্ম হলেও সমরেন্দ্রনাথের ইচ্ছে ছিল ডাক্তারি পড়ার। কৈশোরেই চলে আসেন কলকাতায়। এক সময় ভর্তিও হন আর জি কর মেডিকেল কলেজে। এক বছর পরেই বাড়ি থেকে খবর এল, সংসারে অভাব, ডাক্তারি পড়ার খরচ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। নিজের ব্যবস্থা নিজেকেই করে নিতে হবে। বাধ্য হয়েই কলম ধরলেন ‘শ্রীস্বপনকুমার’। শেষ পর্যন্ত ডাক্তারি পাশ করেন। কিন্তু অর্থকষ্ট পিছু ছাড়েনি।

শ্রীস্বপনকুমার যখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন, সেই সময় একদিন প্রকাশকের কাছে গিয়েছেন পাওনা টাকা আনতে। প্রকাশক তাঁকে বসিয়ে রেখে অন্য আরেক লেখকের টাকার হিসেব নিকেশ করছেন। স্বপনকুমার অধৈর্য হয়ে বলে ফেলেছিলেন,‘‘আরে, আমিও তো লিখি! আমাকে বসিয়ে রেখেছেন কেন?’’ উত্তরে সেই প্রকাশক নাকি বলেছিলেন, ‘‘দেখুন, গোয়েন্দা গল্প তো সবাই লিখতে পারে। উনি জ্যোতিষের বই লেখেন, অনেক টাকার ব্যবসা দেন। ওঁকে আগে ছাড়তেই হবে”। সেদিন নাকি প্রকাশকের দপ্তরে বসে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, জ্যোতিষ শিখে একদিন দেখিয়ে দেবেন এবং দিয়েও ছিলেন।

জ্যোতিষ শেখার পর, শ্রীভৃগু নামে জ্যোতিষচর্চার বই লিখতে শুরু করলেন এবং বাজারে আসামাত্র তা হিট। শুধু তাই নয়, পেশাদার জ্যোতিষী হয়ে এতোটাই সাফল্য পেয়েছিলেন যে, পাশ করা ডাক্তার হয়েও বাড়ির বাইরে কোনও দিন ডাক্তারি করেননি। শ্রীভৃগুর বইয়ের এতোই খ্যাতি ছড়ায় যে এক সময় শ্রীভৃগুরও একাধিক নকল বেরিয়ে গিয়েছিল বাজারে। সবাই বিজ্ঞাপনে দাবি করত, তারাই ‘আদি এবং অকৃত্রিম’!

যেহেতু লিখে টাকা রোজগার করে জীবিকা নির্বাহ করতে হতো তাকে, তাই তিনি তাঁর ডাক্তারি বিদ্যাও কাজে লাগালেন, ডাঃ এস এন পান্ডে নামে বাংলায় ‘প্র্যাকটিস অব মেডিসিন’, ‘টেক্সট বুক অব প্যাথলজি’, ‘টেক্সট বুক অব অ্যানাটমি’ থেকে শুরু করে ফার্স্ট এড, হোম নার্সিং, অ্যালোপাথি, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, এমনকী গাইনোকলজি, যৌনজীবন ইত্যাদি সব রকমের বই লিখেছেন আর সেগুলো দেদার বিক্রিও হয়েছিল। তারপর যখন দেখলেন তিনি লিখলেই সেই বইয়ের ভালো কাটতি হচ্ছে, তখন ডাঃ পান্ডে নামে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বই, গাড়ি চালানো শেখা, হাঁস মুরগি পালন, সহজে ট্রান্সজিস্টর তৈরি, হারমোনিয়াম শিক্ষা, বাগানে সবজি চাষ, – এইসব নানা বিচিত্র বিষয় নিয়ে বই লিখলেন, সেগুলোও ভাল বিক্রি হতো, এভাবেই তিনি এক থেকে বহু হলেন অথচ সেই বইয়ের রয়ালটির না পেয়েছেন যথেষ্ট টাকা, না পেয়েছেন সাহিত্যিক হিসেবে সুনাম।

শোনা যায়, তাঁর লেখার ঘর ছিল শিয়ালদা স্টেশনের ওয়েটিং রুম, নিখরচায় আলো-পাখা পেতেন, সারা রাত ওখানেই বসে লিখে যেতেন, সকালে প্রকাশকের লোক এসে হাতে হাতে টাকা দিয়ে পান্ডুলিপি নিয়ে যেত। সে টাকা সংসার খরচের জন্য কাউকে দিয়ে শ্যামনগরের বাড়িতে পাঠিয়ে উনি আবার লিখতে বসে যেতেন।

টাকার জন্য অনেক সময়ই একসঙ্গে একাধিক সিরিজ লিখেছেন, আলাদা আলাদা প্রকাশকের জন্য। হয়তো ‘কুহেলিকা সিরিজ’ ‘ক্রাইম ওয়ার্ল্ড সিরিজ’ আর ‘ড্রাগন সিরিজ’ বা ‘কালনাগিনী সিরিজ’ কি ‘বিশ্বচক্র সিরিজ’ নয়তো ‘কালরুদ্র সিরিজ’ - একসঙ্গে লিখছেন। আপার চিত্‍পুর রোডের প্রকাশক জেনারেল লাইব্রেরির কৃষ্ণচন্দ্র গুপ্ত প্রথম প্রকাশ করেন দীপক চ্যাটার্জির ‘বাজপাখি সিরিজ’। লেখকের ছদ্মনাম শ্রীস্বপনকুমার। এরপর দেব সাহিত্য কুটির, মহেশ পাবলিকেশন, আদিত্য পাবলিকেশন থেকেও তার বই প্রকাশিত হয়েছে। শ্রীস্বপনকুমারের গোয়েন্দা কাহিনির সংখ্যা প্রায় ৭০০ - এর বেশি হবে বলে অনুমান করা হয়। উনি দীপক চ্যাটার্জিকে নিয়ে ১০টি সিরিজ লিখেছেন, যদ্দুর মনে পড়ে, এক একটি সিরিজে ৬০/৬৫ টি বই ছিল। মার্কিন পাল্প ফিকশন ঘরানার স্টাইলে দীপক চ্যাটার্জির সিরিজ সাজিয়ে ছিলেন। আর তাঁর বইয়ের বিপণন ছিল সর্বত্রগামী – স্টেশনের হুইলার থেকে খবরের কাগজের ফেরিওয়ালা বা ট্রেনের হকার থেকে পাড়ার ছোট্ট বইয়ের দোকান পর্যন্ত। শোনা যায় প্রেস থেকে ঝাঁকামুটের মাথায় করে আসত শ্রীস্বপনকুমারের বই। কেউ হয়তো বেড়াতে যাচ্ছে, ট্রেনে ওঠার আগে এক ডজন শ্রীস্বপনকুমারের বই কিনে নিল।

গোয়েন্দা দীপক চ্যাটার্জির গল্পগুলো পড়লে প্রাণপণে লিখে যাওয়ার সেই তাড়নাটা প্রতি লাইনে স্পষ্ট। স্থান, কাল, পাত্র, ঘটনা বা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিন্দুমাত্র যে মাথা ঘামাতেন না, সেই তাড়না ছিল খিদের। নামে, বেনামে প্রকাশকদের চাহিদা মতো অনেক ইংরেজি বইয়ের বাংলা অনুবাদ করে দিতেন। এও শোনা যায়, তাঁকে দিয়ে এক বিখ্যাত ঔপন্যাসিকের উপন্যাস, প্রসিদ্ধ নাট্যকারের নাটকও লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে, নামমাত্র পয়সায়।

বাংলা সাহিত্যে নানা বিষয়ে গবেষণা হয়, শ্রীস্বপনকুমারকে নিয়ে কেউ গবেষণা করেছেন কি না জানা নেই। কিন্তু এই বিচিত্র লেখককে বাংলা ভাষার পাঠক ভুলতে পারবে না।

লিখেছেন
Surojit Sen
Surojit Sen
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর ভোগ: কোথাও কাঁচা ইলিশ, কোথাও শালু শাপলা

Bonedi Bari Durga Puja Bhog: এইবার পুজোর লেখা লিখতে গিয়ে ভাবলাম তাঁদের কথা বলি—আমাদের বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাড়ির পুজোর কথা। যাদবপুরের দত্ত বাড়ির পুজো— তাঁদের বাড়ি মা আসেন রাজবেশে। তাঁদের ভোগে প্রতিদিন তিনটি অন্ন থাকবে—ভাত, খিচুড়ি, পোলাও ও পরমান্ন। এ ছাড়া রোজ থাকবে কচুর শাক, এমনকী সন্ধিপুজোর ভোগেও কচুর শাক তাঁরা নিবেদন করেন।

বড়ো বাড়ি, মনসাতলা, নতুন বাড়ি: তিন ঠিকানায় বেঁচে আছে মাকড়দহের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির সাড়ে তিনশো বছরের পুজো

Makardaha Durga Puja: নারায়ণ শিলা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে 'অনন্তদেব' নামেই পরিচিত। জগদীশ বাচস্পতি এই নারায়ণ শিলা দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরই প্রপৌত্র রামকানাইকে। দুর্গাপুজোর সময় অনন্তদেব বন্দ্যোপাধ্যায়দের তিন বাড়িতেই পূজিত হন।

হেরিটেজ স্বীকৃতি পেতে চলেছে কলকাতার পাঁচ পুরনো চায়ের দোকান

Old Tea Shops in Kolkata: কিছু পুরনো দোকানকে নতুন করে পরিচিতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া। শুধু স্বীকৃতি দেওয়াই নয়, দোকানগুলির ভিতরের অংশ সংস্কার করে তাদের আরও সুন্দর করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাতের বেড়া ডিঙিয়ে দুর্গাপুজো যেভাবে হয়ে উঠেছে সর্বজনীন উৎসব

Durga Puja history in Bengal: পুজোর চেয়ে উৎসব অনেক বড় একটি বিষয়। একটি জাতি বা একটি ভাষাগোষ্ঠীর সর্বজনীন মন দুলে ওঠা চাট্টিখানি কথা নয়। উৎসব হলো জাতির নিশ্বাস। পুজোয় ব্যক্তি, পরিবার কিংবা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী অংশ নিতে পারে; কিন্তু ব্যাপক অর্থে উৎসব হতে গেলে প্রয়োজন বিস্তীর্ণ ভূগোল, সাংস্কৃতিক মিল, আত্মপরিচিতি এবং সর্বোপরি ভাষার উদযাপন।

‘বসন্তেশ্বরী’ থেকে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’: যেভাবে বদলেছে বেতারের মহালয়া

Mahishasura Mardini history: বাসন্তী পূজা উপলক্ষ্যে ১৩৩৮-এর চৈত্র শুক্লা-অষ্টমীর (১৪ এপ্রিল, ১৯৩২) সকালে ‘বসন্তেশ্বরী’ নামের এই আলেখ্য সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এই সম্প্রচার যে-এক জনমোহিনী সাংস্কৃতিক ইতিহাস তৈরি করবে এমন ধারণা বোধ করি এই অনুষ্ঠানের কুশীলবদের ধারণার বাইরে ছিল।

মহালয়ার ভোরে বাঙালির ঘুম ভাঙায় যে কণ্ঠ, কীভাবে জন্ম নিল সেই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’?

Mahishasura Mardini history Birendra Krishna Bhadra; ধূপ-ধুনোর গন্ধে অর্কেস্ট্রাদলের এক মুসলিম যন্ত্রশিল্পীর চোখ জ্বলে ওঠায় তিনি সশব্দে হাঁচি দিয়ে বসলেন! লাইভ সম্প্রচার চলকালীন সেই অনভিপ্রেত শব্দ সোজা মাইক্রোফোনে ধরা পড়ল। স্টুডিওর সবাই দম আটকে হাসি চেপে কোনোমতে সামাল দিলেন সেই মুহূর্ত। সেকালের রেডিও স্টুডিওতে ধর্ম বা জাতপাতের কোনো দেওয়াল ছিল না;

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই কেন পেলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার?

Navi Pillay Nobel Peace Prize 2026: ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক দরিদ্র ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। তাঁর ঠকুমা-ঠাকুরদা ১৮৯০-এর দশকে ভারত থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাতাল প্রদেশের চিনি বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন।

বাড়িতে এক নারীর আগমন, তারপর স্বপ্নাদেশ: যেভাবে শুরু হয়েছিল দে বাড়ির দুর্গাপুজো

Dey Bari Durga Puja Bhawanipur: কথিত আছে, একবার ২৬ নম্বর চন্দ্রনাথ স্ট্রিটের বাড়িতে লালপাড়-সাদা শাড়ি পরিহিতা একজন সধবা নারী তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই বাড়িতে এসেছিলেন চাল-ডাল ভিক্ষা করতে। বাড়িরই এক সদস্যা অন্দরমহল থেকে চাল-ডাল নিয়ে আসার পর আর সেই সধবা মহিলাকে দেখতে পাননি।