তিরিশ বছর ধরে বাংলা ফিল্মে একাই ছড়ি ঘুরিয়ে গেলাম: উত্তমকুমার

কথা প্রসঙ্গেই বললেন, ‘অভিনয় আমার প্রাণ। আমার বরাবরের অভাগী জীবনের জীবনী শক্তি, সেই শক্তি থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বার অভিপ্রায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কি কোনও সুস্থ মনের পরিচায়ক?'

inscript
৫ মিনিট
তিরিশ বছর ধরে বাংলা ফিল্মে একাই ছড়ি ঘুরিয়ে গেলাম: উত্তমকুমার

আমি একজসটেড্ হয়ে পড়ছি না ত? কিংবা ডিকেয়িং স্টেজের মোকাবিলার মুখোমুখি? নানা কথা প্রসঙ্গে একসময় নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে বসলেন উত্তমকুমার।

বললাম, ‘নিশ্চয়ই না। এই মুহূর্তে আপনি যা ভাবছেন, যা বলতে চাইছেন, আপনার এই চেতনাই আপনাকে, আপনার পপুলারিটিকে আরও দীর্ঘায়ু করে তুলবে।'

বিন্দুমাত্র বিগলিত না হয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ের সুরেই বললেন তিনি, ‘প্রত্যেক মানুষেরই কোনও কিছু দিয়ে যাবার একটা লিমিটেশন থাকে তো। সৃজনশীল শিল্পীরাও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। আমার নিজেরও দিয়ে যাবার ভাণ্ডারটা নিশ্চয় অফুরন্ত নয়। ডিমান্ডের চাপে পড়ে সাপ্লাই করে যাবার চেষ্টা করে গেছি চাহিদার অতিরিক্ত। এখন আশঙ্কা হয়, এই অতিরিক্ত সাপ্লাই আমার ডিমান্ডের প্রতিকূলে চলে যাচ্ছে না তো?'

প্রসঙ্গক্রমে তিনি ইকনমিকসের বই ‘ইলাসটিসিটি অব ডিমান্ড’ আর ‘ল অব ডিমিনিশিং রিটার্ন’-এর কথাও উল্লেখ করলেন।

তাঁর পরবর্তী বক্তব্যে আরও গভীরতার সুর ছিল। অনেকটা আক্ষেপের সুরেই তিনি বললেন, ‘তিরিশ বছর ধরে বাংলা ফিল্মে আমি একাই ছড়ি ঘুরিয়ে গেলাম, আজও পর্যন্ত আমাকে রিপ্লেস করার মতো কেউ এল না। দর্শকদের অসীম ধৈর্য, আমার এই বয়সে এখনও তাঁরা আমাকে রোমান্টিক নায়করূপে সহ্য করছেন। একেক সময় মনে হয়, তাঁদের প্রতি আমি দিনের পর দিন অবিচার করে চলেছি।'

বললাম, ‘ইচ্ছে করলে এখনও তো আপনি আপনার কোনও উত্তরসূরি তৈরি করে দিয়ে যেতে পারেন।'

‘না তেমন কোনও নিষ্ঠাবান ধৈর্যশীল ছেলের সন্ধান পাচ্ছি না।' অনেকটা বিক্ষোভের সুরে জবাব দিলেন উত্তমকুমার: ‘আর বাইরে থেকে পাব তেমন আশা করা তো অনেক দুরাশা। এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গেই যারা সংশ্লিষ্ট, যাদের মধ্যে অনেক অনেক সম্ভাবনা ছিল, শুটিং এর সময়ে তাঁদের অনেককেই দেখি কাজে এতটুকু সিরিয়াস নয়। হাল্কা আড্ডায় সারাক্ষণই মশগুল। শটের ফাঁকে কখনও হয়তো ট্রানজিস্টারে খেলার খবর শুনছে, নয়তো বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে গল্প গুজবে বিভোর হয়ে থাকছে। নিজেদের অভিনয়ের চরিত্রটা সম্পর্কে ছিটেফোঁটা ভাববারও যেন কোনও দায়দায়িত্ব নেই তাঁদের। সব ভাবনাই পরিচালকের, এই অবাস্তব সত্যটি তারা জেনে বসে আছে।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক তরুণী লাল ব্লাউজ ছুড়েছিলেন উত্তমকুমারের দিকে

উত্তম সবসময় সুচিত্রাকে রমা নামে ডাকতেন। কখনও সুচিত্রা নামটি তাঁর মুখে শুনিনি। আমার প্রশ্নের উত্তরে বললেন, রমাকে এত ভালো দেখতে যে, শুধু ওকে দেখার জন্যই তো হাজার হাজার লোক আসে। আমার সবথেকে সুন্দরী, গ্ল্যামারাস নায়িকা কিন্তু রমা।

‘ফিল্ম অ্যাক্টিং এর ক্ষেত্রে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত খণ্ড বিচ্ছিন্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে পরিচালকের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা ছাড়া শিল্পীর আর কোনও গতান্তর থাকে কি?' প্রশ্ন করলাম উত্তমকুমারকে। স্পষ্ট করেই তিনি জবাব দিলেন, ‘পরিচালকের উপর নিশ্চয়ই নির্ভরশীল হতে হয় যে কোনও শিল্পীকে। কিন্তু অভিনয়ের ব্যাপারে কনসেনট্রেশনটাই বড় কথা। সেই মানসিক ধৈর্য ও সংযমই যেন আজ নেই আর কোনও আর্টিস্টের।' প্রসঙ্গক্রমে তিনি ছবি বিশ্বাস এবং আরও কয়েকজন বিগত দিনের বিখ্যাত অভিনেতার নাম উল্লেখ করলেন। সারা রাত্রি মদ্যপান করলেও তাঁরা কখনোই ফ্লোরে এসে হাই তুলতেন না। অভিনেয় চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়বার প্রাণপণ চেষ্টা করতেন। তাই তাঁরা আজও সবার নমস্য।

হঠাৎই উত্তমকুমার একটি পজিটিভ প্রশ্ন করলেন– ‘ফাঁকি দিয়ে কখনও কোনও মহৎ কাজ হয়, না হয়েছে?' তিনি বলে চললেন তাঁর নিজের কথা, তাঁর এই সময়কার মানসিকতার কথা। মাঝে মাঝে কিছুটা কাব্যের সুরও ধ্বনিত হতে শুনলাম তাঁর উক্তিতে।

বলছিলেন তিনি, ‘আজ আর বিন্দুর মধ্যে সিন্ধুর স্বাদ গ্রহণ করবার মতো মনের উদারতা আমার নেই। সেই অকারণ পুলকে পুলকিত হয়ে উঠতে পারার মতো মনটাই যেন হারিয়ে গেছে। যে ফুল দেখে একদিন অনায়াসে অকারণেই পুলকিত হয়ে উঠতে পারতাম, সেই ফুল নিয়েও আজ আমার মনে হাজারো জিজ্ঞাসা। ফুলের জেনাস্ কি, স্পেসিস্ কি ইত্যাদি প্রভৃতি। অথচ বুঝতে পারি, সৌন্দর্যের ওপর এমনিতর সার্জারি কোনও সুস্থ শিল্পীর পক্ষে শোভা পায় না। বোটানিকসের কোনও গবেষণাকারীরই কাজ সেটা।'

'নায়ক' ছবির একটি দৃশ্যে উত্তমকুমার

অতি সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম ময়রা স্ট্রীটে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে যেখানে তিনি আছেন, সেখানেই। খবরের কাগজে প্রকাশিত সুপ্রিয়া দেবীর সেই উক্তি বিষয়ে কোনও প্রশ্নই উত্থাপন করবার প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনি। কারণ আমাদের কথার মাঝে সুপ্রিয়া দেবী মাঝে মধ্যেই আসছিলেন, যাচ্ছিলেন। তাঁকে খুবই সহজ ও স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। বললেন, ‘কী সংবাদ? নতুন কোনও সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা হয়েছে বুঝতেই পারছি। তবে আমার তরফ থেকেও কিন্তু কিছু বলার আছে‌।'

‘নিশ্চয়ই বলবেন।'

কথা প্রসঙ্গেই বললেন, ‘অভিনয় আমার প্রাণ। আমার বরাবরের অভাগী জীবনের জীবনী শক্তি, সেই শক্তি থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বার অভিপ্রায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কি কোনও সুস্থ মনের পরিচায়ক?'

সুস্থ স্বাভাবিক কণ্ঠেই খানিকটা বেদনার সুর নিয়ে অতঃপর সুপ্রিয়া দেবী বললেন, ‘একটু বিলম্বে হলেও এখন আমি বুঝতে পারছি, মানসিক কোনও স্থিরতা ছিল না আমার। তাই যাঁকে ছাড়া কোনোদিনই আমি বাঁচব না, মনের দিক থেকে যাঁর সঙ্গে আমি আঠারো বছর ধরেই কি বাঁধনে বাধা পড়ে গিয়েছি, সেই আমার ফ্রেন্ড ফিলসফার গাইড উত্তমকুমারের মূল্যায়ন করতে গিয়েও আমি মিস্-গাইডেড হয়ে পড়েছিলাম। আমাকে মিস্-গাইডেড করা হয়েছিল। কে অথবা কারা, তাঁদের নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না। ঈশ্বর ওদের মঙ্গল করুন।'

উত্তমকুমার তখন একটা ম্যাগাজিনের পাতা ওলটাতে ওলটাতে একটু অন্যমনস্ক হলেন।

ক্লান্ত কণ্ঠেই বললেন তিনি, ‘নিজের সঙ্গে নিজের আর কোনও কম্প্রোমাইজ নয়, দর্শকের প্রতি আর কোনও অবিচার নয়, প্রণয়ী নায়ক রূপে রূপোলী পর্দায় আর কখনই আমি আসছি না। ক্যারেকটার রোলে অভিনয় করব। পরিচালনা ও প্রযোজনায় মনোনিবেশ করব।' প্রসঙ্গত আরও জানালেন, সুন্দরবনের পটভূমিকায় একটি সুন্দর গল্প নিয়ে নিজেই একটি ছবির প্রযোজনা ও পরিচালনার কথা ভাবছেন তিনি। নিজে ওই ছবির কোনও ভূমিকায় অংশ নেবেন না, নতুন লেখকের গল্প এবং ছবির একটি পিভোটাল ক্যারেকটারে জনৈক নতুন শিল্পীর সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেবার অভিপ্রায় তাঁর আছে।

তারপরের উক্তি তাঁর অনেকটা স্বগত প্রকারের, ‘সৃষ্টির আনন্দের মধ্য দিয়েই শিল্পী তাঁর অতৃপ্ত ক্ষুধার মাংস খুঁজে বেড়ায়। ‘অ্যাক্টরস মিট’ বলে একটা কথা আছে তো? আজও আমি সেই অমৃত কুম্ভের সন্ধান খুঁজে পাইনি। না অভিনয় জীবনে না ব্যক্তি জীবনে।'

সময় সংক্ষেপে আলোচনা আর বাড়াতে পারলাম না। কারণ তখন তাঁর শুটিংয়ের তাড়া ছিল। চলে আসার আগে শেষ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলাম– ‘আপনার বোম্বাই অভিজ্ঞতার কথা বলুন।'

‘বোম্বাই অনেক মেথডিক্যাল, বাংলার তুলনায় অনেক বেশি সিসটেমেটিক’, বললেন উত্তমকুমার, "হিন্দি ফিল্মে যাওয়ার আকর্ষণ কোনও কালেই আমার ছিল না। সত্যি বলতে, ‘ছোটি সি মুলাকাত’-এর ডিফিটটাই আসলে মনের দিক থেকে আমায় বোম্বাইমুখী করে দিয়েছে। ওই ছবির ‘পরাজয়’টা মনের দিক থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই অপেক্ষা করে বসেছিলাম আর একটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে সর্বভারতীয় দর্শকের কাছাকাছি আসার জন্য। এবং এও সত্যি– শক্তি সামন্তর অমানুষের হিন্দি ভার্সনের মাধ্যমে আমি অনেকের মনের কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছি। শক্তিবাবুর এই ছবির সাফল্যই আমাকে বোম্বাইগামী করেছে। হিন্দি ছবির অফারও এসেছে। অনেক কাজ করেছি অনেক ছবিতেই, ইতিমধ্যে রিলিজও করে গিয়েছে অনেক ছবি। হয়তো তার মধ্যে অনেক ছবিতেই দর্শকের মনোরঞ্জন করে উঠতে পারিনি একাধিক টেকনিক্যাল কারণে।"

আড়াই তিন শতাধিক বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি, নিজেই নিজের শিল্পী জীবনের স্ট্যাটিস্টিকস উদ্ঘাটিত করে অতঃপর বললেন, অনেকটা অভিমানের সুরেই, ‘আজও আড়াই তিনজন পরিচালক ছাড়া কারুর সঙ্গেই কাজ করে নতুন কিছু শেখার খোরাক পাই নি।'

বিমল চক্রবর্তী সম্পাদিত 'মহানায়ক উত্তমকুমার' ('চারুপ্রকাশ', ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০) বই থেকে পুনর্মুদ্রিত

বানান অপরিবর্তিত

নামকরণ সম্পাদকীয় দফতরের

বিশেষ কৃতজ্ঞতা: অভীক চট্টোপাধ্যায়

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।