সমাজ থেকে সরকার, মুখ ফিরিয়ে নেয় সবাই! 'হিজড়ে'-দের পুজোয় তবু সকলের নিমন্ত্রণ

Durgapuja 2022: 'হিজড়ে' বলেই আমরা চিনি তাঁদের, পুজো কেমন কাটল সেই মানুষগুলির?

Aritra Dasgupta
৪ মিনিট
সমাজ থেকে সরকার, মুখ ফিরিয়ে নেয় সবাই! 'হিজড়ে'-দের পুজোয় তবু সকলের নিমন্ত্রণ

সমাজের চোখে তারা 'অপরজন'। আদারাইজেশনের জাঁতাকলে পিষতে পিষতে সমাজের সব উৎসব-অনুষ্ঠানেই তারা ব্রাত্যজন। ব্যতিক্রম নয় দুর্গাপুজোও। মূলধারার সমাজ তাদের ব্যঙ্গ করে ডাকে 'হিজড়ে' বলে। এখনও বাঙালি সমাজের প্রচলিত প্রবাদ 'হিজড়েদের' নাম করলে দিন খারাপ যায়। সময় এগিয়েছে। আমরা আধুনিক হয়েছি। কিন্তু সংস্কার বদলায়নি একটুও।

অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রান্সজেন্ডার অ্যান্ড হিজড়ে ইন বেঙ্গল-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যা রঞ্জিতা সিনহার কথায়, "দুর্গাপুজো তো সর্বজনীন উৎসব। কিন্তু এই উৎসবগুলোতেও আমাদের মতো যারা প্রান্তিক মানুষ, তাদের কথা কেউ মনে রাখে না। যে কোনও পুজো প্যান্ডেলে শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার স্বীকার হতে হয় রূপান্তরকামীদের। সমাজের মূল স্রোতের মানুষের কাছে আমাদের অবস্থা অনেকটা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো পথকুকুরদের মতো। পুজোর অনুষ্ঠানে আমাদের সম্প্রদায়ের কোনও মানুষ গেলে তাদের দিকে গরম জল বা থুতু ছুড়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।"

দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আইনের যুদ্ধ জিতলেও সাধারণ মানুষের চোখে 'হিজড়ে' বা 'অপয়া' হয়েই থেকে যেতে হয়েছে তাঁদের। যাঁরা পরিবারের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, এবং যাঁরা এখনও পরিবারের মধ্য থেকে নিজেদের লিঙ্গপরিচয়ের লড়াই করছেন- প্রত্যেককেই দুর্গাপুজোর সময় সামাজিক নিপীড়নের ভয়ে মুখ লুকোতে হয়েছে ঘরের কোণে।

সমাজের এই চাপে কোণঠাসা হতে হতেই রূপান্তরকামীদের নিজের উদ্যোগে দুর্গাপুজো শুরু করার পরিকল্পনা মাথায় আসে ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মী রঞ্জিতা সিনহার। ১৯৯৯ সালে যে শহর দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম প্রাইড ওয়াকের সাক্ষী থেকেছিল, সেই কলকাতা শহরেই ২০১৭ সালে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাসোসিয়েশনের গোখেল রোডের রেজিস্টার্ড অফিসে শুরু হয় দুর্গাপুজো। সাধারণ দুর্গামূর্তি নয়, নিজেদের লিঙ্গরাজনীতির লড়াই ফুটিয়ে তুলতে তৈরি হয় অর্ধনারীশ্বর প্রতিমা। একই শরীরে শিব এবং পার্বতীর অর্ধনারীশ্বর মূর্তি। এই স্ট্রাকচার কেবল রূপান্তরকামীদের আইনি লড়াইয়ের জয়ের চিহ্ন শুধু নয়, প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক মূর্ত রূপ।

শহরের আর পাঁচটা দুর্গাপুজোর থেকে এই পুজো অনেকটাই আলাদা। নয় রাত্রি ধরে চলে মায়ের পুজো ও আরাধনা। রঞ্জিতা সিনহার কথায়, "আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষরা বেশিরভাগই পরিবারছুট। আমাদের মা থেকেও তাই অনেক সময় থাকে না। তাই দুর্গাপুজো আমাদের কাছে আমাদের ঘরের মায়েরই উদযাপন। তাই আমরা ঠাকুরের বিসর্জন দিই না। আমাদের মা সারাবছরই আমাদের সঙ্গেই থাকেন।"

এই পুজো যে কেবল রূপান্তরকামী সম্প্রদায়েরই পুজো, তা কিন্তু নয়। সামাজিক লাঞ্ছনার ইতিহাসকে মাথায় রেখেই সমাজের সব স্তরের প্রান্তিক মানুষেরই অবাধ প্রবেশাধিকার থাকে এই উৎসবে। পথশিশু থেকে ফুটপাথের বাসিন্দা, অ্যাসিড-আক্রান্ত থেকে যৌন কর্মী, সকলের সঙ্গেই আনন্দ-আহ্লাদ ভাগ করে নেন রূপান্তরকামীরা। পুজোর নয়দিন ধরে চলে খাওয়াদাওয়া ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

প্রথাগত কুমারীপুজোর ছক ভেঙে নিজেদের মতো করেই নিয়ম রক্ষা করেন রূপান্তরকামীরা। এই প্রসঙ্গে রঞ্জিতা সিনহা বলেন, "আমরা সমাজের প্রচলিত নিয়মে কুমারী পুজো করি না। পথশিশু, সে মেয়ে হোক বা ছেলে- যে কাউকে দিয়েই আমরা কুমারী পুজো সেরে থাকি।"

এই বছর পাঁচ বছরে পা দিল রূপান্তরকামীদের পুজো। বিগত চার বছর ধরে গোখলে রোডের অফিসে পুজো হলেও এই বছর পুজো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানে রূপান্তরকামীদের জন্য গড়ে দেওয়া 'গরিমা গৃহে'।

পুজোর সব আচার-অনুষ্ঠানও পালন করেন রূপান্তরকামী মানুষেরাই। অর্ধনারীশ্বর মূর্তি তারা নিজেরাই গড়েন। চার বছর ধরে একই মূর্তিতে পুজো হয়ে এলেও এই বছর গোখেল রোডের অফিস থেকে মুকুন্দপুরের গরিমা গৃহে পুজো স্থানান্তরিত হওয়ার পর আবার একটি নতুন অর্ধনারীশ্বর প্রতিমা গড়া হয়েছে। প্রতিমার পুজোর দায়িত্বেও থাকেন রূপান্তরকামী মানুষরাই। প্রথম বছর, ২০১৭ সালে অভিরাজ পোদ্দার নামে এক রূপান্তরকামী পুরুষ পুজো করলেও, ২০১৮ সাল থেকে পুজোর জোয়াল কাঁধে নিয়েছেন বৈশালী দাস। এরকম এক আনন্দের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে বৈশালী বলেন, "আমি প্রথম পুজো করি আমার ষোলো বছর বয়সে। সেই সময় শীতলা ও মনসা দেবীর পুজো করতাম। পরে যত বড় হলাম, দুর্গাপুজো-সহ অন্য যে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিলেই খুব অপমানিত হতাম। মায়ের কাছ থেকে পুজো শিখেছি। কিন্তু আমাদের পরিচয় জেনে মূলধারার পুজোয় কেউ তো আমাদের ডাকত না। তারপর যখন আমরা পুজো শুরু করি, তখন মা (রঞ্জিতা সিনহা) আমার কাঁধে পুজো করার দায়ভার তুলে দেন।"

বৈশালী দাস

বৈশালী সব আচার-নিয়ম মেনেই প্রত্যেকবার মায়ের পুজো করেন। কলাবউ স্নান থেকে সন্ধিপুজোর ভোগ নিবেদন- পুজোর যাবতীয় প্রচলিত আচার নিষ্ঠাভরে পালন করেন সকলেই। শুধু পুজো করাই নয়, সমাজের ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের দুর্ভেদ্য দেওয়াল ভেঙে ফেলে চণ্ডীপাঠের দায়িত্ব পালন করেন রূপান্তরকামী মেয়ে শ্রুতি। শ্রুতির নিজের কথায়,

যখন নিজের মধ্যেকার নারী সত্তাটা প্রথম বুঝতে পারি সেই মুহূর্তে তো কাউকেই বলতে পারিনি। তখন পশ্চিম মেদিনীপুরে নিজেদের বাড়িতে থাকার সময়েই দাদুকে দেখতাম পুজোর একমাস আগে থেকেই স্নান করে চণ্ডীপাঠ করতেন। পুরুষ হিসেবে এই কাজে অংশগ্রহণ করতে পারলেও আমার খুব একটা আনন্দ হতো না। ভাবতাম কবে নিজের মনের মতো করে পুজোয় অংশগ্রহণ করতে পারব। পরে পরিবারের লোকের কাছে যখন নিজের আসল সত্তার কথা তুলে ধরি, তারা কেউই মেনে নেয়নি। তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর আমার প্রথম দুর্গাপুজো দেখা ২০২১ সালে গোখেল রোডে। আর এই বছর থেকে গরিমা গৃহের দুর্গাপুজোয় চণ্ডীপাঠের দায়িত্বে আমি। ছোটবেলার এতদিনকার ইচ্ছে সার্থক হলো।

শ্রুতি চক্রবর্তী

কিন্তু খুশির রোশনাইয়ের মাঝেও বাজে বিষাদের সুর। গত বছর রাজ্য সরকারের অনুদানের টাকা এলেও ২০২২-এর পুজোয় সরকারের তরফ থেকে কোনও অনুদান আসেনি। এমনকী, ডাক আসেনি রেড রোডের কার্নিভালেও। রঞ্জিতা সিনহা আক্ষেপ করে বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার-রাজ্য সরকারের মতবিরোধের কারণেই হয়তো এই বছর আমাদের ভাগ্যে অনুদান জুটল না। এমনকী, রাজ্য সরকার আয়োজিত রেড রোডের বিসর্জন কার্নিভালেও নিমন্ত্রণ পাইনি আমরা। প্রান্তে যাদের বসবাস, তাদের মূলধারায় ফিরতে সরকার যদি হাত না বাড়িয়ে দেয় এর থেকে দুঃখের আর কি হতে পারে!" সরকারি সাহায্য না মিললেও নিজেদের মতো করেই উৎসব অনুষ্ঠানে ত্রুটি রাখেননি রূপান্তরকামী মানুষেরা।

ট্যাবুর বাঁধন ভেঙে কবে 'তাহাদের পুজো' সকলের পুজো হয়ে উঠবে তারই প্রতীক্ষায় রূপান্তরকামীরা।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।