চলন্ত ট্রেনে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের হত্যা! যে খাদের ধারে দাঁড়িয়ে আছে মোদির ভারত

RPF Kills Muslims: যোগী বা মোদি তো বলতেই পারেন, কেউ যদি তাঁদের নাম নিয়ে পুজো করে বা খুন করে বা ধর্ষণ করে তাঁদের কীই বা করার আছে!

inscript
৩ মিনিট
চলন্ত ট্রেনে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের হত্যা! যে খাদের ধারে দাঁড়িয়ে আছে মোদির ভারত

"হিন্দুস্তান মে রেহনা হ্যায় তো মোদি, যোগী কো ভোট দেনা হোগা"। চেনা কথা, জানা সত্য। তবে শেষ সত্য নয়, কোনওদিন ছিলও না। ভারতের গণতান্ত্রিক জমিতে এই খণ্ডসত্য যে কতখানি গেঁড়ে বসেছে প্রমাণ করে দিলেন রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (এফপিএফ) কনস্টেবল চেতন সিং। চলন্ত ট্রেনে গুলি করে মেরে ফেলেছেন মোদির দেশের 'শত্রু' সংখ্যালঘু মুসলিমদের। ঘৃণার জয় হয়েছে, জয় হয়েছে মানুষের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সেই ধর্মান্ধতার যাকে প্রায় একদশক ধরে সুযোগ বুঝে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে দেশের শাসকদল। ওই কনস্টেবলের গুলিতে চারজন নিহতের মধ্যে তিনজনই ছিলেন মুসলিম, যাদের হামেশাই পাকিস্তানে পাঠাবার নিদান দেয় দেয় শাসকঘনিষ্ঠ সমস্ত মাধ্যমই।

আরপিএফ কনস্টেবল চেতন কুমার সোমবার মহারাষ্ট্রের পালঘর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে চলন্ত জয়পুর এক্সপ্রেসের মধ্যেই গুলি চালান এবং চারজনকে হত্যা করেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সহকারী পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর টিকারাম মীনা এবং অন্য তিনজন মুসলিম যাত্রী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোনও ধর্মের জন্য আর আলাদা বিধি নয়! অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নামে কী চাইছেন মোদি?

Uniform Civil Code: যে দেশে ১৪.২% মুসলমানের বাস, সেখানে ভারতের লোকসভায় নির্বাচিত মুসলমান সাংসদ ৫ শতাংশেরও কম।

নিহত সৈয়দ সাইফুদ্দিন বিদার জেলার হামিলাপুরের বাসিন্দা। হায়দরাবাদে মোবাইল টেকনিশিয়ান হিসাবে কাজ করছিলেন। সাইফুদ্দিন সেদিন বিখ্যাত আজমের শরিফ দরগা ঘুরে বাড়ি ফিরছিলেন। মুম্বইয়ে কিছু জিনিসপত্র কিনে হায়দরাবাদে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তাঁর ভাই সৈয়দ ইউনুস এবং বন্ধু আসলাম জনাব স্পষ্টতই মনে করছেন, কনস্টেবল চেতন তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে পেরেছেন কারণ তাঁদের দাড়ি এবং মাথার ফেজটুপি স্পষ্ট জানান দিচ্ছিল তারা কোন ধর্মের মানুষ। বিধর্মী মানেই চালাও গুলি!

আরপিএফ বলছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল চেতন মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। অভিযুক্ত চেতনের আইনজীবী অমিত মিশ্রও বলছেন চেতন নির্দোষ এবং খুন করেননি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দেশ জুড়ে বন্দুকধারী 'অস্থির' পুলিশকর্মীদের এমন গুলি চালানোর ঘটনা নেহাত কম না। সব জানা সত্ত্বেও তাহলে কেন সেল্ফ-লোডিং রাইফেলটি একজন মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তিকে দেওয়া হলো?। ঘৃণাকে ধামাচাপা দিতে মানসিক অসুস্থতাকে হাতিয়ার করা বন্ধ হবে কবে? এমন তো নয় যে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়েছে। চেতন সিং যেভাবে চলন্ত ট্রেনের বগির মধ্যে দিয়ে হেঁটে গিয়েছে এবং বেছে বেছে মুসলিম যাত্রীদেরই হত্যা করেছে তাতে তো উদ্দেশ্য স্পষ্টই।

টিকারাম মীনা

চেতন সিং বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে রেল সুরক্ষা বাহিনীতে কাজ করছেন। উত্তর প্রদেশের হাথরাসের বাসিন্দা তিনি। গত মার্চ মাসে ভাবনগর বিভাগ থেকে মুম্বইতে বদলি হয়েছিল তাঁর। কিছুদিন আগেই বাড়ি গিয়েছিলেন, ফিরে এসে ১৭ জুলাই ফের কাজে যোগ দেন। এএসআই টিকারাম যখন ঘনশ্যাম আচার্যকে রাইফেলটি কিছুক্ষণের জন্য রাখতে বলেন রেগে যান চেতন। রাইফেল ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে যান এবং ঘনশ্যাম আচার্যর গলা টিপে ধরে জোর করে সেই রাইফেলটি কেড়ে নেন। ট্রেনের মধ্যেই মেরে ফেলেন রাজস্থানের সওয়াই মাধোপুরের বাসিন্দা টিকা রাম মীনাকে। তারপর একে একে তিন মুসলিম যাত্রীকে। খুন করার আগে 'মানসিকভাবে অসুস্থ' চেতন সাফ জানিয়ে দেন, দেশে থাকতে হলে মোদি আর যোগীকে ভোট দিতে হবে। না দিলে যে কী হবে তার প্রমাণও হাতেনাতে দিয়ে দেয় সে।

ভারতীয় অস্ত্র আইন এবং ভারতীয় রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ধারা ছাড়াও ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীনে চেতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হলেও ম্যাজিস্ট্রেট মোটে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। ভারতবর্ষ জুড়ে নিত্য নতুন অপরাধের ভাষা জন্ম নিচ্ছে, ‘হেট ক্রাইম' সেই ধারার নয়া সংযোজন। যোগী বা মোদি তো বলতেই পারেন, কেউ যদি তাঁদের নাম নিয়ে পুজো করে বা খুন করে বা ধর্ষণ করে তাঁদের কীই বা করার আছে! বড় বড় দেশে এমন কত কত ছোট ঘটনার উপর নজর রাখবেন তারা? সত্য, তবে অপর সত্য হচ্ছে, তাঁদেরই গোচরে বেড়েছে এই বিশেষ ধারার অপরাধ। তাঁদেরই নির্দেশে, উস্কানিতে ছড়িয়ে পড়েছে সংখ্যলঘুর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ। চেতন সিংরা অলিতে গলিতে আছেন, সকলের কাছে নেহাত বন্দুক নেই। তবে হত্যা করতে কবেই বা স্রেফ বন্দুকের দরকার পড়েছে?

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।