পাকিস্তানের হয়ে একটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন সচিন!

Sindhu Som
৩ মিনিট
পাকিস্তানের হয়ে একটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন সচিন!

ক্রিকেটের জগতে ভারত পাকিস্তানের রেশারেশি বহুদিনের। ভর দুপুরে সাদাকালো বা রঙিন পর্দায় কাঁপাকাঁপা ছবিতে সেই ম্যাচ দেখেনি এমন মানুষ কম। বর্তমান প্রজন্মের কথা আলাদা। তবে নব্বইয়ের দশকে যাঁরা খেলে দেখেছেন, এমনকি তার পরের কয়েক বছরেও এই কাঁটো কা টক্করের ছবি তাঁদের মনে গেঁথে রয়েছে। এই খেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল রাওয়াল পিন্ডি এক্সপ্রেস তথা শোয়েব আখতারের বলে সচিনের ব্যাটিং। তখন ভারতীয় দলে নানা মণিমুক্তো। সৌরভ, দ্রাবিড়, কুম্বলে, লক্ষ্মণ–কাকে ছেড়ে কাকে ধরি। অথচ খেলার জগতে সেই ছোটখাটো মানুষটির জনপ্রিয়তা অমলিন রয়ে গেল। ভারতীয় ক্রিকেটের বেতাজ বাদশা, বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম তারকা সচিন তেন্ডুলকর।ওই মানুষটির মাঠে নামা থেকে গ্যালারিতে ফেরা—এই দুইয়ের মাঝের সময়টুকু একরাশ উৎকণ্ঠা নিয়ে চেয়ে থাকত হাজার হাজার চোখ। দু'শোটি ওয়ান ডে খেলায় বিশ্বে প্রথম ব্যক্তিত্ব সচিন। আজ সেই কিংবদন্তীর জন্মদিন। এই রবিবার ৪৯ বছর বয়েস হল তাঁর। তাঁর খাদ্যপ্রীতি বা রন্ধনপ্রীতি, গলফের মাঠে হাত পাকানো, পাড়ার ক্রিকেটেও নেমে পড়ার গল্পকথাগুলি ইন্টারনেটের দৌলতে জানেন অনেকেই। কিন্তু তাঁর প্রথম খেলার খবর রাখেন কজন? যদি বলি, সচিনের প্রথম খেলা পাকিস্তানের হয়ে? সচিন ভক্তদের হাতে প্রহার জুটবে?

সবাই জানেন ভারতীয় ক্রিকেটের এই কিংবদন্তীর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু ১৯৮৯ সালে করাচিতে। পাকিস্তান ভারত ম্যাচ। কিন্তু অনেকেই জানেন না, সেটি সচিনের খেলা প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়। ভারতীয় টিমে সেই খেলাটি দিয়ে তাঁর জায়গা পাকাপোক্ত হয় বটে, কিন্তু এর আগেও খেলেছেন সচিন। এবং খেলেছেন পাকিস্তানের হয়ে। হ্যাঁ, পাকিস্তানই।

মুম্বইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের খেলা ছিল। কয়েক বছর আগেই বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এমতাবস্থায় পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হয়ে ফিল্ডিং করেন লিটল মাস্টার। জীবনের ৪৮ টি বছর পার করে পৌঢ় কিংবদন্তী স্মৃতিচারণ করেছেন এই ঘটনার। তাঁর আত্মজীবনী ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’তে এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে তিনি লিখছেন, “জানি না ইমরান খানের সে ঘটনা মনে আছে কিনা!” ইমরান তখন পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন। তিনিই ফিল্ডিং করতে নামান তেণ্ডুলকরকে।

আসলে পাকিস্তানের খেলোয়াড় জাভেদ মিয়াঁদাদ ও আবদুল কাদির তখন লাঞ্চে গিয়েছিলেন। ফলে বদলি হিসেবে সচিনকে ফিল্ডিং করতে বলা হয়। তা সে করেও ছিলেন লিটলমাস্টার। এমনকী সেবার কপিল দেবের তোলা ক্যাচ প্রায় ধরেও ফেলেছিলেন। কিন্তু প্রচণ্ড জোরে অনেকটা দৌড়ে এসেও বলটার নাগাল পাননি সচিন। তাঁর মতে, তাঁকে যদি লং-অনের পরিবর্তে মিড-অনে রাখা হত, তাহলে হয়তো পাকিস্তানের হয়ে এক উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব থাকত তাঁর।

তবে এখানেই শেষ নয়। ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে যে পরিমাণ চার ছয় হাঁকিয়েছেন পাকিস্তানের বোলারদের বিরুদ্ধে সে কথা আজও স্মরণীয়। ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এখনও ওয়ান ডে-তে সবথেকে বেশি রান করেছেন সচিনই। ৬৯ টি ম্যাচে ২৫২৬ রান। গড়ে প্রতি ম্যাচে প্রায় ৪০.০৯ রান তাঁর। ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি এবং ১৬ টি হাফ-সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান তাঁর ১৪১। সেবার খেলা ছিল পাকিস্তানের রাওয়াল পিন্ডিতে। ২০০৪ সাল। এছাড়াও ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন শচীন। খেলতে আসার প্রায় বছর সাতেক পরে। সে সময় তাঁর বয়েস বাইশ বছর। সেবার ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার একটি ত্রিদলীয় ওয়ান-ডে ম্যাচের সিরিজ চলছিল। সিরিজের তিন নম্বর ম্যাচে ভারত পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। তখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন মহম্মদ আজহারউদ্দিন। ম্যাচ ওপেনিং করেছিলেন তেণ্ডুলকর এবং নভজ্যোত সিং সিধু। আর অপরদিকে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন ওয়াকার ইউনুস, সাকলিন মুস্তাক এবং অন্যান্যেরা। গোটা ভারতীয় দল যখন পাকিস্তানের স্পিনার ও পেস বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারছে না, একা নিজের গড় রক্ষা করে চলেছিলেন সচিন। ১১১ বলে ১০০ রান করেছিলেন সেবার। নটা বাউন্ডারি এবং একটা ওভার বাউন্ডারিও ছিল তার মধ্যে। যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, সাকলিন মুস্তাকের স্পিন সামলান, ওয়াকার ইউনুসের পেস বল সামলান এবং ভারতের স্কোর আট উইকেটে ২২৬ রান অবধি টেনে নিয়ে যান একাই। যদিও সে ম্যাচে জেতেনি ভারত।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তুলকালাম ফর্মে দেখা গিয়েছে সচিনকে। ৯১ সালে শারজা কাপে বাহান্নতে নট আউট ছিলেন, সিডনি কাপে চুয়ান্নতে নট আউট (১৯৯২), ৯৬ সালেই শারজা কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, ১১৮ রান, আরেকটি প্রায় সেঞ্চুরি হতে হতেও রয়ে যায় ৮৯ রানে, আউট হননি তিনি। ৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে করেছিলেন ৯৫ রান, ২০০৫-এ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১২৩, শেষ সেঞ্চুরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে।

ক্রিকেটের বহু রেকর্ড ভেঙেছেন এবং গড়েছেন সচিন। যে রেকর্ডের ধারে কাছেও কেউ আসতে পারেনি। সে কারণেই ক্রিকেট জগতের বেতাজ বাদশা লিটল মাস্টার। দুই দশক ধরে অবিরাম ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলেছেন এই কিংবদন্তী। এখন তাঁর অবসরবেলা। সর্বমোট ৩৪৩৫৭ রান অর্জিত তাঁর ঝুলিতে। রয়েছে ১০০ খানা সেঞ্চুরিও।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।