কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কী কী জানালেন সন্দেশখালির ‘ত্রাস’ শেখ শাহজাহান?

Sheikh Shahjahan Arrested: এদিনই বসিরহাট আদালতে পেশ করা হয়েছিল শেখ শাহজাহানকে। জানা গিয়েছে, বসিরহাট এজলাশের দশ মিনিটের সওয়াল জবাবেই নাকি বিস্ফোরক সব দাবি করে বসেছেন শেখ শাহজাহান।

Sohini Das
৩ মিনিট
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কী কী জানালেন সন্দেশখালির ‘ত্রাস’ শেখ শাহজাহান?

প্রায় দু'মাস পর হদিস মিলেছে সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহানের। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের গোড়ায় রেশন মামলায় সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সেই থেকেই নিখোঁজ শাহজাহান। এদিকে উত্তপ্ত সন্দেশখালিতে শান্তি ফেরাতে পারে কেবল শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারি।

জমি জবরদখল থেকে স্থানীয় মেয়েদের উপর বেপরোয়া অত্যাচার থেকে শারীরিক নিগ্রহ, একাধিক অভিযোগ ছিল শেখ শাহজাহান ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। সন্দেশখালি উত্তপ্ত হতেই গ্রেফতার হয় শাহজাহানের সঙ্গী উত্তম ও শিবু। তবে তাতেও ঠান্ডা করা যায়নি সন্দেশখালির বাসিন্দাদের। কেন শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ, সেই প্রশ্ন বারবার করেছেন মানুষ। তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব বলেছিলেন, ব্যাস দিন সাতেক থেকে দশেক। দক্ষ কলকাতা পুলিশ হাজতে এনে তুলবে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাকে। হলও তেমনটাই। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিনাখাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয় শেখ শাহজাহানকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শাহজাহানকে হারিয়ে জিতে গেল তৃণমূল? লোকসভায় আসন বাড়বে শাসকের?

Sheikh Shahjahan Arrest : তৃণমূলের ক্ষমতা ব্যবহার করেই কিন্তু সন্দেশখালিতে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিল শাহজাহান। বিষয়টি তৃণমূলের উচ্চস্তরের কেউ জানতেন না এ হতেই পারে না।

তবে কোনও কোনও সূত্র বলছে, এতদিন ধরে নাকি সন্দেশখালিক রাজবাড়িতেই আস্তানা গেড়ে বসেছিলেন শেখ শাহজাহান। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তারপর নিরাপত্তার কারণে মিনাখা থানায় নিয়ে আসা হয় শেখ শাহজাহানকে। সরকারি ভাবে পুলিশি বিবৃতিতে অবশ্য মিনাখাঁ থানা এলাকার একটি ভেড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গত কয়েক দিনে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, পুলিশের উপর আস্থাই যেন বলে দিচ্ছিল, সময় ফুরিয়ে আসছে শেখ শাহজাহানের। এবার তার ধরা পড়ার পালা। কিন্তু কোথা থেকে গ্রেফতার হবেন সন্দেশখালির 'ত্রাস', সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, গতকাল দুপুরের পর থেকেই শেখ শাহজাহানের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই শুরু হয় তল্লাশি। রাতের দিকে বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এলাকা। তারপর গ্রেফতার করা হয় শেখ শাহজাহানকে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাঁকে বসিরহাট আদালতের কোর্ট লকআপে নিয়ে আসা হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লকআপে সন্দেশখালির ত্রাস! কীভাবে গ্রেফতার হলো শেখ শাহজাহান?

Sheikh Shahjahan Arrested : গত ৭ জানুয়ারি থেকেই শাহজাহানের এবং অনুগামীদের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পথে নামের সন্দেশখালির মহিলারা।

এদিনই বসিরহাট আদালতে পেশ করা হয়েছিল শেখ শাহজাহানকে। জানা গিয়েছে, বসিরহাট এজলাশের দশ মিনিটের সওয়াল জবাবেই নাকি বিস্ফোরক সব দাবি করে বসেছেন শেখ শাহজাহান। মধ্যিখানে গা ঢাকা দেওয়াকালীন সময়ে শেখ শাহজাহানের একটি অডিও ক্লিপ সামনে এসেছিল। যেখানে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের ভরসা দিয়ে ইডি-সিবিআইকে নিয়ে তোপ দাগতে দেখা গিয়েছিল শেখ শাহজাহানকে। এমনকী দোষী প্রমাণিত হলে নিজের 'মুন্ডু' কেটে পায়ের কাছে রাখার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। তবে সে প্রায় জানুয়ারির কথা। তার পর কেটে গিয়েছে অনেকগুলো দিন। অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে গঙ্গা-পদ্মা দিয়ে। তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বের কাছে শেখ শাহজাহান ততদিনে বিপদ বই কিছু নয়, তাও আবার লোকসভা ভোটের ঠিক আগে আগে।

এদিন আদালতে শেখ শাহাজাহান জবানবন্দি দিয়েছেন, "ইডি-র হাতে গ্রেফতারির আশঙ্কায় হামলার নির্দেশ দিয়েছিলাম।" আদালতে জমা পুলিশের নথিতে শাহজাহানের স্বীকারোক্তির উল্লেখ রয়েছে। যেখান থেকে পরিষ্কার সন্দেশখালিতে ইডি-র উপর হামলা আদতেই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সূত্রের খবর, আদালতে পুলিশ যে নথি দিয়েছে, তাতে উল্লেখ, ১৬১-এ পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি, অর্থাৎ যেদিন রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়েছিলেন, সেদিন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন শেখ শাহজাহান। ইডি আধিকারিকরা সিআরপিএফ জওয়ান নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ইডি তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। সেই কারণে অনুগামীদের ফোন করে নির্দেশ দেন, যাতে কোনওভাবে ইডি আধিকারিকরা বাড়িতে ঢুকতে না পারেন। তাঁদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁদের জিনিসপত্রও লুঠের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পুলিশি জেরায় শেখ শাহজাহান স্বীকার করে নিয়েছেন। বসিরহাট আদালত শেখ শাহজাহানকে দশদিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে গ্রেফতার হয়েও কিন্তু রোয়াব যায়নি শেখ শাহজাহানের। মেজাজে এখনও তিনি 'বেতাজ বাদশা'। আদালতে ঢোকার মুখে কার্যত তার আচরণে সেই ছবিটাই ফের দেখা গেল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ক্ষুব্ধ শেখ শাহজাহান শুধুই আঙুল তুলে না-সূচক ইশারা করে গেলেন। ধবধবে পোশাক, পায়ে স্নিকার্স, শরীরি ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন, তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগই মিথ্যা। বসিরহাট আদালত থেকে কার্যত গ্রিন করিডর করে শেখ শাহজাহানকে বৃহস্পতিবার নিয়ে আসা হয় কলকাতার ভবানী ভবনে। কী হতে চলেছে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। বসিরহাট আদালতে দেওয়া শেখ শাহাজাহানের জবানবন্দির প্রভাবই বা কতটা পড়তে চলেছে এই মামলায়? সেটাও দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?