বল্লভভাই বড় না অম্বেদকর! সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে যে অশান্তি দেখছে দেশ
Sardar Patel-BR Ambedkar Statue Row: দেশ জুড়ে রামচর্চার মধ্যেই মূর্তি নিয়ে অশান্তি মধ্যপ্রদেশে। উঠল সর্দার বল্লভভাই পটেলের মূর্তি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

রামমন্দির উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে কিছুদিন আগেই। দেশ জুড়ে রামচর্চা তুঙ্গে। এর মধ্যেই অশান্তি বেঁধে গেল মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী। সেখানে পাবলিক স্কোয়ারে সম্প্রতি বসেছে সর্দার বল্লভভাই পটেলের একটি মূর্তি কিন্তু। কিন্তু অন্য একটি পক্ষের দাবি, ওই জায়গায় বি আর অম্বেদকরের মূর্তি বসানো হোক। সেই নিয়েই লেগে গেল দক্ষযজ্ঞ। ঘটনায় জখম অন্তত দুই পুলিশ কর্মী। ভাঙচুর চালানো হয়েছে গাড়ি ও আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকানের। সব মিলিয়ে অশান্তি তুঙ্গে পৌঁছেছে মধ্যপ্রদেশের ওই এলাকায়।
উজ্জয়িনী থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে মাকড়োন এলাকার ঘটনা। মধ্যপ্রদেশের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাড়িও সেখানেই। গত বিধানসভা ভোটে শিবরাজ সিং চৌহানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মোহন যাদবের হাতে মধ্যপ্রদেশের ভার তুলে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই মোহন যাদবের পাড়াতেই এবার অশান্তির আগুন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
MP CM Mohan Yadav: ১৮ বছর মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামলেও মধ্যপ্রদেশের গদির লড়াই থেকে ছিটকে গেলেন শিবরাজ সিংহ চৌহান। তার বদলে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হলেন মোহন যাদব।
মধ্যপ্রদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ জুড়ে রয়েছে ওবিসি। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নিজেও সেই সম্প্রদায়েরই প্রতিনিধি। মাকড়োন এলাকার বাসটাউনের কাছে সম্প্রতি একটি মূর্তি বসানো হয়েছে। ওবিসি পাতিদার সম্প্রদায়ের দাবি মেনে সেখানে বসেছে সর্দার বল্লভভাই পটেলের একটি মর্মর মূর্তি। দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাতিদারদের নেতা বল্লভভাইয়েরও বাড়ি ছিল সেখানেই। সে কথা মাথায় রেখেই তাঁর মূর্তি গড়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ব্যাপারটি মোটেও পছন্দ হয়নি স্থানীয় দলিত সম্প্রদায়ের। দলিত নেতা ও দেশের আইনপ্রণেতা বি আর অম্বেদকরের মূর্তি গড়া হোক সেখানে, এমনই দাবি করেছিলেন তাঁরা। সেই নিয়ে বিবাদ পৌঁছয় পঞ্চায়েত পর্যন্ত। তবে সেখানেও সমাধান মেলেনি।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Madhya Pradesh Assembly election: রাজ্য জুড়ে চলছে ভোটগ্রহণ। ভোটের সময় যে কোনও ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছে। তার সঙ্গে কাজ করছে রাজ্যের ২ লক্ষ পুলিশকর্মী।
তবে সমস্যা অশান্তির রূপ নেয় তখনই, যখন রাতের অন্ধকারে কারা যেন এই স্থানে বল্লভ ভাই পটেলের মূর্তি বসিয়ে যায়। সে কথা জানাজানি হতেই শুরু হয় অশান্তি। বিষয়টি চোখে পড়ে স্থানীয় দলতি সংগঠনেরও। তারা সেই মূর্তি ভেঙে দিয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয় পাতিদার সম্প্রদায়ের সদস্যরাও। শুরু হয় পাথর ছোড়াছুড়ি ও ভাঙচুর। ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি দোকান। দুটি দু-চাকার যান ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে জখম হন দুই পুলিশকর্মীও। আপাতত জায়গাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিবাদ মেটাতে কথা বলা হচ্ছে দু-পক্ষের সঙ্গেও। এদিকে এই ঘটনায় আবার স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্য গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে স্থানীয় থানার ইন-চার্জকে সাসপেন্ডও করা হয়।
দেশ জুড়ে রামমন্দির নিয়ে উদযাপন চলছে। এর মধ্যে রাত পোহালেই সাধারণতন্ত্র দিবস। স্বাভাবিক ভাবেই দেশের প্রায় সমস্ত জায়গাতেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে যে ভাবে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অশান্তির পারদ চড়েছে মধ্যপ্রদেশে, তাতে উদ্বেগ বেড়েছে। দেশের মুখ্যমন্ত্রী ওবিসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বলেই কি জোর করে বল্লভভাই পটেলের মূর্তি বসানো হল সেখানে, প্রশ্ন তুলেছেন অন্য পক্ষের প্রতিনিধিরা। নাকি দলিত বলেই বি আর অম্বেদকরকে অবহেলা, উঠেছে সেই প্রশ্নও। এমনিতেই রামমন্দিরের উদ্বোধনে দেখা যায়নি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের বলেই কি আমন্ত্রণ পাননি তিনি রামমন্দিরে, স্বভাবতই উঠেছে প্রশ্ন। তার মধ্যে আবার মধ্য়প্রদেশে মূর্তিস্থাপনকে কেন্দ্র করে দলিত-ওবিসি অশান্তি দেশের ঐক্যের ভাঙাচোরা অবস্থাকেই ফের সামনে এনেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
















