জলের বয়স ২৬০ কোটি বছর! এক নিঃশ্বাসে খেয়ে ফেললেন এই বিজ্ঞানী, আর তারপর?

2.6 Billion years Old Water Drinking : ২৬০ কোটি বছরের পুরনো জল! সেটা খাওয়া যায় নাকি? অত পুরনো জলে আর কিছু আছে নাকি?

inscript
২ মিনিট
জলের বয়স ২৬০ কোটি বছর! এক নিঃশ্বাসে খেয়ে ফেললেন এই বিজ্ঞানী, আর তারপর?

জল মানে জীবন। ছোট থেকে এমনটাই পড়ে এসেছি আমরা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ জল না খেলে শরীর অচিরেই দুর্বল হয়ে পড়বে, বারবার এমনটাই বলে এসেছেন ডাক্তাররা। কিন্তু এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসা যাক। ধরুন, আপনার বাড়িতে বহুদিন ধরে একটা জল পড়ে রয়েছে। কী করবেন? নিশ্চয়ই সেটা ফেলে দিয়ে পরিষ্কার জল ভরে রাখবেন, তারপর খাবেন। কিন্তু ওই জলটা তো ফেলে দিলেন! জল নষ্ট হল না?

এই মুহূর্তে গোটা পৃথিবী পরিবেশের সমস্যায় জর্জরিত। যত দিন যাচ্ছে, পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বাড়ছে। বরফ গলছে, একের পর এক গাছ কাটা হচ্ছে। অন্যান্য সব জায়গার সঙ্গে জলও দূষিত হচ্ছে। অনেক জায়গায় নতুন করে জলের সমস্যা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল এলেই সেই কষ্ট হু হু করে বাড়ে। তার মধ্যে পুরনো জল ফেলে দিলে তো আরও বিপদ! জলকে পরিশুদ্ধ করে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। এখানে একটা ছোট্ট প্রশ্ন। ‘পুরনো’ তো বলা হচ্ছে বারবার; কিন্তু কতটা পুরনো? পাঁচদিন, এক মাস, নিদেনপক্ষে এক বছর! আচ্ছা, যদি আপনার সামনে ২৬০ কোটি বছর পুরনো জল আনা হয়, কী করবেন তখন?

জলের ‘বয়স’ শুনেই চক্ষু চড়কগাছ অনেকের। ২৬০ কোটি বছরের পুরনো জল! সেটা খাওয়া যায় নাকি? অত পুরনো জলে আর কিছু আছে নাকি? অথচ সেই ‘প্রাগৈতিহাসিক’ জলই ঢকঢক করে খেয়ে নিলেন এক বিজ্ঞানী! আর তারপর?

২০১৩ সাল। কানাডার এক খনিতে বেশ কিছুদিন ধরে গবেষণা চালাচ্ছিলেন কয়েকজন বিজ্ঞানী। সেই কাজ করতে করতে হঠাৎ করেই চমকপ্রদ জিনিস খুঁজে বের করেন তাঁরা। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ মাইল নিচে, পাথরের স্তরের মধ্যেই বেশকিছু ফাঁকা ‘পকেট’ রয়েছে। আর সেই পকেটের ভেতর রয়েছে জল! গ্রানাইট জাতীয় পাথরের মধ্যে কোনওভাবে জল জমে যায়। তারপর সেগুলি আটকে যায়। কয়েক হাজার বছর ধরে সেগুলি ওভাবেই পড়ে রয়েছে। খুঁজে পাওয়ার পর বিজ্ঞানীরা সঙ্গে সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করতে শুরু করলেন। কী অভিনব তথ্য পাওয়া যেতে পারে, সেটাই ভাবতে লাগলেন তাঁরা।

ওই গবেষক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন অধ্যাপক বারবারা শেরউড লোলার। হঠাৎই কাউকে কিছু না বলে, সেই জমে থাকা ‘প্রাচীন’ জল একটুখানি নিয়ে খেয়ে ফেললেন। তারপর? গবেষণায় জানা গেল, ওই বিশেষ পকেটগুলো আজ থেকে প্রায় ২৬০ কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছিল। তখন থেকেই জলগুলি ওভাবে পড়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, একে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন জল বললেও অত্যুক্তি হয় না। আজও যত্নে সেই নমুনা সংরক্ষিত আছে। কিন্তু সেই প্রাচীন জল খেয়ে বিজ্ঞানীর কী অবস্থা হল?

পরবর্তীকালে একটি সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক বারবারা লোলার জানান, ওই জল খেয়ে মোটেও খুব একটা সুখকর অনুভূতি হয়নি। এত বছর ধরে পাথরের মধ্যে বন্দি থাকায় জলের মধ্যে তীব্র নোনতা ভাব এসে গিয়েছে। সেইসঙ্গে সাধারণ জলের থেকে একটু বেশিই গাঢ় সেই প্রাচীন জল। এমনি রংহীন তরল হলেও, এই বিশেষ জলকে খোলা বাতাসে রাখলে রং হালকা কমলা হয়ে যায়। জলের ভেতর খনিজ পদার্থের সঙ্গে বাতাসের অক্সিজেনের বিক্রিয়ার জন্যই এমনটা হয় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক লোলার।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?