হাসিনা সরকারকে না হটানো অবধি নড়বে না পড়ুয়ারা: শহিদুল আলম

Shahidul Alam on Bangladesh Quota Protest: আমি নিজে চোখে দেখেছি, ৪ টি মাত্র ছাত্রকে দমন করতে ৪০০-র বেশি পুলিশ বন্দুক নিয়ে, প্রিজন ভ্যান নিয়ে ঘিরে ধরছে।

Arka Deb
৪ মিনিট
হাসিনা সরকারকে না হটানো অবধি নড়বে না পড়ুয়ারা: শহিদুল আলম

অর্ক- ছাত্রলীগের এত বাড়বাড়ন্ত কেন বাংলাদেশে? এত অস্ত্র কে তুলে দিল ছাত্রলীগের হাতে? বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে? এই দমনপীড়ন কি স্বৈরাচার নয়?

শহিদুল- স্বৈরাচার না বলার তো কোনও সুযোগই নেই। আর ছাত্রলীগ হচ্ছে একটা পেটোয়া গুন্ডাবাহিনী। এটা একটা অবৈধ সরকার ধরে রেখেছে। সরকার এদের ব্যবহার করছে কারণ সরকারের নিজের কোনও ন্যায্যতা নেই। ন্যায্যতা যেখানে না থাকে, জনগণ যদি কোনও সরকারকে না চায় তখন পেটোয়া বাহিনী ব্যবহার ছাড়া তাদের আর কোনও উপায় নেই। তারা আর্মিকে ব্যবহার করে, পুলিশকে ব্যবহার করে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে, ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে। এই নিপীড়ন অনেকদিন ধরেই চলছে।

কোটা নিয়ে তিক্ততা তো অনেকদিন ধরেই রয়েছে। জিনিসের দাম হু-হু করে বাড়ছে, চোরাচালান বাড়ছে, চারদিকে অনিয়ম চলছে, এর মাঝে ভারতও একটা ফ্যাক্টর। ভারতের ক্ষেত্রে একটা বিদ্বেষ রয়েছে, ভারত বয়কটের ডাক তীব্র হচ্ছে এখন। এবং ভারত সরকারের কিন্তু মনে রাখা দরকার শেখ হাসিনা তাদের জন্য এখন একটা 'লায়াবিলিটি'। হাসিনা সরকার জনগণকে ভারতের বিরুদ্ধে এতটা তিক্ত করে দিয়েছে যে সেটা মোটেও ভারতের পক্ষে ভালো বিষয় নয়। আমাদের পাশের দেশ, আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা উচিত। ভারত একটা খুব বড় ভূমিকা রেখেছিল ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে। অথচ সেই ভারতকেই এখন বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে। সরকার তো যা পারছে করছে। বাংলাদেশকে বিকিয়ে দিয়েছে ভারতের কাছে। যখন ভারত যা চেয়েছে তা পেয়েছে। ভারত সুবিধা পেতে গিয়ে যে বাংলাদেশের জনগণকে হারিয়েছে সেটা তাদের মনে রাখতে হবে।

অর্ক- এই বিক্ষোভটি হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হলো কেন? এই ক্ষোভ কি আগে থেকেই ছিল? কিছুদিন আগে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হলো তা কি তবে প্রহসন ছিল?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশের কোটা ব্যবস্থা ঠিক কী? কেন এর বিরোধিতায় প্রাণ হারালেন পড়ুয়ারা?

Bangladesh Quota System: পড়ুয়ারা কিন্তু সবরকমের কোটা তুলে দেওয়ার পক্ষে নন। জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকরি সংরক্ষণে সমর্থন রয়েছে তাঁদের।

শহিদুল- নির্বাচন তো বহু বছরই হয়নি। আমাদের দেশে ৩ কোটির কাছাকাছি নব্য ভোটার গত ১৫ বছর তো ভোটই দিতে পারেননি। বলা হচ্ছে এটা আদালতের ব্যাপার। আসলে আপনাদের দেশেও এমনটা আছে কিছুটা, কিন্তু আমাদের দেশে আদালত সম্পূর্ণতই সরকারের কথায় চলে। সরকার যা বলে আদালত তাই করে। সরকার আদালতকে ব্যবহার করে ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করার জন্য। খারাপ হলে আদালতের দোষ, ভালো হলে সরকারের কৃতিত্ব।

আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই তো বিষয়টা ঘটেছে। আমার নিজের ক্ষেত্রেই হচ্ছে। আজ থেকে ৬ বছর আগে আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ছ' বছর কেটে গেল আমি কিন্তু রোজ হাজিরা দিচ্ছি অথচ ট্রায়াল হয়নি। কারণ আমাদের আদালত নিজের থেকে রায়ই দিতে পারে না।

অর্ক- শুধুমাত্র শহিদজননীর নিস্ফল ক্রন্দন, নাকি এই আন্দোলনের ফলে কোনও মূলগত পরিবর্তন বাংলাদেশে ঘটবে?

শহিদুল- আন্দোলন তো শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে, তারপর ২০১৩ সালে। তবে তখন তা খুব বেশি এগোয়নি। ২০১৮-তে যখন তা তীব্র জায়গায় যেতে শুরু করে তখন দমনপীড়ন করে দমানো হয়। প্রহসনমূলক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা থামানো হয় তখন। কিন্তু মানুষ এখন জেনে গেছে এই সরকার মিথ্যাবাদী, এই সরকারের কোনও কথা বিশ্বাস করা যায় না। এত এত ছেলেমেয়ে মারা গেছে তাঁদের গায়েবি জানাজা পর্যন্ত হতে দেওয়া হয়নি। পুলিশরা সাংবাদিকদের উপর বোমা মেরেছে, আমার সহকর্মী আহত। সারা বাংলাদেশ এখন দাউদাউ করে জ্বলছে। এটাই শেষ লড়াই, এখান থেকে ছাত্রছাত্রীরা নড়বে না, বাংলাদেশিরা নড়বে না, এই সরকারকে হটানোর আগে কেউ নড়বে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশ শাটডাউন, হাসিনার পুলিশের নিশানায় সেই বিএনপি

Bangladesh job quota protest: এদিকে শাসক দল এই বিশৃঙ্খলার দায় চাপিয়েছে বিরোধী দল বিএনপির উপরেই। প্রশাসনের তরফে দাবি, শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় বিএনপি এবং জামাত-ই-ইসলামির কর্মীরা হামলার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অর্ক- এই এত মানুষের মধ্যে অনেকে রাজনীতি সচেতন, অনেকে জানেন পেটে খিদে আছে চাকরি দরকার। তারা হয়তো সরাসরি রাজনীতিই করেন না। এই এত এত মানুষের বিক্ষোভকে কি কেবল বিএনপির বিক্ষোভ বলে থামিয়ে দেওয়া যাবে?

শহিদুল- হাস্যকর! জিনিসের দাম হু-হু করে বাড়ছে, চুরি হচ্ছে, টাকা পাচার হচ্ছে। আইএমএফ থেকে টাকা ধার করতে হয়, চিনের কাছে হাত পাততে হয়! এই তো দেশের অবস্থা! বিএনপি একটা বড় রাজনৈতিক দল নিঃসন্দেহে। যদি সুস্থ নির্বাচন হতো তাহলে হাসিনার বিরুদ্ধে একটা কলাগাছ দাঁড়ালেও জিতে যেত, বিএনপির দরকার পড়ত না।

অর্ক- এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ঠিক কী?

শহিদুল- গদ্দারি করেছে তারা। নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে আর এই জায়গা থেকে তারা আর ফিরতেও পারবে না। জাফর ইকবালকে ইতিমধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আর কোথাও থাকতে পারবেন না। আসলে জাফর ইকবাল তো একা নন, একটা দল আছে যাদের আওয়ামী লীগ এতদিন পুষেছে, তারা এই স্বৈরাচারী সরকারকে টিকে থাকতে মদত করেছে। এবার এরা সবাই বিপদে পড়বে। পড়া শুরুও হয়েছে। অনেক তারকাকেই দেখলাম বিবৃতি দিয়েছেন তারা এটার থেকে দূরে থাকতে চান। আসলে তারা গা বাঁচাচ্ছেন, তারা জানেন নৌকা ডুবছে তাই বাঁচতে চাইছেন।

অর্ক- হাসিনা বলছেন, আন্দোলনের শুরু থেকে সরকার যথেষ্ট সহনশীলতা ও ধৈর্য দেখিয়েছে। আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাকি পুলিশ সহযোগিতা করেছে! যা দেখা যাচ্ছে চোখে, যেভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, স্কুল কলেজ ইন্টারনেট বন্ধ, এটাকে সহযোগিতা বলে?

শহিদুল- শেখ হাসিনা প্রতিবারই এগুলো বলেন, কেউই বিশ্বাস করে না। সারাদেশ হাসিনাকে চাইছে না। অথচ গদি তিনি ছাড়বেন না। মিথ্যাচার করছেন। আমি নিজে চোখে দেখেছি, ৪ টি মাত্র ছাত্রকে দমন করতে ৪০০-র বেশি পুলিশ বন্দুক নিয়ে, প্রিজন ভ্যান নিয়ে ঘিরে ধরছে। সেখানে বোমা ফেলা হলো, আমার সহকর্মী আহত হলেন। তাই হাসিনার মিথ্যা আর কে হজম করবে জানি না, বাংলাদেশের মানুষ অন্তত খুব স্পষ্ট করে জানে কী হচ্ছে।

অর্ক- আশঙ্কা আছে ইউটিউব, ফেসবুক বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এমন পরিস্থিতি হলে আন্দোলনকারীরা কী করবেন?

শহিদুল- ইন্টারনেট বন্ধ করা তো ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তারমধ্যেও প্রতিবাদ চলছে। নারায়নগঞ্জের গডফাদার, হাসিনা ঘনিষ্ঠ শামীম ওসমানকে গতকাল পিটিয়ে ভাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের আগে ছোঁয়া যেত না অবধি! এর আগে কিন্তু এমনটা কখনও হয়নি। ছাত্রলীগের নেতানেত্রীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এগুলি কিন্তু ভিন্ন লক্ষণ, এগুলি আগে হয়নি। ফলে পাল্টা স্রোত শুরু হয়ে গেছে তা বলাই যায়।

লিখেছেন
Arka Deb
Arka Deb
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।