NRC হলে কী হবে, বাংলা ভাষায় লস্কর-ই-তৈবার চিঠি কি বিজেপিরই দুর্বল চাল?

Shantanu Thakur Laskar-e-taiba: এত সুবিশাল জঙ্গিগোষ্ঠী চিঠি পাঠাতে ভারতীয় ডাকব্যবস্থাকে ভরসা করছে বিষয়টি খটকার নয় কি?

inscript
৩ মিনিট
NRC হলে কী হবে, বাংলা ভাষায় লস্কর-ই-তৈবার চিঠি কি বিজেপিরই দুর্বল চাল?

সিএএ চালু হয়ে গিয়েছে দেশে। এর পর যদি পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু করে দেওয়া হয়, আর তাতে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের উপর কোনওরকমের অত্যাচার হয় তাহলে 'ঠাকুরবাড়ি' উড়িয়ে দেওয়া হবে! ঠাকুরবাড়ি মানে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা শান্তনু ঠাকুরদের বাড়ি। বিদায়ী কেন্ত্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুরের কাছে নাকি এমনই এক হুমকি চিঠি এসেছে। তাও যে কোনও বেনামি উড়ো চিঠি নয়। চিঠির প্রেরক নাকি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সদস্য বলেও দাবি করেছে নিজেকে।

লোকসভা ভোট শিয়রে। এবারের ভোটে বনগাঁ আসনে মতুয়াদের ভোট ছিল বিজেপির বড় মাথাব্যথার কারণ। অমিত শাহ বহুকাল আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিএএ-র মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে এদেশে আসা মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। শান্তনু ঠাকুর নিজেও বহুবার এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমর্থন ও ভোট কুড়িয়েছেন। কিন্তু সিএএ-র দেখা মেলেনি। ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে তাই শান্তনু ঠাকুরের আসন ধরে রাখা জটিল হয়ে গিয়েছিল। ঠিক তখনই বিজেপি সরকার সিএএ অস্ত্র প্রয়োগ করে মতুয়া ভোট ও বনগাঁ আসন নিশ্চিত করতে চায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার মোদির ভুয়ো 'গ্যারান্টি'-র জবাব দিতে পারবে?

Congress Nyay Patra: ২০১৮ সালে মোদি বলেছিলেন, দেশের সমস্ত ঘরে আলো পৌঁছে দেবেন। ২০২৪ সালের আগে ফোর্বস সংস্থার একটি রিপোর্ট বলছে, এখনও ৩১ লক্ষ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি

নিশ্চিত কি করা যায়নি? তাই এমন উড়োচিঠির দরকার পড়ল? বনগাঁ আসনে মূল বিরোধী তৃণমূলের বিরুদ্ধে বরাবরই মুসলমান তোষণের অভিযোগ ওঠে। সেই তোষণকে 'ভয়ঙ্কর' প্রমাণ করতে, ঠাকুরবাড়ি তথা মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তাই মুসলিম বিরোধিতার জিগির কি তুলতেই হতো বিজেপিকে?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন বিষয়টি খুবই দুর্বল চালের খেলা হয়ে গিয়েছে। মুসলমান মানেই জঙ্গি বিষয়টি বিজেপি অন্যত্র কাজে লাগিয়েছে ঠিকই তবে বাংলাতে এমন অযৌক্তিক চালে চিঁড়ে ভিজবে কি? সরাসরি লস্কর-ই-তৈবার নাম ব্যবহার করে ঘৃণা আর ভয় জাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কেন?

সোমবার দুপুরে ডাকব্যবস্থার মাধ্যমে নাকি শান্তনু ঠাকুরকে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে। লস্কর-ই-তৈবার চিঠি, তাও স্পষ্ট বাংলা ভাষায় তাও আবার ছাপার হরফে! লস্কর-ই-তৈবার মতো এক জঙ্গি গোষ্ঠী উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার হাদিপুর গ্রাম থেকে হুমকি চিঠি পাঠাচ্ছে, জঙ্গি গোষ্ঠীর দুই সদস্য নজরুল ইসলাম সাহেব আলি এবং ফজের আলির নাম দিয়ে? এত সুবিশাল জঙ্গিগোষ্ঠী চিঠি পাঠাতে ভারতীয় ডাকব্যবস্থাকে ভরসা করছে বিষয়টি খটকার নয় কি?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অপরিপক্ক নৌশাদের হাতে কীভাবে ঘোল খেয়ে গেলেন পক্ককেশ বামেরা?

ISF and CPIM: ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী না হয়ে, বামেদের এতদিন অপেক্ষা করিয়েও জোট না করে আইএসএফ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাঁদের বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে সদর্থক লড়াই করার কোনও বাসনাই নেই।

ওই উড়োচিঠিতে শান্তনু ঠাকুরের উদ্দেশে লেখা হয়েছে, "পশ্চিমবংলায় যদি এনআরসি হয় এবং এনআরসি-র ফলে যদি মুসলমানদের উপর কোনওরকম অত্যাচার হয়, তাহলে পশ্চিমবাংলা তথা সমগ্র ভারত জ্বলবে এবং আপনাদের ঠাকুরবাড়ি উড়িয়ে দেওয়া হবে। কেউ আপনাদের ঠাকুরবাড়ি বাঁচাতে পারবে না। লস্কর-ই-তৈবার নাম শুনেছেন তো, আমরা লস্কর-ই-তৈবার সদস্য।' চিঠির নীচে প্রেরকের নাম ও ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জানাবেন বলেছেন শান্তনু ঠাকুর। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, মমতা নিজে পুলিশমন্ত্রী হওয়ার পরেও, কীভাবে এইরকম লস্কর-ই-তৈবার মাধ্যমে হুমকি আসে একজন প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন সাংসদের বাড়িতে।'

তৃণমূলের প্রার্থী তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের দাবি, বিষয়টি সাজানো। চিঠি লেখানো, তা পাঠানো সবটাই শান্তনু ঠাকুরই লোক দিয়ে করিয়েছেন। মমতাবালা ঠাকুর বলছেন, ‘‘আমার মনে হয় শান্তনু নিজে তাঁর লোক দিয়ে এই চিঠি পাঠিয়েছেন। সিএএ প্রায় এক মাস হল চালু হয়েছে। এত দিন কিছু হয়নি। এখন লোকসভার আগে মানুষের সহানুভূতি ভোট পাওয়ার জন্য এই চিঠি নিজের লোক দিয়েই পাঠিয়েছেন তিনি। আমি মনে করি এই চিঠি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। এই ধরনের হুমকি ঠাকুরবাড়িতে কোনও দিন আসেনি। দেগঙ্গা থেকে যদি কেউ এ চিঠি পাঠিয়ে থাকেন, তা হলে তার সঙ্গে শান্তনুর যোগ রয়েছে। এর আগেও শান্তনু এই ধরনের মিথ্যা কথা বলেছেন। এটা সম্পূর্ণ নাটক।’’

মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যেই দুই শিবিরের লড়াই নতুন নয়। মমতাবালা ঠাকুর শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে বড়মা বীণাপানিদেবীর ঘর ও মন্দির ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। শান্তনুও পাল্টা বলেছেন, বড়মা বীণাপানি দেবীর স্মৃতিবিজড়িত ঘর কারও কুক্ষিগত হয়ে থাকা ঠিক নয়। তাই মতুয়া ভক্তরা ওই ঘরটিকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। ঘর হোক বা লোকসভা- দখলে মরিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল। ফলে এই চিঠির বয়ানকে উস্কানিমূলক করে তোলা হলে তাতে লাভ আখেরে বিজেপিরই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।