শাহজাহানকে হারিয়ে জিতে গেল তৃণমূল? লোকসভায় আসন বাড়বে শাসকের?

Sheikh Shahjahan Arrest : তৃণমূলের ক্ষমতা ব্যবহার করেই কিন্তু সন্দেশখালিতে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিল শাহজাহান। বিষয়টি তৃণমূলের উচ্চস্তরের কেউ জানতেন না এ হতেই পারে না।

inscript
৩ মিনিট
শাহজাহানকে হারিয়ে জিতে গেল তৃণমূল? লোকসভায় আসন বাড়বে শাসকের?

শেখ শাহজাহানকে কি আশ্রয় দিচ্ছে তৃণমূল? টানা প্রায় দু'মাস ধরে উত্তাল সন্দেশখালি আর শাহজাহানকে ধরতে পুলিশের কোনও তাড়া না দেখে প্রশ্ন উঠেছিল স্বাভাবিকভাবেই। ৫৫ দিন পর, টানা ক'দিন ধরে নানাভাবে ইঙ্গিত দেওয়ার পর অবশেষে শাহজাহান গ্রেফতার হয়েছে। বিজেপি বলছে, বিজেপির আন্দোলনের চাপে, চরম বিরোধিতা ও পুলিশ প্রশাসনের উপর ক্রমে চাপ বাড়ানোর ফলেই শাহজাহান লকআপে। কিন্তু কে না জানে, শাহজাহানকে গ্রেফতার করার ঘটনায় লাভের গুড় ঘরে তুলবে এক এবং একমাত্র তৃণমূলই। রাজ্যজুড়ে সন্দেশখালি সরগরম পর্ব যেভাবে চলেছে মাসখানেক ধরে তার কোনও প্রভাবই কি লোকসভা ভোটে পড়বে না?

সন্দেশখালি থেকে দূরে বসে যারা এই ঘটনা দেখছেন, রোজ সোশ্যাল মিডিয়া বা টেলিভিশনে সন্দেশখালিতে শাহজাহান গোষ্ঠীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে মহিলাদের জোট বাঁধা দেখছেন তাঁদের কাছে এই ঘটনার অভিঘাত অন্যরকম। সন্দেশখালি থেকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ যা যা সামনে এসেছে, শাসকদলের ক্ষমতা পেয়ে একজন সর্বেসর্বা হয়ে ওঠা স্থানীয় নেতা এলাকায় দখল বজায় রাখতে কী কী করতে পারেন তার খতিয়ান মানুষের মনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জন্ম দিয়েইছে। ভোটের বোতামে চাপ দিতে গিয়ে সন্দেশখালি মনে পড়বেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লকআপে সন্দেশখালির ত্রাস! কীভাবে গ্রেফতার হলো শেখ শাহজাহান?

Sheikh Shahjahan Arrested : গত ৭ জানুয়ারি থেকেই শাহজাহানের এবং অনুগামীদের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পথে নামের সন্দেশখালির মহিলারা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে মহিলাদের মাঠে নেমে লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বেশি ভোটার মহিলারাই। মহিলাদের কল্যাণে একের পর এক প্রকল্প এনেছেন মমতা। এমনকী ভোটের বাজারে মহিলাদের ভোট ধরে রাখা নিশ্চিত করতে রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসিক ভাতা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার ঘোষণাও করেছেন নেত্রী। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যে মহিলাদের উপর তারই দলের স্থানীয় নেতার লোকজন অত্যাচার চালাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস জানেও না তা কীভাবে হয়? কেনই বা কোনও ব্যবস্থা নিতে এত অনীহা দেখিয়েছে তৃণমূল? মুখ্যমন্ত্রীই যেখানে পুলিশমন্ত্রী, সেখানে কেন পুলিশকে তেমন কড়া নির্দেশও দেওয়া হলো না শাহজাহানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে?

কিন্তু মোক্ষম অস্ত্রটি নিক্ষেপ করে ফেলেছে তৃণমূল। শাহজাহানকে বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশ মিনাখাঁ থেকে গ্রেফতার করেছে। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে শাহজাহানকে গ্রেফতার করা যাচ্ছিল না। গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট জানায়, শাহজাহানকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে না এমন কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়াই হয়নি। রাজ্য পুলিশকে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। ইডির মামলায় সিট গঠনের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি জানান, সিবিআই, ইডি এবং রাজ্য পুলিশ যে কেউই শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারে। তারপরেই তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেন, সাত দিনের মধ্যে গ্রেফতার হবেন শাহজাহান। এই ঘোষণার ঠিক চার দিনের মাথায় লকআপে শেখ শাহজাহান, সন্দেশখালির 'বেতাজ বাদশা', সন্দেশখালির 'ত্রাস'।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শাহজাহান কোথায়? 'ওঁরাই' সবটা জানেন!

Abhishek Banerjee on Sheikh Shahjahan : অভিষেকের দাবি, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন না হলে ১০ দিনের মধ্যে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারত রাজ্য পুলিশ।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, গ্রেফতার হলেও সন্দেশখালির ঘটনা লোকসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবেই এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই কাজ করবে এই জনরোষ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে ইতিমধ্যেই। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো মন্ত্রীরা ছাড়াও একাধিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। সেই ঘটনাগুলি ক্ষোভ জমিয়ে রেখেইছিল মানুষের মনে। কিন্তু সন্দেশখালির মহিলাদের উপরে অত্যাচারের ঘটনা তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে। সন্দেশখালির জেরে আসন কমবে তৃণমূলের, মনে করছেন অনেকেই।

শাসকদল তৃণমূলও এই বিষয়টি আঁচ করেই বিরোধীদের জবাব দিতে বেশি তৎপরতা দেখাল কি? তৃণমূল বুঝেছিল বিরোধী, বিশেষ করে বিজেপি সন্দেশখালির ঘটনাকে ভোটে বড় ইস্যু হিসাবে তুলে ধরার পথে এগোচ্ছে। রাজ্যের সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সন্দেশখালি বড় ঘটনা হয়ে উঠেছে ইতিমধ্যেই। উত্তর ২৪ পরগণার দুই মন্ত্রী সুজিত বসু ও পার্থ ভৌমিক তাই সন্দেশখালি গিয়েছেন বারেবারে। মমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য একবারও যাননি। যে জায়গা দিয়ে চাষের জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে দিত শাহজাহানরা বলে গ্রামের মানুষরা অভিযোগ করেছিলেন, সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক সেই নদীমুখ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থাৎ ড্যামেজ কন্ট্রোলে কোনও গাফিলতি করতে চায়নি তৃণমূল।

এই ড্যামেজ কন্ট্রোলের ফল কি মিলবে লোকসভা ভোটে? শাহজাহানকে গ্রেফতার করে তৃণমূল প্রমাণ করতে চেয়েছে যেখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে রেয়াত করা হয়নি সেখানে শাহজাহানদের মতো স্থানীয় নেতার মাথা থেকে হাত তুলে নিতে সময় নেয় না তৃণমূল। কিন্তু মানুষ এও দেখেছে, তৃণমূলের ক্ষমতা ব্যবহার করেই কিন্তু সন্দেশখালিতে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিল শাহজাহান। বিষয়টি তৃণমূলের উচ্চস্তরের কেউ জানতেন না এ হতেই পারে না। বেগতিক হতে, লাগাম কমতে থাকাতেই শাহজাহানের বলি হলো। না হলে এমনটাই চলত। শাসকদল আশ্রিত এমন লক্ষ লক্ষ শাহজাহান রয়েছে রাজ্যের নানা প্রান্তে। তাই মহিলা ভোট ধরা হোক, সংখ্যালঘু ভোট ধরা হোক, সন্দেশখালির কাঁটা তৃণমূল উগরে ফেলতে পারবে না। কতগুলি আসন হারাবে তৃণমূল? না কি আবারও 'সততার প্রতীক' ইমেজটিকে সামনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হয়ে উঠবেন বাংলার 'মুখ', এটাই দেখার এখন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।