আসল মানে আমগাছ, যেভাবে স্ল‍্যাং হয়ে উঠল 'চূত' শব্দটি

মূর্খার্থে 'চুতিয়া' শব্দটির গোড়া খুঁজলে আম বা গৃহদ্বারের সঙ্গে ক্ষীণ সংযোগসূত্র পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে গৃহদ্বারের রক্ষীরা কেউ কেউ একটু বোকা হতো। তাদের ধোঁকা দিয়ে তস্করমশাই বাড়ির ভেতরে ঢুকে কাজ হাশিল করে বেরিয়ে যেত।

Asit Das
৪ মিনিট
আসল মানে আমগাছ, যেভাবে স্ল‍্যাং হয়ে উঠল 'চূত' শব্দটি

আজকের শব্দ 'চূত'। মানে আম বা আমগাছ। যদিও আরও কয়েকটি অপ্রচলিত অর্থ আছে শব্দটির। সংসদ বাংলা অভিধানে 'চূত'-এর ব্যুৎপত্তি দেওয়া হয়েছে, [ সং.√চুৎ + অ(দীর্ঘ-ঊ)]। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের 'বাঙ্গালা ভাষার অভিধান'-এ চূত-এর ব্যুৎপত্তি এরকম, [চূষ(চুষা) + ত(র্ম্ম )]। আম বা আমগাছ অর্থে এই ব্যুৎপত্তি। আবার ব্যুৎপত্তি যখন [চুত্(ক্ষরণে) + অ(অপা°], তখন এর অর্থ প্রসবদ্বার। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' জানাচ্ছে, চূত শব্দটির ব্যুৎপত্তি হল, [√চুৎ ক্ষরণ + অ (ক)-ক, দীর্ঘ (অ-টী)]। চূতক, চূতমঞ্জরী, চূতলতা, চূতকোরক, চূতাঙ্কুরস্বাদ, চূতপোত, চূতবিকার, চূতপল্লবিত ঘট ইত্যাকার শব্দ ও শব্দবন্ধও উল্লিখিত হয়েছে বিভিন্ন অভিধানে।

সুবলচন্দ্র মিত্রর 'আদর্শ বাঙ্গালা অভিধান'-এ (বর্তমান সংস্করণের নাম 'সরল বাঙ্গালা অভিধান') 'চূত' শব্দটির ব্যুৎপত্তি হরেদরে একইরকম, তবে প্রাগুক্ত অর্থগুলি ছাড়াও একটি অর্থ আছে। সেটি হল 'গৃহদ্বার', অর্থাৎ বাড়ির মূল দরজা। তেমনই নগেন্দ্রনাথ বসু প্রণীত বিশ্বকোষ-এ একটি অতিরিক্ত অর্থ আছে, মলদ্বার।

এ তো গেল ব্যুৎপত্তিবিষয়ক গৌরচন্দ্রিকা। আমরা আধুনিক সময়ের লোকজন 'চূত' শব্দটি বলছি না কেন? কেনই বা ভুলে মেরে দিলাম চূত-কে? বস্তুত আম ছাড়া বাঙালি আর কোনও প্রতিশব্দই আজকাল ব্যবহার করে না। আম্র, রসাল, সহকার, মাকন্দ, আঁব- কে কে কবে কোথায় আর ব্যবহার করছে! শুধু তৎসম আম্রকুঞ্জ, আম্রকানন, আম্রপালী লিখতে গেলে আম্র-র ডাক পড়ে। চূত-র কোনও অর্ধতৎসম বা তদ্ভব রূপ চোখেই পড়ে না।

অথচ রামায়ণে, কালিদাসের রচনায়, বৌদ্ধ সাহিত্যে আম-অর্থে চূত-ই মূলত ব্যবহৃত হতো, আম্র অনেক পরে এসেছে। তাহলে কি চূত শব্দটি উবে গেল? না কি যৌনগন্ধবাহী সমোচ্চারিত একটি শব্দের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল? বাঙালির ভোকাবুলারি থেকে শ্লীল চূত-কে বিদায় দিয়ে স্ল্যাং 'চুত' শব্দটির মৌরসিপাট্টা শুরু হল? না কি কোথাও কোথাও শালীন অর্থেই ব্যবহৃত হচ্ছে এর তদ্ভব বা অপভ্রংশ-প্রাপ্ত রূপ?

চূতীয়া (চুতিয়া) শব্দটিকে বাঙালি স্ল্যাং হিসেবেই ধরে। কিন্তু হিন্দি অভিধানে 'চূতীয়া' (অবিকল এই বানান) শব্দের অর্থ মূর্খ বা বোকা। বাঙালি 'চূতীয়া' বা 'চুতিয়া' যে প্রাবল্য ও আক্রোশের সঙ্গে উচ্চারণ করে, তাতে মূর্খ অর্থ ছাড়িয়ে অনেক গভীরে তার বিস্তার ঘটে। হিন্দি শব্দকোষ জানাচ্ছে, চ্যুত বা পতিত থেকে চূতীয়া। বুদ্ধিচ্যুত, জ্ঞানচ্যুত হলেই লোকে 'চূতীয়া'। অন্তত হিন্দি অভিধানে 'চূতীয়া' শব্দটি শালীন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধর্মতলা আসলে এসেছে 'দ্রুম' শব্দটি থেকে? জেনে নিন, আসলে কী অর্থ

সুবলচন্দ্র মিত্র সংকলিত 'আদর্শ বাঙ্গালা অভিধান'-এ দ্রুম শব্দটির অনেকগুলি অর্থ দেওয়া হয়েছে। যথা, বৃক্ষ, পারিজাত বৃক্ষ, কুবের আর রুক্মিণীগর্ভজাত কৃষ্ণের পুত্র।

বাংলা অভিধানগুলির মধ্যে একমাত্র জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের 'বাঙ্গালা ভাষার অভিধান'-এ চুতিয়া শব্দটি দেখতে পাচ্ছি। একটি অর্থ মূর্খ, এসেছে হিন্দি 'চূতীয়া' থেকে, আর একটি অর্থ লোহা পেটানোর হাতুড়ি।

মূর্খার্থে 'চুতিয়া' শব্দটির গোড়া খুঁজলে আম বা গৃহদ্বারের সঙ্গে ক্ষীণ সংযোগসূত্র পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে গৃহদ্বারের রক্ষীরা কেউ কেউ একটু বোকা হতো। তাদের ধোঁকা দিয়ে তস্করমশাই বাড়ির ভেতরে ঢুকে কাজ হাশিল করে বেরিয়ে যেত। তা থেকেই 'চূতীয়া'-র অর্থ মূর্খ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ যে 'চূতীয়া' শব্দটি ব্যবহৃত হতো দ্বাররক্ষী বোঝাতে, সেই শব্দেরই মানে বদলে গিয়ে মূর্খ হয়ে গেল। আবার, আমগাছ থেকে আম পাড়তে গিয়ে গোলা লোক গাছের ডাল থেকে পড়ে গিয়ে মূর্খের তকমা পেতে পারে আমজনতার কাছে। মূর্খ কালিদাসের মতো কেউ যে আমগাছের ডালে বসেই ডালের গোড়াটি কাটছিল না, তা কে বলতে পারে! তাই চূত থেকে হিন্দি ও বাংলা চূতীয়া (চুতিয়া) শব্দ আসার সম্ভাবনা আছে। অসমের একটি প্রাচীন অঞ্চলের নাম চুতিয়া। জানি না, এটি আমের কারবারিদের স্বর্গরাজ্য ছিল কিনা।

'চুদুরবুদুর' শব্দটি একসময় চারদিকে বেশ শোরগোল ফেলেছিল। বাংলাদেশ থেকে ভারতে এর ঢেউ এসে পৌঁছেছিল। ত্রিপুরার আগরতলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার বিভাগীয় প্রধান নির্মল দাস শব্দটিকে গ্রাম্য, শালীন তকমা দিয়েছিলেন। শব্দটি শ্লীল না অশ্লীল, সে নিয়ে পণ্ডিত ও বিদ্বজ্জনমহলে ব্যাপক তর্কবিতর্ক দেখা গিয়েছিল সেসময়। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে আসা হয়েছিল, শব্দটি মোটেও অশ্লীল নয়, রীতিমতো শালীন, তবে শব্দটি গ্রাম্য। ভাষাবিদরা কিন্তু শব্দটির ব্যুৎপত্তি দেননি। অনার্য শব্দ এটি, মাত্র এটুকুই জানিয়েছিলেন।

আমি অনেক খোঁজ নিয়েছি শব্দটির উৎস সম্বন্ধে। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান'-এ শব্দটির অর্থ আছে– বাড়াবাড়ি, গড়িমসি। এক ধরনের খেলাও আছে চুদুরবুদুর নামে। বস্তুত টালবাহানা করা, উল্টোপাল্টা বকা, এদিক-সেদিক করা, ধানাইপানাই করা-কে আমরা এ-বঙ্গে 'চুদুরবুদুর করা' বলি। সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্যের 'হারবার্ট' উপন্যাসে শব্দটি একাধিকবার ব্যবহৃত হয়েছে।

চূত মানে যেমন আম, বদর মানে কুল। সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে, চূতঃ + বদরং= চূতর্বদরং, বাংলায় 'চূতর্বদর'। মানে, আমের মধ্যে থাকা কুল। আম একটি গ্রীষ্মকালীন ফল, কুল শীতকালীন। আম আকারে বড়, কুল ছোট। আম মূলত মিষ্ট স্বাদের, আর কুল অম্লতার দ্যোতক। তাই ফলদুটি পরস্পর বিপরীতধর্মী। কবি সুকুমার রায় আবোলতাবোল-এ লিখেছেন, 'আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে/ কাঁচা ইট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে।'

উল্টোপাল্টা কথা বলা, দীর্ঘসূত্রিতা করা, টালবাহানা করা অর্থে 'চূতর্বদর করা' বোঝাত। চূতর্বদর থেকে অপভ্রংশে চুদুরবুদুর হয়ে গেছে। বস্তুত এটি একটি কৃষিভিত্তিক প্রবচন। মানুষের কথা বলার বিভিন্ন ভঙ্গি বোঝাতে অনেকগুলি বাংলা প্রবচন আছে। লক্ষণীয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি-দু'টি ফল বা ফসলের নাম থাকে এই ধরনের প্রবচনে। যথা, আমড়াগাছি করা, খেজুরে আলাপ করা, তিলকে তাল করা, ধানাইপানাই করা, তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠা, মুখে খই ফোটা ইত্যাদি। এই গোত্রেরই প্রবচন 'চূতর্বদর করা' বা 'চুদুরবুদুর করা'।

সংস্কৃত বা তৎসম বাংলা থেকে একটি ব্যুৎপত্তি তো পাওয়া গেল, অস্ট্রিক বা দ্রাবিড় থেকে কিছু আসতে পারে কি? অধ্যাপক ক্ষুদিরাম দাস সংকলিত 'সাঁওতালি বাংলা সমশব্দ অভিধান'-এ চুদুরবুদুর শব্দটি নেই। আবার ড. সত্যনারায়ণ দাশ বিরচিত 'বাংলায় দ্রাবিড় শব্দ' বইটিতেও 'চুদুরবুদুর' শব্দটি নেই। তাই চুদুরবুদুর শব্দটি অনার্য ভাষা থেকে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তবে সাঁওতাল বা মুন্ডাসমাজে 'চদর বদর' বলে একটি পুতুল খেলা প্রচলিত আছে। এখনও পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-বীরভূমে খেলাটি টিকে আছে। যদিও কলাকুশলীর অভাবে খেলাটি অস্তিত্বের সংকটে। এই চদরবদর-ও কিন্তু সাঁওতালি বা মুন্ডারি ভাষা থেকে আসেনি। বাংলা 'চাদর বাঁধনী'-ই নাকি লোকমুখের অপভ্রংশে চদরবদর, এটাই বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস। এর সঙ্গে চুদুরবুদুর করার কোনও মিল খুঁজতে যাওয়া অনাবশ্যক।

হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' অভিধানে চূতমঞ্জরী নিয়ে একটি অজানা তথ্য আছে। 'কবিপ্রসিদ্ধি যে, চূত স্ত্রীগীতে বিকসিত হয়; স্ত্রীগীত ইহার দোহদ' (বানান অপরিবর্তিত)। অর্থাৎ আগেকার দিনে আমের মঞ্জরী বা মুকুল না এলে স্ত্রীলোকের দল গান গাইত আমবাগানে। আমের মুকুল আনার দোহদ (সাধভক্ষণ) নাকি ছিল নারীকণ্ঠের সংগীত। এই রুদালিজাতীয় কর্মকাণ্ডের কোনও সাক্ষী আর আছে কি না জানি না, তবে প্রথাটি পরিবর্তিত অবস্থায় এখনও থাকতে পারে কোথাও কোথাও। এই চূতরমণীদের কোনও বিবরণ কোনও লেখায় পাইনি আমি, 'চূতরমণী' শব্দটিও অন্তর্জলিযাত্রায়। হয়তো কোনও প্রাকৃত রূপ ধারণ করে শব্দটি আমাদের ভোকাবুলারিতে স্বমহিমায় বিরাজ করছে।

লিখেছেন
Asit Das
Asit Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।