উলঙ্গ হয়ে ষাঁড় ধরা, ঠোঁট কেটে চাকতি বসানো, অবাক করবে আফ্রিকার আদিবাসীদের যেসব রীতি

African Tribes: শিশুকন্যাদের ঠোঁট ফুটো করে কাঠের টুকরো ঢুকিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ফুটোর আয়তন বাড়তে থাকত এবং সেখানে বড় প্লেট বসানো হয়।

Ravhali Biswas
৬ মিনিট
উলঙ্গ হয়ে ষাঁড় ধরা, ঠোঁট কেটে চাকতি বসানো, অবাক করবে আফ্রিকার আদিবাসীদের যেসব রীতি

আফ্রিকাকে মানবজাতির আঁতুড়ঘর বললে ভুল হয় না। সেই আদিম কাল থেকে এখনও অবধি মানুষ নিজেকে সভ্য করেছে একটু একটু করেই। কিন্তু কিছু কিছু উপজাতি নিজেদের ‘সভ্য’ করে গড়ে তুলতে একেবারেই নারাজ। তাঁদের ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি কোনও কিছুরই বদল হয়নি। তাঁদের সেই আদিম কাল থেকে চলে আসা রীতি তথাকথিত 'সভ্য' সমাজের কাছে অনেকসময় নৃশংস এবং ঘৃণ্য ভাবে প্রকাশ পায়।

আফ্রিকার ইথিওপিয়ায় অবস্থিত ওমো ভ্যালি। তুর্কানা দ্বীপের পূর্বদিকে অবস্থিত ওমো অঞ্চল। বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন স্থান এই উপত্যকা। যে কোনও দেশের আদিম ও প্রাচীন সংস্কৃতির সন্ধান সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় সেই দেশে বসবাসকারী উপজাতিদের মধ্যে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ আফ্রিকাতে এইসব উপজাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আরবোরে, সুরি, কারো, হ্যামার, মুরসি, কনসো ইত্যাদি ইথিওপিয়ার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপজাতি। মূলত ইথিওপিয়ার ওমো ভ্যালিতে এইসব উপজাতির সন্ধান পাওয়া যায়। নিম্ন ওমো ভ্যালিকে আফ্রিকার সংস্কৃতি ও একাধিক উপজাতি সম্প্রদায়ের অন্যতম পীঠস্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেকেই ওমোকে মানবজাতির জন্মস্থান বলেও বর্ণনা করেন।

মুরসি ও সুরি উপজাতি

যদি আক্ষরিক অর্থেই কাউকে ঠোঁটকাটা বলতে হয়, তবে সেটা বলতে হবে ইথিওপিয়ান আদিবাসী মুরসি এবং সুরি গোষ্ঠীর মহিলাদের। তাঁদের মতো ঠোঁটকাটা পৃথিবীতে আর দুটো নেই। সিরিয়ালের ছবিতে দেখা হনুমানের বুক চিরে রাম-সীতাকে দেখানোর মতোই মুরসি মেয়েরা নিজেদের নিচের ঠোঁট চিরে চায়ের প্লেট ঢোকায়। ছবিতে নয় কিন্তু, বাস্তবে। ভাবুন একবার!

মুরসি এবং সুরিরা থাকে ইথিওপিয়ার দক্ষিণ ওমো উপত্যকার বনে জঙ্গলে। আফ্রিকার অর্ধ-উলঙ্গ বনচারী আদিবাসী সবাই। কারও গায়ে পশুর ছালের পোশাক, মাথায় পালক, চুলে জবজব করছে লাল মাটি, কারও গা ভরে হরেকরঙা পুঁতির, ধাতুর বা পশুর হাড়ের গয়না, কারও কারও সারা গায়ে-মুখে খড়িমাটি দিয়ে নকশা আঁকা। সুরি আর মুরসি উপজাতির মেয়েদের পনেরো ষোল বছর বয়স হলেই ওদের নিচের ঠোঁট চিরে, কাটা জায়গায় কাঠের টুকরো গুঁজে দেওয়া হয়। পরদিন টুকরোটা বের করে আর একটু বড় সাইজের টুকরো ঢোকানো হয়। তারপর দিন আর একটু বড়। এইভাবে রোজ কাটা ঠোঁটে টান পড়তে পড়তে কাটা অংশের ফাঁকটা বাড়তে থাকে। তখন মাটির গোলাকার চাকতি লাগিয়ে দেওয়া হয় ওইখানে। কয়েকমাস ছাড়া ছাড়া চাকতি বদলানো হয়। একটু বড় চাকতি, তারপর আর একটু বড়। এরকম করে করে ঠোঁটের কাটা অংশ বাড়তে বাড়তে যখন চায়ের প্লেটের সমান সাইজের চাকতি ধারণ করতে সক্ষম হয়, তখন সেইটাই হয়ে যায় স্থায়ী অলংকার। সেই মাটির প্লেটে আবার সাদা কালো-হলুদ দিয়ে নকশা আঁকা থাকে। অত বড় প্লেটের ভারে নরম ঠোঁট উলটে ঝুলে থাকে গলা অবধি। নিচের পাটির দাঁত, মাড়ি সব বেরিয়ে পড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঋতুমতী কন্যারা ব্রাত্য, কীভাবে নির্বাচন করা হয় কুমারী পুজোর বালিকাদের?

Mahashtami Kumari Puja: যে সংস্কৃতিতে হাজার বছর ধরে একটি মেয়ের সম্মান নির্ধারণ করা হয় ‘কুমারীত্ব’ আর ‘পুত্রসন্তান উৎপাদনের’ মাধ্যমে, সে সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকেই।

তবে এই অদ্ভুত প্রথার পিছনে আরও একটি তথ্য একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম, ১৯৩৮ সালের এক রিপোর্টের সূত্রে বলা হয়েছে, দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই আজব প্রথা শুরু হয়েছিল। একসময় আরবের ধনী ব্যক্তিরা এই এলাকার নানা গ্রামে এসে মেয়েদের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার চালাত। তাঁদের দাস হিসেবে কিনে নিয়ে যেত। এই দাসত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই ঠোঁট কেটে প্লেট বসানোর প্রথা চালু হয়। যাতে মহিলাদের দেখতে খারাপ লাগে। তাঁদের আর কেউ পছন্দ না করে। ওমো উপত্যকার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও শিশুকন্যাদের ঠোঁট ফুটো করে কাঠের টুকরো ঢুকিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ফুটোর আয়তন বাড়তে থাকত এবং সেখানে বড় প্লেট বসানো হয়।

আবার ওদের ছেলেমেয়ে সকলের হাতে, পিঠে, বুকে, পেটে দেখা যায় অজস্র ক্ষতচিহ্ন। কোনও মারপিট, দুর্ঘটনার ব্যাপার নয়। নিজেদের শরীরে নিজেরা বা অন্য কাউকে দিয়ে কাচের টুকরো বা ছুরির সাহায্যে খুঁচিয়ে এইসব করে। চামড়া ভেদ করে মাংস পর্যন্ত কেটে যায় তাতে। তারপর কাটা জায়গায় গাছের রস, কাঠকয়লার গুঁড়ো দিয়ে ইচ্ছে করে ইনফেকশন বাঁধায়। তাতে হয় কী, ঘা শুকিয়ে যাওয়ার পরেও কাটা অংশ বরাবর চামড়া ফুলে উঁচু হয়ে থাকে। যে যেমন প্যাটার্নে কাটবে, তেমন নকশা হয় তার শরীরে। সরলরেখায় জ্যামিতিক নকশা, জিলিপির প্যাঁচ, ঢেউ, ফুলছাপ, ডোরাকাটা যা খুশি হতে পারে। কেউ কেউ পাশাপাশি ছোট ছোট ঘা বানিয়ে বুটি বুটি প্যাটার্নও বানায়।

আদিবাসীদের থ্রিডি ট্যাটু বলা যায় একে! কিন্তু ট্যাটু করা হয়তো এর চাইতে ঢের কম যন্ত্রণাদায়ক। সে তো শুধু চামড়ার ওপরের স্তরে খোঁচাখুঁচি। অল্পদিনেই ঘা শুকায়। আর এখানে কমপক্ষে ছ’মাস থেকে এক বছর লেগে যায়। কিন্তু এসব কেন? আদিবাসীদের কথায়, সবই নাকি সৌন্দর্যায়ন। গায়ের ঘা যার যত বেশি, তার যৌন আবেদন তত বেশি! আর ঠোঁটের চাকতি যার যত বড়, সেই মেয়ে তত সুন্দরী, ম্যারেজ মার্কেটে তার মূল্য বেশি। এখানে বিয়েতে কন্যাপণ দেওয়া হয়। মুরসি আর সুরিরা জোয়ার, ভুট্টা চাষ করলেও মূলত পশুপালক। পণ হিসাবে গরু ছাগল দেয় বরের বাড়ি। যে মেয়ের ঠোঁটের চাকতি যত বড়, তার বাবা তত বেশি গরু পাবে মেয়ের বিয়েতে।

হামার উপজাতি

ইথিওপিয়ার আরেকটি জনপ্রিয় উপজাতি হল এই হামাররা। জনসংখ্যায় প্রায় ৪০,০০০ এর কাছাকাছি এই উপজাতি ওমো নদীর তীরে বসবাস করে। প্রধান পেশা গবাদি পশুপালন। আফ্রিকার বন্য উপজাতিদের আচার অনুষ্ঠান একে অপরের থেকে আলাদা। এই জাতির বিশেষত্ব ষাঁড়ের পিঠে দৌড়নো। একজন যুবক পোশাক ছাড়াই এই পশুকে ৪ বার কাবু করলে বিয়ে করার অধিকার পায়। বিয়ের অধিকার পাওয়ার জন্য একজন বর ষাঁড়ের পিঠে উলঙ্গ হয়ে লাফ দেয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলার নিজস্ব সিন্ড্রেলার ক্যাসল রয়েছে এখানে, পুজোর ছুটির ঠিকানা 'প্রাসাদ গ্রাম' ধান্যকুড়িয়া

Dhanyakuria Village Tour: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত ধান্যকুড়িয়া রাজবাড়িকে লোকে ধান্যকুড়িয়ার ক্যাসল বলে চেনে। এটি আসলে বিদেশি দূর্গের আদলে তৈরি একটা বাগানবাড়ি।

মেয়েদের ১২ বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের দিন মেয়েরা চামড়া এবং ধাতু দিয়ে তৈরি একটি কলার পরে থাকে যা খোলা যায় না। প্রতি রাতে এই উপজাতির মধ্যে একটি অনুষ্ঠান হয় যেখানে একজন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে বেত দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। আশ্চর্যের বিষয়, স্বামী এবং স্ত্রী দু’জনেই সমানভাবে এই অনুষ্ঠান উপভোগ করে।

শোনা যায়, হামারদের মধ্যে একটি ভয়ানক এবং নৃশংস রীতি হল ‘মিঙ্গেই রীতি’। এই নিয়মের সঙ্গে যুক্ত আছে শিশু হত্যার মতো কাহিনি। বলা হয়, যেসব শিশু জন্মের সময় কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পায় তাদের কোপা নামক এক পবিত্র স্থানে এনে হাত ও পা চামড়ায় জড়িয়ে মুখ এবং কান মাটি, গোবর এবং মাখন দিয়ে আটকে দিয়ে দেবতাদের কাছে উৎসর্গ করা হয়। এরই নাম মিঙ্গেই। আমার আপনার কাছে এই রীতি বর্বর হলেও আফ্রিকার এই উপজাতিরা বংশপরম্পরায় এই কাজ করে আসছে। বর্তমানে ইথিওপিয়ার সরকার বিভিন্ন এনজিওর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই নৃশংস রীতি বন্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বদি উপজাতি

আফ্রিকার উপজাতিদের বিচিত্র সাজপোশাক ও জীবনচর্চা বাকি দুনিয়ার কাছে প্রায়ই প্রবল কৌতূহল তৈরি করে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ স্থূলতা কমাতে জিমে দৌড়চ্ছে, যোগব্যায়াম করছে, ডায়েট করছে। অথচ, এই উপজাতির পুরুষরা ভুঁড়ি বাড়াবার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে থাকে, কারণ তাঁদের গ্রামের বার্ষিক মোটা হওয়ার প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে পারলেই সারা জীবনের জন্য সে হয় নায়ক। ভুঁড়িই তাঁদের সৌন্দর্যের মাপকাঠি। ইথিওপিয়ার ওমো উপত্যকার এক প্রত্যন্ত কোণে বাস করে আফ্রিকান বদি উপজাতি। এই উপজাতির যুবকরা, সবচেয়ে মোটা পুরুষের শিরোপা পাওয়ার জন্য জানপ্রাণ লড়িয়ে দেয়।

বলা হয়, তাঁদের গ্রামে ‘হিরো’ হতে গেলে, কোনও সাহসিকতার কাজ করতে হয় না। প্রতি বছর নববর্ষের সময়, গ্রামে ‘কায়েল’ উৎসব হয়। তার ছ’মাস আগে থেকে গ্রামের কিছু যুবককে বাছাই করা হয় এই প্রতিযোগিতার জন্য। পরের ছ’মাস তারা নিভৃতবাসে থাকে। তাঁদের বিশেষ খাবার এবং পানীয় দেওয়া হয়। তারপর, কায়েল উৎসবে তাঁরা নিজেদের নতুন মোটা শরীর প্রদর্শন করে। সেই শরীর প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে পারলেই, বাকি জীবনের জন্য গ্রামে নায়কের সম্মান পাওয়া যায়।

কিন্তু মোটা হওয়ার জন্য কী বিশেষ খাবার গ্রহণ করেন তাঁরা? জানা গিয়েছে, গরুর রক্ত ​​এবং দুধ মিশিয়ে এক বিশেষ মিশ্রণ তৈরি করা হয়। সেটি, বাছাই হওয়া যুবকদের নিয়মিত পরিবেশন করেন গ্রামের মহিলারা। এই বিশেষ পানীয়ই তাঁদের বড় পেট বা ভুঁড়ির উৎস। তবে, এই মিশ্রণ তৈরির জন্য কিন্তু কোনও গরুকেই হত্যা করা হয় না। বদি উপজাতির কাছে গরু পবিত্র। তাই, গরুর রক্ত সংগ্রহের জন্য একটি বর্শা বা কুড়ুল দিয়ে গরুর একটি শিরা কেটে রক্ত বের করে নেওয়া হয়। তারপরে, আবার কাদামাটি দিয়ে ওই ক্ষত নিরাময় করে দেওয়া হয়।

ছ’মাস বাদে প্রতিযোগীরা তাঁদের নিভৃতবাস থেকে বেরিয়ে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তারপর তাঁদের শরীরে তাঁরা মাটি এবং ছাই দিয়ে নকশা আঁকে। মহিলারা তাঁদের শরীরে বেঁধে দেন নানারকম রঙিন পাথরের তৈরি অলঙ্কার। এরপর, একটি পবিত্র গাছের চারপাশে বৃত্তাকারে তাঁদের দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে হাঁটতে হয়। অনেকেই, সেই পরিশ্রম সহ্য করতে পারেন না। গ্রামের মহিলারা প্রতিযোগীদের মদ পান করান। তাঁদের ঘাম মুছিয়ে দেন। সবচেয়ে স্থুল ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার পর, গ্রামের প্রবীণরা বিজয়ীর ভবিষ্যত নির্ণয়ের জন্য তার ভুঁড়ি ও রক্ত ​​পরীক্ষা করেন। সবশেষে একটি বড় পবিত্র পাথর দিয়ে একটি গরু জবাই করে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

সাধারণত, কায়েল অনুষ্ঠানের পরে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই খাওয়া কম হওয়ার কারণে এই পুরুষরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। অধিকাংশ প্রতিযোগীরই বিশাল ভুঁড়ি কমে যায়। আর তারপরই, পরের বছরের প্রতিযোগিতার জন্য আবার কয়েকজন পুরুষকে বেছে নেওয়া হয়। তবে, ভুঁড়ি কমে গেলেও কায়েলের বিজয়ীরা সারা জীবনই গ্রামে অনন্য সম্মান পেয়ে থাকেন। তাই, এই উপজাতির পুরুষরা, ছোট থেকেই কায়েল প্রতিযোগিতা জেতার স্বপ্ন দেখতে থাকে। বিয়ের ক্ষেত্রেও ভুঁড়িওয়ালা মোটা পুরুষদেরই কদর বেশি। কাজেই ভুঁড়ি বা ওজন বাড়লে হতাশ হবেন না, বা দুঃখ পাবেন না।

সকল উপজাতির মধ্যেই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা নিয়ে এক তীব্র গর্ব আছে। যাঁর যত বড় ঠোঁটের চাকতি, যাঁর গায়ে যত বেশি ক্ষত, অর্থাৎ কিনা যাঁর শরীরে কষ্ট সহ্য করার চিহ্ন যত বেশি, তাঁদের চোখে তিনি তত বেশি সুন্দর। আবার যে যত বেশি মোটা তাঁর সম্মান তত বেশি। বিপদসঙ্কুল বন্য পরিবেশে যাঁদের বাস, প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাঁদের চলতে হয়, তাঁদের জীবনযাপনের সঙ্গে সাহস আর সহ্যশক্তি জড়িয়ে থাকে। তবেই না ভয়ের সঙ্গে, বিপদের সঙ্গে লড়াই করা যাবে।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।