কোনওটা ১০ বছর, কোনওটা আবার ৫৭! যেসব বই লিখতে সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে

Longest time to write Books : সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে লেখা হয়েছিল বিখ্যাত কিছু বই, এক নজরে দেখে নিন তালিকা...

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
কোনওটা ১০ বছর, কোনওটা আবার ৫৭! যেসব বই লিখতে সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে

বই; দুই অক্ষর, দুই মলাট। অথচ এর মধ্যেই রয়েছে পৃথিবীর সমস্ত কিছুর হিসাব। যে কোনও বিষয়ে যা কিছু জানার পরিধি তার সন্ধান মেলে এই দুই মলাটের মধ্যেই। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে নেট দুনিয়ার দৌলতে ই-বুক এসেছে ঠিকই তবে বইয়ের পাতায় পাতায় যে গন্ধটা লুকিয়ে থাকে তার ঐতিহ্য আলাদা। একটা বই মানে তো কেবল কয়েকটা অক্ষর নয়, সেই অক্ষরগুলোর পিছনে জমে থাকা এক একটা লম্বা ইতিহাসও বটে। অনেক দিনের জমানো মুহূর্ত, যারা এতদিন কেবল একটা ক্যানভাস খুঁজছিল, তারা যেন লেখকের কলমের জোরে যথার্থ মুক্তি খুঁজে নেয়। একটা বই মনে তাই বহু বহু ইতিহাস। যা লিখতে কখনও কখনও লেগে গিয়েছে অনেকখানি সময়। টানা কয়েক বছর ধরে লেখা হয়েছে সেইসব কালজয়ী বই। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বিশ্বের এমন কিছু বইয়ের নাম যেগুলি লিখতে সবথেকে বেশি সময় লেগেছিল।

‘লর্ড অব দ্য রিংস’ - জে আর আর টোকিয়েনের লেখা উপন্যাস। কেবল বইয়ের পাতা নয়, পর্দাতেও সমানভাবে সমাদৃত। ড্রাগন, কথা বলা গাছ থেকে ভয়ানক সব জন্তু— সব কিছু মিলিয়েই ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’। গ্যালাদ্রিয়েল চরিত্রটি এই গল্পের কথক।এক দিকে যেমন গ্যালাদ্রিয়েলের কাহিনি এগিয়ে চলে, একই সঙ্গে চলে হারফুর্ট, ডোয়ার্ফ, এল্ভস এবং মানুষের গল্প, তাদের বেঁচে থাকার কাহিনি। গল্প যত এগিয়ে যায়, ততই এক একটি চরিত্রের সঙ্গে আলাপ হতে থাকে। আর এই এতগুলি চরিত্র বলেই গল্প বুনতে অনেকগুলো বছর সময় লেগে যায়। প্রায় ১৭ বছর ধরে লেখা হয় এই অনবদ্য বইটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হোমার থেকে শেক্সপীয়র, কালের যাত্রায় চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে যে বিখ্যাত বইগুলি

Famous Books Lost Completely : বহু পুরনো সেই বইগুলির মূল পাণ্ডুলিপিই এখন আর পাওয়া যাবে না। এরকমই কিছু বইয়ের দিকে একবার ফিরে দেখা যাক…

‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ - ১৯৩৬ সালে লেখা মার্গারেট মিশেলের উপন্যাস। এই গল্পটি নিয়ে তৈরি ছবির নামও গল্পের নামেই, ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’। এটি মার্কিন দেশের দক্ষিণভাগের এক প্ল্যান্টেশন মালিকের মেয়ে স্কারলেট ওহারার গল্প। ১৮৬১-৬৫-র গৃহযুদ্ধের পটভূমিকে প্রেক্ষাপট করা হয়েছে এই গল্পে। একবার পায়ে চোট লেগে বেশ কিছুদিন যাবৎ ভুগেছিলেন লেখিকা মিশেল। এই আরোগ্যের সময়টাই ছিল তাঁর উপন্যাস লেখার শুরু। তবে উপন্যাসের সমগ্র গল্প গোছাতে তাঁর সময় লেগে গিয়েছিল টানা দশ বছর।

‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’ - ১৯৫১ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’ জে.ডি. স্যালিঞ্জারের একমাত্র প্রকাশিত উপন্যাস। এর আগে তিনি ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’ পত্রিকায় কয়েকটি ছোট গল্প লেখেন এবং কয়েকটি উপন্যাসিকা প্রকাশ করেন। তবে সাফল্যের পরও স্যালিঞ্জার আর কোনো উপন্যাস প্রকাশ করেননি। ‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাজে আলোড়ন ওঠে। এতে হোল্ডেন কৌলফিল্ড নামের একজন বিক্ষুদ্ধ বিদ্রোহী কিশোরের ভুতুরে কর্মকাণ্ডের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। গল্পটি অনেক পাঠকের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে আবার অনেককে অসন্তুষ্ট করে। শোনা যায়, উপন্যাসটি প্রকাশের পর অধিকাংশ বিদ্যালয় এটি নাকি নিষিদ্ধও করে দিয়েছিল। এটি শেষ করতে লেখকের টানা দশ বছর সময় লেগে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খোদ মানুষের চামড়া দিয়ে বাঁধানো মলাট! আজও রহস্য বয়ে বেড়াচ্ছে ৫০০ বছরের পুরনো পাণ্ডুলিপি

Ancient Book : ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিক লাইব্রেরির ‘রেয়ার পাবলিকেশন মিউজিয়াম’-এ প্রায় ৮ বছর ধরে বন্দি থাকার পর অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে এমন একটি বই যার বাইরের মলাটের দিকে তাকালেই রীতিমতো গায়ে কাঁটা দেয়।

লা মিজারেবল - এই পৃথিবীতে, এমনকী আমাদের চেনা গন্ডিতেই এমন বেশ কিছু মানুষ আছে যারা ভাগ্যের পরিহাসে সারাজীবন শুধু দুঃখই পেয়ে যান, সুখ তাদের কাছে বহুদূরের এক মরীচিকা হিসেবেই থেকে যায়। এমনই এক চিরদুঃখী মানুষকে নিয়ে প্রখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগো রচনা করেন সর্বকালের অন্যতম সেরা উপন্যাস, নাম ‘লা মিজারেবল’। ১৮৩০ সালে প্রথম এই উপন্যাসটি লেখার ভাবনা মাথায় আসে লেখকের। তবে লেখা শুরু করতে সময় লেগে যায় আরও ১৫ বছর। অবশেষে ১৮৪৫ সালে প্রথম শুরু। এরপর টানা ১২ বছর লাগে লেখার কাজ সম্পূর্ণ হতে। তারও আবার পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ১৮৬২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় এই বিখ্যাত উপন্যাসটি।

স্ফেয়ার - প্রখ্যাত লেখক মাইকেল ক্রিচটনের এই বইটিকে ঘিরে প্রকথম সিনেমা তৈরি হয় নব্বইয়ের দশকে। এটিও বিশ্বের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক স্মারক। এই বইটি শেষ করতে লেখকের প্রায় ২০ বছর সময় লেগে গিয়েছিল।

ক্যান্টোস - টানা কয়েক দশক ধরে প্রখ্যাত লেখক এজরা পাউন্ডের লেখা টুকরো টুকরো অংশের মিশেল এই বই। পাউন্ড ১৯১৫ সালে দ্য ক্যান্টোস বইটি লেখার কাজ শুরু করেন এবং প্রথম তিনটি পর্ব আগামী দুই বছর অর্থাৎ ১৯১৭ সালে পোয়েট্রি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী পর্বগুলি লিখতে সময় লেগে যায় আরো অনেকখানি শোনা যায় কিছু পর্বের খসড়া নাকি তিনি টয়লেট পেপারে লিখেছিলেন। সম্পূর্ণ কাজটি শেষ করেন অর্ধেক জীবনেরও বেশি সময় ধরে। সময়টা ৫৭ বছর।

জুরাসিক পার্ক - মাইকেল ক্রিচটনের দ্বিতীয় বিখ্যাত উপন্যাস এটি। প্রায় আট বছর সময় লেগেছিল এই বিখ্যাত বইটি লিখতে। এই মূলত একটু সায়েন্স ফিকশন। এই বইটিকে ঘিরে সিনেমা থেকে শুরু করে বেশ কিছু ওয়েব সিরিজ হয়েছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে। প্রতি ক্ষেত্রেই এই গল্পের জনপ্রিয়তা জানান দিয়েছে আজও ঠিক কতটা প্রাসঙ্গিক এই লেখনী। এটিও শেষ করতে লেখকের একটা লম্বা সময় লেগেছিল।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।