রোজের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা! অক্সিজেন নিয়ে আসুন এই সস্তার স্বর্গ থেকে

Shivkhola: দার্জিলিং, গ্যাংটক তো অনেকবার গিয়েছেন। তবে সেই সব চিরাচরিত গন্তব্য ছেড়ে বেরিয়ে আসুন বরং একেবারে ছক ভাঙা গন্তব্যে।

Sohini Das
৩ মিনিট
রোজের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা! অক্সিজেন নিয়ে আসুন এই সস্তার স্বর্গ থেকে

শহরের এই ভিড়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন। অফিসের কাজ, বাড়ির একশোটা ঝামেলা সামলাতে সামলাতে নাভিশ্বাস। এই সময় একটাই ওষুধ আপনাকে বাঁচাতে পারে। না, দাওয়াইখানায় মিলবে না সেই ওষুধ। তবে আগেকার দিনের কবিরাজ মশাইরা প্রায়শই শরীর সারাতে এই অব্যর্থ দাওয়াইটির কথা বলতেন। ঠিকই ধরেছেন, মন খারাপ-একঘেয়েমির কঠিন অসুখ থেকে আপনাকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে প্রকৃতির স্পর্শ। দিনকয়েকের ছুটি বাগিয়ে বেরিয়ে পড়ুনই না একবার। চট করে টিকিট কেটে উঠে পড়ুন হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে নিউজলপাইগুড়িগামী যে কোনও ট্রেনে। সবুজ পাহাড়ের স্বপ্ন দেখতে দেখতে লাগান এক ঘুম। দেখবেন চোখ খুলতে না খুলতে পৌঁছে গিয়েছেন সেই স্বপ্নের স্টেশনে।

এই এনজেপি থেকে দার্জিলিং, গ্যাংটক তো অনেকবার গিয়েছেন। তবে সেই সব চিরাচরিত গন্তব্য ছেড়ে বেরিয়ে আসুন বরং একেবারে ছক ভাঙা গন্তব্যে। চারদিকে পর্যটকদের বাঁধভাঙা ভিড় নেই, কোলাহল নেই। বরং ঝরনার অবিরাম বয়ে যাওয়ার শব্দ আর পাখির ডাক আপনার বন্ধু হবে এখানে। যা শহরের দূষণ, ক্যাকাফোনির কথা আপনাকে ভুলিয়ে ছাড়তে বাধ্য। কী যেতে রাজি? তবে এনজেপি স্টেশনে নেমে একটা গাড়ি বুক করে সোজা চলে যান শিবখোলায়।

রংটং থেকে সোজা এগোলেই রাস্তায় পড়বে শিবখোলা। কার্শিয়াং থেকে বেশ কাছে এই জায়গাটি। শিলিগুড়ি শহর থেকে শিবখোলার দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। সুকনা থেকে গেলে আরও কম, আঠারো কিলোমিটার মাত্র। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আপনাকে পৌঁছে দেবে আপনার প্রিয় গন্তব্যে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিঘা-পুরী বাসি! বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরে নির্জনে হোক সস্তার সমুদ্রস্নান

Offbeat Destination: সমুদ্র এখানে দিগন্তরেখা ছুঁয়ে ফেলেছে। সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে একের পর এক নৌকা। আঁশটে গন্ধ ছুটছে হাওয়ায়। দেখা পেতে পারেন লাল কাঁকড়াদেরও।

হালকা ঠান্ডা ছুঁয়ে থাকে শিবখোলাকে সর্বক্ষণ। চারদিক শান্ত, নির্জন। পাশ দিয়ে আপনাকে ছুঁয়ে নেমে যাচ্ছে খরস্রোতা নদী। নদীটির নামও শিবখোলা। পাশেই পাহাড়ের গায়ে গায়ে মনমাতানো চা-বাগান। হোমস্টেগুলি বাগান ঘেঁষা, সে পরিবেশ এতটাই মনোমুগ্ধকর, যে দেখবেন ঘরের ভিতরে ঢুকতেই ইচ্ছা করবে। অন্ধকার নামতে না নামতেই জ্বেলে ফেলুন বনফায়ারের আগুন। নদী-ঝরনার শব্দ, শিরশিরে ঠান্ডার সে রাতের মধ্যে যে কী মোহময় রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তার হদিশ পাওয়া এ শহরে বসে কঠিন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শহর ছেড়ে অনেক দূরে: মন মাতাবেই সবুজে মাখা পাহাড়ি স্বপ্ন-গ্রাম

Bijanbari, A offbeat place near Darjeeling: শহর আর কাজকর্মের শিকলবন্দি জীবনে একটু অক্সিজেন ফেরাতে আপনার ক'দিনের ঠিকানা কিন্তু হতেই পারে সুন্দরী বিজনবাড়ি।

থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা এই শিবখোলায় অভাব হবে না কথা দিচ্ছি। চাইলে থাকতে পারেন শিবখোলা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পের ডিলাক্স রুমেও। অন্যান্য থাকার জায়গাও পেয়ে যাবেন সহজেই। এই ক্যাম্পে নাকি রান্না হয় কাঠের উনুনে। যা খাবারে মাখিয়ে দেয় এক অকৃত্রিম প্রকৃতির স্বাদ। শহরের কোত্থাও যার নাগাল পাবেন না আপনি!

তবে শুধুই কি শিবখোলাতেই বসে থাকবেন নাকি। গাড়ি ধরে টুক করে চলে যান কার্শিয়াং। কার্শিয়াং ঘোরার পাশাপাশি পাখি দেখার শখ থাকলে চলে যান রংটং-এ। পাখি দেখার স্বর্গ এই রংটং। না, শুধু পাখির জন্যই নয়, চা বাগান ঘেরা এই পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যখন দেখবেন পাশ দিয়ে কু ঝিক ঝিক করতে করতে চলে গেল নীল ট্রয়ট্রেনখানা, তখন রাজেশ-শর্মিলা জুটির কথা মনে পড়তে বাধ্য। তাছাড়া রংটংয়ের মোমোর স্বাদ নাকি একবার চাখলে ভোলেন না কেউ! ফলে সেটাও বাদ দেবেন না।

তবে পাখিপ্রেমীদের জন্য শুধু রংটং নয়, এই শিবখোলাও কিন্তু পাখিপ্রেমীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় জায়গা। শিবখোলায় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পের পাশাপাশি রয়েছে বহু পুরনো একটি শিবমন্দির। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এ মন্দির নাকি দারুণ জাগ্রত। ফলে একেবারে নাস্তিক না-হলে একবার ঢুঁ মেরে আসতেই পারেন সেখান থেকেই। আর বাকি প্রকৃতির মায়াবি আঁচল তো রইলই। পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখুন শিবখোলার আশপাশটাও। আর তারপর এত সবুজ-সুন্দরের মধ্যে দু-একদিন থাকার পর যদি শহরে ফেরার না ইচ্ছা না হয়, তার জন্য কিন্তু লেখক দায়ী নয় মোটেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।