নদী-জঙ্গল মাখা রোদের আদর! এই শরতে ডাকছে পাহাড়ি মায়া-গ্রাম

Weekend Trip to Dooars: চারপাশে পাহাড় আর জঙ্গলে মোড়া সে এক অপূর্ব মায়াবি জায়গা যেন। প্রকৃতির পাঠশালা বললেও একে ভুল হয় না।

Sohini Das
৩ মিনিট
নদী-জঙ্গল মাখা রোদের আদর! এই শরতে ডাকছে পাহাড়ি মায়া-গ্রাম

পাহাড়ের নাম শুনলেই যাঁদের মন আনন্দে নেচে ওঠে, ছুট্টে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছা করে বাক্স-প্যাঁটরা বেঁধে, তাদের জন্য রত্নভাণ্ডারে খোঁজ রয়েছে হাতের কাছেই। উত্তরবঙ্গ মানেই আসলে অপূর্ব কিছু ল্যান্ডস্কেপের সেরা ঠিকানা। আকাশে হেলান দেওয়া পাহাড়, উচ্ছ্বল ঝর্নার পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা, বুকে পাথর নিয়ে তিরতিরে করে বয়ে যাওয়া নদী। ঠান্ডার আমেজ আর ধোঁয়া ওঠা মোমোয় মিষ্টি কামড়। এসব গল্প শুনেই যাঁদের মন আনচান, তাদের জন্য সেরা ঠিকানা হতেই পারে ডুয়ার্সের সুনতালেখোলা।

কোনও মতে অফিস থেকে ছুটি বাগিয়ে বেরিয়ে পড়লেই হল। হাতে দিন পাঁচেক মতো সময় হলেই দ্বিতীয় ভূস্বর্গে পৌঁছে দেবে আপনাকে এনজেপিগামী যে কোনও ট্রেন। তবে মালবাজার জংশনে নামলে আরও কাছে পড়বে এই জায়গাটি। চারপাশে চা বাগান, মধ্যিখানে রাস্তা। মেটেলি থেকে গোটা রাস্তাটাই নিয়ে যাবে আপনাকে চা-বাগানের ভিতর দিয়ে। চারদিকে শান্ত, ঠান্ডা শিরশিরে হাওয়া ছুঁয়ে দিচ্ছে বুক-পিঠ-মন। চা গাছকে ছায়া দিয়ে দাঁড়িয়ে পর পর ছায়াবৃক্ষ। একে বলে শেড ট্রি। চা গাছের বেড়ে ওঠার জন্য় নাকি দারুণ জরুরি এই শেড-ট্রি। রোদ ছায়ার সমীকরণ ঠিকঠাক না হলে চা-বাগান নাকি মিছে। সেইসব শেডট্রির ডালে ডালে পাখিদের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে চোখ যাবে চা-বাগান শেষে দাঁড়িয়ে থাকা ভুটান পাহাড়ে। পাসপোর্ট না লাগলেও সে অন্য দেশ। তারই পাদদেশে ছোট গ্রাম। সুনতালেখোলা থেকে সামসিংয়ের দূরত্ব ৯ কিলোমিটার মতো। আর যদি সামসিংয়ের দিক থেকে আসেন, তাহলে সুনতালেখোলার আগেই পড়বে বন দফতরের চেকপোস্ট। সেই চেকপোস্ট পেরিয়ে আরও কিছুটা যেতে না যেতেই পৌঁছে যাবেন সুনতালেখোলা নেচার ক্যাম্পে। চারদিকে জঙ্গল, বুনো গন্ধ। হরেক রকম পাখি আর প্রজাপতির মেলা আশপাশে। শীতকাল আসতে আর বেশি বাকি নেই। এইবার আস্তে আস্তে গাছে ধরতে শুরু করবে কমলালেবু।

চারপাশে পাহাড় আর জঙ্গলে মোড়া সে এক অপূর্ব মায়াবি জায়গা যেন। প্রকৃতির পাঠশালা বললেও একে ভুল হয় না। নেপালি ভাষায় সুনতালের অর্থ নাকি কমলালেবু আর খোলা শব্দের মানে নাকি নদী। বর্ষা গিয়ে সবে। এখনও বর্ষার সবুজ লেগে রয়েছে প্রকৃকির কোলে। এখনও পর্যন্ত অনাবিষ্কৃতই বলা যায় এই জায়গাটিতে। তাই পর্যটকদের তেমন ভিড় নেই এই জায়গাটিতে। নেওড়াভ্যালির গহন অরণ্যে মিশেছে এসেছে এখানে সমতলের সঙ্গে। চারদিকটা ছোটবড় জঙ্গল আর চা-বাগানে ঘেরা। আর তাদের ঘিরে রেখেছে ছোটবড় একগাদা পাহাড়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাহাড়-সমুদ্র বোরিং! দু'হাত বাড়িয়ে আপনাকে ডাকছে অরণ্যসুন্দরী

Forest near Kolkata: বর্ধমান মানেই শুধুমাত্র মিহিদানা আর রাজবাড়ি নাকি। বর্ধমান মানে ভালকি মাচান অরণ্যসুন্দরীও। হাতের কাছেই কলকাতা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে রয়েছে স্বপ্নের জঙ্গল।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই জায়গাটার উচ্চতা প্রায় ৩০০০ ফুট। মূর্তি নদী বয়ে গিয়েছে সুনতালেখোলার বুকের উপর দিয়ে। এই নদীর বুকে রয়েছে কাঠের পাটাতন দিয়ে তৈরি একটি ঝুলন্ত সেতু। নদীর দু-পাড়কে বেঁধে রেখেছে এই সেতু। চারপাশে ঘন জঙ্গল। সেখান দিয়ে এগেলেই বনদফতরের মূল ফটক। এই মূর্তি নদীর তীরে নিস্তরঙ্গ অবসর কাটাতে চাইলে সুনতালেখোলার চেয়ে আদর্শ জায়গা আর কী-ই বা হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রোজের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা! অক্সিজেন নিয়ে আসুন এই সস্তার স্বর্গ থেকে

Shivkhola: দার্জিলিং, গ্যাংটক তো অনেকবার গিয়েছেন। তবে সেই সব চিরাচরিত গন্তব্য ছেড়ে বেরিয়ে আসুন বরং একেবারে ছক ভাঙা গন্তব্যে।

চারপাশে রয়েছে একাধিক হোমস্টে। সেখানে থেকে ঘুরে আসতে পারেন সামসিং থেকে। সুনতালেখোলা থেকেই পেয়ে যাবে গাড়ি। মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে রকি আইল্যান্ড। ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকেও। মূর্তি নদীর ধারে পাহাড় আর জঙ্গল নিয়ে রকি আইল্যান্ড। যদি হাঁটাহাঁটির ইচ্ছে থাকে, তা হলে সেখান থেকে গাইড নিয়ে চলে যেতে পারেন নাগাভ্যালি। সেখান থেকে ৫ কিমি দূরে ফুলে ফুলে সেজে থাকা মোহময়ী সুন্দরী গ্রাম। আরও এগিয়ে পথ গিয়েছে আরণ্যক সাকাম-এ। তাছাড়া যেতে ঝালং এবং প্যারেন-এও। এ দু'টি জায়গাও খুব বেশি দূরে নয় সুন্তালেখোলা থেকে। ঘুরে আসতে পারেন বিন্দু থেকেও। একই রুচটে পড়বে চাপড়ামারি জঙ্গল, গরুমারা ন্যাশনাল পার্কও। এমনকী হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন ঝান্ডি থেকেও।

সব ঋতুতেই আলাদা আলাদা রকমের সুন্দর সুনতালেখোলা। গ্রীষ্মের ছাপ তেমন নেই এখানে। তবে বর্ষায় ফুলেফেঁপে ওঠে মূর্তি। পাহাড় থেকে নামা ঝর্নাগুলোর শরীরেও লাগে আলাদা স্রোত। বর্ষার জল গায়ে পড়তে না পড়তে অন্যরকম ভাবে সেজে ওঠে গোটা জঙ্গল। ঝাউ, দেবদারু, মেহগিনি, অর্জুন বা কমলালেবু গাছেদের তখন পায় কে! শীতের ছোঁয়া লাগতে না লাগতেই প্রজাপতির মেলা বসে। কুয়াশামাখা পাহাড়েরা দাঁড়িয়ে থাকে রোদের আশায়। পাখিদের ওড়াউড়ি বাড়ে। শীত আর বর্ষার মাঝখানের এই সময়টা তো সবদিক থেকেই আদর্শ। ফলে সারাবছরের যে কোনও সময় তো যেতেই পারেন সুনতালেখোলা, তবে শরতের মায়ামাখা রোদ্দুরে গা ভেজাতে চাইলে আর দেরি করার সময় নেই। আজই ব্যাকপ্যাক তুলে বেরিয়ে পড়ুন সুন্দরী সুনতালেখোলার উদ্দেশে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।