প্রয়াত সাহারাশ্রী সুব্রত রায়! গরিবদের টাকা দ্বিগুণ থেকে জেল, বিতর্কই ছিল ছায়াসঙ্গী

Sahara Owner Subrata Roy Passed Away : সাহারাকে ৩৬০ কোটি টাকা ডলার জরিমানা করে সুপ্রিম কোর্ট, ভারতের ইতিহাসে এত টাকা জরিমানার নজির আর নেই।

inscript
৩ মিনিট
প্রয়াত সাহারাশ্রী সুব্রত রায়! গরিবদের টাকা দ্বিগুণ থেকে জেল, বিতর্কই ছিল ছায়াসঙ্গী

সাফল্য-বিতর্ক-জটিলতা এবং সমস্তটা নিয়েই একদিন অন্তরালে চলে যাওয়া। অথচ আড়ালে থেকেও নিজের পরিচিতিকে বিন্দুমাত্র ক্ষয়ে যেতে দেননি যিনি, তিনিই সুব্রত রায়। সাহারা ইন্ডিয়ার নাম ভোলেনি দেশ, ভোলেনি তার স্রষ্টা সুব্রত রায়কেও। দীর্ঘকাল চর্চার বাইরে থেকেও মানুষ ভোলেনি তাঁকে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা শেষে ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সাহারা ইন্ডিয়ার সুব্রত রায়। বহু দিন ধরেই ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, মধুমেহ ছাড়াও হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই অম্বানী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই মঙ্গলবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলায় চিটফান্ড শব্দটির সঙ্গে দুর্নীতি জড়িয়ে যাওয়ার বহুকাল আগেই, চিটফান্ড বিষয়টিকে প্রথম এত জনপ্রিয় করেন সুব্রত। ধুঁকতে থাকা সংস্থাকে করে তোলেন ভারতের অন্যতম বিখ্যাত বাণিজ্যিক নাম!

১৯৪৮ সালে বিহারের আরারিয়াতে জন্ম সুব্রত রায়ের। গোরক্ষপুর টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক তিনি। সাহারা ফাইন্যান্স নামের চিটফান্ড সংস্থাটিকে ১৯৭৬ সালে অধিগ্রহণ করেন সুব্রত। সাহারা ফাইন্যান্সের অবস্থা তখন মোটেও ভালো না। সুব্রত অধিগ্রহণের ঠিক দু'বছর পর ১৯৭৮ সালে সেটির নাম বদলে করে দেন সাহারা পরিবার। দিন-আনা দিন-খাওয়া দরিদ্র মানুষরাই ছিল সুব্রতর সাফল্যের সিঁড়ির এক একটি ধাপ। সাহারা পরিবার এই দরিদ্র মানুষদের থেকে টাকা তুলত। ন্যূনতম টাকা দ্বিগুণ করে ফেরত দেওয়া হতো এই মানুষদের। ক্রমেই এই সাহারা পরিবারের হাত ধরেই ভারতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের তালিকায় নিজের জায়গা পাকা করে নেন সুব্রত। আবাসন শিল্প, সংবাদমাধ্যম, হোটেল ব্যবসা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহারা পরিবারের দাপট ছড়িয়ে পড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আম্বানি, আদানিদের থেকেও বেশি মোট সম্পত্তির পরিমাণ! চেনেন বিশ্বের ধনীতম এই মহিলাকে?

Richest woman in the world : বিশ্বসেরা ধনী এই মহিলার সম্পত্তির পরিমাণ জানলে চোখ কপালে উঠবে যে কারোর

সুব্রত রায়ের উত্থানের কাহিনি আক্ষরিক অর্থেই সিনেমার মতো। স্কুটারে করে নোনতা খাবার বিক্রি করতেন একসময়। ধীরে ধীরে দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের তালিকায় দীর্ঘকাল নিজের জায়গা অটুট রেখেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসর ছিল সাহারা গ্রুপ। ভারতীয় ক্রিকেটারদের জার্সিতে সাহারার নাম জ্বলজ্বল করত একসময়। ভারতীয় রেলের পর সাহারা ইন্ডিয়াই ছিল ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের মাধ্যম। সেই সময় সাহারা ইন্ডিয়ায় কাজ করতেন ১২ লক্ষ মানুষ। মানুষের টাকা নিয়ে মানুষকেই প্রতারণার দায়ে শেষে আদালতের রায়ে সোজা হাজতবাসও জোটে সুব্রতর।

১৯৯২ সালে ‘রাষ্ট্রীয় সহারা’ নামে হিন্দি সংবাদপত্র চালু করেন সুব্রত। তার কয়েক বছর পরে পুণেতে ১০ হাজার একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে শুরু করেন ‘অ্যাম্বি ভ্যালি প্রকল্প’। সাহারার টিভি চ্যানেলও চালু করেন তিনি। লন্ডনের গ্রসভেনর হাউস হোটেল এবং নিউ ইয়র্কের প্লাজা হোটেলের মতো নামী হোটেলও অধিগ্রহণ করেন সুব্রত রায়। একের পর এক খ্যাতি জোটে যেমন, ছায়ার মতো আসে বিতর্কও। দুর্নীতির অভিযোগে জেলও খাটেন সুব্রত।

২০০২ সালে সেবি সুপ্রিম কোর্টে জানায় সহারা গ্রুপ অফ কোম্পানিজ বেআইনিভাবে ৩৫০ কোটি ডলার তুলেছে বাজার থেকে। সাহারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা গ্রহণই করেননি। এই মানুষদের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিল সাহারা। কারা এই বিনিয়োগকারী? অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর অস্তিত্বই নেই বাস্তবে। সাহারা দুর্নীতি মামলায় দরিদ্র-মধ্যবিত্তের থেকে নেওয়া টাকা ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সাহারাকে ৩৬০ কোটি টাকা ডলার জরিমানা করে সুপ্রিম কোর্ট, ভারতের ইতিহাসে এত টাকা জরিমানার নজির আর নেই। ২০১৪ সালের কারাদণ্ড হয় সুব্রত রায়ের। ২০১৬ সালে প্যারোলে মুক্তি পান। তারপর জেলে আর ফিরতে হয়নি ঠিকই তবে সুব্রত চলে যান অন্তরালে। ভারতের ব্যবসার মানচিত্র থেকে ক্রমেই ফিকে হতে থাকে সাহারার নামও। সুব্রত রায়ের মৃত্যু প্রমাণ করল, নাম ফিকে হলেও বিতর্ক ও খ্যাতির ইতিহাস মানুষ মনে রেখেছিল। মৃত্যু সেই ইতিহাসের শেষ পাতা, বলাই যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।