বোতামে আলতো চাপ, এক মিনিটে যন্ত্রণাহীন আত্মহত্যা, সাহায্য করবে এই স্টাইলিশ যন্ত্র

Suicide Machine: এতে শুয়ে একটি মাত্র বোতামে চাপ দিলেই মেশিনটি নাইট্রোজেন গ্যাসে ভরে ওঠে। যার ফলে শায়িত ব্যক্তির শরীরে অক্সিজেন কমে যেতে থাকে দ্রুত।

Sindhu Som
৩ মিনিট
বোতামে আলতো চাপ, এক মিনিটে যন্ত্রণাহীন আত্মহত্যা, সাহায্য করবে এই স্টাইলিশ যন্ত্র

‘গুজারিশ’ ছবিটা ভারতে তেমন চলেনি। একজন পঙ্গু জাদুকর তার শেষ মিরাকলটির জন্য লড়ে যাচ্ছেন। সম্পূর্ণ শরীর পক্ষাঘাতে স্থির। শুধু মাথার ভিতর অতীতেরা আড্ডা দেয়, রঙিন দিনের নেশা জাদুকরকে আরও ক্লিষ্ট করে। তারই মাঝে “মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান”। সেবারত নার্সের সঙ্গে প্রেম, এবং সেই ক্লিষ্ট জাদুকরের সংস্পর্শে প্রেমিকা স্বয়ং জাদুকর হয়ে ওঠে। ঘটিয়ে ফেলে পঙ্গু জাদুকরের বহুকাঙ্ক্ষিত শেষ মিরাকলটি। বিয়ের রাতে মুক্তি। প্রেমিকার বিষের জাদুতে ঘুমের মধ্যেই শান্ত, কোমল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে জাদুকর। জীবনের খাঁচা আর তাঁকে পিষতে পারে না অবিরত। কী ভাবছেন? আত্মহত্যাকে মহিমান্বিত করা হচ্ছে? না। কোনও কিছুকেই মহিমান্বিত করা ঠিক নয়। কিন্তু স্থান-কাল-পাত্র বিশেষে আত্মহত্যাও যথাযথ। ভারতের আইন এখনও সে কথা স্বীকার করে না। কিন্তু সুইজারল্যান্ড ইতিমধ্যে এমন একখানি মেশিন তৈরি করে ফেলেছে, যার সাহায্যে বিনা যন্ত্রণায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে মানুষ। সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায়। সম্প্রতি সেই মেশিন আইনি স্বীকৃতি পেল।

ইয়ুথেনেশিয়া বা অ্যাসিস্টেট সুইসাইডের কোনো যোগ্য বাংলা তর্জমা নেই। ‘ইচ্ছামৃত্যু’র এমন একটি পৌরাণিক অনুষঙ্গ ভারতীয় সমাজে বর্তমান যে তার সঙ্গে ইয়ুথেনেশিয়ার ধারণা খুব একটা যায় না। তবে বিদেশে এ জিনিস দীর্ঘকালব্যাপী হয়ে আসছে। ফ্রয়েডের নাম আজ মোটামুটি সবাই জানেন। কড়া সিগার খেতেন। তার থেকে চোয়ালে ক্যানসার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ইয়ুথেনেশিয়া বেছে নিয়েছিলেন। আজকাল বেশ কয়েকটি দেশে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। আমেরিকা মহাদেশের দশটি দেশে এবং কলম্বিয়ায় সাঙ্ঘাতিক অসুস্থ অথচ মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ সমর্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ইয়ুথেনেশিয়ার অধিকার দেওয়া হয়। তবে ছ’মাস তার আগে পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। এর মধ্যে যদি শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটে, বা মানসিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে রোগী অসমর্থ হয়ে পড়ে, তবে ইয়ুথেনেশিয়ার অনুমতি মেলে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তামাকেই মৃত্যু! যে কারণে দেশে হু হু করে বাড়ছে মুখের ক‍্যানসারে আক্রান্তর সংখ্যা

Oral Cancer: ভারতে ওরাল ক্যানসার-আক্রান্তদের সংখ্যা যেভাবে দিন দিন বাড়ছে, তা যথেষ্ট চিন্তার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছেও।

নেদারল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের মতো দেশগুলিতে মানসিক বা/এবং শারীরিকভাবে চূড়ান্ত পীড়িত ব্যক্তিকে ইয়ুথেনেশিয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সুইশ আইনে এমন কোনও কারণ নির্দিষ্ট করা নেই। সুইশ আইন অনুযায়ী যে কোনও ব্যক্তিই আত্মহত্যায় সাহায্য করতে পারেন, যদি সেই আত্মহত্যার সঙ্গে তার স্বার্থ না জড়িয়ে থাকে। অর্থাৎ পরিকল্পিত খুন বা অর্থলাভের সম্ভাবনা থাকলে সহযোগীকে দোষী হিসেবেই দেখবে আইন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্টিয়ারিং বুকে লেগে স্পট ডেথ— সিনেমায় আর ফেরা হয়নি ছবি বিশ্বাসের

Chhabi Biswas: ইন্দ্রপুরীর বন্ধ গেটের সামনে একট চেয়ার নিয়ে বসে আছেন ছবি বিশ্বাস। তাঁর দু’পাশে মাটিতে রাজ্যের টেকনিশিয়ান। রাস্তা দিয়ে বাস যাচ্ছে, ধুলো উড়ছে, লোকে বলাবলি করছে, “আরে ছবি বিশ্বাস রে। ছবি বিশ্বাস।”

এই সুইজারল্যান্ডেই ফিলিপ নিচকে নামক এক ব্যক্তি কয়েক বছর আগে একটি মেশিন তৈরি করেন। মেশিনটি দেখতে কফিনের মতো। অত্যন্ত সুদৃশ এবং স্টাইলিশ। নাম সার্কো। এটির মাধ্যমে বিনা যন্ত্রণায় আত্মহত্যা সম্ভব। এতে শুয়ে একটি মাত্র বোতামে চাপ দিলেই মেশিনটি নাইট্রোজেন গ্যাসে ভরে ওঠে। যার ফলে শায়িত ব্যক্তির শরীরে অক্সিজেন কমে যেতে থাকে দ্রুত। শায়িত ব্যক্তি কয়েক মুহূর্তে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দমবন্ধ হয়ে আসা বা অন্যান্য শারীরিক কষ্টজনিত দুর্ভোগ বিন্দুমাত্র পোহাতে হয় না। অক্সিজেনের অভাবে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু। এবং এই মেশিন আত্মহত্যাকারীর ইচ্ছা মতো যত্রতত্র নিয়ে যাওয়া যায়। নির্বাচিত জায়গায় চিরঘুমে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন সেই ব্যক্তি।

মেশিন তৈরি হয়ে গেলেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল নিচকে-কে। এর নানান সমস্যার দিকগুলি তুলে ধরেছিলেন নানা প্রাজ্ঞজন। ড্যানিয়েল সামসে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে কেনেডি ইনস্টিটিউট অফ এথিকসের ডিরেক্টর। ক্যাপসুলটির বিলাসবহুল গাড়ির মতো চকচকে নজরকাড়া ডিজাইনের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। তাঁর মতে আত্মহত্যাকে গ্ল্যামারের মোড়কে পেশ করা হচ্ছে এভাবে। এই বিষয়ে অনলাইনে নিচকের খোলামেলা আলোচনাকেও ভালো ভাবে গ্রহণ করেননি ভদ্রলোক। বলেছেন, এতে করে ছোঁয়াচে রোগের মতো আত্মহত্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্ষরিক অর্থেই আত্মহত্যার ব্যাপারটা ছোঁয়াচে। তার এমন মহিমান্বিত উপায় সম্বন্ধে নিচকের আন্তর্জালে খোলামেলা পোস্ট দেওয়াটা উচিত হয়নি। এমনকি স্টিফেন ডাকওয়র্থ নামের এক উকিল, তিনি ইয়ুথেনেশিয়ার সমর্থক হয়েও এই মেশিনটিকে মেনে নিতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইয়ুথেনেশিয়ার মতো সংবেদনশীল ব্যাপারে সবার আগে নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত। রাগের মাথায় যদি কেউ ব্যবহার করে ফেলেন এই মেশিন? যদি কোনও শিশুর হাতে পড়ে? যদি খুনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়? যদি শান্তিপূর্ণ ভাবে মৃত্যু না ঘটে ব্যক্তিটির, এবং সাহায্যটুকু পর্যন্ত চাইবার অবস্থায় না থাকেন তিনি? এমন অজস্র সম্ভাবনার উল্লেখ করেন ভদ্রলোক।

যদিও নিচকের বক্তব্য ছিল, বছর পঞ্চাশের ওপরে যাদের বয়স তাঁদেরকেই সার্কো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে এবং অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে তাঁর মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য। পুরোটাই অলাভজনক পদ্ধতিতে এগজিট ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা আয়োজিত হবে। সেই মেশিনকেই আইনি স্বীকৃতি দিল সুইজারল্যান্ডের সরকার। গত বছরেই ইয়ুথেশিয়ার সংখ্যা সুইজারল্যান্ডে মোট ১৩০০। সেই ঘটনাকে সামনে রেখেই এই মেশিন উন্নত পরিষেবা দেবে বলে মনে করছেন নিচকে। আপাতত দু’টি প্রোটোটাইপ রয়েছে। আরো একটি প্রোটোটাইপ থ্রিডি প্রিন্টিং করতে চলেছে এগজিট ইন্টারন্যাশনাল। সামনের বছরের মধ্যেই পুরোপুরি কাজ করবে এই সার্কো। আদতেই কি ইয়ুথেনেশিয়াকে গ্ল্যামারাইজ করবে এই মেশিন? নাকি উপকৃত হবে মানুষ? শেষ কথা বলবে সময়ই।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?