পূর্বপুরুষের তৈরি হাসপাতাল! আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় কর পরিবারও

R G Kar Medical College And Hospital Incident: সেই গৌরবের প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের নারকীয় ঘটনা এত বছরের গরিমাকে নষ্ট করছে বলে জানান প্রতিষ্ঠাতা রাধাগোবিন্দ করের পরিবারের লোকজন।

subhajit putatunda
৩ মিনিট
পূর্বপুরুষের তৈরি হাসপাতাল! আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় কর পরিবারও

গত কয়েক দিন ধরে শিরোনামে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। গত শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালের বক্ষ বিভাগের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় এক চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে মেলে একাধিক ধর্ষণের চিহ্ন। ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের ঝড় ওঠে। এমনকী সেই ঘটনায় আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে যায় দেশ জুড়ে। ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে রাতের শহর দখল করতে বুধবার রাতে আন্দোলনে নেমেছিলেন মেয়েরা। সেই সময় এক দল দুষ্কৃতী হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন।

১৯১৬ সালের ৫ জুলাই বেলগাছিয়া মেডিক্যাল কলেজ নামে এই হাসপাতালটির উদ্বোধন করেছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম খ্যাতনামা চিকিৎসক রাধাগোবিন্দ কর। তাঁর নাম অনুসারে পরবর্তী কালে এই মেডিক্যাল কলেড ও হাসপাতালের নাম রাখা হয় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। সেই হাসপাতালের প্রথম সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সেই রাধাগোবিন্দ করের স্মৃতিবিজড়িত আরজি কর হাসপাতালের পরিকাঠামোই এখন দেশের সবচেয়ে বেশি চর্চিচ বিষয়। সে নিয়ে কী বলছেন কলকাতার পশ্চিম পাড়ে হাওড়ার বেতরের কর পরিবার? একদিন সেই পরিবারেরই কৃতি সন্তান কলকাতাকে উপহার দিয়েছিল এই হাসপাতাল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘কী করছে পুলিশ?’ আরজি করে ভাঙচুর নিয়ে হাইকোর্টের প্রবল ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য

Kolkata Doctor's Rape and Murder: এদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘পুলিশ নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না। জনতাকে ঠেকাতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা কী ভাবে রক্ষা করবে?’’

অবশ্য সেই হাসপাতালের ইতিহাস আরও দীর্ঘ। সেই পরিবারের বর্তমান সদস্য পার্থ কর জানালেন, ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে দেশে ফেরেন রাধা গোবিন্দ কর। কলকাতায় একটি জাতীয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ডাক দেন এক বৈঠকের। ১৮ অক্টোবর সেই বৈঠকে ডঃ মহেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, ডঃ অক্ষয় কুমার দত্ত, ডঃ বিপিন বিহারী মৈত্র, ডঃ এম্. এল. দে, ডঃ বি. জি ব্যানার্জী এবং ডঃ কুন্দন ভট্টাচার্য্যের মত কলিকাতার বিখ্যাত চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে ঠিক করা হয়, ব্রিটিশ শাসকদের অধীনতা থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ পৃথক একটি মেডিক্যাল স্কুল তৈরি করা হবে। সেই ভাবনা মতোই ওই বছরই ১৬১, বৈঠকখানা বাজার রোডে তৈরি করা হল ক্যালকাটা স্কুল অব মেডিসিন, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম বেসরকারি হাসপাতাল। কয়েকদিনের মধ্যেই ১১৭ নম্বর, বৌবাজার স্ট্রিটে উঠে এল হাসপাতালটি। ডঃ রাধাগোবিন্দ কর প্রথম সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সেই হাসপাতালের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি করে ভাংচুর করল কারা? সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে গ্রেফতার বহু

RG Kar Kolkata Police: সেদিনের ভাংচুরের ঘটনার ৫০টিরও বেশি ছবি প্রকাশ করে কলকাতা পুলিশ।

এরই মধ্যে ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে মিশে গেল সেই ক্যালকাটা মেডিক্যাল স্কুল এবং আরও একটি বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার নাম কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জেন্স অব বেঙ্গল। তৈরি হল ক্যালকাটা মেডিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জেন্স অব বেঙ্গল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দের সেটিরই নাম পাল্টে উদ্বোধন করা হল বেলগাছিয়া মেডিক্যাল কলেজ নামে উদ্বোধন করা হয়। পরে রাধা গোবিন্দ করের নামে নামকরণ করা হয় প্রতিষ্ঠানটির। কার্যত সেই সময় মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে তিলে তিলে গড়েছেন তিনি এই স্বপ্নের হাসপাতাল।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে শিক্ষা পরিষেবা ও পঠন পাঠনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা দিতে তৈরি হয়েছিল এই মেডিকেল কলেজ। আর সেই গৌরবের প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের নারকীয় ঘটনা এত বছরের গরিমাকে নষ্ট করছে বলে জানান পরিবারের আর এক সদস্য স্বাগতা ঘোষ। এই ঘটনা রাজ্য, দেশ ছেড়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডের প্রচলিত সংবাদ মাধ্যমেও এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কথায়, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তার দায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিতে হবে। ভুল থাকলে তা শুধরে নিয়ে রাজ্যের মানুষের পাশে থাকতে হবে। এ ঘটনা নিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে সমর্থন জানিয়ে রাধা গোবিন্দ করের উত্তরসূরিরা বলেন এই আন্দোলনের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। বুধবার আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে রাত দখলের কর্মসূচীতে নেমেছিলেন রাজ্যের মহিলারা। সেই আন্দোলনে সামিল হন কর পরিবারও। তাঁদের বাড়ির সদস্যারাও পথে নেমেছিসেন সে রাতে। বর্তমান প্রজন্মের ওই বাড়ির পুত্রবধূ শমিতা কর জানান, গোটা ঘটনায় তাঁরা কার্যত বাকরুদ্ধ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সর্বক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি উঠেছে গোটা পরিবারের তরফেই।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।