মাঝ সমুদ্রে মন্দির, পাহারায় থাকে শতাধিক বিষধর সাপ! ৬০০ বছরের পুরনো এই স্থান আজও বিস্ময়

600 years old mysterious temple: বছরের পর বছর ধরে সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে শত শত বিষধর সাপ, জানেন কোথায় আছে এই বিস্ময়কর মন্দির?

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
মাঝ সমুদ্রে মন্দির, পাহারায় থাকে শতাধিক বিষধর সাপ! ৬০০ বছরের পুরনো এই স্থান আজও বিস্ময়

চারিদিকে অথৈ সমুদ্র, নীল জল আর তারই মাঝে একটা ভাঙাচোরা প্রাচীন মন্দির। বাইরের দেওয়ালের স্থাপত্য দেখলেই বয়স আঁচ করা যায়। প্রায় ৬০০ বছর আগে গড়ে উঠেছিল এই সামুদ্রিক বিস্ময়টি। তারপর সময়ের বহমানতায় বহু কিছুই বদলে গিয়েছে। সমুদ্রের ঢেউ এসে ধাক্কা দিয়েছে প্রাচীন মন্দিরের দেওয়ালে, অথচ একইরকম ঐতিহ্য নিয়ে আজও টিকে আছে এই জায়গা। বয়স যাই বা হোক, ভক্তি এবং ইতিহাসের জোরে প্রাচীন যা কিছু যে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে তা বলাই বাহুল্য। বিশ্বে আজও এমন অনেক জায়গা রয়েছে, ইতিহাসের পাতায় যার ব্যাখ্যা পড়লে রীতিমতো শিহরণ জাগে। এই যে মন্দিরটির কথা বলা হচ্ছে সেটিও সেই তালিকায় অন্যতম।

বিস্ময় এখানেই শেষ নয়, বরং শুরু। জানেন, সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটির রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্বে আছেন কারা? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, কোনও মানুষ নয়, শতাধিক বিষধর সাপই রয়েছে এই দায়িত্বে। তারাই বছরের পর বছর ধরে রক্ষা করে আসছে মন্দিরটিকে। যদিও এই বিস্ময়কর মন্দিরটির অবস্থান এদেশে নয়। তা রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইঁদুরের উচ্ছিষ্ট খাবারই প্রসাদ এখানে! কোন রহস্য লুকিয়ে আছে রাজস্থানের এই মন্দিরে

Rajasthan Karni Temple : জানেন কেন খোদ দেবতার আসনে বসিয়ে পুজো করা হয় ইঁদুরদের? কী এমন রহস্য লুকিয়ে আছে রাজস্থানের করনি মাতা মন্দিরের নেপথ্যে?

ভারত তো বটেই এমনকি পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও প্রাচীন মন্দির নিয়ে অজস্র গল্পকথা এবং রহস্য আজও রয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ইন্দোনেশিয়ার এই বিষধর সাপের মন্দিরটি। ইন্দোনেশিয়ার হলেও এই মন্দিরটি কিন্তু খোদ হিন্দু মন্দির। সুনীল সাগরের বুকে বালি দ্বীপের মাঝে একটি উঁচু পাথরের উপর প্রায় ৬০০ বছর ধরে অবস্থান এই মন্দিরটির। এই মন্দিরের পোশাকি নাম ‘তানাহ লট’। বালির সৈকতে এই বিশেষ মন্দিরটি ছাড়াও রয়েছে আরও ছয়টি মন্দির। এই মন্দিরগুলির একটি বিশেষত্ব রয়েছে। পর পর অবস্থিত এই সাতটি মন্দির আকারে এমন যা একটির থেকে আর একটি স্পষ্ট ভাবে দৃশ্যমান।

বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে পর্যটনে আগ্রহী প্রজন্মের কাছে ইন্দোনেশিয়ার বালি খুবই জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট। তাই এই অঞ্চলে বেড়াতে গেলে বিস্ময়কর এই মন্দিরটি দেখার কথা ভোলেন না পর্যটকেরা। এই মন্দির একবারা চাক্ষুষ করলে রীতিমতো শিহরণ জাগবে তা বলাই বাহুল্য।

‘তানাহ লট’ নামের এই এই মন্দিরটিকে ইন্দোনেশিয়ার বালির পৌরাণিক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানা যায়, ১৫ শতকে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন নিরার্থ নামে এক পুরোহিত। এখানেই শেষ নয়, আরও জানা যায় যে এই মন্দিরটির সুরক্ষা হেতু রয়েছে পাথরের নীচে বসবাসকারী শত শত বিষাক্ত সাপ। আবার মন্দিরের কিংবদন্তী অনুসারে, একটি বিশালাকার সাপই এই মন্দিরটিকে অশুভ আত্মা এবং অশুভ অনুপ্রবেশকারীর হাত থেকে মুক্ত রাখে। আজও এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। প্রাচীনত্ব এসে পা চেপে ধরে। অচিরেই ইতিহাসের সঙ্গে হাত বদল হয় বর্তমানের। আর সেই সূত্র ধরেই ৬০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য আজও রক্ষিত হয়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সাত দিনের ব্যবধানে দুটো ঘূর্ণিঝড়: জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা কি এটাই?

Climate change impact on cyclone: ২৮ অক্টোবরে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ঠিক সাত দিন পর ৩ নভেম্বরে ল্যান্ডফল করে ‘মুরাসু’। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই পিঠোপিঠি ঝড়ের ঘটনাকে বলা হয় ‘ক্লাইমেটোলজিক্যাল অ্যানোমালি'। বঙ্গোপসাগরের এই ‘ওভার-এনার্জাইজড’ অবস্থাই, এখন জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা।

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

ঋত্বিক: ফিরে দেখা

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।