সুদীপ্তের কায়দায় ধরা পড়বে শেখ শাহজাহানও? কোথায় লুকিয়ে সন্দেশখালির 'ত্রাস'?

Sheikh Shahjahan - Sudipto Sen: কুণাল ঘোষের দাবি, সুদীপ্তকে কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করতে পারলে শাহজাহানকেও গ্রেফতার করা কোনও ব্যপার নয় কলকাতা পুলিশের পক্ষে।

Sohini Das
৩ মিনিট
সুদীপ্তের কায়দায় ধরা পড়বে শেখ শাহজাহানও? কোথায় লুকিয়ে সন্দেশখালির 'ত্রাস'?

প্রায় দু'মাস হতে চলল, এখনও খোঁজ নেই শেখ শাহাজাহানের। সন্দেশখালির বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। পুলিশ দেখলেই ছেঁকে ধরছেন গ্রামের মহিলারা। কোথায় শেখ শাহজাহান? কবে ধরা পড়বে সন্দেশখালির ত্রাস?

তৃণমূলনেতা শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের মহিলাদের অত্যাচার, যৌন হেনস্থা থেকে শুরু করে নিগ্রহ, রাতের অন্ধকারে বাড়ির মেয়ে বউদের ডেকে পাঠানো হত শেখ শাজাহান ও তার দলবলের আস্তানায়। না যেতে চাইলে বাড়ির পুরুষদের উপর চলত অত্যাচার। জমি জবরদখল থেকে শুরু একাধিক অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে। একটা সময় বাধ্য হয়েই পথে নামেন এলাকার মানুষ। শাহজাহানদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সন্দেশখালি। অনেকেই সেই আন্দোলনকে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। উঠেছে শেখ শাহজাহানদের গ্রেফতারের দাবি। শাহজাহানের অন্য়তম দুই সঙ্গী শিবু ও উত্তম গ্রেফতার হলেও এখনও পাত্তা নেই আসল লোকের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শাহজাহান কোথায়? 'ওঁরাই' সবটা জানেন!

Abhishek Banerjee on Sheikh Shahjahan : অভিষেকের দাবি, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন না হলে ১০ দিনের মধ্যে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারত রাজ্য পুলিশ।

শাহাজাহানের বাড়িতে ইডির হানা দেওয়ার দিন থেকেই নিখোঁজ সন্দেশখালির এই তাজা তৃণমূল নেতা। বিরোধী দল থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের অনেকেই মনে করেছেন, শাসকদল তৃণমূলের ছত্রছায়াতেই রয়েছেন শেখ শাহজাহান। সে জন্যই ধরা পড়ছে না সে। এ নিয়ে পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েছে স্থানীয় মানুষ। সম্প্রতি সন্দেশখালিতে ফেরেন রাজ্যপুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। তিনি সন্দেশখালি পর্যবেক্ষণ করতে যেতেই শেখ শাহাজাহানের ভাই সিরাজুদ্দিনের মাছের ভেড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই কাজের নেপথ্যে স্থানীয় মানুষদের একাংশ রয়েছেন বলেই অভিযোগ। শাহজাহানদের জবরদখল করা জমিরও পুনর্দখল নেন গ্রামবাসী।

কার্যত শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারির দাবিতে উত্তাল সন্দেশখালি। এর মধ্য়েই তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেন, সুদীপ্তকে কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করতে পারলে শাহজাহানকেও গ্রেফতার করা কোনও ব্যপার নয়। সাত দিনের মধ্যেই শাহজাহান গ্রেফতার হয়ে যাবে বলেও দাবি করেছেন কুণাল। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর এই দাবি ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। কুণালের দেওয়া ডেডলাইনের পর কেটে গিয়েছে একদিন। হাতে রইল ৬ দিন। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশের দক্ষতা নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন কুণাল। তৃণমূল নেতার কথায় কৌতূহলও জেগেছে সমান মাত্রায়। এই ৬ দিনে কোথা থেকে গ্রেফতার হতে পারে শাহজাহান শেখ? উস্কে উঠেছে জল্পনা। গোপন সূত্রের খবর, এরই মধ্যে গোপন ডেরা থেকে বেশ কয়েক বার অডিও বার্তাও পাঠিয়েছেন শাহজাহান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলায় সন্দেশখালির জন্য কতটা আসন কমবে তৃণমূলের? প্রশান্ত কিশোর যা বলছেন

Prashant Kishore on Sandeshkhali : প্রধানমন্ত্রী ৩৭০ টি আসন জয়ের কথা বললেও বিজেপির একা এত আসন জেতার সম্ভাবনা শূন্য, বলছেন নির্বাচনী প্রকৌশলী পিকে।

কলকাতা পুলিশ তৎপর হতেই সারদা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। সেই গ্রেফতারি কোনও সিনেমার থেকে কম নয়। সে প্রায় ১১ বছর আগের ঘটনা। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাস সেটা। এমনিতেই এই সময়টায় অনেকেই বেরানোর জন্য ভূস্বর্গ কাশ্মীরকে বেছে নেন। কিন্তু সেই ভূস্বর্গেই যে সুদীপ্ত সেন ও তাঁর সহকারী দেবযানীর জন্য বিভীষিকা অপেক্ষা করছে, তা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি। কলকাতা থেকে কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য বিমান পর্যন্ত ব্যবহার করেননি তাঁরা। পাছে ধরা পড়ে যান। কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়েও রওনা হয়েছিলেন সুদূর কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে।

কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কাশ্মীরের গুলমার্গের একটি হোটেলে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সুদীপ্তরা। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় সারদা কাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্তকে। সেই গ্রেফতারি আজও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে একটা বড় সাফল্য। এবার শেখ শাহাজাহানের গ্রেফতারি নিয়েও সেই কথাই শোনা গেল শাসকদলের প্রতিনিধিদের মুখে। ইতিমধ্যেই হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, অপরাধীদের সমর্থন নয়। ফলে তার গ্রেপ্তারিতেও কোনও স্থগিতাদেশ জারি করছে না কলকাতা হাইকোর্টে। সেই প্রসঙ্গেই কুণাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করে বলেন, "বিষয়টি আদালতের আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। বিরোধীরা এই সুযোগটি ব্যবহার করে রাজনীতি খেলছিল। বিষয়টি স্পষ্ট করে পুলিশকে নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য আজ হাইকোর্টকে ধন্যবাদ।শাজাহানকে সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।" দুদিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, শাহাজাহানের গ্রেফতারি আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে বলে। পুলিশের দায়ের করা এফআইআরগুলিতে স্থগিতাদেশের কারণে এতদিন আটকে ছিল শাহজাহানের গ্রেফতারি বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

আর তারপরেই কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করে দেন, শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারি সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ঠিক যে দক্ষতায় কাশ্মীর থেকে সুদীপ্ত সেনকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ, ঠিক সেই দক্ষতাতেই খুঁজে বের করে ফেলা হবে এবার। গত দু'মাস ধরে যার টিকিটিরও দেখা পায়নি পুলিশ, সেই শেখ শাহজাহানের গ্রেফতারির ডেডলাইনও খোদ ঘোষণা করে দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র। তবে কি স্থানীয় গ্রামবাসী বা বিরোধীদের কথাই ঠিক, তৃণমূলের ব়্যাডারের মধ্যেই রয়েছে সন্দেশখালির ত্রাস। এতদিন ইচ্ছা করেই কি তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি শাসক দল? কী গতি হতে চলেছে সন্দেশখালি ঘটনার? তার উত্তর অবশ্য শাহজাহানের গ্রেফতারির পরেই মিলবে স্পষ্ট করে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।