ভোট-বাজারে ইলেক্টোরাল বন্ডকেই পাল্টা অস্ত্র করছে বিজেপি! যে ভয়াবহ ইঙ্গিত দিলেন মোদি

Electoral Bonds: ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতি নিয়ে যারা মোদি সরকারকে বিঁধছে, তাঁদেরই নাকি এবার অনুশোচনায় ভুগতে হবে। এবার তেমনটাই দাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির

Sohini Das
৩ মিনিট
ভোট-বাজারে ইলেক্টোরাল বন্ডকেই পাল্টা অস্ত্র করছে বিজেপি! যে ভয়াবহ ইঙ্গিত দিলেন মোদি

লোকসভা ভোটের আগে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের হাতে সব চেয়ে বড় অস্ত্র বোধহয় ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতি। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বিজেপি সরকারের এই প্রকল্পকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। তার পর একের পর এক সত্য উদঘাটন হয়েছে দেশবাসীর সামনে। ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতির সমস্তটাই এখন তাঁদের কাছে খোলা বই। কোন দল কত টাকা পেয়েছে বন্ড মারফৎ, এসবিআইয়ের সামনে আনা নথি থেকে জানা গিয়েছে সবটায়। বিজেপি তো বটেই, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলগুলিও কোটি কোটি টাকা ঘরে তুলেছে এই ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্য়মে। সেই সব অঙ্ক চোখ কপালে তোলার মতোই। ভোটের মুখে এই প্রকল্পের প্রণেতা হিসেবে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। আর সেই অস্বস্তিকেই উল্টোদিকে ঘুরিয়ে ভোটের বাজারে ফায়দা তুলতে চাইছে মোদি সরকার। ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতি নিয়ে যারা বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমন শানাচ্ছেন, তাঁরা শীঘ্রই অনুশোচনা করবে, এবার এমনটাই দাবি করে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, আগে রাজনৈতিক দলগুলির তহবিলের উৎস সম্পর্কে কোনও তথ্য়ই জানা যেত না। ইলেক্টোরাল বন্ড আসার পরেই এই তথ্য সামনে এসেছে। মোদির দাবি, ২০১৪ সালের আগে, ভোটের সময় রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া তহবিল সম্পর্কে কোনও কিছু জানা সম্ভব ছিল না। প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি ইলেক্টোরাল বন্ড চালু করেছেন। যার দৌলতে রাজনৈতিক দলগুলির প্রাপ্য অনুদান সম্পর্কে বিশদে জানা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কোনও কিছুই তো পুরোপুরি নিখুঁত নয়। তবে খুঁতগুলোকে সবসময়েই খুঁজে বের করা সম্ভব। সম্প্রতি একটি দক্ষিণী সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা জানান মোদি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ভোটে লড়ার টাকা নেই'! কতটা সত্যি বলছেন নির্মলা?

Nirmala Sitharaman: শোনা গিয়েছে, দলের তরফে নাকি লোকসভা ভোটে লড়ার জন্য ডাক পাঠানো হয়েছিল নির্মলাকে। প্রাথমিক ভাবে তিনি ভেবে দেখার কথা বললেও পরবর্তীতে ভোটে লড়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, অর্থাভাবেই ভোটে লড়তে পারছেন না তিনি।

ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে বিজেপি। বন্ড মারফৎ প্রাপ্ত মোট অনুদানের মোট ৪৮ শতাংশই ঢুকেছে বিজেপির কোষাগারে। তার পর লাভবান হয়েছে বাংলার তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার পর তালিকায় রয়েছে কংগ্রেস। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ সুপ্রিম কোর্ট এই প্রকল্পকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে। ২০১৮ সালে এই ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পটি এনেছিল বিজেপি। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে কত লেনদেন হয়েছিল, সে সময় থেকেই রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াকে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সামনে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা তুলে দেওয়া হয় ইলেকশন কমিশনের ওয়েবসাইটে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দু'দফায় সেই নথি প্রকাশ করে এসবিআই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইডি তাড়াতেই ৩২০ কোটি! লোকসান সত্ত্বেও কেন বিপুল টাকা অনুদান কেভেন্টার গ্রুপের?

Electoral Bond: এসবিআইয়ের দেওয়া তথ্য দেখা গিয়েছে, কেভেন্টার গ্রুপের চারটি সংস্থা মিলে মোট ৬১৬ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলিকে। যা ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্য়মে প্রাপ্ত মোট অর্থের প্রায় অর্ধেক।

লোকসভা ভোটের আগে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ ঘিরে যথেষ্ট শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যেন বিরোধীদের হাতে বিরাট অস্ত্র তুলে দিয়েছে ভোটের আগে। কারণ স্বাভাবিক ভাবেই ওই প্রকল্প থেকে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে বিজেপি। সেই নিয়ে জাতীয় রাজনীতি উত্তাল। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত। ইলেক্টোরাল দুর্নীতিকে ধামাচাপা দিতেই নাকি রাতারাতি সিএএ কার্যকর করে বিজেপি সরকার। এমনকী একের পর এক অবিজেপি রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের পিছনে ইডি-সিবিআই লাগিয়ে দেওয়ার নেপথ্যেও এই বন্ড দুর্নীতির দিকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরানোর চেষ্টা রয়েছে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

তবে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ইলেক্টোরাল বন্ড অস্ত্রেই বিরোধীদের ঘায়েল করতে চাইলেন মোদি। বলে বসলেন, এই দুর্নীতি আসলে আশীর্বাদ। ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতি নিয়ে যারা মোদি সরকারকে বিঁধছে, তাঁদেরই নাকি এবার অনুশোচনায় ভুগতে হবে। এর আগে কোন কোন রাজনৈতিক দলকে কারা কত টাকা অনুদান দিত, তা জানা যেত না কোনও ভাবেই। তবে এই ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্প মামলা নিয়ে ঘোঁট পাকার পর থেকে সেই সমস্ত তথ্যও সামনে এসেছে। শুধু তো বিজেপি নয়, ওই অনুদান এসেছে দেশের বিভিন্ন ছোট-বড় দলের কাছেই। মোদির কথা শুনে মনে হল, এ যেন অনেকটাই 'নিজের নাক ভেঙে পরের যাত্রা ভঙ্গের' মতো বিষয়। অন্যান্য দলে রাজনৈতিক তহবিলের খোঁজ রাখতে গিয়ে নিজেই এত বিশালাকার দুর্নীতিতে জড়ালো মোদি সরকার, যাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক দুর্নীতি বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদদের একটা বড় অংশ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।