নিরাপদ আল-জালা রাতারাতি যুদ্ধক্ষেত্র! ইজরায়েলের হুমকি পেয়ে খান ইউনিস ছাড়ছেন হাজার হাজার গাজাবাসী

Gaza: দিন কয়েক আগেই গাজার উত্তরে একটি স্কুল, যেটি বর্তমানে শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে, সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। তার পরেই ফের নতুন করে সতর্কবার্তা এসেছে ইজরায়েলি সেনার তরফে।

Sohini Das
৩ মিনিট
নিরাপদ আল-জালা রাতারাতি যুদ্ধক্ষেত্র! ইজরায়েলের হুমকি পেয়ে খান ইউনিস ছাড়ছেন হাজার হাজার গাজাবাসী

ইরানে দিন কয়েক আগেই খুন হয়েছেন হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াহ। সেই হত্যার পিছনে ইজরায়েলের হাত রয়েছে বলেই মনে করেছে ওয়াকিবহাল মহল। তার পর হামাসের দায়িত্ব গিয়েছে ইয়াহিয়া সিনওয়ারের হাতে। যে সিনওয়ার ২০২৩ সালে অক্টোবরে ইজরায়েলে হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত। যে ঘটনার পর থেকে হামাসদের খতম করতে উঠেপড়ে লেগেছে ইজরায়েল। ইতিমধ্যেই গাজা শহরটাকে শ্মশানে পরিণত করেছে তারা। গাজায় নিরাপদ বা সুরক্ষিত বলে কিছু নেই। ইতিমধ্যেই গাজায় ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০ হাজার মানুষের। জখম অসংখ্য মানুষ। এরই মধ্যে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় কাঁপছে গাজা।

দিন কয়েক আগেই গাজার উত্তরে একটি স্কুল, যেটি বর্তমানে শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে, সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। সেই ঘটনায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হন। তার পরেই ফের নতুন করে সতর্কবার্তা এসেছে ইজরায়েলি সেনার তরফে। রবিবার খুব ভোরে এলাকায় লিফলেট পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। সেনাবাহিনীর তরফে বার্তা এসেছে মোবাইলেও। যেখানে বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার। তার পরেই ফাঁকা হতে শুরু করেছে খান ইউনিস এলাকা। যাঁর যেটুকু যা সঞ্চয়, যেটুকু যা পেরেছেন সেসব নিয়ে ঘর ছাড়তে শুরু করেছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। এর আগে খান ইউনিসেরই আল-জালা বলে একটি এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল বলে চিহ্নিত করেছিল ইজরায়েলি বাহিনী। ফলে সেখানেই জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার শরণার্থী। এবার পালা সেই নিরাপদ এলাকাও ছেড়ে পালানোর।

গোটা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইজরায়েল গাজায় একের পর এক হামলা চালিয়ে গিয়েছে। কোনওমতে হামাসকে খতম না করে থামবে না নেতানিয়াহু, তা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের তরফে। একের পর এক হামলা, পালাতে পালাতে কার্যত পিঠ ঠেকে গিয়েছে গাজাবাসীর। এই মুহূর্তে সেখানে আরও কোনও নিরাপদ অঞ্চল বেঁচে রয়েছে বলে মনে হয় না।

খান ইউনিসের ওই আল-জালা এলাকাকে গাজাবাসীদের জন্য নিরাপদভূমি ঘোষণা করার পরে সেখানে শরণার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে এক পলকে মিথ্যা হয়ে গেছে সেই নিরাপত্তাটুকুও। এবার ইজরায়েলি সেনার তরফে সেই জায়গাটাকেই বিপজ্জনক যুদ্ধের অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা। ফের নতুন কোনও আশ্রয় খুঁজতে, পালাচ্ছেন কোনও মতে জান-প্রাণ নিয়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবী আবার শান্ত হবে! গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত কিশোরীদের স্বপ্ন দেখায় বক্সিং

Palestinian Girls Boxing: ইজরায়েলি সেনা ভেঙে দিয়েছে তাঁদের প্রশিক্ষণের জায়গাটি। একদিন যে বক্সিং ক্লাব তাঁদের হাতে গ্লাভস গলিয়ে নিতে শিখিয়েছিল, শিখিয়েছিল উঠে দাঁড়ানোর মন্ত্র, সেই ক্লাব আজ ধ্বংসস্তূপ।

অনেকেই পালানোর জন্য কোনও যানবাহন পাননি। মেলেনি পিকআপ ট্রাক ফলে ঘরদোরের জিনিসপত্র ফেলেই যেতে হচ্ছে তাদের। পরিবারের শিশু, বয়স্ক মানুষটিও হাঁটছে রাস্তা ধরে, কত তাড়াতাড়ি একটা আশ্রয় খুঁজে নেওয়া যায়, যেখানে আরও কয়েকদিন নিরাপদে কাটানো যেতে পারে। তার পরে ফের নতুন করে নিরাপত্তা খুঁজতে হতে পারে, তা এতদিনে জেনে গিয়েছেন গাজাবাসী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৩ ছেলে, ৪ নাতি-নাতনির পর ইজরায়েলের হাতে খুন হামাস নেতা! কে এই ইসমাইল হানিয়াহ?

Hamas Ismail Haniyeh: গত ১০ এপ্রিল ইজরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয় হানিয়াহর তিন ছেলেই। হামাস জানিয়েছে, হামলায় হানিয়াহ তিন নাতনি এবং এক নাতিও মারা গিয়েছে।

ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী আইডিএফের তরফে জানানো হয়েছে, ওই আল-জালা এলাকাতেই ঘাপটি মেরে রয়েছে হামাস জঙ্গিরা। ওই এলাকাতেই এবার হামাস নিকেশের কাজে নামতে চলেছে তারা। সে কারণেই বাসিন্দাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহে বহু এলাকা থেকেই মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ এসেছে ইজরায়েলি বাহিনীর তরফে। তারই সঙ্গে চলেছে হামলাও। কয়েক মাসে একাধিক বোমা এসে পড়েছে গাজার বিচ্ছিন্ন এলাকায়। একাধিক জায়গা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-র তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিনে দক্ষিণ-পশ্চিম গাজায় ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রবিবার ইজরায়েলি সেনার তরফে সতর্কবার্তা আসার পর থেকেই পালাতে শুরু করেন মানুষজন। অনেকেই নিজের সন্তান ছাড়া আর কিছুই নিয়ে যেতে পারেননি হাতে করে। আসলে গাজাবাসী কেমন এক চক্রব্যুহে আটকে পড়েছে যেন। গাজার এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত, এ ছাড়া কোনও পালানোর জায়গা নেই তাঁদের কাছে।

এর মধ্যেই রবিবার খান ইউনিসে হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা। যে ঘটনায় জখম হন নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বে কয়েকজন। হঠাৎ করেই বাজার এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। বহু বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেই এটা তাঁদের তৃতীয় বা চতুর্থ পালানো। আগের একাধিক হামলায় কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউ ছেলে। কেউ গোটা পরিবার। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গোটা গাজায় নতুন নতুন বাসস্থান খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত তাঁরা। গাজার একাধিক স্কুল, যেগুলোকে শরণার্থী শিবির বানানো হয়েছিল, সেখানে লাগাতার হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এই অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে যে তাঁদের জন্য নিরাপদ কোনও যে জায়গা নেই, তা এতদিনে ভালোই বুঝে গিয়েছেব গাজাবাসী। ইজরায়েলের দাবি, খান ইউনিসের যে জায়গাটি ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে রকেট ছোড়া হয়েছে। সেখানে একাধিক ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাধারণ মানুষ সেজে গা ঢাকা দিয়েই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা করার চেষ্টা করছে।

গাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এই খান ইউনিস। ইজরায়েল বাহিনীর ব্যাপক বিমান ও স্থলহামলায় যে জায়গাটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কার্যত। এবার সেখানে আরও বড় কোনও হামলা নেমে আসতে চলেছে। সেই আতঙ্কেই দিন গুনছেন বাসিন্দারা। আর যে যেখানে সম্ভব পালানোর চেষ্টা করছেন। কোথায় পালাবেন তাঁরা, তার হদিস অবশ্য নেই কারওর কাছেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।