হেরেই গেলেন শাহের ডেপুটি! যে কৌশলে নিশীথকে হারিয়ে এক নম্বরে তৃণমূল

Nisith Pramanik: শেষ পর্যন্ত অবশ্য শেষ হাসি হেসেছে তৃণমূলই। হেরেই গিয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট নিশীথ। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে কোচবিহারবাসী ও জেলা তৃণমূলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Sohini Das
২ মিনিট
হেরেই গেলেন শাহের ডেপুটি! যে কৌশলে নিশীথকে হারিয়ে এক নম্বরে তৃণমূল

বুথ ফেরত সমীক্ষা বলেছিল, এ রাজ্যে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে আসবে বিজেপি। তবে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর কিন্তু তেমন কিছু হতে দেখা গেল না। গোটা বাংলাতেই তেমন করে দাঁত ফোটাতে পারল না বিজেপি। এমনকী যে যে এলাকা বিজেপির গড় বলে পরিচিত ছিল বাংলায়, হারাতে হচ্ছে সেই সব আসনও। কেন বাংলায় লোকসভা ভোটের ফলাফলে এ ভাবে ভরাডুবি হতে হল বিজেপিকে? এখনও চড়া হিন্দুত্ববাদের থেকে যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো জনদরদী প্রকল্পেই ভরসা রাখছে মানুষ, সে কথাই প্রমাণ হয়ে গেল ফের। কোচবিহার কেন্দ্রে বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিকের জয় নিয়ে একরকম নিশ্চিতই ছিল বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব। তবে তেমনটা ঘটছে না বাস্তবে।

একেবারে প্রথম দফাতেই ভোট ছিল কোচবিহার কেন্দ্রে। গোটা রাজ্যে যখন কার্যত লড়াই ছিল ত্রিমুখী, সেখানে কোচবিহারের লড়াই ছিল দ্বিমুখী। কোচবিহার কেন্দ্র থেকে এ বারেও বিজেপির টিকিটে লড়ছেন নিশীথ প্রামাণিক। তৃণমূল প্রার্থী করেছিল জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তৃণমূলের টিকিটে সিটাই বিধানসভায় ছিলেন জগদীশচন্দ্র। সেই জগদীশচন্দ্রই চাপে ফেলে দিলেন বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। বিকেল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, জগদীশ এগিয়ে ছিলেন প্রায় ৪০ হাজার ভোটে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভাঙল অনিল বসুর ‘অজেয়’ রেকর্ড! সব বাধা ঠেলে ডায়মন্ডহারবারে হ্যাটট্রিকের পথে অভিষেক

Lok Sabha Election 2024: প্রতিবারের মতো এই লোকসভা ভোটেও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন অভিষেক। এই হীরক বন্দর এতদিনে কার্যত অভিষেক ব্যানার্জির গড়ে পরিণত হয়েছে। আর সেই গড়ে তাঁকে হারানো যে মোটেও সোজা কথা নয়, তা বুঝিয়ে দিয়েছে লোকসভা ভোটের ফলাফল।

সেই ব্যবধান বেড়েই গিয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। নিশীথ শুধু বিজেপির হেভিওয়েট নেতাই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডেপুটি তিনি। ফলে তাঁর দিকে নজর ছিল গোটা দেশেরই। গণনা শুরুর পর থেকেই পিছিয়ে পড়তে শুরু করেন নিশীথ। কখনও কখনও একটু আধটু এগোলেও তেমন ভালো ফল করতে দেখা যায়নি নিশীথকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উত্তরপ্রদেশই উলটে গেল! কে গিলে ফেলল রাম মন্দিরের সাফল্য?

Ayodhya Ram Mandir Lok Sabha Results: অযোধ্যা যে লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে, সেই ফৈজাবাদেরও ভোট টানতে ব্যর্থ হচ্ছে রাম মন্দির।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য শেষ হাসি হেসেছে তৃণমূলই। হেরেই গিয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট নিশীথ। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে কোচবিহারবাসী ও জেলা তৃণমূলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, "কোচবিহারের সো কলড হোম মিনিস্টারের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে সেখানকার মানুষ।' এজেন্সিকে কাজে লাগিয়েও লাভ হয়নি বলে তাঁর দাবি। যেভাবে ওরা আমাদের হিউমিলিয়েট করেছে, আমরা রাজনৈতিকভাবে তার বদলা নেব।"

স্থানীয়ভাবে পরিচিত হলেও দেশীয় রাজনীতিতে রীতিমতো অচেনা মুখ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। শেষমেশ লোকসভা ভোটে বাজিমাত করলেন তিনিই। তবে তাঁর চেয়ে দলের ও সংগঠনের কৃতিত্ব বেশি। দলের জয়ের সিংহভাগ কৃতিত্ব যাঁর, সেই উদয়ন গুহ জয়ের পর বললেন, "এই জয় সংগঠনের জয়। আমাদের স্ট্র্যাটেজি ছিল ওদের উত্যক্ত করে ভুলের ফাঁদে জড়িয়ে দেওয়া। ওঁরা সেই ফাঁদে পা দিয়েছে। আমরা জয় পেয়েছি। সবাই মিলে একযোগে লড়াই করে জয় এসেছে।"

ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে রাজ্যে যে কটি আসন হিংসার জন্য চর্চিত ছিল, তার মধ্যে শীর্ষে ছিল দিনহাটাই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বনাম রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ লড়াই সামনে এসেছিল। একাধিকবার রক্তাক্ত হয়েছে এলাকা। প্রকাশ্যে মারামারিও দেখা গিয়েছে দুই মন্ত্রীর মধ্যে। যার ফল ভোটে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আরও একটা বড় ইস্যু বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভা থেকে সাংসদ হওয়া অনন্ত মহারাজ ভোটের আগে বারবার ঘোষণা করেছিলেন পৃথক রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে কোচবিহার বা উত্তরবঙ্গ। ভোটের মুখে নিশীথ প্রামাণিক সেই দাবি থেকে সরে গিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যান। যা মোটেও ভালো ভাবে নেয়নি রাজবংশি সমাজ। শেষ পর্যন্ত এই ইস্যুই ভোটবাক্সকে ওলটপালট করে দিল, উঠছে প্রশ্ন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।