তৃণমূল সমর্থককে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মার! ভোট মিটলেও শান্তি ফিরল না সন্দেশখালিতে

Sandeshkhali: একাধিক বার তৃণমূল না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্তু সে সব কথায় পাত্তা দেননি খুলনার বাসিন্দা ওই মহিলা। আর তার পরেই তার উপর চড়াও হয় বিজেপি আশ্রীত গুন্ডারা।

Sohini Das
৩ মিনিট
তৃণমূল সমর্থককে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মার! ভোট মিটলেও শান্তি ফিরল না সন্দেশখালিতে

ভোট মিটলেও শান্তি ফিরল না সন্দেশখালিতে। এ বার তৃণমূল করার অভিযোগে এত মহিলাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল সেখানে। স্বাভাবিক ভাবেই অভিযোগের তির এলাকার বিজেপির দিকে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রীদের বিরুদ্ধে সন্দেশখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিগৃহিতা।

ভোটের আগে থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে সন্দেশখালি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ শাহাজাহানের বিরুদ্ধে মহিলাদের নিগ্রহ ও জমি জবরদখলের অভিযোগ এনে রাস্তায় নামে স্থানীয় মানুষ। লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্দেশখালি ইস্যুকে ব্যবহার করতে আসরে নামে বিরোধীদলগুলো। এমনকী আন্দোলনের মুখ রেখা পাত্রকে লোকসভা ভোটে প্রার্থীও করে বিজেপি। তার পরে সন্দেশখালি দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে শেখ শাহজাহান। শেখ শাহাজাহান ঘনিষ্ঠের বাড়িতে অস্ত্রের খোঁজে তল্লাশি হয়েছে, এবং তা মিলেছেও। পরে রাজনীতির খেলায় পাল্টে যায় পাশা। একটি স্টিং অপারেশনের ভিডিও সামনে আসে, যেখানে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি দাবি করেন, সমস্ত ঘটনাই সাজানো। এবং এর নেপথ্যে রয়েছেন বিজেপিনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এখানেই শেষ নয়, অন্য একটি স্টিং ভিডিওয় রেখাদের বলতে শোনা যায়, রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়া আন্দোলনকারীরা ভুয়ো। এর পর সন্দেশখালি কাণ্ডের উপর থেকে একের পর এক পর্দা উঠতে থাকে। একের পর এক নির্যাতিতা জানাতে শুরু করেন, তাঁদের দিয়ে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করানো হয়েছিল। এই আবহেই সন্দেশখালিতে হয়ে যায় লোকসভা ভোট। এবং সেই ভোটে বিপুল ব্যবধানে জিতে যায় ফের তৃণমূল। মুখ থুবড়ে পড়ে বিজেপির সমস্ত পরিকল্পনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোটের মধ্যেই দলবদল! কেন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ?

Sandeshkhali: সন্দেশখালির অশান্তিতে প্রতিবাদীদের মুখ হিসেবেও দেখা গিয়েছিল সিরিয়াকে। সেই সিরিয়াই বৃহস্পতিবার শশী পাঁজা এবং মমতাবালা ঠাকুরের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।

অনেকেই মনে করেছেন, লোকসভা ভোটে গ্রামাঞ্চলে তৃণমূলকে তুলে এনেছে তাদের একাধিক জনমোহিনী প্রকল্প। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের কল্যাণেই সন্দেশখালিতেও পুরনো জায়গা ফিরে পেয়েছে তৃণমূল। তবে তার পরেও শান্তি ফিরল না সন্দেশখালিতে। ফের সেখানে বিজেপি নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ উঠল। সন্দেশখালির খুলনার বাসিন্দা ওই মহিলার 'অপরাধ' তিনি তৃণমূলকে সমর্থন করেন। আর সে জন্যই তাঁকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্রে করেই ফের সরগরম হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাদা কাগজে সই করিয়ে ‘মিথ্যে’ ধর্ষণের অভিযোগ! ভয়াবহ সত্য জানান দিচ্ছে সন্দেশখালি

Sandeshkhali Incident: ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা বলে সম্প্রতি যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁকে রান্নার কাজের টাকা দেওয়া হয়নি। সেই অভিযোগকেই ধর্ষণের অভিযোগের রূপ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে না জানিয়ে।

স্থানীয় সূত্রে খবর,ওই মহিলাকে নাকি এর আগে একাধিক বার সাবধান করেছিল বিজেপির লোকজন। একাধিক বার তৃণমূল না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্তু সে সব কথায় পাত্তা দেননি খুলনার বাসিন্দা ওই মহিলা। আর তার পরেই তার উপর চড়াও হয় বিজেপি আশ্রীত গুন্ডারা। অভিযোগ, রাস্তায় ফেলে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারা হয় মহিলাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাকে পাঠানো হয় খুলনা হাসপাতালে। আপাতত তিনি স্থিতিশীল বলেই স্থানীয় সূত্রের খবর।

গুরুতর জখম ওই নিগৃহীতা জানান, ‘‘আমরা তৃণমূল করি, ওরা বিজেপি করে। আমরা কেন তৃণমূল করছি, সেই হিংসায় আমাকে মারধর করল। বিজেপির জনক মণ্ডল, অপর্ণা মণ্ডল আমাকে লাঠি দিয়ে মেরে ফেলে দেয়। তার পর লাথি, ঘুষি, চড় মারতে থাকে। মোট পাঁচ জন আমাকে মেরেছে। ওরা সবাই বিজেপি করে। কিন্তু আমরা বিজেপি করব না, তৃণমূলই করব।’’ ইতিমধ্যেই বিজেপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্দেশখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহিলা। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

বিজেপির অবশ্য দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস ঘোষ জানান, ‘‘পাড়ায় ওঁরা পাশাপাশি থাকেন। বচসা হয়েছে, সেখান থেকে মেয়েরা নিজেদের মধ্যে মারপিট করেছেন। সেই ঘটনায় বিজেপিকে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।’’ স্থানীয় বিজেপির দাবি, ওই এলাকায় নাকি তৃণমূলের অবস্থান তেমন ভালো নয়। বলা যায়, সেখানে খানিকটা ব্যাকফুটেই রয়েছে তারা। তাই নিজেদের সামনের সারিতে নিয়ে আসতে উদ্দেশ্যপ্রণদিত ভাবে সন্দেশখালিতে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে রাজ্যের শাসকদল। স্বাভাবিক ভাবেই, সাম্প্রতিক এই অশান্তির জেরে ফের উত্তপ্ত হয়েছে সন্দেশখালি। বাসিন্দাদের অনেকেই এই ঘটনায় বেশ ভয়ও পেয়ে গিয়েছেন। কবে পাকাপাকি শান্তি ফিরবে সন্দেশখালিতে, ভোট মিটলেও সেই উত্তর নেই সন্দেশখালির বাসিন্দাদের কাছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।